জ্বালানি তেলের জ্বালা
মেজর (অব.) মনজুর কাদের
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রথম বড় ধরনের তেলের খনি ১৯০৮ সালে পারস্যে (বর্তমান ইরান) আবিষ্কৃত হয়। এরপর ১৯৩৮ সালে সৌদি আরবে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম তেল পাওয়া যায়, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতি সম্পূর্ণ বদলে দেয়। ভবিষ্যতের বিশ্ব রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্র দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এ অঞ্চলে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে (১৯৪৬ সালে) ইউরোপকে নিজ নিজ বলয়ে নিতে গিয়ে পুঁজিবাদের নেতা যুক্তরাষ্ট্র এবং সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয় এবং এ পরিস্থিতির মধ্যে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অবসান ঘটিয়ে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা ঘোষণার পরদিনই মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন ও ইরাকের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে ইসরাইল জয়ী হয় এবং বিভাজন পরিকল্পনায় ইহুদিদের জন্য নির্ধারিত এলাকার চেয়েও বেশি ভূমি দখল করে নেয়।
ভূরাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্ব
বিগত স্নায়ুযুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্য ছিল অন্যতম প্রধান অস্থিরতার ক্ষেত্র। এ অঞ্চলটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। বিপুল তেলসম্পদ, ইউরোপ-এশিয়ার সংযোগস্থল হিসাবে ভূরাজনৈতিক কৌশলগত অবস্থান, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে এ এলাকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিজম মতবাদ ঠেকাতে ইসলামি চেতনা কাজে লাগাতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলোকে কাছে টেনে নেয়। তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে প্রভাব বজায় রাখা, সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব ঠেকানো এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে মোড়লগিরি করার জন্য স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি স্থায়ী কৌশলগত ঘাঁটি স্থাপনের লক্ষ্যে পশ্চিমা শক্তিগুলো (বিশেষ করে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র) মধ্যপ্রাচ্যে একটি মিত্ররাষ্ট্র হিসাবে ইসরাইলকে বেছে নেয় এবং এর সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যে স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের অস্থিরতা
স্নায়ুযুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যে বড় শক্তিগুলো সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত না হয়ে এখানে কৌশলে প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে নামে। কারণ সরাসরি যুদ্ধ বাধলে যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে, তা পরাশক্তিগুলো জানত। সোভিয়েত ইউনিয়ন ইতোমধ্যে পারমাণবিক বোমার অধিকারী হয়ে যায়। চীনও এ বোমা তৈরি করে পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটায়।
ছয় দিনের যুদ্ধ বা ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধটি (৫-১০ জুন ১৯৬৭) ইসরাইল এবং প্রধানত মিসর, সিরিয়া ও জর্ডানের সমন্বয়ে গঠিত আরব রাষ্ট্রগুলো একটি জোটের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধে ইসরাইল জর্ডানের কাছ থেকে পশ্চিম তীর (পূর্ব জেরুজালেমসহ), মিসরের কাছ থেকে গাজা উপত্যকা ও সিনাই উপদ্বীপ এবং সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি দখল করে নেয়।
ইয়োম কিপুর যুদ্ধ
ইয়োম কিপুর যুদ্ধ বা ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ ছিল চতুর্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ যা অক্টোবর যুদ্ধ বা রমজান যুদ্ধ নামেও পরিচিত। ১৯৭৩ সালের ৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইসরাইল এবং মিসর ও সিরিয়ার নেতৃত্বাধীন আরবরাষ্ট্রগুলো একটি জোটের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। বেশির ভাগ লড়াই সিনাই উপদ্বীপ এবং গোলান মালভূমিতে হয়েছিল, যা ১৯৬৭ সালে ইসরাইল দখল করেছিল। এ যুদ্ধে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায় এবং আরব রাষ্ট্রগুলো পায় সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থন।
প্রথম মহিলা বিমান হাইজ্যাকার
এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যে ফিলিস্তিনি নারী বিপ্লবী লায়লা খালেদ ২৯ আগস্ট ১৯৬৯ সালে টিডব্লুউএ ফ্লাইট ৮৪০ (রোম থেকে তেল আবিব) হাইজ্যাক করেন এবং সফলভাবে বিমানটিকে দামেস্কে অবতরণ করান। এরপর সেপ্টেম্বর ১৯৭০ সালে তিনি এল আল ফ্লাইট ২১৯ হাইজ্যাক করার চেষ্টা করেন, কিন্তু পাইলটের কৌশলে তা ব্যর্থ হয় এবং তিনি লন্ডনে গ্রেফতার হন। গেরিলারা আরেকটি বিমান হাইজ্যাক করে তাকে মুক্ত করেন। পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি) সদস্য হিসাবে লায়লা খালেদ ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি নিপীড়নের প্রতিবাদে এবং বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
প্রক্সি যুদ্ধ এবং ইরানে বিপ্লব
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধযুদ্ধ ভাব থাকা অবস্থায় ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হয়, যা রাজনীতিকে পুরোপুরি বদলে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাহ সরকারের পতনের পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এ বিপ্লবের পর শুরু হয় ইরান-ইরাক যুদ্ধ (১৯৮০-১৯৮৮), যা ছিল দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত। উভয় পক্ষকে বিভিন্ন শক্তি ভিন্নভাবে সমর্থন দেয়; এটি আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার নামে প্রক্সি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নেয়। লেবাননে গৃহযুদ্ধ ও বিদেশি হস্তক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
আফগান যুদ্ধ (১৯৭৯-১৯৮৯)
একই সময়ে সোভিয়েত আফগান যুদ্ধ শুরু হয় এবং যা ছিল স্নায়ুযুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্সি যুদ্ধগুলোর একটি। আফগানিস্তানে সোভিয়েতপন্থি সরকার রক্ষায় সোভিয়েত ইউনিয়ন সরাসরি হস্তক্ষেপ করে; যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েতবিরোধী ইসলামি মুজাহিদিনদের সমর্থন দেয়, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নেয়। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ১৯৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয় এবং স্নায়ুযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিজয়ী হয়ে বিশ্বের একক নেতা হিসাবে আবির্ভূত হয়।
দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্র যখন এসব প্রক্সি যুদ্ধ এবং গোলমাল নিয়ে ব্যস্ত ছিল, কমিউনিস্ট পার্টি শাসিত গণপ্রজাতন্ত্রী চীন তখন নিরবচ্ছিন্নভাবে তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করতে থাকে। সেরা অর্থনীতিবিদরা যখন বললেন, চীন অচিরেই বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতি হতে চলেছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশ ফিরে। চীনের পণ্যের ওপর অস্বাভাবিক কর আরোপ এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ বাধিয়ে দেয়, যাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধ হিসাবে অভিহিত করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় প্রক্সি যুদ্ধ শুরু
২০১৭ সালের পর মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা আবারও বিশ্ব রাজনীতিকে এক অনিশ্চিত ও উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইসরাইল কর্তৃক গাজা ধ্বংস এবং যুক্তরাষ্ট্র তা সমর্থন করায় আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়ে। ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যের এক নম্বর শক্তিতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়ায় ইরান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই ইরানে শাসকগোষ্ঠী বদল করে যুক্তরাষ্ট্রপন্থি সরকার বসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল সরকার বসাতে গেল শুরু হয়ে যায় সংঘাত। ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে প্রক্সি যুদ্ধ শুরু করে সুবিধা করতে না পারায় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভূমিকা রাখে। যুক্তরাষ্ট্র সুবিধা না করতে পেরে ইরানকে সমঝোতায় আসতে বলে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে দেওয়া হুমকি ‘সমঝোতা না হলে পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এ ধরনের বক্তব্য শুধু কূটনৈতিক চাপ নয়; এটি একধরনের স্নায়ুবিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক ছাড় আদায়ের কৌশল। ১৯৬২ সালে কিউবা মিসাইল সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের ভূমিকা রেখেছিল।
পারমাণবিক বোমার ভয়
কিন্তু প্রশ্ন হলো, আসলেই কি পারমাণবিক বোমা হামলার মাধ্যমে কোনো সভ্যতাকে ধ্বংস করা সম্ভব? ইতিহাস কিন্তু ভিন্ন উত্তর দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমা হামলার পরও জাপান ধ্বংস হয়নি; বরং যুদ্ধে পরাজিত হয়েও দেশটি দ্রুত পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এ থেকেই স্পষ্ট-সভ্যতা ধ্বংসের ধারণা বাস্তবতা বিবর্জিত, যা শুধু চতুর রাজনৈতিক ভাষায় প্রকাশ করা হয়। চীনের নেতা মাও সে তুং যুক্তরাষ্ট্রের এক সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় বলেছিলেন, পারমাণবিক বোমা পৃথিবীকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারবে না। ধ্বংসস্তূপের মাঝেও মানুষ বেঁচে থাকবে এবং পরে পারমাণবিক বোমা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। যদিও এই বক্তব্য আদর্শিক, তবুও এতে মানবসভ্যতার টিকে থাকার শক্তির একটি বাস্তব প্রতিফলন রয়েছে। তবে বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হাতে থাকা বিপুল পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার ‘Mutually Assured Destruction' (MAD) তত্ত্বকে বাস্তবতায় রূপ দিয়েছে, যেখানে যুদ্ধ মানেই পারস্পরিক ধ্বংস।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় নতুন মাত্রা
এ প্রেক্ষাপটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘অব্যবহৃত উন্নত অস্ত্র’ থাকার ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও হোয়াইট হাউজ পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা নাকচ করেছে, তথাপি এ ধরনের কৌশলগত অস্পষ্টতা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে।
অন্যদিকে, ইরানও পালটা শক্তি প্রদর্শনের পথে হাঁটছে। হাইপারসনিক মিসাইল, ড্রোন প্রযুক্তি এবং সাইবার সক্ষমতার মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে তাদের প্রভাব বিস্তার এ সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথ। এখানে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপন হলেও চীন ও রাশিয়ার ভেটো বিশ্ব রাজনীতির বিভাজনকেই স্পষ্ট করেছে।
স্নায়ুযুদ্ধ : আবার প্রক্সি যুদ্ধ
বর্তমান সংঘাত সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে বেশি নির্ভর করছে প্রক্সি যুদ্ধ, সাইবার আক্রমণ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ওপর। এ ধরনের যুদ্ধ নতুন নয়। ভিয়েতনাম এবং সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, এ ধরনের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং এর প্রভাব বহু প্রজন্ম ধরে বিস্তার করতে থাকে। আজকের বিশ্ব পুনরায় ক্রমশ বহুমেরু শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং কূটনীতিতেও বিস্তৃত। ফলে ইরান-ইসরাইল সংঘাত একটি আঞ্চলিক সংকট হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্তির ফলে বিশ্বব্যাপী এর প্রতিফলন হয়েছে।
বিশ্ব কি আবার প্রক্সি যুদ্ধের পথে এগিয়ে যাচ্ছে
ইতিহাস বলছে, বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনোই সীমাবদ্ধ থাকে না। তা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়ে পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। প্রথম স্নায়ুযুদ্ধের অভিজ্ঞতা শিখিয়েছে-সংঘাত যত দীর্ঘ হয়, ততই তা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তোলে। আজকের বাস্তবতায় সেই ঝুঁকি আরও গভীর। কারণ পারমাণবিক অস্ত্র, সাইবার প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির আন্তঃনির্ভরতা এ সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্বনেতাদের উচিত শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নেওয়া। নচেৎ ‘সভ্যতা ধ্বংস’ বাস্তবে না ঘটলেও মানবসভ্যতা এক দীর্ঘ অস্থিরতা, বিভাজন এবং অনিশ্চয়তার যুগে প্রবেশ করতে পারে। তবে যে দেশগুলো অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে পারবে তারা দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে-বিগত স্নায়ুযুদ্ধের সময় তা ঘটেছে।
মেজর (অব.) মনজুর কাদের : সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য
