আর্জেন্টিনার অদ্বিতীয় নায়ক মেসির ‘এক বছর’
ইশতিয়াক সজীব
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রতিপক্ষের কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসছে না। কিছুতেই আটকানো যাচ্ছে না লিওনেল মেসিকে। এবারের বিশ্বকাপে বিস্ময়ের পসরা সাজিয়ে ৩৯ বছর বয়সি আর্জেন্টাইন জাদুকর অবাক করে চলেছেন ফুটবলবিশ্বকে। টানা দ্বিতীয় আসরে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথে সাত ম্যাচেই গোল করে বা করিয়ে ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন মেসি। ছয়বার হয়েছেন ম্যাচসেরা। প্রথম পাঁচ ম্যাচে করেন আট গোল, একটি অ্যাসিস্ট। পরের দুই ম্যাচে গোল না পেলেও তিনটি অ্যাসিস্টে মেসিই আর্জেন্টিনার অদ্বিতীয় নায়ক। সেমিফাইনালে ইংল্যাান্ডের বিপক্ষে তার জোড়া অ্যাসিস্ট জায়গা করে নিয়েছে ফুটবলীয় রূপকথায়। আট গোল ও চার অ্যাসিস্টে গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি গোল্ডেন বলের লড়াইয়েও এগিয়ে মেসি। সাত ম্যাচে তিনি মাঠে ছিলেন ৭১২ মিনিট। এর মধ্যে দৌড়েছেন খুব কম সময়। হাঁটতে হাঁটতেই তিনি প্রতিপক্ষের অবস্থান মস্তিষ্কে গেঁথে নেন, শক্তি সঞ্চয় করেন, তারপর ঠিক মুহূর্তে ঝোপবুঝে কোপ মারেন। এই বয়সে এসে বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চে কীভাবে এমন অবিশ্বাস্য কাণ্ড-কীর্তি সম্ভব হচ্ছে তার পক্ষে?
স্পেনের বিপক্ষে রবিবাসরীয় ফাইনালের আগে উত্তরটা নিজেই দিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। জানালেন, শুধু প্রতিভা নয়, এক বছরের নিবিড় প্রস্তুতির ফল তার এই জাদুকরী পারফরম্যান্স। ২০২৬ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে তিন বছর আগে মার্কিন ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন মেসি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার পরও ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে অনেকটা সময় নেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। মন ও মস্তিষ্ক থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর শুরু হয় তার বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে সেই গল্প শোনালেন মেসি, ‘গত বছরের আগ পর্যন্ত আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। নিয়মিত কোচ স্কালোনির সঙ্গে কথা বলতাম। সম্ভাব্য সেরা পর্যায়ে পৌঁছাতে সব কিছু করেছি। এক বছর আগে আসল প্রস্তুতি শুরুর পর অনুশীলনে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। পুরো ডিসেম্বর আর্জেন্টিনায় কাটিয়ে সকাল-বিকাল-সন্ধ্যা অনুশীলন করেছি। আমি জানতাম, সেরা প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশ্বকাপ উপভোগ করতে নিজের সবটুকু দিতে হবে। সেটা পেরেছি বলেই আজ আমি এখানে। এই দলের ওপর শুরু থেকেই পুরো আস্থা ছিল আমার।’
