|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের উন্নয়নের গল্প যতই উচ্চকণ্ঠে বলা হোক না কেন, সড়কে শিশুমৃত্যুর নির্মম বাস্তবতা আমাদের বারবার বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় এক হাজার শিশু। এই সংখ্যা নিছক কোনো হিসাব নয়, এটি এক হাজার পরিবারের আজীবনের শোক, আর একটি জাতির ভবিষ্যৎ ক্ষয়ে যাওয়ার করুণ দলিল। শিশুরা স্বপ্ন দেখে, আগামীর পৃথিবী নিয়ে কল্পনায় ডুবে থাকে। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে যাচ্ছে স্কুলে যাওয়ার পথে, খেলাধুলার মাঠের সামনে কিংবা বাড়ির পাশের ব্যস্ত সড়কে। গ্রাম ও মফস্বল এলাকার চিত্র আরও ভয়াবহ। এসব অঞ্চলে সড়ক ব্যবস্থাপনা দুর্বল, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ কার্যত অনুপস্থিত, নেই পর্যাপ্ত ট্রাফিক তদারকি। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকির মুখে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুমৃত্যুর পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে : লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং ট্রাফিক আইন অমান্য। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শিশুদের জন্য নিরাপদ রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা না থাকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ট্রাফিক শিক্ষার ঘাটতি। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বাস্তবতা হলো, আইন আছে, নিয়ম আছে, কিন্তু এর যথাযথ প্রয়োগ নেই। বড় কোনো দুর্ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হয়, সংবাদ শিরোনাম হয়, তারপর সবকিছু আবার আগের মতোই চলতে থাকে। এই অবহেলা ও উদাসীনতার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে শিশুদের। এখনই সময় এ নিয়ে নীরবতা ভেঙে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।
মেহরীন মালিহা, শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
