বাংলা প্রথম পত্রে যেভাবে ভালো নম্বর পাবে
ড. সনজিত পাল, প্রভাষক, সেন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুল, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিক্ষার্থীরা, তোমাদের মাধ্যমিক পরীক্ষা খুব নিকটে। প্রতিটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। গত বছরের তুলনায় তোমাদের পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন কিছুটা আলাদা। প্রশ্নের মান বণ্টনেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নের ধরন-গঠন ও মানবণ্টন সম্পর্কে সচেতন হয়ে উত্তর লেখার চেষ্টা করতে হবে। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় ভালো করার জন্য আমি তোমাদের কিছু কৌশল বলছি। এবার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার জন্য গদ্য ও কবিতা অংশ থেকে বাছাই করা নয়টি গদ্য ও আটটি কবিতা পাঠ্য করা হয়েছে। অন্যদিকে সহপাঠে উপন্যাস ‘১৯৭১’ পাঠ্য করা হয়েছে। সিলেবাসের কোন কোন গদ্য ও কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্ন হওয়ার সম্ভাবন রয়েছে তা নিচে দেওয়া হলো।
গদ্য : প্রত্যুপকার, সুভা, আম-আঁটির ভেঁপু, মানুষ মুহম্মদ (স.), প্রবাস বন্ধু, একুশের গল্প।
কবিতা : কপোতাক্ষ নদ, জীবন বিনিময়, উমর ফারুক, বৃষ্টি, আমি কোনো আগন্তুক নই, বোশেখ।
রচনামূলক অংশে চারটি গদ্য থেকে এবং চারটি কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে। প্রতি বিভাগ থেকে কমপক্ষে দুটি করে মোট পাঁচটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সহপাঠ অর্থাৎ ‘১৯৭১’ উপন্যাস থেকে চারটি বর্ণনামূলক প্রশ্ন (একটি বর্ণনামূলক প্রশ্নের দুটি অংশ। তিন নম্বরের একটি এবং সাত নম্বরের একটি প্রশ্ন) থাকবে। উপন্যাস থেকে যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সৃজনশীল প্রশ্নের মান বণ্টনের মতো উপন্যাসের প্রশ্নের মান বণ্টনও ১০ নম্বর। তাই পাঁচটি সৃজনশীল প্রশ্ন ও দুটি বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তর দুই ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটে লেখতে হবে। এবারের পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় প্রাসঙ্গিকতা, নির্ভুল উত্তর দান, পরিচ্ছন্নতা, উত্তরের বস্তুনিষ্ঠতা তোমাকে নম্বর পেতে সহায়তা করবে। জ্ঞান স্তরের প্রশ্নে একশব্দের পরিবর্তে বোর্ড বইয়ের নির্ধারিত গদ্য-কবিতার কোনো একটি বাক্য জ্ঞান স্তরের প্রশ্নের উত্তর হিসেবে চাইতে পারে। এ কারণে প্রতিটি গদ্য-কবিতা লাইন ধরে ধরে পড়তে হবে, পাঠ পরিচিতি, শব্দার্থ ও টীকা পড়তে হবে। প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর স্তর অনুসারে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন প্যারায় লেখতে হবে। অতিকথন বা অপ্রাসঙ্গিত তথ্য দেওয়া যাবে না আবার প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি থাকবে না।
‘১৯৭১’ উপন্যাসে মূল বইয়ে যে প্রশ্নগুলো রয়েছে তার উত্তর তোমরা ভালো করে শিখবে। এর বাইরে উপন্যাস শুরুর আগে বোর্ড বইয়ে কিছু আলোচনা রয়েছে। সেই আলোচনা অংশ কয়েকবার পড়বে। যদি বোর্ড বইয়ের বাইরে থেকে কোনো প্রশ্ন দেয় তবে এ আলোচনার অংশের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পর্ক থাকবে। তখন তুমি সাজিয়ে লিখবে। মনে রাখবে উপন্যাসের প্রতিটি প্রশ্নের ক-এর উত্তর লেখার জন্য সর্বোচ্চ ছয় মিনিট সময় নিতে পারবে। চাইলে তুমি দুই প্যারায় লিখতে পার। প্রয়োজনীয় তথ্যের মধ্যে উত্তরের পরিধি সীমাবদ্ধ রাখবে। খ-এর উত্তর লেখার জন্য সর্বোচ্চ চৌদ্দ মিনিট সময় নিতে পারবে। এ প্রশ্নের উত্তর তিন প্যারায় খুব সহজেই লেখা যাবে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের ক্ষেত্রে তুমি টেস্ট পেপার সমাধান কর। প্রতিটি সৃজনশীল প্রয়োগ স্তরের ও উচ্চতর দক্ষতা স্তরের বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে সেই গদ্য-কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নের দিকগুলো চিন্তা কর। তোমার ঘাটতি কোথায় তা চিহ্নিত কর। বারবার পাঠ্য বইয়ের মধ্যে নিজেকে যুক্ত কর। মনে রেখ ভাসা ভাসা পড়া তোমাকে কখনোই বস্তুনিষ্ঠ উত্তর দানে সহায়তা করবে না। অভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে বুঝে-শুনে চিন্তা করে তারপর বৃত্ত ভরাট করবে।
