ডিএমপির সভায় ক্ষোভ
এভাবে জামিন হলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না
চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। এই তিনটি বিষয়ে পুলিশের অবস্থান কঠোর। কিন্তু এরপরও বন্ধ হচ্ছে না চাঁদাবাজি। চলছে সন্ত্রাসী কার্যক্রম। কমছে না মাদক ব্যবসায়ীদের দাপট। কিন্তু কেন? এর উত্তর খুঁজছে পুলিশও। বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায়ও উঠে আসে বিষয়টি। এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন ওসি বলেন, বুধ ও বৃহস্পতিবার চাঁদাবাজির পৃথক দুই মামলায় আসামিদের গ্রেফতার করেছি। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে। কিন্তু সবাই জামিন পেয়েছে। ফ্যাসিস্টের সহযোগীরা তো জামিন পেয়ে গেছে অনেক আগেই। জামিন দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতারদেরও। এভাবে জামিন পেয়ে গেলে সরকারের আসল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। অপরাধ আরও বেড়ে যাবে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হবে বলে অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আশ্বাস দেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
সভাসূত্র জানায়, কোনো ধরনের মব ও চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। যেখানেই মব-চাঁদাবাজি সেখানেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে হবে। ওয়ারেন্ট তামিলের সংখ্য খুবই কম উল্লেখ করে মো. সরওয়ার বলেন, যেসব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ডিএমপি অধ্যাদেশেও আসামি গ্রেফতার বাড়াতে হবে। মাদকের মামলা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আসামি গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করতে হবে। সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নতুন সরকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। সফলতার সঙ্গে ওইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকারের জন্য ভালো কিছু উপহার দিতে চাই। আমরা এমন কিছু করতে চাই, যাতে জাতি দীর্ঘদিন মনে রাখে। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রত্যেক পয়েন্টে পুলিশি তৎপরতা বাড়াতে হবে। ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ওসি যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃশ্যমান ভালো করতে হবে। চাঁদাবাজিকে জিরো টলারেন্স হিসাবে দেখতে হবে। যেসব হাইপ্রোফাইলের কারণে চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না তাদের চিহ্নিত করে দলীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবগত করতে হবে। মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে হবে। সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী, সদরঘাট ও কমলাপুরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি তৎপরতা বাড়াতে হবে। ঈদের ছুটির তিন দিন আগে থেকেই পরিচালনা করতে হবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। থাকবে পর্যাপ্ত মোবাইল টিম। গাবতলীসহ একাধিক স্থানে বসানো হবে ওয়াচ টাওয়ার। মামলা নিষ্পত্তিসহ অন্যান্য রুটিন ওয়ার্কে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। মার্কেটকেন্দ্রিক ডেপ্লয়মেন্ট বাড়ানো হবে।
অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ঈদের আগে পরিবহণ সেক্টরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। থানা ও ডিবির চেকপোস্ট বাড়াতে বলেছেন। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কমিশনার। মার্কেটের সামনে ছিনতাই ঠেকানোর ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামনে টহল জোরদারে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ টাকা নিয়ে বের হলে যাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তি এসকর্ট চাইলে তা দিতে হবে।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের আহ্বান জানালে ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, ইতোমধ্যেই জোরালো অভিযান শুরু হয়েছে। মিরপুরের মিল্লাত বস্তিসহ দুটি বস্তিতে বড় অভিযান চালানো হয়েছে। লালবাগের খিঁচুড়ি পট্টি ও রহমতগঞ্জ মাঠ এলাকা, উত্তরা একাধিক এলাকা ও ওয়ারীর সিটি পল্লীতে অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে বড় সফলতা রয়েছে। মিরপুরের দুই অভিযানে ৬৩ মাদক ব্যবসায়ীকে সাজা দেওয়া হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে। এছাড়া সিটি পল্লীতে ২২ জনকে, উত্তরায় নয়জন ও লালবাগে ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
সভায় ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসাবে ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করেছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। ফেব্রুয়ারি মাসে পুলিশের অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে তেজগাঁও বিভাগ। শ্রেষ্ঠ থানা হয়েছে মোহাম্মদপুর থানা। সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শামীম হোসেন। শ্রেষ্ঠ এসআই যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন গেন্ডারিয়া থানার এসআই রাকিবুল ইসলাম রাজিব ও মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. জসিম। এএসআইদের মধ্যে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার এএসআই রকিবুল হাসান ও গুলশান থানার এএসআই সুমন ইসলাম। গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ডিবি-মতিঝিল বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন ডিবি-মতিঝিল বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসাইন। ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্ট যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন পল্লবী ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট আল ফরহাদ মোল্লা ও মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট রাসেল আলম। যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) হাসান মো. শওকত আলী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

