|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র, মানবিক মূল্যবোধ চর্চার ক্ষেত্র এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ার কারখানা হিসাবে দেখি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই পবিত্র জায়গাগুলোতেই বহুদিন ধরে একটি অমানবিক ও সহিংস সংস্কৃতি বাসা বেঁধে আছে-র্যাগিং। প্রশ্নটি তাই বারবার সামনে আসে : বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং বন্ধ হবে কবে? র্যাগিং বলতে সাধারণত সিনিয়র শিক্ষার্থীদের দ্বারা নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক, শারীরিক কিংবা কখনো যৌন নির্যাতন বোঝায়। বস্তুত এটি একধরনের নিপীড়ন, যা অনেক সময় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়, এমনকি জীবনের ঝুঁকিও তৈরি করে। অনেক শিক্ষার্থী র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, কেউ কেউ ডিপ্রেশনে ভোগে, আবার কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলে। বিভিন্ন সময়ে র্যাগিংয়ের কারণে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সংবাদপত্র খুললেই মাঝেমধ্যে এমন খবর চোখে পড়ে, যা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। তবুও কেন জানি আমরা খুব দ্রুতই সবকিছু ভুলে যাই, আবার আগের মতো চলতে থাকি। র্যাগিং বন্ধ করা কোনো অসম্ভব কাজ নয়; দরকার শুধু সদিচ্ছা, সচেতনতা এবং কঠোর পদক্ষেপ। এখন সময় এসেছে সবাই মিলে বলার-র্যাগিংয়ের অবসান চাই।
মোহাম্মদ সিফাত মিয়া, শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
