করোনার বিপদ ভয়, করোনার আপদ আগুন

  কাকন রেজা ১১ মার্চ ২০২০, ২১:০৮:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

করোনা বিষয়ে লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এ বিষয়ে এত বিশেষজ্ঞ বয়ান শুনছি তাতে লিখতে গিয়ে নিজেই বিভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছি। একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কথা শুনছিলাম সামাজিকমাধ্যমে। নামটি এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তিনি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্মুখে করোনাভাইরাস নিয়ে বলছিলেন।

তার সে বক্তব্যের সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি ছিল, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সত্তর শতাংশ মানুষ মারা যেতে পারে। করোনা শ্বাসযন্ত্রসহ ঝিল্লিতন্ত্রকে আক্রান্ত করে ফলে তা ফুলে যায়। মানুষ শ্বাস নিতে পারে না, অক্সিজেনের অভাবে কোষগুলি মারা যায় এবং মানুষের মৃত্যু ঘটে। এটাই ছিল তার বক্তব্যের সারমর্ম। সম্ভবত করোনা নিয়ে এ আলোচনার আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন বামনেত্রী ডা. মনিষা। সামাজিকমাধ্যমে পাওয়া সেই পোস্টটিতে তাই দেখেছি।

যাক গে, কার আয়োজনে সেটা কথা নয়, কথা উঠে কি বলা হলো তা নিয়ে। সেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী করোনা আক্রান্ত হলে মোটামুটি মৃত্যু নিশ্চিত বলা যায়। কিন্তু মুশকিল হলো সারাবিশ্বের প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত তার কথার সঙ্গে যায় না। ইবোলা, মার্স, সার্স এসবের চেয়ে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুর হার কম। চিনে আক্রান্ত প্রায় লাখ লোকের মধ্যে মারা গেছে তিন হাজারের ওপর। সংখ্যার হেরফের কিছুটা হতে পারে। কিন্তু আক্রান্ত লোকের মধ্যে অর্ধেক বা এক তৃতীয়াংশ মারা গেছে এমন খবর গুজবেও নেই। তাহলে করোনা নিয়ে এত ভীতি ছড়ানো কেনো!

করোনায় সার্বিক মৃত্যুর হার দেড় শতাংশেরও কম। করোনা নিয়ে আশার অনেকগুলো কথা রয়েছে। তরুণরা করোনাকে সহজেই জয় করতে পারে। তরুণদের মৃত্যুর কোনো ঘটনা আপাতত নেই। শিশুদের বেলাতেও করোনার ভয়াবহতার তেমন নজির নেই। করোনা হামলে পড়েছে আমাদের মতন বুড়োদের ওপর। সবচেয়ে বেশি ডেঞ্জার জোনে রয়েছেন, যারা বয়সের সঙ্গে একাধিক রোগ নিয়ে বেঁচে আছেন তারা। সুতরাং করোনা নিয়ে এত বেশি উৎকণ্ঠার কারণ নেই। এরচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থায় ছিল গতবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতি। কোন বয়সীদেরই ছাড় ছিলো না ডেঙ্গুর হাতে থেকে।

করোনা নিয়ে ভয় ছড়ানোর পেছনে আন্তর্জাতিক একটা রাজনীতি কাজ করছে এমনটা অনেকেই বলেন। আমরা না হয় সে কথা নাই বললাম। তবে করোনার কিছু রাজনৈতিক উপকারের দিকও রয়েছে, অন্তত আমাদের মতন দেশগুলিতে। করোনার কারণে আড়ালে পড়ে গেছে অনেক লুটপাট কাহিনী। কলা গাছের দাম লাখ টাকা! নারিকেল গাছের দাম অর্ধকোটি টাকার ওপরে! টিনের ছাপড়া ঘর কোটি টাকা ছাড়িয়ে! এক কিলোমিটার সড়কে খরচ দেড়’শ কোটির ওপর! এসব ঢাকা পড়ে গেছে করোনা’র আগ্রাসনে। মিরপুরে বস্তিতে আগুন লাগলো। কবি ও সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ সামাজিকমাধ্যমে বস্তির আগুনের ছবি দিয়েছেন।

সে ছবিতে পোড়া বস্তির সামনে একটি সাইনবোর্ড, যাতে লেখা রয়েছে ‘ফ্লাট প্রকল্পের নির্ধারিত স্থান’। ওয়াসিফ ছবিটি শেয়ার করে ক্যাপশন লিখেছেন, ‘ফ্লাটপ্রকল্প বান্ধব আগুন’। আগুনটা যদি ফ্লাটপ্রকল্প বান্ধব’ই হয় তবে নিশ্চিত বলা যায়, করোনাভাইরাস বিষয়ক ডামাডোলের আড়ালে এই আগুনের উৎপত্তি আর সঙ্গে নিষ্পত্তিও হবে দ্রুত। কারণ মিডিয়া করোনার ধাক্কায় এটা ভুলে যাবে। যেমন ভুলতে বসেছে, ক্যাসিনো থেকে পাপিয়াকাণ্ড। বালিশ থেকে থার্মোমিটারকাণ্ড।

পুকুর খনন, মাছ চাষ, ক্যামেরা দেখতে বিদেশ যাবার মচ্ছব। সব চলে গেছে করোনাকাণ্ডের আড়ালে। এরমধ্যে জিকে শামিমের কপাল শুধু পুড়েছে। বেচারা আর দুদিন পরে জামিনের ব্যবস্থা করলেতো করোনা তার জামিনের বিষয়টিকেও হজম করে ফেলত। মানে আড়ালে চলে যেতো। যেমন হজম করে ফেলেছে আরও অনেক কিছু।
সুতরাং করোনা ভীতিটা একদিক থেকে মন্দ নয়। এটা ছড়ানোতে ফায়দা রয়েছে।

একদিক থেকে মানুষ নিজ থেকেই সাবধান থাকবে। নিজ থেকেই চেষ্টা করবে যাতে আক্রান্ত না হয়। এতে স্বাস্থ্যবিভাগের ওপর চাপ কমবে। অন্যদিকে করোনা নিয়ে ব্যস্ত-সন্ত্রস্ত থাকায় লুটপাট এবং ‘লজ্জা’ দুটোই আড়াল করা যাবে। বাঁচাও যাবে আসন্ন কিছু ফ্যাসাদ থেকে। সঙ্গে ‘ফ্লাটপ্রকল্প বান্ধব আগুনে’র মতন অনেক কিছু নীরবে-নিঃশব্দে পোড়ানোও যাবে।

ঘটনাপ্রবাহ : কাকন রেজার কলাম

আরও
আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত