|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টিকটককে কেবল বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম হিসাবে দেখা হলেও এর বিস্তার, সামাজিক প্রভাব ও ব্যবহার পদ্ধতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; মানুষের মনোযোগ, চিন্তার ধরন এবং সামাজিক আচরণকে প্রভাবিত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই প্ল্যাটফর্মের মূল চালিকাশক্তি হলো এর অ্যালগরিদম। ব্যবহারকারীর দেখা, থামা, স্ক্রল করা কিংবা প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে কনটেন্ট নির্বাচন করা হয়। ফলে ধীরে ধীরে ব্যবহারকারী এমন একটি সীমিত কনটেন্ট-বৃত্তে প্রবেশ করে, যেখানে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বা নতুন চিন্তার জায়গা কমে আসে এবং মনোযোগ নষ্ট হয়। টিকটকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সময়ের সংকোচন। কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওর ধারাবাহিকতায় দীর্ঘমেয়াদি মনোযোগ ও ধৈর্য কমে যায়। এর প্রভাব পড়ছে পড়াশোনা, বিশ্লেষণমূলক চিন্তা এবং গভীর আলোচনা করার সক্ষমতার ওপর। জনপ্রিয়তার ধারণাটিও আমাদের সমাজকে অসুস্থ করে তুলছে। এটি দৃশ্যমান দক্ষতা বা জ্ঞানের ওপর নির্ভর করে না, বরং ট্রেন্ড ও উপস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ভাইরাল হওয়ার নেশায় তরুণরা ফেক, বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত কিংবা দায়িত্বহীন কনটেন্টও ছড়িয়ে দিচ্ছে। ব্যবহারকারীরা যাচাই না করে এসব গ্রহণ করছে, যা সামাজিক মূল্যবোধ, সচেতনতা ও তথ্য গ্রহণের ক্ষমতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এর প্রভাবগুলো খুব নীরবে পড়ে। ক্ষতিটা চোখে পড়ে না, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে মনোযোগের সংকট, চিন্তার সরলীকরণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কাজেই এ প্ল্যাটফর্ম থেকে সত্যিকারের উপকার পেতে হলে কেবল বিনোদনের জন্য নয়, এর দায়িত্বশীল ও সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ইসলাম, শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
