গুরু-শিষ্যের ‘শেষ লড়াই’
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একসময় কোচিং শিখিয়েছিলেন লিওনেল স্কালোনিকে। প্রায় এক দশক পর শিক্ষক-শিষ্য মুখোমুখি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে রোববার মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। মাত্র পাঁচ মাস বয়সে লামিনে ইয়ামালকে কোলে নেওয়া যুবক লিওনেল মেসির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বিশ্বজুড়ে। উলটো ঘটনা কোচদের ক্ষেত্রে। এই মহারণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায় হতে যাচ্ছে দুই কোচ লিওনেল স্কালোনি ও লুইস দে লা ফুয়েন্তের সম্পর্ক।
ফাইনালে প্রতিপক্ষ হলেও তাদের সম্পর্কের শুরু প্রায় নয় বছর আগে। ২০১৭ সালে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর স্পেন ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) লাস রোসাস কোচিং একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে ভর্তি হন স্কালোনি। সেখানে প্রশিক্ষকদের অন্যতম ছিলেন স্পেনের বর্তমান কোচ লা ফুয়েন্তে। কোচিংয়ের প্রথম পাঠে স্কালোনিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি। সময়ের ব্যবধানে সেই শিক্ষার্থীই হয়ে ওঠেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম সফল কোচ। কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান স্কালোনি। এদিকে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন জয় করে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমবারের মতো দুই কোচ দাঁড়িয়েছেন একে অপরের বিরুদ্ধে। লা ফুয়েন্তে বরাবরই স্কালোনির প্রশংসা করে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারলে আমি খুবই আনন্দিত হব। লিওনেল স্কালোনি আমার খুব কাছের বন্ধু। দুই দুর্দান্ত দলের মধ্যে অসাধারণ একটি ম্যাচ হবে।’
স্কালোনিও ভুলে যাননি নিজের কোচিং জীবনের শুরুর দিনগুলোর কথা। ২০২৪ কোপা আমেরিকার সময় তিনি বলেছিলেন, লাস রোসাসে কোচিং কোর্স করার সময় লা ফুয়েন্তে তাদের অনেক সাহায্য করেছিলেন। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই সম্পর্কের কথাই আবার স্মরণ করেন আর্জেন্টিনা কোচ। তিনি বলেন, ‘তিনি আমার মেন্টর। আমার অনেক কিছুই তার কাছ থেকে শেখা।’ তবে পরের কথাতেই বন্ধুত্ব আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সীমারেখা স্পষ্ট করে দেন তিনি। স্কালোনি বলেন, ‘রোববারের জন্য আমি দুঃখিত। কারণ সেদিন আমি তাকে হারানোরই চেষ্টা করব।’ স্কালোনির সঙ্গে স্পেনের সম্পর্ক শুধু কোচিং কোর্সেই সীমাবদ্ধ নয়। তার স্ত্রী এলিসা মনতেরো স্প্যানিশ। তাদের সন্তানদের জন্মও স্পেনে। পরিবার নিয়ে তিনি বর্তমানে স্পেনের মায়োর্কায় বসবাস করেন। খেলোয়াড়ি জীবনেও তিনি স্পেনের ক্লাব দেপোর্তিভো লা করুনা, রাসিং সান্তান্দের ও মায়োর্কার হয়ে খেলেছেন। অতীতে আর্জেন্টিনা না খেললে স্পেনকে সমর্থন করার কথাও প্রকাশ্যে বলেছেন তিনি। তবে ফাইনালে শেষ জয় কার, গুরু নাকি শিষ্যর? সেটাই দেখার অপেক্ষায় ফুটবলবিশ্ব।
