ছেলের খেলা মাঠে বসে দেখা হবে না বাবার
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্পেন। রোববার বিশ্বজয়ের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে লা রোহারা। স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযানে গ্যালারি থেকে লামিনে ইয়ামালের মা শিলা ইবানা, বান্ধবী ইনেস গার্সিয়া এবং ছোট ভাই সমর্থন দিয়ে এলেও গ্যালারিতে একজনের অনুপস্থিতি চোখে পড়ছে। তিনি ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই। প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্বকাপে ছেলের ম্যাচ দেখতে কেন তিনি মাঠে যাচ্ছেন না?
সম্প্রতি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘অ্যান্টেনা ৩’-এর এক অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাসরাউই নিজেই প্রকাশ করেছেন কেন ছেলের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো গ্যালারিতে বসে উপভোগ করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাননি। শারীরিক সমস্যার কারণে হাজার মাইল দূরত্বের ঝুঁকিপূর্ণ সফর করতে পারেননি তিনি। নাসরাউই জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে ভুগছেন। এজন্য তাকে প্রতিদিন প্রচুর ওষুধ খেতে হয়। স্পেনের বাড়ি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস বা নিউজার্সির দূরত্ব প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার। এই দীর্ঘ বিমান ভ্রমণ এবং ম্যাচের স্নায়ুচাপ তার স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। নিজের অসুস্থতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ছেলের পাশে থাকতে না পারাটা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টের। কিন্তু আমি একজন মৃগী রোগী। যে কোনো সময় আমার খিঁচুনি উঠতে পারে। এখানে হয়তো আমি শান্ত আছি; কিন্তু মাঠের উত্তেজনা ও তীব্র আবেগের কারণে সেখানে যে কোনো মুহূর্তে অঘটন ঘটে যেতে পারে। আমি সেখানে গিয়ে কারও দুশ্চিন্তা বাড়াতে চাই না। তাই ঘরে বসে টেলিভিশনে খেলা দেখাই আমার জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।’
খেলা দেখতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ছেলের সাফল্যে গর্বিত তিনি। তার ছেলে যেখানে পৌঁছেছে, তার জন্য পুরো বিশ্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ফাইনালে ওঠার পর ইয়ামালের সঙ্গে ফোনে কথা বলার এক আবেগঘন মুহূর্ত শেয়ার করে বাবা বলেন, ‘লামিনে আমাকে ফোন করে বলেছিল, সে আমাকে নিয়ে গর্বিত। জবাবে আমি তাকে বলেছি, আমি তাকে নিয়ে আরও বেশি গর্বিত।’
বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে প্রতিটি ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন সদ্য ১৯-এ পা দেওয়া বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গার। এবার রোববারের মেগা ফাইনালে লা রোহাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দেওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নামবেন ইয়ামাল। আর হাজার মাইল দূরে স্পেনে নিজের ড্রয়িংরুমে বসে টিভির পর্দায় ছেলের জন্য প্রার্থনায় চোখ রাখবেন গর্বিত পিতা।
