অন্দরমহলের আউলিয়াগণ

  শায়লা সিমি ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

অন্দরমহলের আউলিয়াগণ

আত্ম পরিচয়ের সূত্রে ম্যাটার এনার্জি ডিমেনশনের অজানা জগৎ অস্তিত্ববান হয় এবং তার মহৎ আলোতেই বিলীন হয়। মহাপর্যাযিক্রমিক যাত্রার মধ্য দিয়ে নিজেকে চেনা এবং চিরতরে আত্মসমর্পণ করে আল্লাহর আলোয় বিলীন হয়ে যাওয়া আত্মা আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মানিত হন।

রহস্য ও ক্ষমতার দাবিদার একমাত্র আল্লাহ। যখন আমরা তার আদেশ ব্যতিত রহস্যের পেছনে পেছনে দৌড়াতে থাকি, অন্য অন্ধকার সত্ত্বাগুলি প্রবেশ করতে শুরু করে আমাদের কার্যাবলীতে ও স্বত্তায়। পুরুষ ও নারী একে অন্যের উপর আধিপত্য স্থাপনের উদ্দেশ্যে নানা চাপ সৃষ্টি ও এ দু' জাতির একে ওপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকা তার অন্যতম নিদর্শন। ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ হযরত শাহ্জালাম (রা.) ও ৫ ডিসেন্বর ২০১৭ হযরত শাহ পরান (রা.)'র রওজা মোবারাক গিয়ে কিঞ্চিৎ হতাশ হয়েছি। অন্তত দূর থেকে হুজুরের কক্ষ দেখতে পাবার ব্যাকুলতাটুকুও অপূর্ণ রয়ে গেলো। প্রেমের মাধ্যমে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নারী-পুরুষের ভেদ বিভেদ অদৃশ্য হয়ে যায়; প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে যায়; সুফীগণ ও তাদের জীবনী সে সবের সাক্ষী।

ইতিহাস পাঠে জানা যায়, সত্যের দিশারী আউলিয়াগণ যুগে যুগে আল্লাহর ইচ্ছাই পৃথিবীতে এসেছেন এবং মানবজাতিকে আলোর পথের দিশা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ, নারী উভয় রয়েছেন। উল্লেখ্য একবার কয়েকজন মহিলা এলেন ইমাম আবু হানিফা (রা.)-এর কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন নিয়ে। প্রশ্নটি হলো একজন পুরুষের বহু বিবাহের অনুমোদন আছে। কিন্তু নারী কখনোই একের অধিক স্বামী গ্রহণ করতে পারে না; এর কারণ তারা জানতে চাইলেন হুজুরের কাছে।

ইমাম সাহেব তাদেরকে কোনো উত্তর না দিয়ে অন্দরমহলে চলে গেলেন; আর তার বিদুষী বুদ্ধিমতী কন্যার কাছে প্রশ্নটি উত্তাপন করলেন। কন্যা বললেন, আপনি যদি আপনার নামের সঙ্গে আমার নাম যুক্ত করেন তাহলে আমি এ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারি। ইমাম আবু হানিফা (রা.) তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলেন এবং মহিলাদ্বয়কে অন্তঃপুরে পাঠালেন। মহিলারা তার কাছে এলে তিনি মহিলাদের চারটি পাত্রে দুধ আনতে বললেন এবং একটি বড় পাত্রে ঢেলে মিশিয়ে দিতে বললেন। তারা তা করলো। এরপর মহিলাদেরকে ইমাম কন্যা আবার উক্ত পাত্র থেকে যার যার পক্ষ থেকে ঢেলে দেওয়া সঠিক পরিমাণ দুধ উঠিয়ে নিতে বললো। মহিলারা বললেন তা কি করে সম্ভব? তিনি বললেন তা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে আপনারাই বলুন এক মহিলার একাধিক স্বামী থাকলে আর সন্তান ভুমিষ্ট হলে সন্তান কোন স্বামীর তা চেনার উপায় কি? এ ঘটনার পর মহিলারা চলে গেলেন এবং ইমাম সাহেব সন্তুষ্ট হয়ে নিজের নাম পরিবর্তন করে ইমাম আবু হানিফ রাখলেন, অর্থাৎ হানিফার পিতা।

আরো একজন উল্লেখযোগ্য সুফী হলেন মাস্তুরা খানম (রা.)। সুফি মহিলাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রথা অনুসারে সংস্কৃতিগত প্রতিনিধিত্ব করে চলেছে 'কিষ-বিবি কমপ্লেক্স', যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মাস্তুরা খানম (রা.)'র কেরামতিতে। বুখারায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে এখনো তার রূহ নানাভাবে মহিলাদের সাহায্য করে চলেছে বলে জানা যায়।

যে তাপসীর বিষয় উল্লেখ না করলে এই রচনা বৃথা তিনি হলেন হযরত রাবেয়া বসরী (রা.)। এই মহিমান্বিত তাপসীর আলোকোজ্জ্বল জীবনের দুই আশ্চর্য ঘটনা তুলে ধরলেই ব্যাপারটা বোঝা সহজ হয়ে যাবে। এক দুর্বল গাধার পিঠে মালপত্র তুলে তিনি চললেন চিরবঞ্চিত মক্কা মোয়াজ্জমায়। রাস্তায় গাধাটি মারা গেল। সঙ্গের লোকেরা তার মালপত্র বয়ে নিয়ে যেতে চাইলেন, কিন্তু তিনি রাজি হলেন না। অগ্যতা তাকে ছেড়ে সবাই চলে গেল; আর তিনি হাত উঠালেন প্রভুর দরবারে- "প্রভু আপনি আপনার দাসীকে পবিত্র কাবার দিকে ডাক দিলেন অথচ গাধাটিকে মেরে ফেলে তাকে এমন বিপাকে ফেললেন?" আল্লাহ তার অভিমানী হৃদয়ের প্রার্থনায় বিচলিত হয়ে গাধার প্রাণ ফিরিয়ে দিলেন।

তিনি দ্বিতীয়বার যখন হজ্জযাত্রায় যান, তখন কাবার অদূরে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হন। হঠাৎ তিনি দেখলেন, খোদ কাবা তাকে স্বাগত জানাবার জন্য এগিয়ে আসছে! এ বিষয়ে অন্য একটি বিবৃতিতে পাওয়া যায় যে হযরত ইব্রাহিম আদহাম (রা.) পায়ে হাঁটার বদলে হামাগুড়ি দিয়ে কাবা শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এক কদম যান ও দুই রাকাত নফল নামাজ পড়েন, এভাবে তিনি আল্লাহর ভালোবাসায় মত্ত হয়ে এগোতে থাকেন। কিন্তু ওখানে পৌঁছে দেখলেন কাবা শরীফ তার জায়গায় নাই। একজন ফেরেস্তা তার সংশয় দূর করে দিয়ে বললেন, "এক বৃদ্ধাকে স্বাগত জানাবার জন্য কাবা শরীফ সাময়িকভাবে স্থান ত্যাগ করেছে"। আল্লাহর প্রিয়জনদের সঙ্গে সংঘটিত এ সকল ঘটনাবলীর অর্থ আল্লাহই ভাল জানেন।

জড়িয়ে ধরা আঁধার মাঝেও

আল্লাহর লোহিত প্রেম দেখি, দেখি আলো।

এবাদতের প্রেম ছড়ায় মিনারগুলো।

মায়াবীনি রাতের গল্পে মোহিত থাকে অস্বিকার্য কিছু সত্তা!

হারিয়ে যাওয়া সময় মায়া নিয়ে আসে।

আল্লাহর আরশ ডাকে,

ফাঁকে ফাঁকে জীবনের ডাক!

গোলাপের সৌন্দর্য আর ভালোবাসার গান টানে;

মায়া মেখে আমি বিলীন হতে চাই;

আমি কেবলি আলোয় মিশে যেতে চাই।

শায়লা সিমি ভাস্কর, শিল্পী ও মরমী কবি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×