চিকিৎসা সেবার নামে এসব কী হচ্ছে!

  জাহাঙ্গীর আলম আনসারী ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

হাসপাতাল
ফাইল ছবি

একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের পাঁচটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে চিকিৎসা হলো অন্যতম। একটু সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্যই মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এ জন্য মানুষ ডাক্তার ও হাসপাতালের স্মরণাপন্ন হয়। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ ক্লিনিক-হাসপাতালগুলো আজ সাধারণ মানুষের জন্য কসাইখানা ও মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। আর ডাক্তারদের মধ্যে বড় একটি অংশ আজ মানবসেবা ও মানবিকতা ভুলে গিয়ে কসাই ও ডাকাতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

এছাড়া চিকিৎসা বিষয়ে পড়াশোনা না করেও অনেকে ডাক্তার সেজে চেম্বার দিয়ে বসে আছেন। মানুষ সুস্থতার জন্য চিকিৎসা নিতে গিয়ে ডাক্তারদের ভূল চিকিৎসায় আরও মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সারাদেশে রাস্তার আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে হাসপাতাল,ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব ক্লিনিক ও হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা সেবার নামে চলছে বাণিজ্য। বর্তমানে আমাদের দেশের অধিকাংশ হাসপাতাল-ক্লিনিকের মালিক ও ডাক্তাররা সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে উপার্জনকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

বর্তমানে আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে তিনটি সমস্যা মহামারি আকার ধারণ করছে।

১. ডাক্তার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় রোগির মৃত্যু।

২. সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই জীবনকে মৃত ঘোষণা।

৩. আইসিইউ ও সিসিইউতে লাইফসাপোর্টের নামে রোগিকে আটকে রেখে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়।

দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে নৈরাজ্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। অস্ত্রোপচারের পর পেটের ভিতর ছুরি বা গজ রেখেই সেলাই দেওয়া,অসুস্থ অঙ্গের পরিবর্তে সুস্থ অঙ্গ কেটে ফেলা,দাঁত তোলার নামে শিক্ষানবিস ডাক্তাররা হাত পাকাচ্ছেন,অনেক হাসপাতালে ডাক্তারের পরিবর্তে ওয়ার্ড বয়রাই আবার সর্বেসর্বা। জটিল কঠিন অপারেশন করতেও দ্বিধা করছেন না তারা। আবার সুযোগ সুবিধাহীন সরকারি হাসপাতালে একশ্রেণির ডাক্তার,নার্স, আয়া-কর্মচারীর চরম দুর্ব্যবহারের সামনে রোগিরা থাকছেন বড়ই অসহায়। আর মানবসেবার নাম করে গড়ে উঠা প্রাইভেট হাসপাতালগুলোরও একই অবস্থা।

প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই দেখা যায় দেশের কোথাও না কোথাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা ডাক্তারের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় রোগি মারা যাওয়ার খবর। সিজার করতে গিয়ে নবজাতকের নাড়ী-ভূড়ি বা অঙ্গ কেটে ফেলার খবর। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বা ভুল ইনজেকশনের কারণে রোগির মৃত্যুর খবর।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যে চারটি ঘটনা ঘটেছে তা দেখলেই বুঝা যায় বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার বেহাল অবস্থার কথা। যে ঘটনাগুলো শুধু সাধারণ মানুষের নয়,উচ্চ আদালতের মাননীয় বিচারপতিদের বিবেককেও নাড়া দিয়েছে। উচ্চ আদালত ক্ষুব্ধ হয়ে এসব ক্লিনিককে কসাইখানা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত কয়েকটি সংবাদ তুলে ধরলাম।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার গৌরীপুরে লাইফ কেয়ার নামের এক ক্লিনিকে খাদিজা নামে এক নারীর গর্ভে জমজ বাচ্চা থাকার পরও সিজারের সময় এক বাচ্চা ভেতরে রেখেই পেটে সেলাই করে দেন ডাক্তার। খাদিজার স্বজনরা ডাক্তারকে খাদিজার পেটে জমজ বাচ্চা আছে জানালেও ডাক্তার শেখ হোসনে আরা দাবি করেন,খাদিজার পেটে বাচ্চা একটিই। অন্যটি টিউমার। পরে আবার সমস্যা দেখা দিলে ২৫ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খাদিজার পেট থেকে একটি মৃত ছেলে সন্তান বের করেন চিকিৎসকরা।

গত ২৩ আগস্ট হবিগঞ্জে চাঁদের হাসি হাসপাতালে মল্লিকা দাস নামে এক নারীর সিজারের পর পেটের ভেতর তোয়ালে রেখেই সেলাই করার ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে সমস্যা দেখা দিলে অভিজ্ঞ ডাক্তার কর্তৃক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ২৪ নভেম্বর পুনরায় অপারেশন করে মল্লিকার পেটের ভেতর থেকে একটি তোয়ালে বের করা হয়।

গত মার্চ মাসে পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকে সিজারের পর মাকসুদা বেগম নামে এক নারীর পেটে গজ রেখেই সেলাই করা হয়। একমাস পর মাকসুদা পেটে ব্যথা অনুভব করলে তাকে ওই ক্লিনিকে নেয়া হয়। ডাক্তার কিডনিতে সমস্যার কথা বলে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর গত ১২ জুলাই বরিশাল মেডিকেলে মাকসুদার পেটে অস্ত্রোপচার তার পেটের ভেতর থেকে গজ বের করা হয়। যে ঘটনা শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালত ওই ভুয়া ডাক্তারকে অর্থ ও কারাদণ্ড দিয়েছেন।

পটুয়াখালীর ঘটনায় যখন সারাদেশ তোলপাড়। তখন বেরিয়ে এলো আরেক ঘটনা। গত ১৮ মে ধানমন্ডির গ্রীনরোডে অবস্থিত স্ট্রোল হাসপাতালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফিয়া জাহান চৈতির মৃত্যুর ঘটনা। ওই শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপতালটিতে ভর্তি হলেও তাকে দেওয়া হয়েছিল ক্যান্সারের চিকিৎসা। পরে ভুল চিকিৎসায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছেন সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এগুলো হলো সর্বশেষ আলোচিত কয়েকটি ঘটনা। পাঠকদের জন্য বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত আরও কয়েকটি সংবাদ শিরোনাম তুলে ধরলাম।

ভুল তথ্য দিয়ে হৃদযন্ত্রে রিং বসানোর চেষ্টা: চিকিৎসককে তলব (২২ মার্চ ২০১৭, দৈনিক সমকাল)। রংপুরে ‘ভুল চিকিৎসায়’ রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ম্যানেজার গ্রেপ্তার (২১ জানুয়ারি ২০১৭, কালেরকণ্ঠ)। সিজারে নবজাতকের নাড়ি-ভুঁড়ি ও কলিজা বের করে ফেলার অভিযোগ (২৩ মার্চ ২০১৭, যুগান্তর)। নার্সের অবহেলায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু (২২ নভেম্বর ২০১৭, যুগান্তর)। সাভার-আশুলিয়ায় ভুল চিকিৎসায় দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ (৪ মার্চ ২০১৭, কালের কণ্ঠ)। টঙ্গীতে ‘ভুল চিকিৎসায়’ রোগীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বাংলাদেশ প্রতিদিন)। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, চিকিৎসক পলাতক (১৬ মার্চ ২০১৭, বাংলাট্রিবিউন)।

যশোরের চৌগাছায় ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, পরিচালক জখম (১৩ মার্চ ২০১৭, প্রজন্ম একাত্তর)। ওয়ার্ডবয়ের ইনজেকশনে প্রাণ গেল শিশুর ( ২৪ নভেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো)। ‘অবহেলায়’ প্রসূতির মৃত্যু, বিচার দাবি (৩০ অক্টোবর ২০১৬, মানবকণ্ঠ)। রায়পুরে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, আটক ১ (১১ অক্টোবর ২০১৬, ইত্তেফাক)। সাভারে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ (১৯ জুলাই ২০১৬, বাংলানিউজ)। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ (২ অক্টোবর ২০১৬, বিডিনিউজ)।

ইউনিক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ (২ অক্টোবর ২০১৬, ফরিদপুর টাইমস)। ভালুকায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ (৫ অক্টোবর ২০১৬, নয়াদিগন্ত)। ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ (১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬, কালের কণ্ঠ)। দাফনের সময় কেঁদে উঠলো নবজাতক (২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ইত্তেফাক। ফের জীবিত নবজাতককে মৃত ঘোষণা (৫ অক্টোবর ২০১৬, যুগান্তর)।

এত গেলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা ডাক্তারদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনা। এবার দেখা যাক প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ও এনআইসিইউতে রোগিদেরকে লাইফ সাপোর্টের নামে কী ধরণের প্রতারণা করা হচ্ছে। গুরুতর অসুস্থ রোগিকে হাসপাতালে নিলেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কৌশলে নেয়া হয় আইসিইউতে। এরপর ঘণ্টা হিসেবে সেখান থেকে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের অর্থ।

২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তারিখে দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায়,৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ঝিগাতলায় অবস্থিত জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে সুমাইয়া সাবা নামে ছোট একটি শিশুকে ভর্তি করা হয়। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত ছিল শিশুটি। কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত শিশুটিকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি করেন। কিন্তু ওই রাতেই শিশুটি মারা যায়। পরদিন বেলা ১১টায়ও পরিবারের সদস্যদের কাছে মৃত্যুর খবরটি দেয়া হয়নি।

পরিবারের তরফ থেকে শিশুটির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে চিকিৎসক জানান, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। এরপর শিশুটির স্বজনেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার কথা বললে আইসিইউ থেকে শিশুটিকে বের করতে গড়িমসি করে কর্তৃপক্ষ।

তারা জানায়, শিশুটিকে দেয়া হবে না। এ নিয়ে স্বজনদের দৌড়ঝাঁপ আর হয়রানি র‌্যাবের চোখে পড়ে। পরে র‌্যাবের সহায়তায় আইসিইউতে ঢুকে স্বজনেরা শিশুটির নিথর দেহ দেখতে পান। এরপর হাসপাতালটিকে সাড়ে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করে র‌্যাব-২ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ বাংলাট্রিবিউনে প্রকাশিত নিউজ থেকে জানা যায়, ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ফারজানা ইয়াসমিন মিথিলা (২৮) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ ছিল মৃত্যুর পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকেরা মিথিলাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে তালবাহানা করে। প্রসূতির স্বজনদের অভিযোগ ছিল হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকেরা মিথিলাকে সিজার অপারেশনের জন্য অ্যানেসথেসিয়া করেন। যে কারণে তার খিঁচুনি ওঠে। পরে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। এরপর মিথিলা মারা যান।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকেরা যোগসাজোশ করে তাকে আইসিইউতে রেখেছে। ভর্তির দু’দিন পর হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিল ধরিয়ে দেয়।

২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল ভোরের কাগজে প্রকাশিত নিউজ অনুযায়ী, ২৪ এপ্রিল জান্নাতুল নাঈমা নামে ৮ বছর বয়সী একটি শিশুকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এনে তার পরিবার হাতিরপুলের পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে দ্রুত শিশুটিকে এনআইসিইউতে স্থানান্তর করে চিকিৎসকরা।

কিন্তু কোনো সুবিধাই কথিত ওই এনআইসিইউতে বিদ্যমান ছিল না। এছাড়াও শিশুটির চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও নার্স সেখানে উপস্থিত ছিল না। এনআইসিইউর অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে পরে শিশুটি মারা যায়।

কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটির মৃত্যু সংবাদ তার পরিবারকে না দিয়ে তাদের ভাষায় চিকিৎসা প্রদান করতে থাকে। পরে র‌্যাব-২ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতালে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে র‌্যাব হাসপাতালটিকে জরিমানা করে।

এখানে আমি অল্প কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করলাম। এমন আরও অসংখ্য ঘটনা আছে। আবার অনেক ঘটনা সংবাদপত্রে আসেও না। গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ পাওয়ার আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রোগির স্বজনদের সঙ্গে দফারফা করে ফেলে। আর একটি লেখায় সব ঘটনা উল্লেখ করাও সম্ভব নয়। অল্প কয়েকটি ঘটনা থেকেই বুঝা যাচ্ছে উন্নত চিকিৎসাসেবার নামে বর্তমানে কী চলছে।

এভাবেই প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় কেউ লাশ হয়ে ফিরে আসছেন, কেউ পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন ও কেউ অঙ্গ হারাচ্ছেন। আবার একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী তার সন্তানটিকে দশ মাস পেটে অনেক কষ্ট সহ্য করে অপেক্ষায় থাকেন সন্তানের মুখ দেখার জন্য।

কিন্তু, ডাক্তার নামের কসাইদের অবহেলায় ওই মাকে মৃত্যু সন্তানের মুখ দেখতে হয়। আবার কোনো মা সন্তানের মুখ দেখার আগে নিজেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন।

এসব ঘটনায় ভোক্তভোগীরা যথাযথ বিচার বা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন এমন সংখ্যাটা খুবই কম।

বর্তমানে অধিকাংশ হাসপাতালগুলোর মালিক ও ডাক্তাররা ঠিক পরিবহন মালিক শ্রমিকদের মতোই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যাত্রীরা যেমন গাড়ি চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকে তেমনি রোগিরাও আজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারদের কাছে জিম্মি থাকতে হয়। বাংলাদেশে উন্নত সেবাটা এখন শুধু সাইনবোর্ড সর্বস্ব। বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত। যথাযথ প্রতিকার না পেয়ে সাধারণ মানুষও এখন হাসপাতাল ও ডাক্তারদের ওপর দিন দিন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। চিকিৎসার নামে যারা মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে ও হয়রানি করছে, সরকারের উচিত এখনই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অন্যথায় মানুষের ভেতরে জমে থাকা পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা থেকে যায়।

জাহাঙ্গীর আলম আনসারী লেখক: সাংবাদিক

 
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter