জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপহার যেন এরশাদের স্পর্শ

  খন্দকার দেলোয়ার জালালী ০২ মে ২০২০, ০৭:২৫:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

কোভিড-১৯ বা মহামারি করোনাভাইরাসের আক্রমণে সারা বিশ্ব যখন অচল। উন্নত বিশ্বের উৎপাদনের চাকা স্থবির। বিশ্বব্যাপী মহামন্দার স্পর্শ যখন অর্থনীতিতে, তখন বিশ্বের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদরা চিন্তিত আগামীর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়।

বিশ্বব্যাপী মহামন্দার প্রকাশ্য ছোবল লেগেছে দারিদ্র পীড়িত বাংলাদেশেও। মাস ঘুরতেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। কর্মহীন মানুষেরা শুধু খাবারের আশায় লকডাউন ভেঙে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন ত্রাণের জন্য। খাবারের জন্য নিষ্পাপ শিশুদের কোলে নিয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে রোদে পুড়ে চাতকের মত চেয়ে থাকছেন হতদরিদ্র নারীরা।

দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে পরিকল্পনা নিয়েছে রাষ্ট্র। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন বিশাল অর্থনৈতিক প্রণোদনা। স্বল্প পরিসরে চালু হয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প। কৃষকদের ফসল কেটে সহায়তা করছেন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্ঘুম প্রচেষ্টা সকলের।

করোনা প্রতিরোধ যুদ্ধে যারা প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা কাজ করছেন সেই সকল চিকিৎসকদের পাশে আছে রাষ্ট্র। দেশের বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান চিকিৎসকদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সকল শ্রেণী পেশার মানুষ বিনম্র শ্রদ্ধায় ঐক্যবদ্ধ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য। ইতোমধ্যেই অনেক স্বাস্থ্যকর্মী চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে। প্রাণও দিয়েছেন মঈন উদ্দিন নামের সিলেটের এক চিকিৎসক।

করোনা মোকাবেলায় চিকিৎসকদের পাশাপাশি, রাজপথে আছেন আমাদের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। দিনরাত চেষ্টা করছেন সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব রক্ষায়। মাঠে কাজ করতে গিয়ে কয়েকশো পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন মহামারি করোনাভাইরাসে। এ পর্যন্ত চার পুলিশ সদস্য জীবন দিয়েছেন এমন মহামারিতে দায়িত্ব পালন করেত গিয়ে। জীবনের কোন মূল্য হয় না কিন্তু পুলিশ বাহিনীর মত একটি বিশাল বাহিনী পাশে আছে হতভাগ্য ওই সকল পরিবারের পাশে।

ঠিক এমন বাস্তবতায়, দৃষ্টির আড়ালেই রয়ে গেছেন বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীরা। করোনাকালে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে অনেকের। প্রতিদিনই কর্মহীন হচ্ছেন অনেক সংবাদকর্মী। তারা অনেকটা ভাবনা আড়ালেই রয়ে গেছেন। গণমাধ্যম কর্মীরা সবার কষ্টের খবর তুলে আনেন আমাদের সামনে। কিন্তু তাদের কষ্টগুলো থেকে যায় অন্তরালে। বাংলাদেশের অনেক সংবাদকর্মী না পারে বলতে, না পারে সইতে অবস্থায়।

রাজধানীর গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটু হলেও ভেবেছেন একজন। সাধ্যের সীমাবদ্ধতার মাঝেও এতটুকু অনুরাগের ছোঁয়া দিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য। গেল ২৯ এপ্রিল ও ১ মে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সার্জিক্যাল মাস্ক উপহার দিয়েছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি।

গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের নির্দেশে জাতীয় পার্টির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব অ্যাডভোকেট আবু তৈয়ব, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী, পার্টি চেয়ারম্যানের ক্যামেরাপার্সন এম আজাদ, নির্বাহী সদস্য সৈয়দ জাফর আহমেদ, অফিস পিয়ন মোঃ ফেরদৌস ঝুঁকি নিয়ে গণমাধ্যম অফিসগুলোতে পৌঁছে দিয়েছেন সুরক্ষা সামগ্রী। উপহার পৌঁছে দিতে নিজ গাড়িটি দিয়েছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। ছোট্ট এই উদ্যোগকে কৃতজ্ঞচিত্তে অভিবাদন জানিয়েছেন তারা। সংবাদকর্মীরা মনে করছেন, গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের দৃষ্টান্তে অনুপ্রাণিত হবেন দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

এ প্রসঙ্গে এসএটিভির হেড অব নিউজ ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহমুদ আল ফয়সাল বলেন, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এই উপহার অমূল্য। প্রতিটি দুর্যোগে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমাদের পাশে ছিলেন। তিনি বলেন, গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের উপহার পেয়ে আমরা যেন পল্লীবন্ধুর স্পর্শ পেয়েছি।

দৈনিক যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি শেখ মামুনুর রশীদ বলেন, ইতোমধ্যেই প্রায় ৪০ সংবাদকর্মী করোনা আক্রান্ত। হুমায়ুন কবীর খোকন নামে এক সিনিয়র সাংবাদিক করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের ভীষণভাবে মন খারাপ। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপহার পেয়ে মনে হলো আমাদের কথা কেউ কেউ ভাবেন। গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের কাজে দৃষ্টান্তে অনুপ্রাণিত হোক সবাই।

এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি হুমায়ুন চিশতী বলেন, আমরা যখন কোন রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের সংবাদ পরিবেশন করি। আমরা তখন প্রাণে ধারণ করেই কাজ করি। তিনি বলেন, আমরা তাদের পাশে থাকি সব সময়। এখন মনে হচ্ছে, তারাও আমাদের পাশে আছেন।

দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার রাজীব আহাম্মদ বলেন, দুর্যোগের সময় রাজনৈতিক নেতারা মানব সেবায় যা করেন তার পেছনে থাকে ভোটের রাজনীতি। কিন্তু গোলাম মোহাম্মদ কাদের আবারো প্রমাণ করলেন তিনি ব্যতিক্রম। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ভোটের রাজনীতির বাইরে এসে আমাদের পাশে আছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

সময় টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মৌসুমী ইসলাম বলেন, লকডাউনে সবাই ঘরে থাকছেন। কিন্তু সংবাদকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। সবাই যদি গণমাধ্যমকর্মীদের পাশে থাকেন, তা হলে আমাদের কাজটা আরও সহজ হয়ে যায়। আমরা আরও উৎসাহ পাই। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপহার উৎসাহিত করবে সবাইকে। আবারো প্রমাণ হলো উপহার সামান্য হলেও অনন্য। উপহার সব সময় অমূল্য এবং অতুলনীয়। খবরের ফেরিওয়ালাদের পাশে থাকবেন সবাই। সংবাদকর্মীদের প্রত্যাশা এমনই।

লেখক: খন্দকার দেলোয়ার জালালী, সাংবাদিক ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত