যাই তবু এগিয়ে
মহাকাশে দেশের পতাকা ওড়াবেন সারাহ করিম
সুমন্ত গুপ্ত
প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাইটানস স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের মহাকাশচারী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের সারাহ করিম। আন্তর্জাতিক মহাকাশ মিশনে যোগ দেওয়ার পথে প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে এ সুযোগ পেলেন তিনি। চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন দেশের প্রথম নারী মহাকাশচারী। সারাহ প্রথম বাংলাদেশি মহাকাশচারী প্রার্থী। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন, কারণ সারাহ করিম আন্তর্জাতিক মহাকাশ মিশনে যোগ দেওয়ার পথে প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে এ সুযোগ পেলেন। এ বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন সারাহ করিম।
তিনি লিখেছেন, ‘আমি বিনীত এবং সম্মানিত বোধ করছি যে আমাকে টাইটানস স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজর ২০২৬-২০৩০ এর জন্য একজন মহাকাশচারী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। আমি আনুষ্ঠানিকভাবে একজন মহাকাশচারী হওয়ার পথে পা রাখছি। ইনশাআল্লাহ, যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে আমি মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা বহনকারী প্রথম বাংলাদেশি হব।’ গণমাধ্যমকে সারাহ বলেন, ‘আজ আমি আনুষ্ঠানিকভাবে একজন মহাকাশচারী হওয়ার পথে পা রাখছি। একটি ৯ বছর বয়সি ছোট্ট মেয়ে যা কল্পনাও করতে পারে না তার চেয়ে অনেক বড় স্বপ্ন এটি। যে মেয়েটি একবার সুনিতা উইলিয়ামসকে তার বাবার সঙ্গে ওইটুকু বয়সে মহাকাশ থেকে ফিরে আসতে দেখেছিল। তার ভেতর তখন এমন কিছু জাগ্রত হয়েছে, যা কখনও ছেড়ে যায়নি সে। এবং এখন সেই স্বপ্নটি বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।’
তার ভাষায়, ‘আগামী বছর আমি আমার মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ শুরু করব। ২০২৯-৩০ সালে পৃথিবীর ৩০০ কিলোমিটার ওপরে টাইটানস জেনেসিস মহাকাশযানে একটি ঐতিহাসিক কক্ষপথ অভিযানের প্রস্তুতি নেব, যেখানে নাসার প্রবীণ মহাকাশচারী প্রধান মহাকাশচারী বিল ম্যাকআর্থার টাইটানস মহাকাশ অভিযানের নেতৃত্ব দেবেন।’ বলা বাহুল্য যে ১৯৩৭ সালে জন্ম নেওয়া ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা বিশ্বের প্রথম নারী মহাকাশচারী। ‘ভোস্তক সিক্স’ মিশনের অংশ হয়ে মহাকাশে গিয়েছিলেন তিনি। ১৯৬৩ সালের জুনে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এ অভিযান চালিয়েছিল। ভ্যালেন্তিনা ছিলেন সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান। পরিবারে সচ্ছলতাও ছিল না। আর্থিক অনটনের মধ্যেই বড় হন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার বাবা মারা গিয়েছিলেন। মাত্র ৮ বছর স্কুলে পড়াশোনা করতে পেরেছিলেন ভ্যালেন্তিনা। এরপর তিনি কলকারখানায় কাজ নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে শুরু হয়েছিল স্নায়ুযুদ্ধ। ওই সময় দুই পক্ষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একে-অন্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেই চেষ্টার অংশ হিসবেই সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ নারী মহাকাশচারীদের নির্বাচন ও বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রায় ৪০০ নারীর মধ্য থেকে নানা ধাপে চূড়ান্ত করা হয়েছিল পাঁচ নারীকে। এ পাঁচজনের একজন ছিলেন ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা। প্যারাস্যুট ব্যবহার করে আকাশ থেকে মাটিতে অবতরণে বিশেষভাবে দক্ষ ছিলেন তিনি। আর এটিই তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতে সাহায্য করেছিল।
তথ্যসূত্র ইন্টারনেট
