কুমিল্লার ১১ আসন
বিএনপির দুর্গ ভাঙতে পারেনি জামায়াত
আবুল খায়ের, কুমিল্লা
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে জামায়াত ছয়টিকে টার্গেটে নিয়ে মাঠে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছিল। কিন্তু বিএনপির দুর্গ ভাঙতে পারেনি তারা। মাত্র একটি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াত। তবে তাদের ভোট বেড়েছে দ্বিগুণ। জানা যায়, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে শুধু জামায়াতের তৎপরতা বেশি। বাকি ১০ আসনই বলা যায় বিএনপির ঘাঁটি। এর মধ্যে ৯টিতেই জয়ী হয়েছে দলটির প্রার্থীরা। কুমিল্লা-৪ আসনে প্রার্থীর ঋণখেলাপির দায়ে আইনি জটিলতায় আসনটি হাতছাড়া হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, বিএনপি ৯টি আসন ধরে রাখলেও ভোটের দিক থেকে জামায়াত বহুদূর এগিয়ে গেছে। অতীতে জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করে কখনো এত ভোট পায়নি। এবার যে ভোট পেয়েছে, এর অর্ধেক ভোটও ছিল না দলটির।
রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস জানায়, কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) সংসদীয় আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহালুল পেয়েছেন ৭৩ হাজার।
কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপির অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া পেয়েছেন ৫০ হাজার ভোট, জামায়াতের নাজিমুদ্দিন মোল্লা পেয়েছেন ৩৮ হাজার ভোট। কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির কাজী শাহ্ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার, জামায়াতের ইউসুফ হাকিম সোহেল পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ভোট। কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ভোট। এখানে ট্রাক প্রতীকের গণধিকারের প্রার্থী জসিম উদ্দিন ভোট পেয়েছেন ৪৯ হাজার। ?কুমিল্লা-৫ বিএনপির জসীমউদ্দীন পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ভোট। জামায়াতের ড. মোবারক হোসাইন পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ভোট। কুমিল্লা-৬ বিএনপির মনিরুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ২ লাখ ২ হাজার ভোট। জামায়াতের দিন মোহাম্মদ পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ভোট।
কুমিল্লা-৭ আসনে ৮০ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন। এখানে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে ৪০ হাজারের মতো ভোট পেয়েছেন ডক্টর রেদোয়ান আহমেদ। কুমিল্লা-৮ বিএনপির জাকারিয়া তাহের সুমন পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার। জামায়াতের শফিকুল আলম পেয়েছেন ৪১ হাজার ভোট। কুমিল্লা-৯ বিএনপির আবুল কালাম পেয়েছেন ২ লাখ ৪ হাজার, জামায়াতের ড. সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ভোট। কুমিল্লা-১০ বিএনপির মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ১ লাখ ১০ হাজার, জামায়াতের ইয়াসিন আরাফাত পেয়েছেন ৭৫ হাজার ভোট। কুমিল্লা-১১ জামায়াতের নায়েবে আমির ডাক্তার সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার। বিএনপির কামরুল হুদা পেয়েছেন ৭৬ হাজার ভোট। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দীন মোহাম্মদ বলেন, নির্বাচনে হারলেও আমাদের প্রার্থীরা জনগণের কাছ থেকে দূরে যাবে না। আমরা এখন থেকেই আবার দাওয়াতি কাজ শুরু করব। মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলব। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করব। আমরা মানুষের কল্যাণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাজনীতি করি।
কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, কুমিল্লা বিএনপির ঘাঁটি। এখানে ১১টি আসনের মধ্যে নয়টিতেই আমাদের প্রার্থীরা জিতেছে। একটি আসনে আইনি জটিলতার কারণে আমাদের প্রার্থী নির্বাচন করতে পারেনি। কুমিল্লায় বাস্তবে জামায়াতের একটি সিট রয়েছে। আগামী দিনে পুরো ১১টি আসনে জয়ের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাব।
