দিনদুপুরে তেল ডাকাতি যুক্তরাষ্ট্রের
ভেনিজুয়েলার জব্দ ট্যাংকার : তেল ‘রেখে দেবেন’ ট্রাম্প
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তেলের লোভেই ভেনিজুয়েলায় হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান এই গুঞ্জনের মধ্যেই ক্যারিবীয় অঞ্চলে এবার দিনদুপুরে তেল ডাকাতি শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র। ভেনিজুয়েলার উপকূল থেকে বিশালাকৃতির একটি ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে দেশটি। স্থানীয় সময় বুধবার বিকালে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ট্যাংকারটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি এ পর্যন্ত জব্দ হওয়া সবচেয়ে বড় ট্যাংকার বলেও জানিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকরা ট্যাংকারের তেলের কী হবে, জিজ্ঞেস করলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ধরে নিচ্ছি, আমরা তেলটা রেখে দেব।’ এ ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ ও ‘প্রকাশ্য চুরি’ হিসাবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভেনিজুয়েলা সরকার। এর আগে ইরাক ও সিরিয়ার সীমান্ত অঞ্চলে সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস)-এর উত্থান ও সন্ত্রাসবাদী সংঘাতের সময় এই দুই দেশ থেকেও যুক্তরাষ্ট্র লাখ লাখ ব্যারেল তেল আত্মসাৎ করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, আইএসআইএসের দখল থেকে রক্ষা করতেই তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছিল। এএফপি, রয়টার্স।
ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা হয়তো জানেন, আমরা ভেনিজুয়েলার উপকূলে একটা ট্যাংকার জব্দ করেছি, একটা বড় ট্যাংকার, খুব বড়। আসলে, এখন পর্যন্ত জব্দ করা সবচেয়ে বড় জাহাজ এটি।’ যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানান, ‘দ্য স্কিপার’ নামের ওই ট্যাংকার জব্দ করার অভিযানে দুটি হেলিকপ্টার, কোস্ট গার্ডের ১০ সদস্য, ১০ জন মেরিন সেনা এবং স্পেশাল ফোর্স অংশ নেয়। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির প্রকাশিত ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মার্কিন সেনারা হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে ট্যাংকারে নামেন এবং অস্ত্র হাতে নিয়ন্ত্রণ নেন। বন্ডি জানান, জব্দ করা জাহাজটি একটি ‘অবৈধ তেল পরিবহণ নেটওয়ার্কের’ সঙ্গে যুক্ত ছিল। যা বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সহায়তা করত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানায়, ট্যাংকারটি কিউবার উদ্দেশে যাচ্ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড এটিকে আটক করে। অন্যদিকে ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে প্রকাশ্য চুরি ও আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা বলে আখ্যা দেয়। এক বিবৃতিতে নিকোলাস মাদুরোর সরকার বলেছে, তাদের তেল ও খনিজসম্পদ লুটপাটের উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত আগ্রাসন চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিবৃতি আরও বলা হয়, ট্রাম্প এই ‘হামলার’ দায় স্বীকার করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ভেনিজুয়েলার তেল সম্পদ দখল করা। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসন মূলত জ্বালানি সম্পদ লুণ্ঠনের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনের আসল কারণ অবশেষে সবার সামনে এসেছে। এটি অভিবাসন, মাদক পাচার, গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের কোনো বিষয় নয়। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, আমাদের তেল ভেনিজুয়েলার জনগণের একচ্ছত্র মালিকানাধীন সম্পদের বিষয়। মূলত লাতিন আমেরিকায় নিজের প্রভাব পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার মধ্যেই লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোকেও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, পেট্রো সাবধান না হলে মাদুরোর পর তিনি হবেন পরবর্তী টার্গেট। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। বুধবার সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোকে এই হুমকি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পেট্রোকে এর আগেও ‘অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন রিপাবলিকান এই নেতা। তবে বুধবারের বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন, তার অভিযোগগুলো সমাধান না করলে পেট্রো যেন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকেন। তবে ট্রাম্পের মাদক-সংক্রান্ত এসব অভিযোগ বরাবরই নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেট্রো।
