চকবাজারের পরেই আকর্ষণ নাজিরাবাজারের ইফতার
পুরান ঢাকার নাজিরাবাজারে রোববার বাহারি ইফতারসামগ্রী কিনছেন ক্রেতারা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নাজিরাবাজার সারাবছরই দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ব্যস্ত থাকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষের পদচারণায় মুখর এ এলাকা রমজান মাসে যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। স্থায়ী দেড় শতাধিক দোকানের সঙ্গে রমজান উপলক্ষ্যে আরও দেড়শতাধিক অস্থায়ী দোকান যুক্ত হয়ে মোট তিন শতাধিক দোকানে সাজানো হয়েছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতার ও মুখরোচক খাবারের বিশাল সমাহার। চকবাজারের পর রাজধানীতে ইফতারের বিশেষ আকর্ষণ এখন নাজিরাবাজার।
রোববার দুপুর থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত সরেজমিন দেখা যায়, বঙ্গবাজার মোড় থেকে কাজী আলাউদ্দিন রোড হয়ে বংশাল চৌরাস্তা পর্যন্ত পুরো সড়ক ইফতার বাজারে পরিণত হয়েছে। ভবনের নিচতলা, গলির মুখ ও ফুটপাতজুড়ে রঙিন পসরা; ধোঁয়ায় মাখা বাতাসে কাবাবের সুগন্ধ, বেগুনি-পিয়াজু ভাজার শব্দ আর ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর চারপাশ। বড় ট্রেতে সাজানো বেগুনি, পিয়াজু, আলুর চপ, ঝাল ও নারকেলি সমুচা; তন্দুরে ঝুলছে চিকেন টিক্কা, শিক, রেশমি ও হারিয়ালি কাবাব। ইফতার ঘনাতেই বাড়ছে ভিড়-পরিবার, অফিসফেরত ক্রেতা, লাইনে অপেক্ষা, দরদাম ও কেনাকাটা; তরুণদের ছবি-ভিডিও ধারণও চোখে পড়ে।
বিউটি লাচ্ছি ও শরবতের দোকানে লম্বা সারি-লেবু, জাফরানি বাদাম শরবত, ফালুদা ও লাচ্ছি; পাশে ফিরনি, জর্দা, পুডিং। চৌরাস্তায় শিক কাবাবের আগুনে ধোঁয়ার কুণ্ডলী, গলিতে সামুদ্রিক মাছ ভাজা, চিকেন রোস্ট, বিফ রেজালা। বিক্রেতাদের ভাষ্য, প্রথম দশ রোজায় ভিড় কম থাকলেও বিকালে চাপ বাড়ছে, আর দশ রমজানের পর বাজার আরও জমবে। সবমিলিয়ে নাজিরাবাজারের রমজানের বিকাল রং, স্বাদ ও কোলাহলে উৎসবমুখর।
কাজী আলাউদ্দিন রোডজুড়ে শাহী নান্না বিরিয়ানি, আল্লাহর দান নিউ হোটেল, মদিনা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, বিউটি লাচ্ছি, গ্র্যান্ড নবাব রেস্টুরেন্ট, আল করিম রেস্তোরাঁ, শাহী ছানা মাঠা ঘর, হাজী বিরিয়ানি, হানিফ বিরিয়ানি, সৌরভ মাঠা অ্যান্ড লাচ্ছি ঘর, দি রয়েল সুইটমিট, বুখারী বিরিয়ানি, আল কারীম সি ফুড অ্যান্ড কাবাব, বিসমিল্লাহ কাবাব ঘর, আল আমিন কাবাব অ্যান্ড ক্যাটারিং, কলকাতা জুসবার, মতি বিরিয়ানি হাউজ, মদিনা সিফুড অ্যান্ড কাবাবসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হানিফ বিরিয়ানিতে সারাবছরই লাইনে দাঁড়িয়ে খেতে হয়। রমজানে সেই ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এখানে স্পেশাল খাসির বিরিয়ানি ৩২০ টাকা, ফুল ২৯০ টাকা, হাফ ১৬০ টাকা। এক লিটার বোরহানি ২৪০ টাকা, প্রতি গ্লাস ৬০ টাকা। অনেক ক্রেতা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিরক্ত হয়ে ফিরে গেলেও অধিকাংশই অপেক্ষা করেন প্রিয় স্বাদের জন্য।
খিলক্ষেত থেকে আসা মো. সুমন আলী, ঠাকুরগাঁও থেকে মো. শহিদুল, যাত্রাবাড়ী থেকে ইমরান এবং উত্তরা থেকে মাহি, তাইফ ও সামি জানান, ‘ভিডিও ও ইউটিউবে নাজিরাবাজারের ঐতিহ্যবাহী হানিফ বিরিয়ানি দেখে এসেছি। ইফতারের সময় চলে এলেও দাঁড়িয়ে আছি এই ভিন্ন স্বাদের বিরিয়ানি খেতে।’
ঐতিহ্যবাহী বিউটি লাচ্ছিতে ফালুদা ১০০ থেকে ৪০০ টাকা, লেবুর শরবত ২০ টাকা গ্লাস, জাফরানি বাদাম শরবত ৬০০ টাকা লিটার, লাচ্ছি ৫০ টাকা গ্লাস ও ৪০০ টাকা লিটার। স্পেশাল আইসক্রিম ফালুদা ১৩০ টাকা।
গার্ড সাহেব জামে মসজিদের গেটে অবস্থিত শাহী ছানা মাঠা ঘর-এ ঘোল মাখা ১৬০ টাকা লিটার, ছানা দিয়ে স্পেশাল ঘোল মাঠা ২৬০ টাকা লিটার, ছানা ৩০ টাকা পিস। স্বত্বাধিকারী মো. সিজান বলেন, ‘প্রথম রমজান থেকেই বেচাকেনা ভালো। গতবারের তুলনায় এবার কিছুটা বেশি। প্রথম দশ রোজা পর্যন্ত ক্রেতা কম থাকলেও দশ রমজানের পর প্রচুর ভিড় হয়।’
চৌরাস্তায় পেশোয়ার হোটেলে পাকিস্তানি নেহারি ২০০-৪৫০ টাকা, খাসির পায়া ১৮০, চিকেন সুপ ১২০, আফগানি চিকেন ২০০, খাসির মগজ ভুনা ২০০, চিকেন তাওয়া ১৫০, কলিজা ভুনা ১৫০, গরুর রেজালা ২০০, চাইনিজ সবজি ৮০, হালিম ১৫০ থেকে ১০০০ টাকা (ফ্যামিলি প্যাক)।

