ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার কলাম

সুপরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক উস্কানির ষড়যন্ত্র প্রিয়া সাহার

  ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ২০ জুলাই ২০১৯, ১৬:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া
ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া

শেখ হাসিনার সরকার আজ বাংলাদেশের জীবন-জীবিকার প্রতিটি ক্ষেত্রে সংবিধানের আলোকে প্রতিটি নাগরিকের সমমর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন।

মাঝে মাঝে সুপরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক উস্কানি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করা হয়। সরকার ও প্রশাসন বরাবরই এসব ঘটনা প্রতিরোধে তৎপর রয়েছে। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অসাম্প্রদায়িক মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বারবার পরাজিত করেছে।

এই অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার সম্পূর্ণ অসত্য বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি নিন্দনীয় অপরাধ শুধু নয়, এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দেশের অভ্যন্তরে লুকায়িত মতলববাজ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি বাংলাদেশের কোনো বিবেকবান, দেশপ্রেমিক হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সঙ্গে কোনোভাবেই একমত হবেন না। প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক মানুষ সব ধর্মের সাম্প্রদায়িকতাকে ঘৃণা করে।

বাংলাদেশের সব সম্প্রদায় ও ধর্মবিশ্বাসের মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। কারণ একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাই বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষার সর্বশেষ ঠিকানা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালোরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে পাওয়া বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানকে পাল্টে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানকে পরিবর্তন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল জিয়া-এরশাদ ও খালেদা গং বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করার পায়তারা চালায়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এসেই বাংলাদেশে হারিয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আর রাজনীতিতে অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার সংগ্রামের সূচনা করেন।

জনগণের রায়ে বারবার নির্বাচিত হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ধর্মভিত্তিক বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার রাষ্ট্রীয় নীতি গ্রহণ করেন।

গৃহহারা ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা সারা বিশ্বে মাদার অব হিউম্যানিটি। ২০১৭ সালে খ্রিস্ট ধর্মের প্রধান যাজক পোপ ফ্রান্সিস এসেছিলেন বাংলাদেশ সফরে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি বলেছেন বাংলাদেশ শুধু উন্নয়নের রোল মডেল নয়, সারা বিশ্বে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও রোল মডেল।

তারও আগে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফর করে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক রাষ্ট্রদূত ডেভিড এন সেপারস্টেইন বলেছিলেন, বাংলাদেশে অসম্ভব রকমের ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে।

কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে প্রায় তিন দশক কালের জিয়া-এরশাদ-খালেদার অপশাসনের অভিশাপ, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা-দুর্নীতি আর জঙ্গিবাদের ধারা রাজনীতিতে এখনও সক্রিয় রয়েছে।

সব ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আজ সারাবিশ্বে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। জঙ্গিবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতাকে প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করে সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি গ্রহণ করেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক নীতি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সূচনা করেছেন সম্প্রীতির আর অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির এক অনন্য নজির।

লেখক: ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক।

ঘটনাপ্রবাহ : ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: jugantor.ma[email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×