কৃষককে অসম্মান করা মানে বাবাকে অপমান করা: জামায়াত আমির
কিশোরগঞ্জ ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আমি কোনো ধনী পরিবারে জন্ম নিইনি। আল্লাহর রহমতে আমি একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। তাই কৃষক-শ্রমিকদের সম্মান না করলে তা আমার বাবাকে অপমান করার শামিল হবে। এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জের হাওড় উপজেলা ইটনার শিমুলবাগ দক্ষিণহাটি এলাকায় জামায়াত সমর্থক শাহ আলমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও স্মরণসভায় যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে সম্মান করা আমার ইমানি দায়িত্ব। কৃষক-শ্রমিক কঠোর পরিশ্রম করে হালাল রুজি উপার্জন করেন। তাদের ঘামের গন্ধ আমার কাছে আতরের মতো মনে হয়। অনেক সময় দেখি কেউ কেউ গরিব মানুষের সঙ্গে হাত মেলানোর পর আড়ালে গিয়ে হাত মুছে ফেলেন। কিন্তু আমি তাদের সেই ঘামকে সম্মানের চোখে দেখি, ভালোবাসার সঙ্গে গ্রহণ করি।
তিনি আরও বলেন, আমি দুই শ্রেণির মানুষের সান্নিধ্যে বিশেষ আনন্দ পাই। একদল হলো নিষ্পাপ শিশু, যাদের কাছে গেলে ফেরেশতার সান্নিধ্যে থাকার অনুভূতি হয়। আরেক দল হলো দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ, যারা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হালাল খাবার তুলে দেন।
এ স্মরণসভায় তিনি শাহ আলমের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমি যতদিন সংগঠনের দায়িত্বে আছি, ততদিন এই দায়িত্ব পালন করব। ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন, তারাও তা পালন করবেন বলে আশা রাখি।
ইটনায় স্মরণসভা শেষে তিনি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভা থেকে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আব্দুস ছালামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নিকলী উপজেলার ছাতিরচরে যান। এর আগে সকাল ৮টায় তিনি সড়কপথে কিশোরগঞ্জ শহরে পৌঁছান।
উল্লেখ্য, ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। জনসভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস ছালাম নামে এক কর্মী নিহত হন। এছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনার মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে যাওয়ার পথে স্ট্রোক করে মৃত্যু হয় শাহ আলম (৫০) নামে অন্য এক সমর্থকের।
