সবুজ অরণ্যে মায়াময় অবকাশের অনন্য অভিজ্ঞতা ‘কালমেঘা’
কৈলাস সরকার
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যান্ত্রিক এই জীবনে অনবরত ছুটে চলাই বাস্তবতা। তবে এই যান্ত্রিকতার প্রাচীরটা ভাঙতে কখনো যদি মন চায়, যদি মন চায় একটু থামতে, প্রাণভরে একটু নিঃশ্বাস নিতে; তবে পথ দেখাতে পারে গাজীপুরের শ্রীপুর। গভীর অরণ্যের সবুজ, পাখির কলতান, আর ঝিরিঝিরি বাতাসের মৃদু সুরের এক অনন্য সমাহার কালমেঘা কান্ট্রি ক্লাব এন্ড রিসোর্ট। এ যেন প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা অপরূপ এক বিলাসী আশ্রয়।
প্রায় ১৭ একর সবুজ অরণ্যের মাঝে এই রিসোর্ট শহুরে ক্লান্তিকে ধীরে ধীরে গলিয়ে দেয় নীরবতার কোমল স্পর্শে।

রিসোর্টে প্রবেশ করলেই মনে হয়, কংক্রিটের শহর যেন বহু দূরে ফেলে এসেছি। মাথার ওপর উঁচু উঁচু গাছের ছায়া, চারপাশে নির্জনতার মায়া; সব মিলিয়ে এক প্রশান্ত আবহ। বনভূমির স্বাভাবিক সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রেখেই গড়ে তোলা হয়েছে সব অবকাঠামো।
এখানে রয়েছে ১৮টি প্রাইভেট সুইমিংপুল, সমৃদ্ধ ভিলা এবং মোট ৭২টি বেডরুম ও গেস্ট স্যুট। প্রতিটি ইউনিট এমনভাবে পরিকল্পিত, যেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আরামের মেলবন্ধন ঘটে প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দে।

ভিলাগুলোর আলাদা পুল ও জাকুজি যেন ব্যক্তিগত অবকাশের নিজস্ব আকাশ। বনভূমির দিকে খোলা বারান্দা, প্রশস্ত সব কক্ষ যাতে রয়েছে রুচিশীল কারুকার্যময় সাজসজ্জা। সব মিলিয়ে এখানে বিলাসিতা কখনো চোখে লাগে না, বরং মনে হবে ধীরে ধীরে আমি ক্রমশঃ মিশে যাচ্ছি প্রকৃতির সঙ্গে।
এখানে শুধু সময় ক্ষেপণ নয়, বরং এখানে প্রতিটি মুহূর্তই যেন অভিজ্ঞতাপূর্ণ। প্রতিটি ক্ষণ হয়ে রয় স্মৃতিময়। গলফ, ঘোড়ায় চড়া, বোট রাইডিং, লন টেনিস, ফুটবল, বাস্কেটবল, ক্রিকেট, সাইক্লিং, কায়াকিং, বোট রাইড, জঙ্গল ওয়াক, মাছ ধরা, আর্চারি, লাইভ ফোক মিউজিক, শিশুদের ‘প্লে জোন’, টেবিল টেনিস, ক্যারম বোর্ডসহ সব বয়সের জন্য কিছু না কিছু রয়েছে। এমনকি রয়েছে ‘পামিস্ট্রি’র মতো ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা।
মিনি গলফের মৃদু প্রতিযোগিতা, কায়াকিংয়ের জলে ভেসে থাকা বিকেল, কিংবা খোলা আকাশের নিচে লাইভ বারবিকিউ; সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

পদ্মপুকুরের ধারে সন্ধ্যার আলো যখন নরম হয়ে আসে, সবুজ মাঠে জমে ওঠে গল্পের আসর। করপোরেট টিম আউটিং থেকে পারিবারিক গেটটুগেদার; প্রকৃতির এই পরিসর সহজেই ধারণ করতে পারে নানা আয়োজন।
খাবারের আয়োজনে রয়েছে ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ আইটেমের বৈচিত্র্যময় মেনু। দেশীয় রান্নার ঘরোয়া উষ্ণতা থেকে আন্তর্জাতিক বৈশিষ্টের বাহারি সব নান্দনিক পরিবেশন। প্রতিটি প্লেটে রয়েছে যত্নের ছাপ। স্বাদের সঙ্গে পরিবেশনার সৌন্দর্য মিলিয়ে এখানে খাবারও হয়ে ওঠে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
ঢাকা থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার পথ। তাই অল্প সময়ের ছুটিতেই সবুজের কোলে ডুব দেওয়া যায় সহজেই। পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে এক বা দুই দিনের অবকাশের জন্য এমন স্থান বিরল। এখানে সময় যেন একটু ধীরে চলে, একটু গভীর হয়।
তাই সবুজ বনভূমি, নিরিবিলি পরিবেশ আর আধুনিক সুযোগ–সুবিধার সমন্বয়ে কালমেঘা এখন গাজীপুর অঞ্চলের অবকাশ মানচিত্রে এক সুরেলা সংযোজন—যেখানে নীরবতাও কথা বলে, আর বিলাসিতা মিশে যায় প্রকৃতির ছায়ায়।
শ্রীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রাম এর অবস্থান। তাই গ্রামটির নামেই রূপ নিয়েছে এই রিসোর্ট।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘হোয়াইট হাউজ’ যারা কাছে থেকে দেখেনি, তারা এবার একটা সুযোগ নিতে পারেন। কারন হোয়াইট হাউসের আদলে এই অবকাশযাপন কেন্দ্রটি তৈরি করার প্রয়াস চলমান।
রিসোর্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জানান, ‘এখানে এখন প্রায় ২০টির মতো ভিলা চালু আছে, বাকিগুলোর কাজ চলছে। একটা ভিলাতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ জন মানুষ থাকতে পারে। বড় ভিলায় ১৮ থেকে ২০ জন থাকতে পারে। অতিথিদের প্রাইভেসি মেনটেইন থেকে খাবারের কোয়ালিটিতে আমরা নজর রাখছি।’
সব থেকে ভিন্ন যে আয়োজনটি এখানে পাওয়া যাবে তা হচ্ছে বাউল গানের নিয়মিত আসর। এখানে বাউল গানের নিয়মিত শিল্পীরা গান করেন প্রতিনিয়ত।
এছাড়াও রিসোর্টে রয়েছে ‘কালামেঘা স্পা’ এবং সিগনেচার ট্রিটমেন্ট। সবুজ প্রকৃতির শান্ত পরিবেশে আয়ুর্বেদ সমন্বিত মাসাজ, নিজস্ব অয়েল ব্লেন্ড। তিনটি ট্রিটমেন্ট রুম, রিফ্লেক্সোলজি এরিয়া, হোলিস্টিক থেরাপি।
প্রকৃতির মাঝখানে সাজানো এই আধুনিক অবকাশযাপন কেন্দ্রটি পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে স্বস্তিময় মুহূর্ত কাটানোর জন্য এটি হতে পারে আদর্শ গন্তব্য হতে পারে।
