যানজটে প্রথম ঢাকাবাসীকে অভিনন্দন

  শরিফুল হাসান ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

শরিফুল হাসান

সরকার, মন্ত্রী, সচিব, আমলা, ট্রাফিক পুলিশ, বড় কর্তা, নিয়ম না মানা জনগণ সবাইকে অভিনন্দন। অভিনন্দন ঢাকাবাসীকে। সারা দুনিয়ার মধ্যে আমরা প্রথম হয়েছি। জ্বি, চলতি বছর বিশ্বের শীর্ষ যানজটপূর্ণ শহরের উপাধি জুটেছে রাজধানী ঢাকার কপালে।

আন্তর্জাতিক ‘ট্রাফিক ইনডেক্স ২০১৯’-এ এই চিত্র উঠে এসেছে। এর আগে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে সূচকটিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ঢাকা। ওই দুই বছর কলকাতা ছিল প্রথম। কিন্তু এবার কলকাতাকে পেছনে ফেলে সারা দুনিয়ার ২০৭টা শহরের মধ্যে ঢাকা হয়েছে প্রথম।

ঢাকা যে যানজটের শহর সেটা জানতে আমাদের অবশ্য কোনো গবেষণার দরকার নেই। এই শহরের লোকজন যারা রোজ সকালে কাজে বের হয় এবং বাসায় ফেরে তারা জানে এই যুদ্ধের কথা। তারা জানে এই শহরের এক স্থান থেকে আরেকস্থানে যেতে কতক্ষণ লাগবে স্বয়ং ঈশ্বর ছাড়া আর কেউ তা বলতে পারবেন না।

অবশ্য মিরপুরবাসী বলতে শুরু করেছে, ঢাকার দোযখ মিরপুর। কিন্তু যানজটে পড়লে যে পুরো ঢাকাই কখনো কখনো দোযখে পরিণত হয়?

কথা হলো সমাধান কী? একটা শহরের আয়তনের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ সড়ক থাকতে হয়। ঢাকায় সড়ক আছে সাত থেকে আট শতাংশ। সেই সড়কে আবার পার্কিং, বাজার, কেউ নিয়ম মানে না। তার মানে গাড়ি চলাচলের মতো সড়ক আছে তিন-চার শতাংশ। তাহলে এখন কী করা উচিত?

মহাজ্ঞানী হওয়ার দরকার নেই। একজন সাধারণ মানুষও বুঝবে যেহেতু সড়ক কম, কাজেই ব্যক্তিগত গাড়ি কমাতে হবে। বাড়াতে হবে গণপরিবহন। অথচ গণপরিবহন ভালো না হওয়ায় বাধ্য হয়ে মানুষ গাড়ি কিনছে। ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে ৭০টা করে ব্যক্তিগত নতুন গাড়ি নামছে। আর বাস কমছে। যাও বা থাকছে তাতে চলাফেরা করা আর যুদ্ধ করা সমান কথা।

অথচ রোজ সকালে সেই যুদ্ধটা করতে হয় নারী, শিশু, স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণ শিক্ষার্থী, চাকরিতে যাওয়া যুবক সবাইকে। আপনারা যারা মনে করেন দেশ অনেক এগিয়েছে, তাদের সঙ্গে আমার বিরোধ নেই। আমি মনে করি দেশ অনেক এগিয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। সেটা বোঝার জন্য হলেও পাবলিক বাসে চড়তে পারেন।

মাঝেমধ্যে মনে হয়, যদি এই শহরের সব সচিব আমলা বড় কর্তারা নিয়মিত বাসে চড়তেন! বাদুরের মতো কয়েকদিন ঝুলে ঝুলে অফিসে গেলে তারা মানুষের কষ্টটা বুঝতেন।

মেয়র আনিসুল হকের কথা মনে আছে? রাজধানীতে পরিকল্পিত বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজে হাত দিয়েছিলেন। তিনি নেই, সেই কাজের আর কোনো খবরও নেই। অথচ এই শহরে বড় বড় ফ্লাইওভার হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকার এসব ফ্লাইওভার কখনো কোনোদিন যানজট দূর করবে না। তবুও হচ্ছে।

আপনি কী জানেন? ২০১৫ সালে ঢাকার ভেতরে গড় গতি ছিল ঘণ্টায় মাত্র সাড়ে ছয় কিলোমিটার। গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন না করলে ২০৩৫ সালে এ গতি চার কিলোমিটারে নেমে যাবে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আমি অপেক্ষায় আছি, কবে না আবার সব শূন্যে নেমে আসে। যদিও মেট্রোরেল চালু হওয়ার কথা তার আগে। জানি না তাতে ঢাকার চিত্র কতটা বদলাবে।

ও হ্যাঁ খারাপটা তো শুনলেন। ভালোটাও শুনেন। ২০১৯ সালেও বিশ্বের সবচেয়ে কম যানজটপূর্ণ শহরের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা। এরপর রয়েছে চেক রিপাবলিকের শহর বিয়ারনো, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, সুইডেনের গোথেনবার্গ ও জামার্নির ফ্রাঙ্কফুট।

ওইসব শহরের বাঙালিদের অভিনন্দন। আপনারা ভালো থাকুন। মাঝেমধ্যে বেড়াতে আসবেন ঢাকায়। দেখতে, ঘুরতে। জানবেন, এই শহরের বাচ্চাগুলো সব নেমে এসেছিল সড়ক ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে। কিন্তু এরপর আমরা সব ভুলে ঘুম দিয়েছি। কবে সেই ঘুম ভাঙবে কেউ জানে না!

লেখক- শরিফুল হাসান, কলামিস্ট

ঘটনাপ্রবাহ : শরিফুল হাসানের লেখা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×