মুক্তির সংগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল
jugantor
মুক্তির সংগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল

  শেখ মনোয়ার হোসেন  

১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:০৪:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

সত্য এবং সুন্দরের গতি অপ্রতিরোধ্য। কেউ তাকে থামিয়ে রাখতে পারে না।

হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজন্ম লালিত স্বপ্ন ছিল এ দেশের গরিব-দুঃখী মেহনতি মানুষ একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং সম্মানজনক জীবনযাপন করবে।

স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে যখন স্বনির্ভরতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এলেন, ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের অন্ধকারে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রুদের হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন। ফলে হঠাৎ করেই থেমে যায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন। পরবর্তী ২৫ বছর বঙ্গবন্ধুর খুনিচক্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে এদেশের মানুষের কাঁধে বৈদেশিক ঋণের বোঝা চাপিয়ে শুধু নিজেরাই ফুলেফেঁপে উঠেনি- বদলে দিয়েছে এদেশের মুক্তি সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস।

১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়। শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম।

যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুকূল না হওয়ার কারণে উত্তরবঙ্গ চিরকালই ছিল উন্নয়নের মূলধারা থেকে এক বিচ্ছিন্ন জনপদ। অথচ এখানকার তাঁত-বস্ত্র, খাদ্যশস্য, দুগ্ধজাত খাবার এবং ফলফলাদি দিয়ে সারা দেশের মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটানো হতো। প্রাথমিকভাবে এ সংকটের বিমোচন শুরু হয় যমুনা নদীর উপর ‘বঙ্গবন্ধু সেতু’ তৈরির মধ্য দিয়ে।

৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম অতন্দ্র প্রহরীর মতো অন্তরলীন হয়ে আছে যে দেশের অন্তর্গত সত্তায়- সেই স্বাধীন দেশের প্রতিটি মানুষ স্বাধীনতার সুফল সমানভাবে ভোগ করবে- জাতির পিতার সেই প্রত্যয়কে সমুন্নত রেখে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তাঁতবস্ত্র শিল্পের রাজধানী হিসেবে খ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজগঞ্জে ‘সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন’ প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য হল রাজধানী ও দেশের বড় বড় শহরকেন্দ্রিক কর্মস্থান তথা জীবন ও জীবিকার জন্য কষ্টসাধ্য উপায় থেকে মানুষকে মুক্তি দিয়ে কর্মসংস্থানকে তাদের নাগালের মধ্য নিয়ে আসা। যেন মানুষ তাদের চিরকালীন নিজস্ব গ্রামীণ নিসর্গের আবহে বসবাস করেই জীবন ও জীবিকার সংস্থান করতে পারে। যেন তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এখান থেকেই আধুনিক জীবনযাপনের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে পারে। যেন রোগ-শোকে তাদের আর দৌড়াতে না হয় দূর-দূরান্তে।

একটি সুখী সমৃদ্ধ আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিশন ও ভিশনকে সামনে রেখে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার যে বিশাল কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, আমরা তারই আলোকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম তীরে ‘সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন’ গঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এই মহতি উদ্যোগের সাথে যুক্ত হয় এ দেশের স্বনামধন্য ১১টি প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠান। নগদ অর্থে ১০৪১.৪৩ একর ভূমি ক্রয় করে এখানে বেসরকারি পর্যায়ে দেশের সর্ববৃহৎ ইকোনমিক জোন নির্মাণের যাবতীয় অবকাঠামো তৈরির কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু করা হয়েছে। পরম সৃষ্টিকর্তার প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেই বলছি- খুব অল্প সময়ের মধ্যই দৃশ্যমান হবে, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনকে কেন্দ্র করে সিঙ্গাপুর, দুবাই, সাংহাই, কিংবা হংকংয়ের মতো বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্র ও একটি সুপরিকল্পিত আধুনিক শিল্পনগরী।

মূলত ‘মানুষের কাছে শিল্প যাবে, ঘরে থেকেই কর্ম হবে’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গড়ে উঠছে বেসরকারি মালিকানাধীন এ দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড’। শ্রমঘন শিল্প গড়ে তুলে এখানে প্রায় ৫ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হবে। হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে গড়ে উঠবে বিভিন্ন খাতের প্রায় ৪০০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। এ অঞ্চলের উন্নয়ন হলে উত্তরবঙ্গের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বড় পরিবর্তন আসবে। সারা দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের বেকারত্ব কমে যাবে, প্রকৃত অর্থেই দেশ থেকে নির্মূল হবে দারিদ্র্য।

একটি আধুনিক সবুজ শিল্প নগরীতে সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানবিক এবং পরিবেশগত সুবিধা বজায় থাকে। সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্ল্যাটিনাম গ্রিন কন্সেপ্টে গড়ে উঠবে। যেখানে গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না করে আধুনিক শিল্প নগরীর সুযোগ-সুবিধাসহ দক্ষ জনগোষ্ঠীর বাসস্থান ও কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে। শহরমুখী শ্রমজীবী মানুষগুলো তখন শহরের মানের শিক্ষালয়, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনের মধ্যে উপভোগ করতে পারলে তারা কর্মের সন্ধানে গ্রাম বা পরিবারচ্যুত হবে না।

দেশে বেশিরভাগ শিল্পই গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিতভাবে। এর ফলে জমি, অর্থ এবং সময় অপচয় হচ্ছে। কাজেই পরিকল্পিত শিল্পায়নের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল আশীর্বাদ নিঃসন্দেহে। এতে জমির অপচয় রোধ হবে। অন্যদিকে ব্যাপকহারে কৃষিজমি বা বনভূমি ধ্বংস না করে বরং অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পরিকল্পিত সবুজায়ন হবে। এককভাবে শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করতে গেলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামোর খরচ এককভাবে বহন করতে হয়। ফলে খরচ অনেক বেশি পড়েও অনেক অপচয় হয়। কিন্তু অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কারণে প্রয়োজনীয় সব সেবা মিলবে এক ছাতার নিচে। এককভাবে সবাই সব ধরনের সুবিধা নিতে পারবেন। পণ্য ওই অঞ্চল থেকেই দেশে-বিদেশে বাজারজাত করা যাবে। বন্দরগুলোকে ও অযথা জটের মুখোমুখি হতে হবে না। পরিকল্পিত শিল্প নগরীতে উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে শিল্পায়নের বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে পরিবেশ। বিনিয়োগকারীরা সব সেবা ও সুযোগ-সুবিধা এই অঞ্চলের মধ্যেই পাবেন। আবার শিল্প-কারখানার বর্জ্যে নদী ও বায়ু দূষণের ঘটনা ঘটবে না। অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে অত্যাধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রাখা হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রধান লক্ষ্যে হচ্ছে মানুষের দোরগোড়ায় কর্মসংস্থান পৌঁছে দেয়া এবং উৎপাদিত পণ্য দেশীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রফতানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা।

অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে সুষম উন্নয়ন, পরিকল্পিত শিল্পায়ন আর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান বাড়বে। রফতানি আয় বাড়ার মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে ও শক্ত অবস্থান তৈরি হবে বাংলাদেশের। দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকারের প্রণোদনাও রয়েছে। দেয়া হচ্ছে কর অবকাশ, আয়ের ওপর কর মওকুফ, যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ আরও অনেক কিছুই। এরই মধ্যে বিনিয়োগের জন্য বিভিন্ন দেশ আগ্রহও দেখিয়েছে।

প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষের বসবাস এই সিরাজগঞ্জ জেলার চারপাশের ১৬টি জেলায়। তাঁরা বিভিন্ন সময় কর্মসংস্থানের তাগিদে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা শহরে চলে যায়। তখন ওই সমস্ত শহরগুলো হয়ে যায় যানজটযুক্ত অস্বাস্থ্যকর নগরীতে। কিন্তু সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনের উদ্যোক্তারা “মানুষের কাছে শিল্প যাবে, ঘরে থেকেই কর্ম হবে”- এই স্লোগান নিয়ে ইকোনমিক জোন করতে উদ্যোগী হয়েছেন।

ঢাকা নগরী এবং আশপাশে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ঢাকা এসে কর্মসংস্থান খুঁজে নেয়। একজন শ্রমজীবী মানুষ যখন ঢাকায় এসে শ্রম দিয়ে মাস শেষে বেতন পায় এবং তার সিংহভাগ খরচ হয়ে যায় বাড়িভাড়া ও অন্যান্য দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনে। আধুনিক শিল্প নগরীতে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এই একই ব্যক্তি তার নিজ গ্রামে নিজের পরিবারের কাছাকাছি থেকে সুস্থ-মস্তিস্কে ও আনন্দচিত্তে কর্মক্ষমভাবে উৎপাদনমূলক কাজ সফলতার সাথে করবে। সদ্ব্যবহার করতে পারবে বেতনের পুরো টাকা। ঘরের কাছে মানসন্মত শিক্ষা, বাসস্থান, বিনোদন ও জীবনমান পেলে এই কর্মজীবী মানুষেরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থা হতে নিজেকে মুক্ত করতে পারবে। আর এভাবেই তারা উৎপাদন বাড়াতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনের স্থানটি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও শ্রমজীবীদের জন্য অপার সম্ভাবনাময় স্থান। কারণ এ অঞ্চলে রয়েছে রেলপথ, জলপথ ও সড়ক পথের সুবিধা। তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ফোর লেন ও ফ্লাইওভার হয়ে গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজেই বিনিয়োগ করতে পারবেন। সেই হিসাবে তারা উৎসাহও দেখাচ্ছেন। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনে পৌঁছানো যাবে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত সব কর্তৃপক্ষকে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি করার জন্য নিয়মতিভাবে নদীশাসন ও ড্রেজিং করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে নৌপথে সরাসরি সিরাজগঞ্জ থেকে মোংলা, চট্টগ্রাম বা পায়রাবন্দরে পণ্যসামগ্রী পরিবহন করা যাবে- যা হবে মিষ্টি পানির মৎস্যের এক বিরাট আধার। সিরাজগঞ্জ এলাকার মাটি অত্যন্ত উর্বর যেখানে খাদ্য, রবিশস্য ফল-ফলাদিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপন্ন হয়। আরও আছে তাঁত শিল্প, কুটির শিল্প, দুগ্ধজাত পণ্য ইত্যাদি। গ্রামীণ জীবনের স্বকীয়তা বজায় রেখে উন্নয়নের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে কর্ম, শিল্প ও মানুষ। বায়ু ও পানি দূষণমুক্ত সুস্থ পরিবেশে গড়ে উঠবে একটি দক্ষ ও উৎপাদনক্ষম জনগোষ্ঠী।

আমরা সৌভাগ্যবান যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালনের আমরা প্রত্যক্ষ অংশীদার। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এখন তার বয়স হতো একশ' বছর, আর, স্বাধীনতার বয়স হতো ঊনপঞ্চাশ বছর। এই ঊনপঞ্চাশ বছরের মধ্যে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটসহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার যাবতীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। এতদসত্ত্বেও জাতির পিতার সাড়ে তিন বছরের শাসনামলের কর্মধারার পুনরুজ্জীবন ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এত কম সময়ে বাংলাদেশ যে পরিমাণ এগিয়েছে তা সারা বিশ্বের কাছে অগ্রগতির অনুকরণীয় রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানেই নিহিত রয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের সেই যুগান্তকারী প্রত্যয়- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম ...।

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আজ দিনের আলোর মতো এক দৃশ্যমান বাস্তবতা। বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের সোপানে পা বাড়ানো এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

শেখ মনোয়ার হোসেন
পরিচালক, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড
সিনেট সদস্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

মুক্তির সংগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল

 শেখ মনোয়ার হোসেন 
১০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:০৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সত্য এবং সুন্দরের গতি অপ্রতিরোধ্য। কেউ তাকে থামিয়ে রাখতে পারে না।

হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজন্ম লালিত স্বপ্ন ছিল এ দেশের গরিব-দুঃখী মেহনতি মানুষ একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং সম্মানজনক জীবনযাপন করবে।

স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে যখন স্বনির্ভরতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এলেন, ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের অন্ধকারে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রুদের হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন। ফলে হঠাৎ করেই থেমে যায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন। পরবর্তী ২৫ বছর বঙ্গবন্ধুর খুনিচক্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে এদেশের মানুষের কাঁধে বৈদেশিক ঋণের বোঝা চাপিয়ে শুধু নিজেরাই ফুলেফেঁপে উঠেনি- বদলে দিয়েছে এদেশের মুক্তি সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস।

১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়। শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম।

যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুকূল না হওয়ার কারণে উত্তরবঙ্গ চিরকালই ছিল উন্নয়নের মূলধারা থেকে এক বিচ্ছিন্ন জনপদ। অথচ এখানকার তাঁত-বস্ত্র, খাদ্যশস্য, দুগ্ধজাত খাবার এবং ফলফলাদি দিয়ে সারা দেশের মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটানো হতো। প্রাথমিকভাবে এ সংকটের বিমোচন শুরু হয় যমুনা নদীর উপর ‘বঙ্গবন্ধু সেতু’ তৈরির মধ্য দিয়ে।

৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম অতন্দ্র প্রহরীর মতো অন্তরলীন হয়ে আছে যে দেশের অন্তর্গত সত্তায়- সেই স্বাধীন দেশের প্রতিটি মানুষ স্বাধীনতার সুফল সমানভাবে ভোগ করবে- জাতির পিতার সেই প্রত্যয়কে সমুন্নত রেখে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তাঁতবস্ত্র শিল্পের রাজধানী হিসেবে খ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজগঞ্জে ‘সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন’ প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য হল রাজধানী ও দেশের বড় বড় শহরকেন্দ্রিক কর্মস্থান তথা জীবন ও জীবিকার জন্য কষ্টসাধ্য উপায় থেকে মানুষকে মুক্তি দিয়ে কর্মসংস্থানকে তাদের নাগালের মধ্য নিয়ে আসা। যেন মানুষ তাদের চিরকালীন নিজস্ব গ্রামীণ নিসর্গের আবহে বসবাস করেই জীবন ও জীবিকার সংস্থান করতে পারে। যেন তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এখান থেকেই আধুনিক জীবনযাপনের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে পারে। যেন রোগ-শোকে তাদের আর দৌড়াতে না হয় দূর-দূরান্তে। 

একটি সুখী সমৃদ্ধ আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিশন ও ভিশনকে সামনে রেখে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার যে বিশাল কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, আমরা তারই আলোকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম তীরে ‘সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন’ গঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এই মহতি উদ্যোগের সাথে যুক্ত হয় এ দেশের স্বনামধন্য ১১টি প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠান। নগদ অর্থে ১০৪১.৪৩ একর ভূমি ক্রয় করে এখানে বেসরকারি পর্যায়ে দেশের সর্ববৃহৎ ইকোনমিক জোন নির্মাণের যাবতীয় অবকাঠামো তৈরির কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু করা হয়েছে। পরম সৃষ্টিকর্তার  প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেই বলছি- খুব অল্প সময়ের মধ্যই দৃশ্যমান হবে, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনকে কেন্দ্র করে সিঙ্গাপুর, দুবাই, সাংহাই,  কিংবা হংকংয়ের মতো বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্র ও একটি সুপরিকল্পিত আধুনিক শিল্পনগরী।

মূলত ‘মানুষের কাছে শিল্প যাবে, ঘরে থেকেই কর্ম হবে’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গড়ে উঠছে বেসরকারি মালিকানাধীন এ দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড’। শ্রমঘন শিল্প গড়ে তুলে এখানে প্রায় ৫ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হবে। হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে গড়ে উঠবে বিভিন্ন খাতের প্রায় ৪০০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। এ অঞ্চলের উন্নয়ন হলে উত্তরবঙ্গের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বড় পরিবর্তন আসবে। সারা দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের বেকারত্ব কমে যাবে, প্রকৃত অর্থেই দেশ থেকে নির্মূল হবে দারিদ্র্য।

একটি আধুনিক সবুজ শিল্প নগরীতে সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানবিক এবং পরিবেশগত সুবিধা বজায় থাকে। সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্ল্যাটিনাম গ্রিন কন্সেপ্টে গড়ে উঠবে। যেখানে গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না করে আধুনিক শিল্প নগরীর সুযোগ-সুবিধাসহ দক্ষ জনগোষ্ঠীর বাসস্থান ও কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে। শহরমুখী শ্রমজীবী মানুষগুলো তখন শহরের মানের শিক্ষালয়, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনের মধ্যে উপভোগ করতে পারলে তারা কর্মের সন্ধানে গ্রাম বা পরিবারচ্যুত হবে না।

দেশে বেশিরভাগ শিল্পই গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিতভাবে। এর ফলে জমি, অর্থ এবং সময় অপচয় হচ্ছে। কাজেই পরিকল্পিত শিল্পায়নের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল আশীর্বাদ নিঃসন্দেহে। এতে জমির অপচয় রোধ হবে। অন্যদিকে ব্যাপকহারে কৃষিজমি বা বনভূমি ধ্বংস না করে বরং অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পরিকল্পিত সবুজায়ন হবে। এককভাবে শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করতে গেলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামোর খরচ এককভাবে বহন করতে হয়। ফলে খরচ অনেক বেশি পড়েও অনেক অপচয় হয়। কিন্তু অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কারণে প্রয়োজনীয় সব সেবা মিলবে এক ছাতার নিচে। এককভাবে সবাই সব ধরনের সুবিধা নিতে পারবেন। পণ্য ওই অঞ্চল থেকেই দেশে-বিদেশে বাজারজাত করা যাবে। বন্দরগুলোকে ও অযথা জটের মুখোমুখি হতে হবে না। পরিকল্পিত শিল্প নগরীতে উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে শিল্পায়নের বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে পরিবেশ। বিনিয়োগকারীরা সব সেবা ও সুযোগ-সুবিধা এই অঞ্চলের মধ্যেই পাবেন। আবার শিল্প-কারখানার বর্জ্যে নদী ও বায়ু দূষণের ঘটনা ঘটবে না। অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে অত্যাধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রাখা হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রধান লক্ষ্যে হচ্ছে মানুষের দোরগোড়ায় কর্মসংস্থান পৌঁছে দেয়া এবং উৎপাদিত পণ্য দেশীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রফতানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা।

অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে সুষম উন্নয়ন, পরিকল্পিত শিল্পায়ন আর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান বাড়বে। রফতানি আয় বাড়ার মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে ও শক্ত অবস্থান তৈরি হবে বাংলাদেশের। দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকারের প্রণোদনাও রয়েছে। দেয়া হচ্ছে কর অবকাশ, আয়ের ওপর কর মওকুফ, যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ আরও অনেক কিছুই। এরই মধ্যে বিনিয়োগের জন্য বিভিন্ন দেশ আগ্রহও দেখিয়েছে।

প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষের বসবাস এই সিরাজগঞ্জ জেলার চারপাশের ১৬টি জেলায়। তাঁরা বিভিন্ন সময় কর্মসংস্থানের তাগিদে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা শহরে চলে যায়। তখন ওই সমস্ত শহরগুলো হয়ে যায় যানজটযুক্ত অস্বাস্থ্যকর নগরীতে। কিন্তু সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনের উদ্যোক্তারা “মানুষের কাছে শিল্প যাবে, ঘরে থেকেই কর্ম হবে”- এই স্লোগান নিয়ে ইকোনমিক জোন করতে উদ্যোগী হয়েছেন।

ঢাকা নগরী এবং আশপাশে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ঢাকা এসে কর্মসংস্থান খুঁজে নেয়। একজন শ্রমজীবী মানুষ যখন ঢাকায় এসে শ্রম দিয়ে মাস শেষে বেতন পায় এবং তার সিংহভাগ খরচ হয়ে যায় বাড়িভাড়া ও অন্যান্য দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনে। আধুনিক শিল্প নগরীতে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এই একই ব্যক্তি তার নিজ গ্রামে নিজের পরিবারের কাছাকাছি থেকে সুস্থ-মস্তিস্কে ও আনন্দচিত্তে কর্মক্ষমভাবে উৎপাদনমূলক কাজ সফলতার সাথে করবে। সদ্ব্যবহার করতে পারবে বেতনের পুরো টাকা। ঘরের কাছে মানসন্মত শিক্ষা, বাসস্থান, বিনোদন ও জীবনমান পেলে এই কর্মজীবী মানুষেরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থা হতে নিজেকে মুক্ত করতে পারবে। আর এভাবেই তারা উৎপাদন বাড়াতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনের স্থানটি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও শ্রমজীবীদের জন্য অপার সম্ভাবনাময় স্থান। কারণ এ অঞ্চলে রয়েছে রেলপথ, জলপথ ও সড়ক পথের সুবিধা। তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ফোর লেন ও ফ্লাইওভার হয়ে গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজেই বিনিয়োগ করতে পারবেন। সেই হিসাবে তারা উৎসাহও দেখাচ্ছেন। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনে পৌঁছানো যাবে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত সব কর্তৃপক্ষকে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি করার জন্য নিয়মতিভাবে নদীশাসন ও ড্রেজিং করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে নৌপথে সরাসরি সিরাজগঞ্জ থেকে মোংলা, চট্টগ্রাম বা পায়রাবন্দরে পণ্যসামগ্রী পরিবহন করা যাবে- যা হবে মিষ্টি পানির মৎস্যের এক বিরাট আধার। সিরাজগঞ্জ এলাকার মাটি অত্যন্ত উর্বর যেখানে খাদ্য, রবিশস্য ফল-ফলাদিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপন্ন হয়। আরও আছে তাঁত শিল্প, কুটির শিল্প, দুগ্ধজাত পণ্য ইত্যাদি। গ্রামীণ জীবনের স্বকীয়তা বজায় রেখে উন্নয়নের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে কর্ম, শিল্প ও মানুষ। বায়ু ও পানি দূষণমুক্ত সুস্থ পরিবেশে গড়ে উঠবে একটি দক্ষ ও উৎপাদনক্ষম জনগোষ্ঠী।

আমরা সৌভাগ্যবান যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালনের আমরা প্রত্যক্ষ অংশীদার। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এখন তার বয়স হতো একশ' বছর, আর, স্বাধীনতার বয়স হতো ঊনপঞ্চাশ বছর। এই ঊনপঞ্চাশ বছরের মধ্যে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটসহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার যাবতীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। এতদসত্ত্বেও জাতির পিতার সাড়ে তিন বছরের শাসনামলের কর্মধারার পুনরুজ্জীবন ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এত কম সময়ে বাংলাদেশ যে পরিমাণ এগিয়েছে তা সারা বিশ্বের কাছে অগ্রগতির অনুকরণীয় রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানেই নিহিত রয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের সেই  যুগান্তকারী  প্রত্যয়- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম ...।

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আজ দিনের আলোর মতো এক দৃশ্যমান বাস্তবতা। বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের সোপানে পা বাড়ানো এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। 

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

 

শেখ মনোয়ার হোসেন
পরিচালক, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড
সিনেট সদস্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়