Logo
Logo
×

টিউটোরিয়াল

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: প্রস্তুতিমূলক বিশেষ আয়োজন

সময়ের সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করো

Icon

ব্রি. জে. ড. মোহাম্মদ জাবের হোসেন, অধ্যক্ষ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মোহাম্মদপুর, ঢাকা

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সুপ্রিয় পরীক্ষার্থীরা, আশা করছি তোমরা সবাই সুস্থ অবস্থায় পরীক্ষার শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছ। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই তোমাদের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। কাজেই পরীক্ষার আগে যেটুকু সময় আছে, তার সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করবে। ইতোমধ্যে যা পড়েছ তা ভালোভাবে রিভিশন দাও। আত্মবিশ্বাস রাখ, যে তোমার পরীক্ষা ভালো হবে। অযথা দুশ্চিন্তা করবে না। রুটিন করে মূল পাঠ্যবই বারবার পড়বে। পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও পরীক্ষার হলে করণীয় সম্পর্কে আমি কিছু পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করি তোমরা সেগুলো যথাযথভাবে পালন করবে।

১। পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাওয়ার পর অবশ্যই তা ফটোকপি করে রাখবে এবং পরীক্ষার আগের রাতে ট্রান্সপারেন্ট ব্যাগে প্রবেশপত্রের মূলকপি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখবে যাতে পরীক্ষার দিন তাড়াহুড়া না হয়।

২। পরীক্ষায় যে কলমগুলো ব্যবহার করবে, পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগের কয়েকদিন সেই কলমগুলো দিয়েই লিখে অনুশীলন করবে। এতে পরীক্ষার হলে হাতের লেখার গতি বৃদ্ধি পাবে।

৩। পরীক্ষার রুটিন প্রতিদিন দেখবে। আর পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার হলে উপস্থিত থাকবে।

৪। পরীক্ষার খাতা পাওয়ার পর প্রথমেই খাতার প্রথম পৃষ্ঠায় তোমার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড লিখবে এবং প্রয়োজনীয় বৃত্ত ভরাট করবে। খাতার সব পৃষ্ঠায় মার্জিন টানবে এবং পৃষ্ঠা নম্বর দেবে। অতিরিক্ত উত্তরপত্রে অবশ্যই নম্বর দেবে এবং খাতা বাঁধাইয়ের সময় সেগুলোর ক্রম ঠিক করে রাখবে।

৫। প্রতিটি পরীক্ষাই জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই প্রতিদিনের পরীক্ষায় তোমাকে ভালো করতে হবে। প্রশ্ন পাওয়ার পর সেটি খুব ভালোভাবে পড়বে, ঠিক করবে কোন প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবে এবং অবশ্যই যেগুলো খুব ভালো পার সেগুলো আগে লিখবে। তারপর যেগুলো মোটামুটি পার সেগুলো লিখবে।

৬। পরীক্ষা শেষে তোমার খাতাটি জমা দেওয়ার আগে অবশ্যই রিভিশন দেবে। কারণ, তাড়াতাড়ি লেখার সময় কোনো প্রশ্নের নম্বর ভুল হওয়া প্রশ্ন বাদ পড়া অনেক কিছু ঘটতে পারে। রিভিশন দিলে তা তোমার নজরে আসবে, সঙ্গে সঙ্গে তা ঠিক করে নিতে পারবে।

৭। পরীক্ষার খাতায় লেখার সময় হঠাৎ করেই বানান ভুল হয়ে যায়। তাড়াতাড়ি লেখার সময় এমন হতেই পারে। বানান ভুল হলে পরীক্ষকরা বিরক্ত হন। তাই শেষ সময়ের প্রস্তুতিতে বানান ভালো করে দেখে পড়বে। তোমরা একটু সচেতন হলেই বানান ভুল হবে না।

৮। মনে রাখবে, পরীক্ষার খাতা হলো একজন পরীক্ষার্থীর দলিল। সে কেমন লিখেছে, উত্তর কীভাবে সাজিয়েছে, খাতা কতটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে লিখেছে সবই উঠে আসে তার খাতায়। তাই পরীক্ষার খাতায় অপ্রাসঙ্গিক কোনো কিছু লিখবে না।

৯। প্রশ্নের নম্বর স্পষ্টভাবে লিখবে এবং প্রশ্নের ভেতরে ক, খ, গ এভাবে থাকলে তার ক্রম ধারাবাহিকভাবে লিখবে।

১০। খাতায় উত্তর লেখার ক্ষেত্রে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বাঞ্ছনীয়। তাই চেষ্টা করবে কাটাকাটি না করতে আর ভুল হলেও এক টানে কাটবে।

১১। নিজের শরীরের প্রতি যত্নবান হবে। নিয়মিত পানি পান করবে। পুষ্টিকর খাবার খাবে। প্রয়োজনমতো ঘুমাবে।

১২। প্রশ্ন কমন না পড়লে হতাশ বা উৎকণ্ঠিত হবে না। বরং প্রশ্নটি বারবার পড়ে যতটুকু বুঝবে ততটুকুর উত্তর লিখে আসবে। নিশ্চয়ই পরীক্ষক তোমার মূল্যায়ন করবেন।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরগুলো অবশ্যই ধারাবাহিকভাবে (ক, খ, গ, ঘ) লিখবে।

* জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর পাঠ্যবিষয়ভিত্তিক হতে হবে। বানিয়ে লেখা যাবে না। * অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর যথাযথ ও তথ্যনিষ্ঠ হতে হবে। * লিখিত উত্তরের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি, চার্ট, চিত্র, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি ব্যবহার করবে। * বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তরের জন্য চিত্রসহ পাঠ্যবই ভালো করে অনুশীলন করবে।

আবারও বলছি, যে কোনো বিষয়ে ভালো ফলাফলের প্রথম শর্ত হলো ভালো প্রস্তুতি। তাই, পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করে তা বারবার রিভিশন দিয়ে সন্তোষজনক প্রস্তুতি নাও। পরিশেষে তোমরা সবাই সুস্থ শরীরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করো এবং কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করো। মহান আল্লাহ তোমাদের সহায় হোন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম