Logo
Logo
×

গোলটেবিল বৈঠক

রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা : নির্বাচন ভাবনা

Icon

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। এমনকি সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতে হবে কি না, তা নিয়ে সংশয়-সন্দেহ রয়েছে কারও কারও। শুধু তাই নয়, গণ-অভ্যুত্থানে যুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও বাড়ছে দূরত্ব, তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সাম্প্রদায়িক বিরোধসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে দৈনিক যুগান্তর আয়োজন করে ‘রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা : নির্বাচন ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক। পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধান প্রতিবেদক মাসুদ করিম। এতে অংশ নেন দেশের শীর্ষ রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ, সংস্কার বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিয়েছেন তারা। নিচে তা তুলে ধরা হলো।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়োজন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যেমন নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন, তেমনই নির্বাচনও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য দরকার। একটা আরেকটার সঙ্গে অত্যন্ত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বর্তমান বাংলাদেশের যে প্রেক্ষাপট, তাতে এখন আমাদের সবার প্রয়োজন হচ্ছে আগামী নির্বাচনকে সুসম্পন্ন করা। জনগণ যাতে স্বাধীনভাবে ইচ্ছামতো ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে, সে পরিবেশটা সৃষ্টি করতে হবে। এ দেশে ভবিষ্যতের যত সংকট আছে, সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। দেশের নির্বাচন পরিস্থিতি ও পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক হয়েছে। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে সেখানে এ সরকারকেই এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে বাংলাদেশ পরিচালনা করার কথা বলা হয়েছে। তারাই নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।

ড. আব্দুল মঈন খান

ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, সরকার ও রাজনীতিবিদরা যদি মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করে, তাহলে এই বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে, এটা অত্যন্ত যুক্তিসংগত। এটি শুধু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে নয়, নিজেদের দলের ভেতরেও সে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে। সে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যদি যুদ্ধে পরিণত হয়, তখন কিন্তু স্থিতিশীলতা থাকে না। এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, এ সরকার অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে দীর্ঘ ১৫ বছরের দুঃশাসন, অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুনের পরিস্থিতি থেকে বের করে নিয়ে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক সিস্টেমে রূপান্তর করতে সহায়তা করবে।

মাহমুদুর রহমান মান্না

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় সমস্যা হতে পারে। আমি মনে করছি, আমরা এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা নিয়ে আলোচনা করছি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কী কী কারণে বিঘ্নিত হতে পারে তার উদাহরণ পাকিস্তান আমল থেকে এ পর্যন্ত দেখে আসছি। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পরে-এ তিন সময়ের মধ্যে প্রি-ইলেকশন সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়াসহ অন্য বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

মতিউর রহমান আকন্দ

অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার গঠন করার পর শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার আগে পরিকল্পিতভাবে দেশের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করা হয়। ওই ঘটনার কুফল গোটা জাতি ভোগ করেছে। ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৮ বছরের রাজনৈতিতে অস্থিতিশীলতা কী পরিণাম, তা আমরা দেখেছি। সামনে আবার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তরুণরা প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। তাদের একটা বিরাট স্বপ্ন আছে, প্রত্যাশা আছে। তারা একটা নতুন দেশ দেখতে চায়। এ নির্বাচনে চার কোটি তরুণ ভোটার একটি ফ্যাক্টর।

হাসনাত আবদুল্লাহ

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রশাসন এবং পুলিশ ‘কেবলা পরিবর্তন’ করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে যা বুঝতে পেরেছি, তারা হচ্ছে ন্যাশনাল কারেন্ট পার্টি। মানে যে যখন ক্ষমতায় বা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে, তাদের পক্ষে কাজ করে। প্রশাসনের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখা যাচ্ছে না। এ কারণে কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছে। এছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দল ডিসি, এসপি এবং ওসির পদ দখলে রাখতে চায়। এসব ভাগাভাগি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা হচ্ছে। নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে অর্থের ছড়াছড়ি নিয়ে উদ্বেগ আছে। আমার আসনে গত নির্বাচনে জয়ী প্রার্থী ১২৬ কোটি টাকা খরচ করেছে।

মজিবুর রহমান মঞ্জু

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, শেখ হাসিনার মতো একটা ফ্যাসিস্ট ছিল আমাদের মূল সংকট। এখন সে সংকট তো চলে গেছে। এখনো সংকটটা পরোক্ষভাবে শেখ হাসিনাই। কারণ শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর আমাদের ঐক্যও নষ্ট হয়ে গেছে। শেখ হাসিনা যতক্ষণ ছিল, ততক্ষণ আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। আমরা কেউ কাউকে প্রশ্ন তুলিনি। প্রশ্নহীন, নিঃস্বার্থ ও নিঃশর্তভাবে আমরা এক জায়গায় ছিলাম। আমরা রক্ত দিয়েছি, জীবন দিয়েছি, একে অপরের জন্য ছুটে গিয়েছি। এক অপরূপ ঐক্যবদ্ধতা আমাদের মধ্যে ছিল। এখন আমরা ক্ষমতার লোভে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছি।

নুরুল হক নুর

নুরুল হক নুর বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা লন্ডন বৈঠকের পর কেটেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন করার জন্য সরকারের প্রস্তুতি কতটুকু? প্রশাসনিক পুনর্গঠন বা প্রশাসনের রদবদল থেকে শুরু করে উপদেষ্টাদের নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি অভিযোগ দিচ্ছে, জামায়াত দিচ্ছে। এমনকি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত পার্টি যেটাকে অনেকে কিংস পার্টি বলছে, সে পার্টিও উপদেষ্টাদের নিয়ে অভিযোগ করেছে।

মোহাম্মদ কামরুল আহসান

মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার বিষয়টি যতদিন পেন্ডিং থাকবে, ততদিনই সংকট-সংশয় থাকবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তারা কোনো দল যদি নাও করে তবুও যাকে নিরাপদ বোধ করে, যার সঙ্গে চলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তাকে ভোট দেয়। যাকে তারা ভয় পায়, তাকে এড়িয়ে চলে। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা, শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে পরাভূত করতে পেরেছে।

সাইফুল হক

সাইফুল হক বলেন, সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে একটা বড় প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বিএনপির জামায়াত এবং এনসিপির পক্ষ থেকে। আমার বিবেচনায় প্রত্যেকের কথার মধ্যে কিছু কিছু সত্যতা আছে। যদি এটা হয়ে থাকে তাহলে সরকারের দায়িত্ব কী? সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এগুলোকে আমলের মধ্যে নেওয়া। যেহেতু সরকারকে একটা নির্বাচনকালীন প্রায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করতে হবে। ফলে সে জায়গা থেকে সরকারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা দরকার। আমি মনে করি, আমরা একটা ঐতিহাসিক সুযোগের ভেতর এখন আছি। আমাদের কোনো হঠকারিতার জন্য, কোনো বাড়াবাড়ির জন্য, কোনো অতিকথনের জন্য গণতান্ত্রিক উত্তরণের যে ঐতিহাসিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা যাতে আবার কোনোভাবে বিনষ্ট না হয়।

জোনায়েদ সাকি

জোনায়েদ সাকি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য আমাদের অঙ্গীকার আছে, দায়বোধ আছে। আগের ব্যবস্থাটা যে গণতান্ত্রিক ছিল না তা প্রমাণিত। নানা ধরনের পরিবর্তনের চিন্তার মধ্য দিয়ে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে নানাভাবে মেরামত করার ক্ষেত্রগুলো আগেই ব্যর্থ হয়। ওই ব্যর্থতার কারণেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। এটা শুধু একজন ব্যক্তির বিষয় ছিল না, যে শেখ হাসিনা নিজে শুধু ফ্যাসিস্ট, তিনি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন।

ড. রেদোয়ান আহমেদ

ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আমি আশাবাদী। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষমতা দিয়ে তাদেরও নির্বাচনি কার্যক্রম দেখাশোনা করার জন্য ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন ছাড়া দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না। নির্বাচন ছাড়া এ জাতি কোনোভাবেই সারভাইভ করতে পারবে না।

এইচআরএম রোকনউদ্দিন

এইচআরএম রোকনউদ্দিন বলেন, ৫ আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতর যে একটা ঐক্য ছিল, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার যে শপথ নিয়েছিল, যতই দিন যাচ্ছে তা ক্ষীণ হয়ে আসছে। রাজনীতিবিদদের স্বীকার করতেই হবে, সেই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের দৃঢ় শপথ নিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশের জনগণ আলোর ঝলক দেখতে পেয়েছিল, তারা নতুন স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু আস্তে আস্তে আপনাদের ভেতর বিভাজন শুরু হয়ে গেছে।

একেএম শামসুদ্দিন

একেএম শামসুদ্দিন বলেন, ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে নির্বাচনি পরিবেশ সৃষ্টি করা রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যেকেরই দায়বদ্ধতা আছে। নির্বাচন যদি সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করতে না পারি তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে, সে প্রশ্ন রয়েছে। স্বার্থান্বেষী মহল একটা বিরাট সুযোগ পাবে। তখন এ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দেশের, জনগণের অবস্থা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। যারা পতিত (আওয়ামী লীগ), তারা আবার পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পাবে। এসব কথা মাথায় রেখে রাজনৈতিক দলগুলো এবং যারা নেতৃত্বে আছেন, তারা তাদের কর্মসূচি এবং সেভাবেই তার দলকে পরিচালিত করবেন বলে আশা করি।

মোস্তফা কে মুজেরী

মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমার মনে হয়, একটা নির্বাচিত সরকার যদি না আসে, তাহলে অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর কোনোটারই সমাধান হবে না। এখনকার পরিস্থিতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নন। আমরা যতই বিনিয়োগ সামিট করি না কেন, এতে শুধু আমাদের অর্থেরই অপচয় হচ্ছে, কিন্তু বিনিয়োগ বাড়ছে না। বিনিয়োগ বাড়বেও না। বিনিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অর্থনৈতিক চাকা ঘুরবে না। জন-আকাঙ্ক্ষা মাথায় রাখতে হবে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন হতে হবে।

আজিজুল হক ইসলামাবাদী

আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, বিভাজন আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ। আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনা শোনার, সমালোচনাকে ভোগ করার মানসিকতা থাকতে হবে। এ দেশের জনগণ আপনাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, কোনো বিদেশিরা নয়। সুতরাং জনগণ কী চায়, তা বুঝতে হবে। জনগণ বিভক্তি চায় না। এদেশের জনগণ যেন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে, সেজন্য সব রাজনৈতিক দলকে সে পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে।

মাহদী আমিন

মাহদী আমিন বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ভিন্ন আদর্শ থাকবে, ভিন্ন দর্শন থাকবে, ভিন্নমত থাকবে-এটাই খুব স্বাভাবিক। এ ভিন্নমত এবং ভিন্ন পথের মাঝেও আমরা সবাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নে, মানবাধিকার, আইনের অনুশাসন, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এক। এসব প্রশ্নে আমাদের মাঝে কোনো দ্বিমত নেই। সুতরাং আমাদের লক্ষ্য এক।

গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে জনগণের একটি সরকার নির্বাচিত করা।

মু. কবির আহমদ

মু. কবির আহমদ বলেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা ছিল, আছে এবং থাকবে। এখন আবার রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, দেখা যাচ্ছে। এটি মূলত ফ্যাসিস্টদের উৎসাহিত করছে, ফেসিস্টদের খোরাক দিচ্ছে। রাজনীতিনিষিদ্ধ দলটি কর্মসূচি নিতে উৎসাহ পাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এখনই যদি পরিবেশটি এরকম হয়, তাহলে নির্বাচনের সময় আরও খারাপ হতে পারে। সেদিকে দৃষ্টি রেখে প্রত্যেকে দল থেকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচনটি যাতে অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী

মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, বর্তমান সময়ে আমরা নানাবিধ সংকট দেখতে পাচ্ছি। রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসাবে আমি মনে করি, এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের গতিশীলতা বজায় রাখতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে একটি অবাধ, সুন্দর এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আবশ্যক। আমরা অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে সে পথে অগ্রসর হওয়াটাকেই অধিকতর নিরাপদ রাস্তা মনে করি।

কামাল হোসাইন

কামাল হোসাইন বলেন, একটা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছিলাম। তখন আমাদের ভোটাধিকার ছিল না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে কর্তৃত্ববাদী শাসন এবং আধিপত্যবাদী শক্তির উত্থান ছিল। মানবাধিকারকে বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদকে মামলা-হামলা, গ্রেফতার, গুম এবং আয়নাঘরের বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছিল।

আবদুল হাই শিকদার

সভাপতির বক্তব্যে কবি আবদুল হাই শিকদার জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এখন এক সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময় পার করছে। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের প্রথম পর্যায়ে জয়লাভ করেছি। কিন্তু এখন নিজেদের মধ্যে অনৈক্য, অবিশ্বাসের সংকট দেখা দিলে সেই পরাজয় ফিরে আসবে। উহুদের যুদ্ধে নবী করিম (সা.) নির্দেশ দিয়েছিলেন পাহারার দায়িত্ব থেকে কেউ যেন সরে না যায়। কিন্তু কিছু সৈন্য যুদ্ধ জয় হয়ে গেছে মনে করে দায়িত্ব ছেড়ে মূল ময়দানে চলে যান এবং সেখান থেকেই পরাজয় আসে।

যারা অংশগ্রহণ করেছেন

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

সদস্য, স্থায়ী কমিটি, বিএনপি

ড. আব্দুল মঈন খান

সদস্য, স্থায়ী কমিটি, বিএনপি

অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ

কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

মাহমুদুর রহমান মান্না

সভাপতি, নাগরিক ঐক্য

ড. রেদোয়ান আহমেদ

মহাসচিব, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)

হাসনাত আবদুল্লাহ

মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল)

এনসিপি

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান

উপাচার্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

মোস্তফা কে মুজেরী

নির্বাহী পরিচালক

ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ভেভেলপমেন্ট

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) একেএম শামসুদ্দিন

গবেষক ও রাজনীতি বিশ্লেষক

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) রোকনউদ্দিন

গবেষক ও রাজনীতি বিশ্লেষক

মজিবুর রহমান মঞ্জু

চেয়ারম্যান

আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)

সাইফুল হক

সাধারণ সম্পাদক

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

জোনায়েদ সাকি

প্রধান সমন্বয়কারী

গণসংহতি আন্দোলন

নুরুল হক নুর

সভাপতি

গণঅধিকার পরিষদ

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী

যুগ্ম মহাসচিব

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

মাহদী আমিন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা

মু. কবির আহমদ

সহ-সভাপতি

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন

মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী

মহাসচিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ

কামাল হোসাইন

কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম