কাঁচামরিচ ঝাঁজে-ঝালে দারুণ মজা
jugantor
কাঁচামরিচ ঝাঁজে-ঝালে দারুণ মজা

  অনলাইন ডেস্ক  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩১:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রাচীনকাল থেকেই মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার মহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মরিচের চাষ করা হতো। পুরাতাত্ত্বিকরা প্রমাণ পেয়েছেন যে, ইকুয়েডরের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে ছয় হাজার বছর আগে মরিচের চাষ করা হতো। এটি নিয়ে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার প্রমাণিত হলে মরিচ পরিধি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে ফিলিপাইনে এরপর থেকে ভারতবর্ষ, চীন, কোরিয়া ও জাপানে মরিচ বিস্তার লাভ করে। একপর্যায়ে আমরাও তা পেয়েছি।


গ্রাম-বাংলার অতি পরিচিত একটি মসলার নাম কাঁচামরিচ। আর যেকোনো তরকারি রান্নায় কাঁচামরিচ অন্যতম। একটা সময় সহজলভ্য দামে সস্তা ছিল। কালচক্রে মসলা নামের কাঁচামরিচের দাম অনেকটা চড়া। তবে ভেষজগুণে ভরপুর।

অঞ্চলবেঁধে সান মজা নুন ও মরিচে। বাঙালিদের কখনো কখনো খাবার তালিকায় থাকে গরম কিংবা পান্তা ভাতে ভাজা মাছ সঙ্গে এক-দুটি কাঁচামরিচ। এর ঝাঁজ ও ঝাল খাবারের তৃপ্তি অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। তখন খাবারের স্বাদটাও অন্যরকম লাগে। আর রান্না, মরিচ মাখা আলুভর্তা, মুড়িমাখা, সালাদ, স্যুপ, নুডুলসসহ কাঁচামরিচ খাওয়া হয় খুবই মজা করে। এসব খাবারের স্বাদ নুন ও মরিচে। মরিচ ছাড়া কি চলে!

বাঙালিদের একটু-আধটু ডাল ছাড়া পেট ভরে না। ডাল রান্নায় কাঁচামরিচ না হলে স্বাদ থাকে না। আবার কাঁচামরিচ যখন জিহ্বা থেকে তখন লালাও নির্গত হয়। তখন নির্গত লালা আমাদের হজমে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। অনেক সময় শুকনো মরিচ খেলে পেট জ্বালা যন্ত্রণা করে। আবার অনেকেরই গ্যাস্ট্রিক ও মলমূত্রের জ্বালাও বেড়ে যায়। তবে ভাতের সঙ্গে কাঁচামরিচ চিবিয়ে খাওয়া পাশাপাশি রান্না করে খাওয়া অনেক ভালো। এতে আছে- ভিটামিন-সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন। তা ছাড়াও হজম বৃদ্ধি, ক্ষুধা, দাঁত, মাড়ি, মলও রোধেও দারুণ উপশম করে বিধায় কাঁচামরিচের কোনো জুড়ি নেই।

আসলে এটি মরিচ বা লংকা এক ধরনের ফল। এটিকে আমরা সবজি হিসেবেই তুলনা করে থাকি। এটি Capsicum গণের Solaneceae পরিবারের উদ্ভিদের ফলকে মরিচ বলে ডাকি বা চিনি। মরিচ মূলত মসলা হিসেবেই ব্যবহার হয়ে থাকে। মরিচ নানান প্রজাতির হয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে Capsicum chinense প্রজাতির Naga jolakia. যা বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে শখ করে বোট মরিচ রোপণ করি; আর Capsicum annuum প্রজাতির Cayenne মরিচ আমাদের দেশে ভালো জন্মালেও সিলেটের অঞ্চলে নাগা মরিচ, যা বোম্বাই মরিচ নামেও খুবই পরিচিত।

সাম্প্রতিক কালে পৃথিবীর সর্বত্রই মরিচ রান্নার কাজে ও ভেজষ ঔষধি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। কাঁচামরিচ যতই স্বাদ হোক না কেন, এটি পরিমিত খাওয়া ভালো; অতিরিক্ত খাওয়া কোনোক্রমেই ভলো না ...। এটি একদিকে আয় আরেকদিকে ঘরের চাহিদা মেটাতে কোনো জুড়ি নেই।

কাঁচামরিচ ঝাঁজে-ঝালে দারুণ মজা

 অনলাইন ডেস্ক 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রাচীনকাল থেকেই মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার মহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মরিচের চাষ করা হতো। পুরাতাত্ত্বিকরা প্রমাণ পেয়েছেন যে, ইকুয়েডরের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে ছয় হাজার বছর আগে মরিচের চাষ করা হতো। এটি নিয়ে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার প্রমাণিত হলে মরিচ পরিধি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে ফিলিপাইনে এরপর থেকে ভারতবর্ষ, চীন, কোরিয়া ও জাপানে মরিচ বিস্তার লাভ করে। একপর্যায়ে আমরাও তা পেয়েছি।

 
গ্রাম-বাংলার অতি পরিচিত একটি মসলার নাম কাঁচামরিচ। আর যেকোনো তরকারি রান্নায় কাঁচামরিচ অন্যতম। একটা সময় সহজলভ্য দামে সস্তা ছিল। কালচক্রে মসলা নামের কাঁচামরিচের দাম অনেকটা চড়া। তবে ভেষজগুণে ভরপুর।

অঞ্চলবেঁধে সান মজা নুন ও মরিচে। বাঙালিদের কখনো কখনো খাবার তালিকায় থাকে গরম কিংবা পান্তা ভাতে ভাজা মাছ সঙ্গে এক-দুটি কাঁচামরিচ। এর ঝাঁজ ও ঝাল খাবারের তৃপ্তি অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। তখন খাবারের স্বাদটাও অন্যরকম লাগে। আর রান্না, মরিচ মাখা আলুভর্তা, মুড়িমাখা, সালাদ, স্যুপ, নুডুলসসহ কাঁচামরিচ খাওয়া হয় খুবই মজা করে। এসব খাবারের স্বাদ নুন ও মরিচে। মরিচ ছাড়া কি চলে!

বাঙালিদের একটু-আধটু ডাল ছাড়া পেট ভরে না। ডাল রান্নায় কাঁচামরিচ না হলে স্বাদ থাকে না। আবার কাঁচামরিচ যখন জিহ্বা থেকে তখন লালাও নির্গত হয়। তখন নির্গত লালা আমাদের হজমে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। অনেক সময় শুকনো মরিচ খেলে পেট জ্বালা যন্ত্রণা করে। আবার অনেকেরই গ্যাস্ট্রিক ও মলমূত্রের জ্বালাও বেড়ে যায়। তবে ভাতের সঙ্গে কাঁচামরিচ চিবিয়ে খাওয়া পাশাপাশি রান্না করে খাওয়া অনেক ভালো। এতে আছে- ভিটামিন-সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন। তা ছাড়াও হজম বৃদ্ধি, ক্ষুধা, দাঁত, মাড়ি, মলও রোধেও দারুণ উপশম করে বিধায় কাঁচামরিচের কোনো জুড়ি নেই।
 
আসলে এটি মরিচ বা লংকা এক ধরনের ফল। এটিকে আমরা সবজি হিসেবেই তুলনা করে থাকি। এটি Capsicum গণের Solaneceae পরিবারের উদ্ভিদের ফলকে মরিচ বলে ডাকি বা চিনি। মরিচ মূলত মসলা হিসেবেই ব্যবহার হয়ে থাকে। মরিচ নানান প্রজাতির হয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে Capsicum chinense প্রজাতির Naga jolakia. যা বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে শখ করে বোট মরিচ রোপণ করি; আর Capsicum annuum  প্রজাতির Cayenne মরিচ আমাদের দেশে ভালো জন্মালেও সিলেটের অঞ্চলে নাগা মরিচ, যা বোম্বাই মরিচ নামেও খুবই পরিচিত।

সাম্প্রতিক কালে পৃথিবীর সর্বত্রই মরিচ রান্নার কাজে ও ভেজষ ঔষধি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। কাঁচামরিচ যতই স্বাদ হোক না কেন, এটি পরিমিত খাওয়া ভালো; অতিরিক্ত খাওয়া কোনোক্রমেই ভলো না ...। এটি একদিকে আয় আরেকদিকে ঘরের চাহিদা মেটাতে কোনো জুড়ি নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন