স্কুলছাত্র আবরারের মৃত্যু নিয়ে কিছু প্রশ্ন

  যুগান্তর ডেস্ক ০২ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

নাইমুল আবরার
নাইমুল আবরার। ফাইল ছবি

বিদ্যুৎস্পর্শে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরারের মৃত্যু হয়েছে।

আহত আবরারকে কাছাকাছি কোনো হাসপাতালে না নিয়ে জ্যাম পেরিয়ে কেন মহাখালীর এক বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল সে প্রশ্নই সবার।

এমনই আরও অনেক প্রশ্ন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলামের।

তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাস দেন। পাঠকদের জন্য সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল:

একটা ছেলে মারা গিয়েছে, অথচ আপনারা জানতেনই না?

গতকাল ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের এক ছাত্র মারা গিয়েছে প্রথম আলোর আয়োজন করা অনুষ্ঠানে গিয়ে।

ছেলেটা আপনাদের অনুষ্ঠান চলাকালেই বিদ্যুতায়িত হয়েছে। সে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে মরে যায়নি। বেঁচে ছিল। আপনারা তাকে মহম্মদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মহাখালীতে কেন নিয়ে গেলেন?

আমি নিজে ওই কলেজের ছাত্র ছিলাম? সেখানে তো দেশের নামকরা একটা মেডিকেল আছে। এ ছাড়াও আরও নানা সব মেডিকেল আছে।

সেখানে না নিয়ে গিয়ে আপনারা তাকে মহাখালীতে কেন নিয়ে গেলেন?

ছেলেটা কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সেও কথা বলছিল। মহাখালীতে নিতে নিতে তার প্রাণটাই চলে গেল।

ছেলেটা মারা গিয়েছে গতকাল দুপুর ২টার দিকে। তখনও আপনাদের অনুষ্ঠান চলছিল। একটা ছেলে এভাবে মরে গেল, এই খবর গোপন রেখে কি করে আপনারা অনুষ্ঠান চালিয়ে গেলেন?

এখন আবার দেখছি আপনারা আপনাদের ফেসবুক পেইজে নানা সব যুক্তি উপস্থাপন করছেন।

এই সব যুক্তির কোথাও পেলাম না- কেন আপনারা তাকে মহাখালীতে নিয়ে গেলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে?

এ ছাড়া আরও কিছু প্রশ্ন আছে

-আপনারা বলছেন, ছেলেটা যে মরে গিয়েছে এই খবর আপনারা জানতেন না; জানলে অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতেন না।

রিয়েলি?

একটা ছেলে আপনাদের অনুষ্ঠানে এসে বিদ্যুতায়িত হয়ে মরে গেল; আপনারা জানতেনও না? আপনাদের খোঁজ নেবারও প্রয়োজন পড়ল না?

নাকি জেনেও এখন না জানার ভান করছেন? দুটোই তো অপরাধ।

আরেকটা প্রশ্ন

-ছেলেটা তো গতকাল দুপুর ২টার দিকে মারা গিয়েছে।

এই মৃত্যুর ঘটনা তো এমনিতেই পত্রিকায় চলে আসার কথা। গতকাল পুরো দিন, পুরো রাত চলে গেল, আপনাদের পত্রিকার কোথাও এই খবর পেলাম না কেন?

আপনাদের তো অনলাইন ভার্শন আছে। কই, সেখানে তো কোনো খবর দেখলাম না এ নিয়ে?

আজ কেন তাহলে এই নিয়ে খবর করেছেন?

এখন আমরা লিখছি বলে? নইলে দিব্যি চেপে যেতেন, তাই না?

যাও আবার লিখছেন, পড়ে মনে হচ্ছে খুব স্বাভাবিক ঘটনা! এখানে আপনাদের কোনো দায়ই ছিল না!

কি অবাক কাণ্ড!

দেখুন আপনারা তিনটা অন্যায় করেছেন। ছেলেটা বিদ্যুতায়িত হবার পর তাকে পাশের মেডিকেলে না নিয়ে গিয়ে আপনারা অন্যায় করেছেন। ছেলেটা মরে গিয়েছে, এই খবর গোপন করে আপনারা অন্যায় করেছেন। মরে যাবার পর অনুষ্ঠান চালিয়ে গিয়ে আপনারা অন্যায় করেছেন।

আপনারা ভুল করেছেন কিংবা অন্যায় করেছেন; এখন এটার হয়ে সাফাই গাইছেন কেন?

বাংলাদেশের ব্যাপারটাই এমন, ভুল করে, অন্যায় করে স্বীকার করে না, ক্ষমা চায় না; উল্টো সাফাই গায়। ভাবখানা এমন, স্বীকার করা, ক্ষমা চাওয়াটাই বরং অন্যায়।

এই জন্যই এই দেশে অন্যায়গুলো জমে জমে পাহাড় হয়ে যায়।

আপনারা ভুল করেছেন, অন্যায় করেছেন। এর সাফাই না গেয়ে বরং ভুলটা স্বীকার করে বলুন- আমাদের ভুল হয়েছে, আমরা ক্ষমা প্রার্থী।

ঘটনাপ্রবাহ : রেসিডেনসিয়াল ছাত্র আবরারের মৃত্যু

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×