করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করবেন না
jugantor
করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করবেন না

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে  

০৮ মার্চ ২০২০, ১৭:২৮:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

অতীতের কথাগুলো আর সেই পুরনো স্মৃতিগুলো মনের মাঝে এখনও শক্ত হয়ে গাঁথা রয়েছে। স্বাধীনতার মাস স্বাভাবিকভাবেই মনে পড়ছে সেই ৭০-৭১ সালের কথা। দেশে যুদ্ধ শুরু হলোআর সব কাপুরুষেরা হুড় হুড় করে দেশ ছেড়ে বিশ্বের নানা দেশে এসে হাজির হলো।

এরা ছিল সুবিধাবাদী কাপুরুষ, কারণ সুযোগের সন্ধানে নিজেদেরকে নিয়ে তখন যেমন ভাবছে এখনও তারা সেই আগের মতোই আছে। কেন এ কথা আজ? কারণ কিছু মানুষের জন্মই হয়েছে শুধু ভোগ করার জন্য।

পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলোতে এখনও চলছে গৃহযুদ্ধ। যারা সত্যিকারে দেশকে ভালোবাসে তারা দেশের দুর্দিনে দেশ ছেড়ে পালায় না শত সমস্যা থাকা স্বত্বেও। সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, ভারতের কাশ্মীর তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

বর্তমান বিশ্বের রিফিউজির ৯০ শতাংশই মুসলমান দেশের এবং এদের সবাই নির্যাতিত নিপীড়িত তার নিজের দেশে। এরা কিন্তু বেশির ভাগই ননমুসলিমদের ঘৃণা করে তারপরও ঠিক ননমুসলিম দেশেই শেষে আশ্রিত হয়।

সেই ১৯৭০-৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে যারা পালিয়েছিল তারা সবাই কিন্তু ননমুসলিম বিশ্বে আশ্রয় নিয়েছিল এবং আজ পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করছে।

আমার ভাবনায় অনেকবার ঢুকেছে কারণ কি? মুসলিম দেশের মানুষের সমস্যা মুসলিম দেশেই তো আগে আশ্রয় নেবার কথা, অথচ কেন ননমুসলিম দেশে সবাই আশ্রিত হয়? সিরিয়ায় যুদ্ধ চলছে হাজার হাজার লোক মুসলমান দেশের উপর দিয়ে ইউরোপের নানা দেশে আশ্রিত হচ্ছে।

সিরিয়া যুদ্ধে এ পর্যন্ত কত হাজার লোক মারা গেছে তা আমরা জানি না, তবে তাদের সংখ্যা শত হাজার গুণ বেশি করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর তুলনায়। তারপরও করোনা ভাইরাসে ধনী গরীব সবাই আক্রান্ত। সেক্ষেত্রে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে এ থেকে রেহাই পেতে।

অথচ কাশ্মীর বা সিরিয়ায় হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে কি করছি আমরা, কি করছে পৃথিবী? গরীবের মৃত্যু সংখ্যা সব সময় অজানা।

একজন মুসলিম যখন ননমুসলিম দেশে এসে পলিটিক্যাল আশ্রয় নেয় তখন নানা ধরনের সত্য মিথ্যার সাহায্যে স্টোরি তৈরি করে। ওইসব স্টোরি ননমুসলিমরা বিশ্বাস করে এবং এদেরকে থাকার পারমিশন দেয়।

এরা দেশের বিপদের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিতে নিজের দেশকে ছোট করে আশ্রিত হয়, যার কারণে বিশ্বে মুসলিমদের সম্পর্কে পাশ্চাত্যে একটি নেগেটিভ ধারণা তৈরি হয়েছে।

ফলে মুসলিম জাতি তার আইডেন্টিটির প্রতি সম্মান হারাতে বসেছে শুধু মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যক স্বার্থপর মুসলিমধারী মানুষের কারণে। ব্যক্তিস্বার্থে যারা তার নিজের দেশ এমনকি একটি ধর্মকে বিসর্জন দেয় তাদের প্রতি আমার কোনো রেসপেক্ট নেই, হোক না তারা দেশি বা বিদেশি।

আরেকটি বিষয় তা হলো রিসেন্টলি করোনা ভাইরাস নিয়ে অনেকে নোংরা মন্তব্য করছে। যেমন দেশের একধরনের মৌলভীরা বলছে আল্লাহর গজব পড়েছে চীনাদের উপর। এ ধরনের কথা বলা সত্যি অমানবিক। করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করবেন না।

বিপদে আল্লাহকে স্মরণ করা আর অন্যের উপর দোষ চাপানো এক কাজ নয়। চীনে করোনা ভাইরাস শুরু হয়েছে বিধায় আল্লার গজব পড়েছে বলছে, অন্যদিকে ইরানে শত শত লোক মারা যাচ্ছে সেটা কি আল্লার গজব নয়? যুগে যুগে পৃথিবীর সর্বত্রই কমবেশি মহামারী বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে আসছে।

এমনটি অতীতে হয়েছে বাংলাদেশেও। তাহলে কি বলব সেটা ছিল আমাদের পাপের ফল? কি শিক্ষা দিতে নির্দেশ দিয়েছে কোরআন আর কি শিক্ষা দিচ্ছে দেশের এ ধরনের ভণ্ডরা!

ইসলাম ধর্মকে শুধু ছোট করা নয় বরং জলাঞ্জলি দিতে উঠে পড়ে লেগেছে এরা, কিন্তু কেন? আমরাও তো দেশের বাইরে এসেছি। এদের অর্থে শিক্ষা গ্রহণ করেছি, এদের দেশে বসবাস করছি। কই কেউতো একবারও আমাকে কটু কথা বলছে না।

কেউ আমার ধর্ম নিয়ে আমাকে ছোট করছে না, তবে কেন আমি তাদের ধর্ম নিয়ে কটু কথা বলব? আমি যেমন আমার ধর্মে বিশ্বাসী তারাও তো তাদের ধর্মে বিশ্বাসী। তবে হ্যাঁ আমার আচরণে যদি তারা মুগ্ধ হয় এবং আমার ধর্মের প্রতিফলনের কারণে যদি তারা আমার ধর্মে নিজ থেকে আসে অবশ্যই তাদের স্বাগত জানাব।

আমি করোনা ভাইরাস থেকে একটি শিক্ষাই পেয়েছি তা হলো, সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন মানুষ হিসাবে। আমাদের জীবন চলার পথে যা দরকার সবই দিয়েছেন।

তা স্বত্বেও যুগে যুগে নানা ধরনের মহামানুষদের সৃষ্টি করেছেন এবং ভালো মন্দের গাইড লাইন দিয়ে নবী রসূল থেকে শুরু করে নানা ধর্মের মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। কারণ আমরা যেহেতু মানুষ হয়ে পৃথিবীতে এসেছি তাই আমাদের আচরণ যেন দানবের মত না হয়।

এত কিছুর পরও কেন যেন মনে হচ্ছে দিনে দিনে দানবের সংখ্যাই বাড়ছে। আমি বিশ্বাস করি স্রষ্টাকে তাই বিশ্বাস করি তার সৃষ্টিকে। তাই চেষ্টা করছি আগে মানুষ হতে। মানুষ হয়ে যখন জন্মেছি মৃত্যুর সময় যেন মানুষ হয়ে মরতে পারি এটাই এখন প্রার্থনা।

আরেকটি বিষয় এখানে উল্লেখ্য। আজ বাংলাদেশে ৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এই নিয়েও আতঙ্ক সৃষ্টি করার কিছু নেই। আমি সুইডেনে দেখছি এখানে অনেকেই আক্রান্ত হলেও মাস্ক পরে থাকছে না কেউই। এতে বরং অন্যরা ভয় পাবে।

জেনে রাখা ভাল, করোনাভাইরাস কিন্তু বাতাসে ছড়ায় না। এটা মাটিতে থাকে। তাহলে মুখে মাস্ক পরে থাকার কোনো মানে নেই। তবে কেউ নিজে আক্রান্ত হলে অন্য কেউ যেন আপনার মাধ্যমে আক্রান্ত না হয় সে জন্য মাস্ক পরতে পারেন।

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করবেন না

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
০৮ মার্চ ২০২০, ০৫:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অতীতের কথাগুলো আর সেই পুরনো স্মৃতিগুলো মনের মাঝে এখনও শক্ত হয়ে গাঁথা রয়েছে। স্বাধীনতার মাস স্বাভাবিকভাবেই মনে পড়ছে সেই ৭০-৭১ সালের কথা। দেশে যুদ্ধ শুরু হলো আর সব কাপুরুষেরা হুড় হুড় করে দেশ ছেড়ে বিশ্বের নানা দেশে এসে হাজির হলো। 

এরা ছিল সুবিধাবাদী কাপুরুষ, কারণ সুযোগের সন্ধানে নিজেদেরকে নিয়ে তখন যেমন ভাবছে এখনও তারা সেই আগের মতোই আছে। কেন এ কথা আজ? কারণ কিছু মানুষের জন্মই হয়েছে শুধু ভোগ করার জন্য। 

পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলোতে এখনও চলছে গৃহযুদ্ধ। যারা সত্যিকারে দেশকে ভালোবাসে তারা দেশের দুর্দিনে দেশ ছেড়ে পালায় না শত সমস্যা থাকা স্বত্বেও। সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, ভারতের কাশ্মীর তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। 

বর্তমান বিশ্বের রিফিউজির ৯০ শতাংশই মুসলমান দেশের এবং এদের সবাই নির্যাতিত নিপীড়িত তার নিজের দেশে। এরা কিন্তু বেশির ভাগই ননমুসলিমদের ঘৃণা করে তারপরও ঠিক ননমুসলিম দেশেই শেষে আশ্রিত হয়। 

সেই ১৯৭০-৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে যারা পালিয়েছিল তারা সবাই কিন্তু ননমুসলিম বিশ্বে আশ্রয় নিয়েছিল এবং আজ পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করছে। 

আমার ভাবনায় অনেকবার ঢুকেছে কারণ কি? মুসলিম দেশের মানুষের সমস্যা মুসলিম দেশেই তো আগে আশ্রয় নেবার কথা, অথচ কেন ননমুসলিম দেশে সবাই আশ্রিত হয়? সিরিয়ায় যুদ্ধ চলছে হাজার হাজার লোক মুসলমান দেশের উপর দিয়ে ইউরোপের নানা দেশে আশ্রিত হচ্ছে। 

সিরিয়া যুদ্ধে এ পর্যন্ত কত হাজার লোক মারা গেছে তা আমরা জানি না, তবে তাদের সংখ্যা শত হাজার গুণ বেশি করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর তুলনায়। তারপরও করোনা ভাইরাসে ধনী গরীব সবাই আক্রান্ত। সেক্ষেত্রে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে এ থেকে রেহাই পেতে। 

অথচ কাশ্মীর বা সিরিয়ায় হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে কি করছি আমরা, কি করছে পৃথিবী? গরীবের মৃত্যু সংখ্যা সব সময় অজানা। 

একজন মুসলিম যখন ননমুসলিম দেশে এসে পলিটিক্যাল আশ্রয় নেয় তখন নানা ধরনের সত্য মিথ্যার সাহায্যে স্টোরি তৈরি করে। ওইসব স্টোরি ননমুসলিমরা বিশ্বাস করে এবং এদেরকে থাকার পারমিশন দেয়। 

এরা দেশের বিপদের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিতে নিজের দেশকে ছোট করে আশ্রিত হয়, যার কারণে বিশ্বে মুসলিমদের সম্পর্কে পাশ্চাত্যে একটি নেগেটিভ ধারণা তৈরি হয়েছে। 

ফলে মুসলিম জাতি তার আইডেন্টিটির প্রতি সম্মান হারাতে বসেছে শুধু মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যক স্বার্থপর মুসলিমধারী মানুষের কারণে। ব্যক্তিস্বার্থে যারা তার নিজের দেশ এমনকি একটি ধর্মকে বিসর্জন দেয় তাদের প্রতি আমার কোনো রেসপেক্ট নেই, হোক না তারা দেশি বা বিদেশি।

আরেকটি বিষয় তা হলো রিসেন্টলি করোনা ভাইরাস নিয়ে অনেকে নোংরা মন্তব্য করছে। যেমন দেশের একধরনের মৌলভীরা বলছে আল্লাহর গজব পড়েছে চীনাদের উপর। এ ধরনের কথা বলা সত্যি অমানবিক। করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করবেন না। 

বিপদে আল্লাহকে স্মরণ করা আর অন্যের উপর দোষ চাপানো এক কাজ নয়। চীনে করোনা ভাইরাস শুরু হয়েছে বিধায় আল্লার গজব পড়েছে বলছে, অন্যদিকে ইরানে শত শত লোক মারা যাচ্ছে সেটা কি আল্লার গজব নয়? যুগে যুগে পৃথিবীর সর্বত্রই কমবেশি মহামারী বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে আসছে। 

এমনটি অতীতে হয়েছে বাংলাদেশেও। তাহলে কি বলব সেটা ছিল আমাদের পাপের ফল? কি শিক্ষা দিতে নির্দেশ দিয়েছে কোরআন আর কি শিক্ষা দিচ্ছে দেশের এ ধরনের ভণ্ডরা! 

ইসলাম ধর্মকে শুধু ছোট করা নয় বরং জলাঞ্জলি দিতে উঠে পড়ে লেগেছে এরা, কিন্তু কেন? আমরাও তো দেশের বাইরে এসেছি। এদের অর্থে শিক্ষা গ্রহণ করেছি, এদের দেশে বসবাস করছি। কই কেউতো একবারও আমাকে কটু কথা বলছে না। 

কেউ আমার ধর্ম নিয়ে আমাকে ছোট করছে না, তবে কেন আমি তাদের ধর্ম নিয়ে কটু কথা বলব? আমি যেমন আমার ধর্মে বিশ্বাসী তারাও তো তাদের ধর্মে বিশ্বাসী। তবে হ্যাঁ আমার আচরণে যদি তারা মুগ্ধ হয় এবং আমার ধর্মের প্রতিফলনের কারণে যদি তারা আমার ধর্মে নিজ থেকে আসে অবশ্যই তাদের স্বাগত জানাব। 

আমি করোনা ভাইরাস থেকে একটি শিক্ষাই পেয়েছি তা হলো, সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন মানুষ হিসাবে। আমাদের জীবন চলার পথে যা দরকার সবই দিয়েছেন। 

তা স্বত্বেও যুগে যুগে নানা ধরনের মহামানুষদের সৃষ্টি করেছেন এবং ভালো মন্দের গাইড লাইন দিয়ে নবী রসূল থেকে শুরু করে নানা ধর্মের মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। কারণ আমরা যেহেতু মানুষ হয়ে পৃথিবীতে এসেছি তাই আমাদের আচরণ যেন দানবের মত না হয়। 

এত কিছুর পরও কেন যেন মনে হচ্ছে দিনে দিনে দানবের সংখ্যাই বাড়ছে। আমি বিশ্বাস করি স্রষ্টাকে তাই বিশ্বাস করি তার সৃষ্টিকে। তাই চেষ্টা করছি আগে মানুষ হতে। মানুষ হয়ে যখন জন্মেছি মৃত্যুর সময় যেন মানুষ হয়ে মরতে পারি এটাই এখন প্রার্থনা।

আরেকটি বিষয় এখানে উল্লেখ্য। আজ বাংলাদেশে ৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এই নিয়েও আতঙ্ক সৃষ্টি করার কিছু নেই। আমি সুইডেনে দেখছি এখানে অনেকেই আক্রান্ত হলেও মাস্ক পরে থাকছে না কেউই। এতে বরং অন্যরা ভয় পাবে। 

জেনে রাখা ভাল, করোনাভাইরাস কিন্তু বাতাসে ছড়ায় না। এটা মাটিতে থাকে। তাহলে মুখে মাস্ক পরে থাকার কোনো মানে নেই। তবে কেউ নিজে আক্রান্ত হলে অন্য কেউ যেন আপনার মাধ্যমে আক্রান্ত না হয় সে জন্য মাস্ক পরতে পারেন। 

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

০৭ মার্চ, ২০২১
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১