যে গ্রামের সব পুরুষ পঞ্চাশের আগেই দৃষ্টি হারান

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯, ১৪:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ফাইল ছবি

প্যারান, পেরুর একটি গ্রাম। সবুজ শ্যামল প্রকৃতিঘেরা সুশীতল এই গ্রামটি সবার নজরে পড়ে। পাহাড়ি এই গ্রামটিতে প্রায় সাড়ে তিনশ লোকের বসবাস। গ্রামবাসীরা একটা পরিবারের মতো সবাই মিলেমিশে বসবাস করেন। কোথাও কোনো দ্বন্দ্ব সংঘাত নেই।  

এই গ্রামের পুরুষ বাসিন্দাদের বেশিরভাগই একটি জটিল রোগে ভোগেন। প্রায় সবারই বয়স ৫০ হওয়ার আগেই দৃষ্টিশক্তি হানান। পরে ধীরে ধীরে স্থায়ী অন্ধত্বের শিকার হন। এ কারণে প্যারান গ্রামটিকে ‘অন্ধদের গ্রাম’ বা ‘দৃষ্টিহীনদের গ্রাম’ বলে ডাকে পেরুর লোকজন। 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই চোখের একটি জিনগত রোগে আক্রান্ত। চোখের এই রোগটির নাম ‘রেটিনাইটিস পিগমেনটোসা’। এই রোগটি আমাদের কাছে তেমন পরিচিত নয়। এটি অনেকটা ‘রাতকানা’ রোগের মতো। 

চক্ষুবিজ্ঞানীদের মতে, ‘রাতকানা’ রোগের জন্য প্রধানত দায়ী এই ‘রেটিনাইটিস পিগমেনটোসা’। এই রোগের কারণে চোখের ‘টানেল ভিশন’ নষ্ট হয়ে যায়। চোখের ভেতরে রেটিনা নামের যে গুরুত্বপূর্ণ পাতলা মেমব্রেন থাকে, তার প্রধান দুটি অংশ হলো রড ও কোণ। এই রড আর কোণ ‘ফটো রিসেপ্টর’র কাজ করে। এই রোগের ফলে রেটিনার রড কোষ ধীরে ধীরে তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে মানুষ অন্ধত্বের শিকার হয়।

পেরুর ‘প্যারান’ গ্রামের বেশিরভাগ লোক ‘রেটিনাইটিস পিগমেনটোসা’য় আক্রান্ত। এই রোগের কারণে এ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে কারও শৈশব থেকেই দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ, কারও আবার বয়স পঞ্চাশ পেরুতে না পেরুতেই চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসে। 

কয়েক বছর আগে গ্রামটিতে একদল চক্ষু চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে আসেন। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানিয়ে দেন, পুরুষদের চোখের এই রোগ আসলে জন্মগত। এক্স ক্রোমোজোমের সমস্যা থেকেই এই রোগের সৃষ্টি হয়।

চিকিৎসকরা জানান, নারীদের চেয়ে ‘রেটিনাইটিস পিগমেনটোসা’-এ পুরুষরাই বেশি আক্রান্ত হন। পরপর বেশ কয়েকজন রোগীকে নিয়ে গবেষণা করে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই গ্রামে ছেলেসন্তান জন্মালে তার অন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই বেশি। 

আর এ কারণেই এই গ্রামের বাসিন্দারা অন্য কোনো এলাকার মানুষের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে জড়ান না। তাই সভ্যতার আলো পৌঁছালেও, পেরুর এই গ্রামটি আজও দেশের অন্যান্য জনপদ থেকে বিচ্ছিন্নই রয়ে গেছে।