টঙ্গীতে স্বজনদের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আড্ডা
অলিদুর রহমান অলি
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় গ্রন্থ দিবস একটি দিনের নাম নয়, এটি জাতির মননভূমিতে আলোর উৎসব। সেই আলোর আবেশে, শব্দের সৌরভে আর মানুষের আন্তরিকতায় টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত হলো এক হৃদয়ছোঁয়া সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আড্ডা। পাশাপাশি ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের সাবেক নির্বাহী সদস্য ও টঙ্গী স্বজন সমাবেশের সদস্য মনসুর আহম্মেদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে স্বজন সমাবেশ টঙ্গী শাখা এবং সাংবাদিক উন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে উপস্থিত স্বজন ও অতিথিরা কেক কেটে মনসুর আহম্মেদকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান।
টঙ্গী স্বজন সমাবেশের সভাপতি অলিদুর রহমান অলির সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান শোভনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন টঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মেরাজ উদ্দিন। প্রধান আলোচকের দায়িত্ব পালন করেন গাজীপুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচন কমিশনার মো. বায়েজিদ হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ভোরের আকাশের অনলাইন ইনচার্জ সাফায়েত হোসেন, টঙ্গী রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি পীরজাদা নোয়াব আলী, টঙ্গী সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি আওলাদ হোসেন, দৈনিক বাস্তবায়নের সম্পাদক আলী আকবর, সাপ্তাহিক ঝুমুরের সম্পাদক মাসুদ আলম, মাসিক সংবাদ আলোচনার সম্পাদক ইউনুস আলী, সাংস্কৃতিক কর্মী আ.স.ম. জাকারিয়া, সাংবাদিক বি.এ. রায়হান, সুজন সারোয়ার, টঙ্গী রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান সাহা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন শেখ, দেলোয়ার হোসেন, সিডিডির ম্যানেজার ফরিদুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী নাজমুল বারী চৌধুরী, ডা. আনোয়ারা আহমেদ এবং স্বজনদের মধ্যে সখিনা আক্তার, মনিরুজ্জামান বুলবুল, শামীম রেজা, নুরুন নাহার মনিকা, মৌসুমী কবির শিল্পী, সংস্কৃতি কর্মী মিজানুর রহমান মীর, টুটুল বাঙালি, শাখাওয়াত কবির শুভ, লিটন চৌধুরী, তৌহিদুল ইসলামসহ গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বহু গুণীজন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন এসআই আব্দুর রহমান যার মাধ্যমে আয়োজনটি পায় আধ্যাত্মিকতার শান্ত ছোঁয়া।
প্রধান আলোচক মো. বায়েজিদ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ‘জাতীয় গ্রন্থ দিবস শুধু একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়-এটি জাতির বিবেক জাগ্রত করার এক অনন্য উপলক্ষ্য। বই মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়, সত্যের সন্ধানে পথ দেখায় এবং ন্যায়-অন্যায়ের ভেদরেখা স্পষ্ট করে। ডিজিটাল যুগের তীব্র স্রোতে বই কখনো উপেক্ষিত হলেও, বইয়ের বিকল্প কিছুই হতে পারে না। কারণ একটি ভালো বই নিঃশব্দে মানুষের ভেতরে বিপ্লব ঘটাতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাঠাভ্যাস হারিয়ে গেলে সংকুচিত হয় চিন্তার পরিসর, নিভে যেতে থাকে মানবিকতার দীপ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের দিকে ফেরাতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য।’
প্রধান অতিথি মেরাজ উদ্দিন বলেন, ‘জাতীয় গ্রন্থ দিবস আমাদের জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করে।’
অনুষ্ঠান শেষে সবার প্রিয় স্বজন মনসুর আহম্মেদের সম্মানে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি রূপ নেয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়। যেখানে বই, মানুষ আর সংস্কৃতি মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক অনুপম স্মৃতির অধ্যায়।
সভাপতি, স্বজন সমাবেশ, টঙ্গী (গাজীপুর) শাখা
