ইউরোপ দুর্বল-ক্ষয়িষ্ণু-ব্যর্থ
আবারও ইইউ নেতাদের তিরস্কার ট্রাম্পের
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আবারও ইউরোপীয় নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের ‘দুর্বল’ বলে তিরস্কার করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক জোট ন্যাটো তাকে ড্যাডি বলে ডাকে। অভিবাসন ও ইউক্রেন ইস্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউরোপকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ভবিষ্যতে ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনও কমিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ক্ষয়িষ্ণু ইউরোপ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় নেতারা কিয়েভকে ‘পতন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালাতে’ দিচ্ছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো কিয়েভকে ‘শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার’ পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং রাশিয়া এখন ‘সুবিধাজনক অবস্থানে’ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু দেশ রাজনৈতিকভাবে সঠিক হতে চাইলেও জানে না কী করতে হবে। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইউরোপ সহায়তা করতে পারে কি না-এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, তারা কথা বলে, কিন্তু ফল আনে না। আর যুদ্ধ চলছে তো চলছেই। এদিকে ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, ইউরোপ মানবাধিকার সুরক্ষায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। বুধবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপের আদালত ও কনভেনশন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মানবাধিকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও স্পষ্ট সীমা রয়েছে, বিশেষ করে ঘৃণাপূর্ণ বক্তব্য, ক্ষতিকর ভুল তথ্য ও সহিংস উসকানির ক্ষেত্রে।’
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। বড়দিনের (২৫ ডিসেম্বর) আগেই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় চার বছরের যুদ্ধ শেষ করতে তার প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি গ্রহণ করার জন্য জেলেনস্কির হাতে সময় আছে শুধু বড়দিন পর্যন্ত। দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কথা না হলেও ট্রাম্পের দূত, তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ মস্কো সফরের পর জেলেনস্কির সঙ্গে দুই ঘণ্টার একটি ফোন কলে এই বার্তা পৌঁছে দেন। মঙ্গলবার বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন আলোচকরা জেলেনস্কিকে শান্তি প্রস্তাবের জবাব দেওয়ার জন্য কয়েক দিন সময় দিয়েছেন। ট্রাম্প বড়দিনের আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছেন বলেও জানান কর্মকর্তারা।
গত নভেম্বরে শান্তি পরিকল্পনা উত্থাপন করেন ট্রাম্প। এ পরিকল্পনায় ইউক্রেনকে দনবাসের সেই অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়, যা বর্তমানে দেশটি নিয়ন্ত্রণ করছে। যুদ্ধবিরতির জন্য মস্কোর অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল এটি। এজন্য এটি মানতে রাজি নয় ইউক্রেন। পরিকল্পনাটি রাশিয়াকে সুবিধা দেবে বলে মনে করছে দেশটি। এ বিষয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য সময়ের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধ-সমাধানের প্রস্তাব নিয়ে ইউক্রেন নতুন করে কাজ করছে এবং দ্রুত ওয়াশিংটনে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে নির্বাচন আয়োজনে ইউক্রেন প্রস্তুত আছে বলেও জানিয়েছেন জেলেনস্কি। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের অন্য মিত্রদেশগুলো ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে তিনি তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত আছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচন করতে হলে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
