জুলাই গণঅভ্যুত্থান
পাপাচারের পাহাড় যতই উঁচু হোক, জনতার ক্ষোভের সামনে তা ধূলিসাৎ হতে বাধ্য
মাহবুব নাহিদ
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রক্তে রাঙা জুলাই-আগস্টের রোদ-বৃষ্টিভেজা দিনগুলো বাংলাদেশ ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য ও অবিনাশী অধ্যায় হিসেবে খোদাই করে নিয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নজিরবিহীন দুঃশাসন, ভোটাধিকার হরণ, গুম, খুন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং চরম বাকস্বাধীনতা রোধের এক দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে পিষ্ট হতে থাকা একটি জাতি অবশেষে তার সব শৃঙ্খল ভেঙে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছিল।
ক্ষমতার অন্ধ মোহে অন্ধ হয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসররা দেশের রাজপথকে বারবার রক্তে রঞ্জিত করেছিল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কবজা করেছিল এবং জনগণের কণ্ঠরোধ করে একদলীয় শাসন চাপিয়ে দিয়েছিল। তবে ইতিহাসের শিক্ষা হলো, পাপাচারের পাহাড় যতই উঁচুই হোক না কেন, জনতার ক্ষোভের আগ্নেয়গিরির সামনে তা ধূলিসাৎ হতে বাধ্য। ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের এই অভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে এ দেশের আপামর মানুষের বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার আকুল আকুতি এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক শপথ।
তবে এই অভূতপূর্ব জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করে একদিনে ঘটে যাওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন বা কাকতালীয় ঘটনা নয়। এটি ছিল স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এ দেশের মুক্তিকামী জনগণের বহু বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ। এই ঐতিহাসিক আন্দোলনে একক কোনো ব্যক্তি বা দলের একচ্ছত্র কৃতিত্ব ছিল না, বরং এটি ছিল সব শ্রেণি পেশার মানুষ, শিক্ষক, শ্রমিক, অভিভাবক এবং তরুণ প্রজন্মের এক অভূতপূর্ব গণবিস্ফোরণ। তবে এই বিশাল গণআন্দোলন ও জাগরণের নেপথ্যে যে রাজনৈতিক শক্তিটি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের বারুদ প্রস্তুত করেছিল এবং চূড়ান্ত মুহূর্তে জনগণকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছিল, তা হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আর এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকা ও অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। সুদূরে নির্বাসিত থেকেও তিনি যেভাবে স্বৈরাচারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার আন্দোলনে দূরদর্শী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তা আন্দোলনকে সঠিক লক্ষ্য বিন্দুতে পৌঁছে দিতে বড় প্রভাব ফেলেছিল। ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক শক্তিকে একত্রিত করে নতুন মেরূকরণ হয়েছিল যার নাম ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ।
সুদীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নজিরবিহীন অত্যাচার, শত শত বানোয়াট মামলা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং অবিরাম রাজনৈতিক অপপ্রচারের মুখোমুখি হয়েও তারেক রহমান যে ধৈর্য, স্থিরতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দেখিয়েছেন, তা সমগ্র দেশের মানুষের মনে এক গভীর আস্থা তৈরি করেছে। ২০২৪-এর জুনের শুরুতে যখন হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে কোটা ব্যবস্থা বহাল করে এবং এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজপথ থেকে শুরু করে 'বাংলা ব্লকেড'-এর মতো কর্মসূচি দিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন গড়ে তোলে, তখন শুরু থেকেই বিএনপি এই যৌক্তিক দাবির পাশে এসে দাঁড়ায়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, কোটা সংস্কার নিয়ে তরুণদের এই দাবি অত্যন্ত ন্যায়সংগত। ঠিক সেই সময়ে তারেক রহমানও তার সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করে বলেন, কোটা কখনো মেধার বিকল্প হতে পারে না। তার এই সুস্পষ্ট অবস্থান ছাত্র-জনতাকে মানসিকভাবে বিশাল শক্তি জুগিয়েছিল।
জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর রাজপথের হেলমেট বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় পুলিশ নির্মম হামলা ও রক্তপাত চালায়, এবং রংপুরে বীর আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে রাজপথ সিক্ত হয়, তখন আন্দোলন এক অগ্নিগর্ভ রূপ নেয়। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়ে ডিবি পুলিশ যখন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অস্ত্র উদ্ধারের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ছাত্রদলের নেতাদের আটক করে, তখন তারেক রহমান এই আন্দোলনকে এক দফায় রূপান্তরের ঘোষণা দেন। তিনি বিষয়টিকে শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞ থেকে বিশ্ববাসীর নজর সরানোর এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে উন্মোচিত করেন। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, যাতে তারা নিজ নিজ দেশ থেকে বাংলাদেশের এই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সতর্ক করে তিনি বলেছিলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের বুকে আর একটি গুলিও চালাবেন না। হাসিনার সময় ফুরিয়ে গেছে, কারণ আবু সাঈদরা এখন বুক পেতে গুলি নিতে ভয় করেন না।
এই আন্দোলনের সবচেয়ে দীপ্তিময় ও সাহসী অধ্যায়টি রচিত হয়েছিল তরুণ প্রজন্মের হাতে, আর সেই আন্দোলনকে গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে রাজপথে বাংলাদেশ ছাত্রদলের বীরোচিত ভূমিকা ছিল সত্যি অতুলনীয়। ফ্যাসিস্ট শাসনামলে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে সীমাহীন নির্যাতন চালিয়ে যেখানে মুক্ত চিন্তাকে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ছাত্রদল নিজেদের একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী ভাবমূর্তিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে লড়াই চালিয়ে গেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে যখন তা একদফা দাবিতে রূপ নেয়, তখন ছাত্রদলের তরুণ নেতাকর্মীরা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের সাধারণ ছাত্র ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে রাজপথে সঁপে দিয়েছিলেন। তারা অত্যন্ত বিনয়ী ও অহংকারমুক্ত হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মিছিলে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, মেধাভিত্তিক ও সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে ছাত্রদলের অগণিত নেতাকর্মী আত্মত্যাগ করেছেন। রাজপথে যখন বুলেট ছাত্র-জনতার বুক ঝাঁঝরা হয়ে যাচ্ছিল, তখন ছাত্রদলের সাহসের প্রতীক হয়ে ওঠা তরুণরা নিজেদের বুক ঢাল বানিয়ে অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্ষা করেছে। দেশজুড়ে যখন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলছিল, বিএনপি মহাসচিব বারবার সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদের এই আন্দোলনের প্রতি বিএনপির পূর্ণ নৈতিক সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করে যে, দেশ গঠনে আমাদের জনমিতিক লভ্যাংশ বা 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড'-কে সঠিক পথে কাজে লাগানো গেলে যে কোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।
বাস্তবতা হলো, একটা বিশাল গণঅভ্যুত্থান কখনো রাতারাতি বা কোনো বিচ্ছিন্ন প্লাটফর্ম থেকে সফল হয় না। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন এবং এই গণঅভ্যুত্থানের মূল প্লাটফর্ম তৈরি হয়েছিল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ দেড় দশকের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও অগণিত নেতাকর্মীর জীবনের বিনিময়ে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গুম করা, চৌধুরী আলম ও ইলিয়াস আলীর মতো নেতাদের হারিয়ে যাওয়া, লাখ লাখ গায়েবি মামলা এবং অমানবিক কারাবাস সত্ত্বেও বিএনপি রাজপথ ছেড়ে যায়নি। আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে শেখ হাসিনা যখন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আংশিক কোটা বহাল রেখে বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরবর্তীতে ডিবি কার্যালয়ে অস্ত্রের মুখে আন্দোলন প্রত্যাহারের নাটক সাজান, তখনো রাজপথের আন্দোলন থামেনি। কারণ তারেক রহমান আন্দোলন দমনের মুখে প্রথম সরকার পতনের ডাক দিয়ে জাতিকে বলেছিলেন, হাসিনার পতনের আন্দোলনে সর্বশক্তি দিয়ে চূড়ান্তভাবে মাঠে নামুন, আজ থেকে, এখন থেকে।
৩ আগস্টে শহীদ মিনারে ছাত্র জনতার এক দফার দাবির মধ্য দিয়ে আন্দোলন সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। পরদিনই মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলনে সেই বৈষম্যবিরোধী এক দফা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে বিএনপির পূর্ণ একাত্মতা ঘোষণা করেন, যা পরদিন ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার চূড়ান্ত পতনে রূপ নেয়।
এই পুরো আন্দোলনে তারেক রহমানের সহিষ্ণু, বাস্তবমুখী ও সৃজনশীল নেতৃত্ব প্রমাণ করেছে কীভাবে সংঘাত এড়িয়ে জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে হয়। তার রূপকল্পে কেবল এক ফ্যাসিবাদের পতনের লক্ষ্য ছিল না, বরং আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে একটি জনমুখী, সার্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার সুস্পষ্ট রূপরেখা ছিল। তিনি এমন এক রাষ্ট্রকাঠামোর স্বপ্ন উপস্থাপন করেছেন, যেখানে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল পরিবর্তন ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে।
জুলাই-আগস্টের রক্তস্নাত পথ অতিক্রম করে আজ বাংলাদেশ এক নতুন ভোরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, সমগ্র দেশবাসী এখন এক বৈষম্যহীন ও সাম্যভিত্তিক সমাজের প্রত্যাশায় বুক বাঁধছে। বিএনপি মনে করে, রাষ্ট্রে স্থায়ী শান্তি, শৃঙ্খলা ও জন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রধান মাধ্যম হলো জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। সেই লক্ষ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই, যার মাধ্যমে গঠিত হবে জনগণের বিপুল সমর্থনপুষ্ট একটি সত্যিকারের নির্বাচিত সরকার। বিএনপি বিশ্বাস করে যে, রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতাও জরুরি। সেই লক্ষ্য পূরণে বিএনপি একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা সামনে এনেছে, যা হবে শ্রমবান্ধব, ব্যাবসাবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব। যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করবে, সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে এক মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছে যে, জনতার সম্মিলিত শক্তি ও প্রজ্ঞাপূর্ণ রাজনীতির মেলবন্ধন ঘটলে কোনো ফ্যাসিস্ট ও রক্তচক্ষু শাসকই টিকতে পারে না। রক্তে রাঙানো এই অভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তির বিজয় নয়, বরং এটি রাজপথে তাজা রক্ত দেওয়া আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামদের মতো বীর শহীদদের ত্যাগ, সাধারণ ছাত্র-জনতার অদম্য প্রতিরোধ এবং বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর দীর্ঘ সংগ্রামের সম্মিলিত বিজয়। তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্বের দিকনির্দেশনায় এবং অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি আজ সেই রক্তের আমানত রক্ষা করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, বাকস্বাধীনতা ও সামাজিক সুবিচারভিত্তিক এক নতুন ও কল্যাণরাষ্ট্র গড়ার সংকল্পে রাজপথে অবিচল রয়েছে।

মাহবুব নাহিদ
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
