পবিত্র জন্মাষ্টমী ও এরশাদের সরকারি ছুটি ঘোষণা

  খন্দকার দেলোয়ার জালালী ২২ আগস্ট ২০১৯, ১৪:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

পবিত্র জন্মাষ্টমী ও এরশাদের সরকারি ছুটি ঘোষণা
পবিত্র জন্মাষ্টমী ও এরশাদের সরকারি ছুটি ঘোষণা

২৩ আগস্ট (শুক্রবার) শুভ জন্মাষ্টমী। শ্রাবণ বা ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষীয় অষ্টমী তিথিতে সনাতন হিন্দু ধর্মমতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি অত্যন্ত উৎসব-আনন্দ ও শুভময়। হাজার বছর ধরে জন্মাষ্টমীকে সনাতন ধর্মের মানুষ অত্যন্ত উৎসবমুখর ও পবিত্রায় উদযাপন করে থাকেন।

ঢাকায় কয়েকশো বছরের ঐতিহ্য রয়েছে জন্মাষ্টমীর বিভিন্ন উৎসব আয়োজনের। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও শিশুরা নতুন ও পরিচ্ছন্ন পোশাকে বের হন। শিশু ও নারীরাও উৎসবের সাজে সাজিয়ে নেয় নিজেকে।

জন্মাষ্টমীতে আনন্দ শোভাযাত্রার ঐতিহ্য আছে ঢাকার। ১৯৫৫ সালে রাধাষ্টমীর সময় পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় পিরু মুন্সীর পুকুরপাড় থেকে জন্মাষ্টমীর একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হত। পরবর্তীতে নববাপুরের লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির থেকে কৃষ্ণদাসের নেতৃত্বেও আরও সুদৃশ্য শোভাযাত্রা বের হতো।

মিছিলে অনেকেই গোপ ও ব্রজবাসী সেজে র‌্যালীতে যোগ দিতেন। খোল-কর্তাল আর হরিনাম শ্লোগানে উৎসব মুখর হতো আশপাশের এলাকা। মিছিলে পতাকা, নিশান, বল্লম প্রদর্শিত হতো। এরপর পুরনো ঢাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ মন্দির থেকে জন্মাষ্টমীর আনন্দ শোভাযাত্রা বের করতেন।

ঢাকায় জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা এতই বর্ণাঢ্য ও উৎসব মুখর হত যে দূর দূরান্তের গ্রাম থেকেও মানুষ আসতো এই উৎসবে যোগ দিতে। সে সময় কলকাতা থেকেও জন্মাষ্টমীর উৎসবে যোগ দিতে ঢাকায় আসতেন অনেকেই। সার্বজনীন এই আনন্দ উৎসবে যোগ দিতেন মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও। বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা বাইচ ও নদী পাড়ে মেলাও বসতো জন্মাষ্টমীর উৎসবে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর দু’বছর নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে ঢাকায় জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বের হয়। কিন্তু ১৯৫০ সাল থেকে দাঙ্গা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকায় জন্মাষ্টমীর আনন্দ শোভাযাত্রা বন্ধ হয়ে যায়।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দেশ পরিচালনার সময়ে দীর্ঘ ৩৯ বছর পর ১৯৮৯ সালে আবারো জন্মাষ্টমীর আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয় ঢাকায়। মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে জন্মাষ্টমীর আনন্দ শোভাযাত্রা বের করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

এসময় সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সার্বিক সহায়তা ছিল জন্মাষ্টমীর আনন্দ শোভাযাত্রা সফল ও নিরাপদ করতে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আনুগত্য এবং জন্মাষ্টমীর উৎসব আনন্দে হিন্দু সম্প্রদায়ের গভীর অনুরাগ এর কথা বিবেচনা করে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জন্মাষ্টমীর দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন।

যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনটি উৎসব মুখর আয়োজনে উদযাপন করতে পারেন। একটু সময় নিয়েই করতে পারেন পূজা-অর্চনা। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জন্মাষ্টমীর দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণার পর থেকে জন্মাষ্টমীর উৎসব আয়োজন আরও বর্ণিল হতে থাকে।

সরকারি ছুটির কারণে জন্মাষ্টমীর আয়োজনে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও যোগ দিতে পারেন অনায়াসে। ঢাকায় জন্মাষ্টমীর কয়েকশো বছরের ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু উৎসবে বর্ণিল এই দিনটি আয়োজন ও উদযাপনের বিষয়ে সরকারী কোন উদ্যোগ ছিল না। কারো ভাবনাতেই ছিল না সনাতন ধর্মের এমন পবিত্র ও উৎসবমুখর একটি আনন্দঘন দিনকে সরকারি ছুটি ঘোষণার।

কেবল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদই হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্মাষ্টমীর উৎসবে ছুটির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেছেন। তাই বাংলাদেশে জন্মাষ্টমীর উৎসবের সাথে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শুধু জন্মাষ্টমীতে সরকারী ছুটিই নয়, ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাষ্ট গঠন করেছিলেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গেল ১৪ জুলাই সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে পৃথিবীর মায়া ও আমাদের ছেড়ে গেছেন সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

সে অনুযায়ী ২৩ আগস্ট পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চল্লিশা হবার কথা। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এবং পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা সারাদেশে ২৩ আগস্ট পল্লীবন্ধুর চল্লিশা উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের কর্মসূচি ঘোষণা করে চিঠিও দিয়েছেন।

সে অনুযায়ী সারাদেশে জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দের প্রস্তুতিও ছিল ২৩ আগস্ট পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চল্লিশা আয়োজনের। কিন্তু ১৭ আগস্ট’২০১৯ সকালে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে পার্টির প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সভায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চল্লিশা আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস এন্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভরায় ২৩ আগস্ট পবিত্র জন্মাষ্টমীর প্রসঙ্গটি তোলেন। সভার শেষে সভার সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ কাদের ও পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা সবার মতামতের ভিত্তিতে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদের চল্লিশা ২৩ আগস্টের পরিবর্তে ৩১ আগস্ট সারাদেশে একযোগে আয়োজনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সে অনুযায়ী ৩১ আগস্ট পল্লীবন্ধুর চল্লিশা আয়োজনে সারাদেশে নতুন করে চিঠিও দেয়া হয়েছে দলটির নেতৃবৃন্দের বরাবরে। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের সভায় জন্মাষ্টমীর দিনে পল্লীবন্ধুর চল্লিশা আয়োজন না করার সিদ্ধান্তে দারুণ খুশি হয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা।

জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ঢাকসু সদস্য নির্মল দাশ বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলেই দীর্ঘ ৩৯ বন্ধ থকার পর বছর পর আবার জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বের হয় ঢাকায়। বলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জন্মাষ্টমীর দিনে ছুটি ঘোষণা করে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা অর্জন করেছেন।

আর পল্লীবন্ধুর স্নেহের ছোট ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদের জন্মাষ্টমীর উৎসবের দিনে পল্লীবন্ধুর চল্লিশা না করে সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জাতীয় পার্টির নির্বাহী সদস্য ঝোটন দত্ত বলেন, পল্লীবন্ধুর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পথেই হাঁটছেন বর্তমান চেয়ারম্যান, তাই হিন্দু সম্প্রদায়ের আশীর্বাদ ও শুভ কামনা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের প্রতি সব সময় থাকবে।

লেখক: খন্দকার দেলোয়ার জালালী, সাংবাদিক ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×