বগুড়ার মিল মালিকদের অভিযোগ
ঘুস দাবি জেলা খাদ্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বগুড়া খাদ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিল মালিকদের (মিলার) কাছে ঘুস দাবির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে মিলাররা খাদ্য উপদেষ্টা, অধিপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন খাদ্য বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
বগুড়া জেলা বাংলাদেশ অটো, মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি ২৯ ডিসেম্বর এ অভিযোগ করে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, ৯ ডিসেম্বর বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি-ফুড) সাইফুল কাবির খান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (টিসিএফ) মো. হারুন অর রশিদ ও গুদাম কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম মিলারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা মিলারদের সঙ্গে সম্পাদিত ক্রয় চুক্তি অনুসারে প্রতি টন চালে ৫০ টাকা, ফাইল মুভমেন্টের জন্য টনপ্রতি ২০০ টাকা, চুক্তি করা চাল গুদামে সরবরাহ বাবদ টনপ্রতি ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা দাবি করেন। এছাড়া মিলারদের জামানতের টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য টনপ্রতি ২০০ টাকা, পুনঃবরাদ্দের জন্য টনপ্রতি ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবি করা টাকা গুদাম কর্মকর্তা আতিকুল ইসলামের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। ঘুস দাবির প্রতিবাদ করলে অপমান করে মিলারদের বৈঠক থেকে বের করে দেওয়া হয়। জানতে চাইলে খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি। এলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল হাছানাত মো. হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত হবে। অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না এবং পাওয়ার সুযোগ নেই।
বগুড়ার ডিসি ফুড সাইফুল কাবির খান যুগান্তরকে বলেন, গত ৯ ডিসেম্বর মিলারদের সঙ্গে বৈঠকটি উদ্বোধন করেই আমি বেরিয়ে গেছি। খাদ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে একটি জুম মিটিং থাকায় আমি বেশিক্ষণ মিটিংয়ে ছিলাম না। পরে শুনেছি মিলারদের সঙ্গে একটি ভুল বুঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদ বলেন, আমাদের সঙ্গে মিলারদের কোনো সমস্যা হয়নি। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
মিলার সমিতির সভাপতি এটিএম আমিনুল হক যুগান্তরকে বলেন, বৈঠকটি ডেকেছেন ডিসি-ফুড। তিনি মিটিং ডেকে টিসিএফ এবং গুদাম কর্মকর্তাকে দিয়ে ঘুস দাবি করান। মিটিং ডেকে শুধু উদ্বোধনী বক্তব্য দিয়ে চলে যাওয়াটা ছিল তার কৌশল। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে মিলাররা ১৬ ডিসেম্বর ডিসি-ফুডের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। উলটো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছাইদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ডিসি-ফুড মিটিং ডেকেছেন। তিনি কেন মিটিং ডাকলেন তা কিন্তু আমাদের বলেননি। এটা তার একটা অপকৌশল মাত্র। মূলত তিনিই টাকা-পয়সা দাবির জন্য বৈঠকটি ডেকেছেন। অভিযোগপত্রে ১২ জন মিলার স্বাক্ষর করেন। খাদ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের ঘটনা সব জেলা ও উপজেলায় ঘটছে। তবে ব্যবসায়ীরা নানা কারণে সাহস করে অভিযোগ করছে না। এখন দেখা যাক, এই অভিযোগর বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

