ডা. হুমায়ূন বুলবুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার কেন?

  ডা. জাহিদ হোসেন ১২ অক্টোবর ২০১৮, ২১:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

ডা. হুমায়ূন বুলবুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার কেন?
ডা. হুমায়ূন বুলবুলে। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

ঢাকা ডেন্টাল কলেজে চলছে আন্দোলন। লাগাতার ক্লাস বর্জন, অবরোধে পেরিয়ে গেছে তিন সপ্তাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে মূলত কলেজটির সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম বেপারির ওএসডির আদেশে ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন ডাক্তার-শিক্ষার্থীরা।

ওএসডির আদেশটি ন্যায় ছিল নাকি অন্যায় ছিল, সেটা আমরা বাইরে থেকে বিবেচনা করতে পারি না। তবে একজন শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ তাকে ফেরানোর জন্য শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক এবং প্রশংসনীয়।

শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষায় তারা ক্লাস বর্জন করেছেন, আর কত দিন রাখাকে সমীচীন ভাববেন সেটা একান্তই ঢাকা ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিবেচ্য বিষয়। এখানে আমাদের বলার কিছু নেই। আমাদের বলার ক্ষেত্র ভিন্ন। কারণ, আন্দোলনের প্রেক্ষাপট প্রথম থেকে আজ অবদি অনেক বদলে গেছে।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজে নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়োগ দিয়েছে অধ্যাপক ডা. হুমায়ূন কবির বুলবুল কে। ডা. হুমায়ূন কবির বুলবুল শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটের প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কেবল ডেন্টাল ইউনিট না, এই মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতালের যে কারো কাছেই ডা. হুমায়ূন কবির বুলবুল একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ স্যারকে যতটা শ্রদ্ধা করে-ভালোবাসে; শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ডা. হুমায়ূন স্যারকে সম্ভবত কম ভালোবাসে না, শ্রদ্ধা করে না।

ডিডিসি অভিভাবক শূন্য হওয়াকে যতটা বড় করে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে, সোহরাওয়ার্দী ডেন্টাল বাস্তবিকপক্ষেই হয়েছে তারচেয়ে অনেক গুণ বেশি।

ডিডিসিতে তাৎক্ষণিকভাবে একজন অধ্যাপক স্যারকে শূন্যস্থান পূরণ করতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে, সোহরাওয়ার্দী এখনো শূন্য। অধ্যাপক আবুল কালাম বেপারি ডিডিসির প্রতিষ্ঠাতা নন; সোহরাওয়ার্দী ডেন্টাল ইউনিট অধ্যাপক হুমায়ূন কবির বুলবুলের হাতে গড়া।

ডিডিসির শিক্ষার্থীদের কাছে যদি ডা. বেপারি স্যারের ওএসডির আদেশ অন্যায় মনে হয় তবে সোহরাওয়ার্দীর শিক্ষার্থীদের কাছে হুমায়ূন স্যারের বদলির আদেশ অন্যায় মনে হয়নি? সোহরাওয়ার্দীর ডাক্তার- শিক্ষার্থীরা কি পারত না ডিডিসির অনুরূপে আন্দোলন করতে?

সবই সম্ভব ছিল, এমনকি জুনিয়র শিক্ষার্থীরা এমন উদ্যোগ নিতে বসেছিল। রক্ত গরম করে সব হয় না। সিনিয়রদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে আন্দোলন দানা বাঁধেনি। সিদ্ধান্তটা নিতান্তই সরকারি। সরকারি চাকরির প্রতিটা বিভাগে প্রতি মাসে হাজার হাজার বদলি- ওএসডির আদেশ আসে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সেই আদেশ অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলন করে ক্লাস বন্ধ রাখা যাবে, ক্যাম্পাস গরম করা যাবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া যাবে; তবে বাস্তবতা বদলাবে না।

তাছাড়া অধ্যাপক ডা. হুমায়ূন কবির বুলবুল ডেন্টাল সার্জনদের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান "বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির নির্বাচিত মহাসচিব। ডেন্টাল পরিবারের এই অভিভাবক যদি ডেন্টাল শিক্ষার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের হাল ধরার সুযোগ পান তবে পরোক্ষভাবে হলেও আমরা উপকৃত হব।

পেশার বৃহত্তর স্বার্থে এই ত্যাগটুকু সোহরাওয়ার্দী ডেন্টাল ইউনিটের ডাক্তার- ছাত্ররা মেনে নিয়েছে। এক ধরনের অভিভাবক শূন্যতার মধ্যেই চলছে ক্লাস, চলছে পরীক্ষা।

ঢাকা ডেন্টালের শিক্ষার্থীরা সরকারি আদেশ মানতে না পেরে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন ভালো কথা, সরকারি সিদ্ধান্তে যিনি দায়িত্বপালন করতে গিয়েছেন তাকে অপমান করতে হবে কেন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে যতটা না ডা. বেপারি স্যারের প্রশংসা আছে তার চেয়ে বেশি ডা. হুমায়ূন স্যারের প্রতি বিদ্বেষ-কুৎসা-গিবতে ভরপুর। এটা কেন হবে? আপনাদের আন্দোলন ডা. বেপারি স্যারকে ফিরিয়ে আনার, আপনার যদি ক্ষোভ থাকে তবে সেটা থাকা উচিত মন্ত্রণালয়ের ওপর।

আপনারা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্যবস্তু না করে কেন ডা. হুমায়ূন স্যারকে বারবার আক্রমণের লক্ষ্য করে নিচ্ছেন? আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতি এটাই নির্দেশ করছে, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠির অন্যায় স্বার্থ রক্ষার জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আবেগের কাঁধে বন্দুক রেখে প্রফেশনের প্রতি অন্তঃপ্রাণ একজন প্রফেসরের প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাংগঠনিক ক্ষমতাকে গুলি করা হচ্ছে।

ভুল পথে পরিচালিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগ দেশ ও জাতির জন্য কখনোই মঙ্গলজনক হয়নি।

ডা. হুমায়ূন স্যার নিজের ইচ্ছায় নয়, সরকারি আদেশে অফিস করতে গিয়েছেন। একজন অধ্যক্ষ পদমর্যাদার এবং ডেন্টাল সোসাইটির মহাসচিবকে গেটের ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে প্রফেশনের সম্মান বাড়ছে নাকি বাইরের মানুষদের কাছে পেশাকে হাসির পাত্র পরিণত করা হচ্ছে সেটা ভাবা উচিত ছিল।

হুমায়ূন স্যার কখনোই আন্দোলনের বিপক্ষে কোনো বিবৃতি দেননি। তাকে আটকে রাখা, তার অফিসে তালা দেয়া নীতিগতভাবে কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না।

সরকারি কাজে বাধা দেয়ার প্রতিক্রিয়ার তিনি চাইলেই প্রথমদিনেই প্রশাসনিকভাবেই বল প্রয়োগ করতে পারতেন। সেটা না করে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে কখনো বাইরে বসে, কখনোবা পরিচালকের কক্ষে বসে দৈনন্দিন কাজ করছেন।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন তালা ভেঙে নতুন অধ্যক্ষকে অফিস করান। তখন প্রতিবাদ না করে পরের দিন আবার কেন তালা দিয়ে দিলেন আপনারা সেটাও বোধগম্য নয়। আন্দোলনকারীরা হয়তো নিজেদের কলেজে তালা দিচ্ছেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের প্রিয় শিক্ষকের অপমান।

ডেন্টাল সোসাইটির অভিভাবকের সঙ্গে এই তালা লাগানো আর ভাঙার খেলা খুব কুৎসিত দেখাচ্ছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন একসময় ঘোরে পরিণত হয়। ঘোর অবস্থায় কোনটা সুন্দর আর কোনটা কুৎসিত সেটা চোখে পড়ে না। আপনাদের সুন্দরের চোখ হয়তো কোনো অন্যায় আবদারের কাছে পরাজিত। তাই সে দেখছে না।

আন্দোলনটা যদি মাঠপর্যায়ে থাকত তাহলেও আমাদের বলার কিছু থাকত না। কিন্তু ফেসবুকজুড়ে যে অপপ্রচার আর অযৌক্তিক আলোচনা সেটা হুমায়ূন স্যারের ছাত্র হিসেবে নয়, একজন ডেন্টাল সার্জন হিসেবে মেনে নেয়া কঠিন।

'ডা. হুমায়ূন রাজনৈতিক ব্যক্তি, তিনি কলেজ চালাতে পারবেন না' - এ রকম একটা কমন অপপ্রচার ফেসবুকজুড়ে দেখা যাচ্ছে। যারা এই বাক্যটি প্রচার করছেন তারা কি আদৌ ডেন্টাল প্রফেশনের কেউ? সেটা নিয়ে প্রশ্ন চলে আসে।

যে ব্যক্তিটির প্রচেষ্টার কারণে বাংলাদেশ নতুন ৬টি সরকারি ডেন্টাল ইউনিট পেল, তিনি কলেজ চালানোর জন্য অযোগ্য? এই মানুষটি জেনারেল পলিটিশিয়ান নন, তিনি এক দশক একটা ডেন্টাল ইউনিটের প্রধান ছিলেন।

ডা. হুমায়ূন কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করবেন বলার আগে সোহরাওয়ার্দী ডেন্টাল ইউনিট ঘুরে দেখা উচিত ছিল। একটা নতুন মেডিকেল কলেজের সদ্য জন্ম নেয়া ডেন্টাল ইউনিটের যে চেহারা; অন্য ইউনিট সাপেক্ষে সেটাকে অবিশ্বাস্যই মনে হবে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ডেন্টাল ইউনিট থেকে এ বছরের বিসিএস পরীক্ষায় ৩৫% শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। ডা. হুমায়ূন কবির বুলবুল যদি অযোগ্য প্রশাসক হতেন তবে এই সাফল্য সম্ভব ছিল? প্রতি বছরের প্রফ পরীক্ষার ফলাফলে সোহরাওয়ার্দী ডেন্টাল ইউনিটে কখনোই ধস নামেনি। এই ইউনিট কখনো নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হয়নি। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে অফিস টাইমের বাহিরেও দায়িত্ব পালন করে যে মানুষটা সবার শেষে বাসায় যান, এই ক্যাম্পাসের সবাই এক বাক্যে বলবে সেটা ডা. হুমায়ুন কবির বুলবুল। আমরা যারা এই ব্যক্তিটিকে ইউনিট প্রধান হিসেবে পেয়েছি, আমরা জানি তার এই অযোগ্যতার অপপ্রচার কত বড় প্রোপাগান্ডা!

গ্র্যাজুয়েশন পর্যায়ের শিক্ষার্থী কিংবা গ্র্যাজুয়েট হয়ে যাওয়ার পর অজস্র প্রমাণ থাকার পরও একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একটা কলেজের ভালো অভিভাবক হতে পারবেন না- এমন ধারণা নিতান্তই শিশুতোষ ছাড়া আর কিছু নয়।

যে রাজনীতি অর্জনের, যে রাজনীতি সমৃদ্ধির, যে রাজনীতিবিদ থেকে সমাজের জন্য ভালো কিছু পাওয়া যায় সেটাকে নেতিবাচকভাবে দেখার কিছু নেই। ঢাকা ডেন্টাল কলেজে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য হুমায়ুন কবির বুলবুল সব জায়গায় লড়েছেন স্বাধীনতাবিরোধীদের বিপক্ষে, রাজনৈতিক সচেতন কোনো ডেন্টাল সার্জনের অজানা থাকার কথা নয়।

আজকে সোহরাওয়ার্দী ডেন্টাল ইউনিটের যে স্বাস্থ্যবান চেহারা সেটা শুধু একজন ব্যক্তি হুমায়ূনের অবদান নয়; সেটার মূলে বহুলাংশেই একজন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও প্রফেশনের নেতার ভূমিকা আছে। ঢাকা ডেন্টাল কলেজের মতো দেশের ডেন্টাল চিকিৎসার মাতৃপ্রতিষ্ঠানে বরং একজন রাজনৈতিক প্রভাবসম্পন্ন ব্যক্তিত্বকেই বেশি মানায়।

এখানে আদায় করার মতো প্রচুর ক্ষেত্র আছে। পেশাগত স্বার্থে প্রত্যেক ডেন্টাল সার্জনই কোনো না কোনোভাবে ডিডিসির মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন। রাজনৈতিক প্রভাবসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি অভিভাবকের আসনে না থাকলে তৃতীয় বিশ্বের সরকার থেকে কতটা আদায় করা সম্ভব সেটা যে কোনো বাস্তববাদী মানুষ মাত্রই বুঝতে পারার কথা।

হ্যাঁ, অধ্যাপক ডা. হুমায়ূন কবির বুলবুল স্যার আদায় করার ব্যাপারটার প্রমাণ বারবার রেখেছেন। কোনো বড় দায়িত্বে না থেকেই আদায় করেছেন ৬ টা ডেন্টাল ইউনিট। সোসাইটির দায়িত্ব হাতে নিয়ে প্রথমে বৃহৎ পরিসরে করেছেন 'ওয়ার্ল্ড ডেন্টিস্ট ডে' তারপরেই আরও বড় পরিসরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মোলন কেন্দ্রে সাড়ে চার হাজার ডেন্টাল সার্জন নিয়ে ঘটিয়েছেন ডেন্টাল সার্জনদের সর্বকালের সবচেয়ে বড় মিলনমেলা।

তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ৬৫৬টি পোস্ট সৃষ্টি হয়েছে ডেন্টাল প্রফেশনে, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম ডেন্টাল পেয়েছে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টালের মর্যাদা। অনেক দিন ধরে পদোন্নতি ছাড়া যারা হতাশায় ছিলেন, এমন ৭৮ জন একসঙ্গে পেয়েছেন প্রমোশন, প্রথমবারের মতো বিশেষ বিসিএসে অন্তর্ভুক্তি হয়েছে ডেন্টাল সার্জনদের। অতীতের ব্যক্তিকেন্দ্রিক ডেন্টাল সোসাইটির নেতৃত্বে যেসব সাবেক সিনিয়র ডেন্টাল সোসাইটির নেতারা অভিমানে দূরে সরে গিয়েছিলেন, টানা ছয় বছরের অপ্রাশিত ডেন্টাল সোসাইটির জার্নাল প্রকাশের মাধ্যমে সবাইকে আবার সম্পৃক্ত করেছেন সোসাইটির অগ্রযাত্রায়। এভাবেই প্রফেসর হুমায়ুন কবির বুলবুল ঘটিয়ে চলেছেন পেশার বিস্তার, তার নেতৃত্বেই সকল ডেন্টাল সার্জন প্রফেশনের উন্নয়নে কাজ করছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ।

ছোট প্রাইভেট চেম্বারে ডেন্টাল পেশা যে গণ্ডিবন্ধ সীমায় ছিল সেখান থেকে বের হয়ে এ পেশা এখন হয়ে গেছে বিশ্বমানের।

একজন রাজনৈতিক মানুষ যত সফল আর যত ভালো মানুষই হোন না কেন সবসময়ই একাংশের বিরাগভাজন থাকেন। এটাই বাস্তবতা, এটাকে খুব খারাপভাবে দেখার সুযোগও নেই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকার মধ্যেই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

একজন রাজনীতিবীদ হুমায়ূন কবির বুলবুলের সঙ্গে একজন শিক্ষক কেন জানি গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। তাকে অপছন্দ করেন, তার রাজনৈতিক দর্শন আপনার পছন্দ না? তাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করুন। যুক্তিতর্ক চলতে থাকুক, সম্ভব হলে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিন। কিন্তু সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে সরকারি আদেশে যিনি শিক্ষকের বেশে নিজেরই সাবেক বিদ্যাপীঠে পা রাখতে গিয়েছেন তাকে এভাবে অপমান-অপদস্ত করে তালা দেয়াটা খুবই অন্যায় দেখায়।

একজন শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন অন্য আরেকজন শিক্ষকে মর্যাদাহানির একমাত্র লক্ষ্যে পরিণত করা শোভনীয় নয়।

অধ্যাপক ডা. হুমায়ূন কবির স্যারকে তার কাজের সুযোগ দেয়া হোক। ছাত্র হিসেবে আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় বলতে পারি তিনি কাউকেই হতাশ করবেন না। একজন সুযোগ্য শিক্ষকের সব যোগ্যতাই তিনি নিজের মধ্যে ধারণ করেন।

যে চেয়ার তার প্রাপ্য সেটাতে বসিয়ে তাকে বিচার করা হোক। তিনি যদি কাউকে হতাশ করেন, কারো প্রতি অন্যায় করেন তবে তাকে হটানোর জন্য আন্দোলন করুন। তখন তার কক্ষে তালা দিন। আপনাদের অভিযোগে সত্যতা থাকলে সবাইকেই পাশে পাবেন।

কোনো সুযোগ না দিয়েই একজন মানুষ ব্যাপারে এমন মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং তালা লাগিয়ে যে অপমান সেটা কেবল পেশাগত মানুষ হিসেবেই নয়, একজন নাগরিক হিসেবে যে কাউকে ব্যথিত করবে। পেশা এবং প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষায় এই তালা দেয়া- তালা ভাঙার খেলা বন্ধ হোক। নিজের শিক্ষক প্রত্যেক ছাত্রের কাছেই শ্রদ্ধার। একজনকে সম্মান জানাতে গিয়ে আরেকজনকে সচেতন বা অবচেতনভাবে অপমান করার ইতি ঘটুক।

লেখক: ডা. জাহিদ হোসেন

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল ইউনিট

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter