বিপর্যয়ের মুখে গণস্বাস্থ্যের কিট, ক্ষতিটা কার?

  কাকন রেজা ২৭ এপ্রিল ২০২০, ০৫:১৫:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

যখন লিখছি তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বয়ান, ‘করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠার পর আবার আক্রান্ত হবে না এমন কোন প্রমাণ নেই।’

আচ্ছা বলুন তো, এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খারাপ খবর ছাড়া, কোভিড নাইনটিন নিয়ে ভালো খবর কী দিয়েছে? দিয়েছে কিছু? আমার চোখে অন্তত পড়েনি কোনো আশা জাগানিয়া খবর।

সারা গিলবার্টের ভ্যাক্সিন চ্যাডক্স ১ নিয়ে যখন সারা বিশ্বে একটি আশা সৃষ্টি হয়েছে, সেখানেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গুরুগম্ভীর মানে মাস্টার মশাই টাইপ ভূমিকা।

এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আতঙ্ক বাড়ানো ছাড়া আশার কোনো কথা শোনাতে পারেনি। কেন জানি ট্র্রাম্পের কথা অন্তত এক্ষেত্রে মিথ্যা মনে হচ্ছে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোথাও না কোথাও কিছু একটা রয়েছে। সারা বিশ্ব যেখানে চেষ্টা করছে ভ্যাক্সিন আর ঔষধ তৈরিতে, তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমন্বয়ের বিষয়টি গোলমেলে।

জানি, এ কথায় অনেকে আপত্তি করবেন। তাদের একটু বলি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আজ অবধি কর্মকাণ্ডে ভালো করে চোখ বুলাতে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, আতঙ্ক মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। অথচ সেই আতঙ্কই ছড়ানো হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফ থেকে। তারা বিভিন্ন গবেষণার কোনটাই পাত্তা দিচ্ছে না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে এক ধরণের বিভ্রান্তির।

এ গেলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কথা। আমরা যেহেতু আদার বেপারি তাই জাহাজের খবর বাদ, আসি নিজেদের বেলায়। আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হ-য-ব-র-ল অবস্থা এখন আর গোপন নেই।

তাদের দিক থেকে আশাব্যঞ্জক কোন কিছু এখন পর্যন্ত নেই। কোভিড নাইনটিন চিকিৎসায় ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের রোগীদের একটি ভিডিও ক্লিপই প্রমাণ করে আমাদের বর্তমান অবস্থা।

বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসা যদি এই হয়, তবে অন্যগুলোর কী অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়।

শ্বাসকষ্টে থাকা একজন রোগীকে অক্সিজেন দেয়ার মত কেউ ছিল না সেই হাসপাতালের পক্ষ থেকে এবং রোগীটি শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন। না, এতে চিকিৎসকদের দোষ আমি দিচ্ছি না।

যে দেশে মানহীন মাস্ক আর পিপিই চিকিৎসকদের আক্রান্ত করছে, সেখানে চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আর নার্সদের দোষ দিয়ে লাভ নেই।

তাদেরও পরিবার-পরিজন রয়েছেন, সঙ্গত কারণে জীবনের ভয়ও রয়েছে। সারাবিশ্বে আমাদের দেশের চিকিৎসাকর্মীদের আক্রান্ত হবার হার এমন কথাই বলে। আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মী কোভিডে আক্রান্ত। অনেক হাসপাতাল লকডাউন।

এমনিতেই আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। তারমধ্যে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা যদি এভাবে আক্রান্ত হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালগুলো লকডাউন হয় তাহলে নিশ্চিত অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যতের চিত্র দুটি মিলিয়ে যে কথা বলছে তা হলো, কদিন পরেই চিকিৎসার সঙ্গে সৃষ্টি হবে মানবিক বিপর্যয়। আমাদের মত দেশে যতই বাগাড়ম্বর করা হোক না কেন, মূল কথা হলো আমরা দরিদ্র। মহামারি আমাদের দরিদ্রতা নির্মমতার সঙ্গে দেখিয়ে দিয়েছে। খাদ্যের জন্য মানুষের ক্রমাগত আহাজারি তারই প্রমাণ।

ব্র্যাক বলছে, দেশে দুই কোটি মানুষের ঘরে খাবার নেই। তার কারণ হলো মূলত লকডাউন। সুতরাং এই লকডাউন আমাদের তুলে নিতে হবে এবং তা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই।

কিন্তু সে লকডাউন তোলার প্রক্রিয়াটি কী হবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। লকডাউন বলতে গেলে করোনাভাইরাসের চিকিৎসার একটা অংশ।

সংক্রমণ রোধ করা যার উদ্দেশ্যে। অথচ লকডাউন দীর্ঘায়িত হলে ক্ষুধার মত ভয়াবহ আরেকটি ‘রোগ’ যার যন্ত্রণা সম্ভবত কোভিড কেন সব রোগের চেয়েও বেশি তা বৃদ্ধি পাবে। সে অর্থে লকডাউন তুলে নেয়া ছাড়া আমাদের কোন উপায়ও নেই। এই লকডাউন তোলার ক্ষেত্রে মহামারির গতি-প্রকৃতি বোঝাটা সবচেয়ে জরুরি।

আর বোঝার জন্য প্রয়োজন দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে টেস্টের আওতায় আনা। টেস্টের কোন বিকল্প নেই।

লেখক: কাকন রেজা, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

ঘটনাপ্রবাহ : কাকন রেজার কলাম

আরও
আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত