Logo
Logo
×

এশিয়া

কাঁটাতারের দুর্গেই জীবন পার

আফগানিস্তানে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অসহায় নারীরা

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাঁটাতারের দুর্গেই জীবন পার

সংগৃহীত ছবি।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পশ্চিমে উঁচুতে পাহাড়ের মতো একটি জায়গা। চারপাশে কাঁটা তারের বেড়া। স্টিলের তৈরি প্রধান ফটক দিয়ে উঁকি দিলেই দেখা যায় কিছু ভবন। লোকজন স্থানটি নিয়ে কথা নেই বললেই চলে। খুব প্রয়োজন না হলে স্থানীয়রাও সেই পথে হাঁটে না। কিন্তু কাঁটা তারে ঘেরা সেসব দুর্গে কিছু নারী কাটিয়ে দিচ্ছে বছরের পর বছর। পরিবার-সমাজ ও পারিপার্শিক নানা প্রতিবন্ধকতায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অসহায় হয়ে সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা। বিবিসি।

আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দ্বারা পরিচালিত একটি মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র সেটি। স্থানীয়রা এটিকে কালা বা দুর্গ বলে ডাকে। জনকীর্ণ কেন্দ্রটিতে ১০৪ জন নারী রয়েছেন। আফগানিস্তানে কঠোর তালেবান আইন, পুরুষতান্ত্রিক ঐতিহ্যর কারণে নারীদের স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভ্রমণ, কাজ, এমনকি অনেক পরিষেবা পেতেও নারীরা আইনত এবং সামাজিকভাবে পরাধীন জীবনযাপন করছেন। অনেকে আবার ইচ্ছাসত্ত্বেও অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বি হতে পারছে না। লিঙ্গ বৈষম্য এবং সীমিত কর্মসংস্থান অনেক নারীর জন্য প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জীবনের অনেক গুরত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নারীরা নিতে পারছে না। ফলে নির্যাতিত হয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থাকা এক ভুক্তভোগী মরিয়ম (ছদ্মনাম)। পারিবারিক সহিংসতার শিকার সে। দীর্ঘকাল নিজের পরিবারের দ্বারা নির্যাতন এবং অবহেলা সহ্য করেছেন তিনি। অভিযোগ করে মরিয়ম বলেন, ‘যখনই আমি প্রতিবেশীর বাড়িতে যেতাম তখনই আমার ভাইয়েরা আমাকে মারধর করত’। এরপর বিষণ্নতার কারণে এখানে আসেন তিনি। তবে মরিয়ম আর এখানে থাকতে চান না। বিবিসিকে তিনি জানান, ‘আমি বাইরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু আমার কোনো জাওয়ার যায়গা নেই। আমি আমার বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আশা করি না। আমি এখানে কাবুলের কাউকে বিয়ে করতে চাই, কারণ আমি যদি বাড়ি ফিরে যাই, তারা আমাকে আবার ত্যাগ করবে।’ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে এমনও নারী আছেন যারা ৩৫ থেকে ৪০ বছর ধরে এখানে আছেন। সেন্টারের একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সালিমা হালিব বলেন, ‘কিছু রোগী তাদের পরিবার দ্বারা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যক্ত হয়েছেন। কেউ দেখতে আসে না, এবং তারা এখানেই বেঁচে থাকে এবং মারা যায়।’ বছরের পর বছর ধরে সংঘাত অনেক আফগান বিশেষ করে নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ছাপ ফেলেছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী-তালেবানের নারী অধিকারের ওপর দমন-পীড়নের ফলে আফগানস্তানে ৬৮ শতাংশ নারীর মানসিক স্বাস্থ্য অত্যন্ত খারাপ পর্যায়ে গিয়েছে। হাসপাতালের একজন সিনিয়র মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল ওয়ালি উতমানজাই বলেন, ‘নারীরা তীব্র অর্থনৈতিক চাপের সম্মুখীন হয়। অনেকেরই তাদের সেবা করার জন্য কোনো পুরুষ আত্মীয় নেই। তারা কাজও করতে পারে না। আমার রোগীদের ৮০ শতাংশ পারিবারিক সমস্যাযুক্ত যুবতী মহিলা।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম