গ্রামে-গঞ্জে নির্বাচনি হাওয়া: কুমিল্লা
মুখোমুখি হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লায় মাঠপর্যায়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে। উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে গণসংযোগ শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জেলার প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়নে মুখোমুখি হচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা। তবে কোন ক্রাইটেরিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে।
জানা যায়, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ। এতে করে কুমিল্লার ১৯৩টি ইউনিয়ন, ৯টি পৌরসভা এবং ১৮টি উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এসব নির্বাচনি এলাকায় প্রতিটি ইউনিটে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াত প্রার্থীরা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। ইতোমধ্যে বিএনপি প্রার্থিতা ঘোষণা না করলেও বিরোধী দল জামায়াত শতাধিক ইউনিয়ন এবং ৯টি পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কোনো কোনো ইউনিয়ন এবং পৌরসভায় এনসিপির প্রার্থীরাও গণসংযোগ করছেন।
জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, সম্ভাব্য মেয়র, চেয়ারম্যান প্রার্থীরা গণসংযোগ, সামাজিক অনুষ্ঠান ও জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন। প্রার্থীরা ডিজিটাল ব্যানার-ফেস্টুন টানাচ্ছেন। তবে স্থানীয়দের ধারণা, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং প্রচার-প্রচারণা শুরু হলে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। সরকার এবং বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।
জেলা বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে ভোট বিভক্ত হয়ে পরাজয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে বিএনপির প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় বেশ কয়েকজন করে প্রার্থী থাকলেও জামায়াত একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে কাজ করছে। এতে বিএনপির গ্রুপিং-দ্বন্দ্বের সুযোগ নিতে পারে জামায়াত। তাছাড়া বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত মুখোমুখি হতে পারে।
কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম সহিদ বলেন, ‘আমরা সবকটি ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং উপজেলায় দলীয় প্রার্থী দেব। ইতঃপূর্বে বেশকিছু ইউনিয়ন পৌরসভায় প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার মেনে নেওয়া হবে না। এই নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমাদের বেশির ভাগ প্রার্থীই জয়লাভ করবেন।
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছি। এবার পরিচ্ছন্ন জনপ্রিয় প্রার্থীদের দল বেছে নেবে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে দলের সিনিয়র নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন। দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে আমরা সাংগঠনিকভাবে কাজ করছি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, বিএনপি প্রতিটি ইউনিয়ন পৌরসভায় একক প্রার্থী দিতে না পারলে দলীয় প্রার্থীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামী লীগের আধিপত্য এবং দলীয় প্রতীকের কারণে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। এবার উৎসবমুখর পরিবেশে সব শ্রেণির প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
