বিদেশে গিয়ে নিজের দেশকে তাচ্ছিল্য নয়
jugantor
বিদেশে গিয়ে নিজের দেশকে তাচ্ছিল্য নয়

  রেহানা রহমান  

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৪৩:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

আমি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। আমি আম জনতা তাই দেশের প্রতি প্রেম দেখানোর মতো কোনো মেধা আমার নেই। আমি সাহসী নই। দুর্বল চিত্তের মানুষ। সাহসিকতার কোনো কাজ করে দেখানোর কোনো সম্ভাবনাও নেই আমাকে দিয়ে।

কত জনে কত লেখালেখি করে দেশকে নিয়ে। যা পড়লে ভালো লাগে। আমি লিখতেও পারি না। খারাপ লাগে, কষ্ট লাগে যখন দেখি এদেশেরই আলো হাওয়ায় বড় হওয়া কিছু বাংলাদেশি বাঙালী নিজের দেশকে বিদেশের সঙ্গে তুলনা করে করে নিজের দেশকে ছোট করে, অপমান করে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে।

নিজের দেশকে ছোট করে আপনারা কি খুব বড় হন? ছোট না করে অপমান না করে গালাগাল না করে কিভাবে দেশটাকে বদলানো যায় সেই চিন্তা অন্তত করা যায়। অন্য যে কোনো দেশের ভালোটা আমাদের দেশে আগে নিজে প্রয়োগ করুন।

যারা অনেকদিন বড় বড় দেশে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন বা চাকরি করতে গেছেন বা বেড়াতে বা ব্যবসা করতে তাদের নাক সিটকানো মোটেই শোভন নয়। আমার নিজের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করা একটা স্বপ্ন। আল্লাহ যদি সুযোগ দেয় দেশ ঘুরে বেড়াবো। কিন্তু ঘুরে বেড়িয়ে এসে নিজের দেশের বদনাম কেন করবো?

আমার নিজের দেশের প্রতি কোনো রাগ হয় না। আমার দেশটি অনেক সুন্দর। সকল দেশের রানী। দেশের আনাচে কানাচে সৌন্দর্যে ভরপুর। রাগ হয় দেশের নষ্ট মানুষের প্রতি। ঘৃণা হয় যখন দেখি যারা দেশ মাকে লুটে পুটে, চুষে খেয়ে হাড়মজ্জা শেষ করে দিচ্ছে। অক্ষম ক্রোধে ফেটে পরি। চোখে পানি এসে যায়।

সাধারণ জনগণের মধ্যে অনেক অনেক সৎ মানুষ রয়েছেন, যারা দেশের জন্য ভাবে। কিন্তু তাদের সৎ চিন্তা ভাবনা প্রধানমন্ত্রী কাছে পর্যন্ত পৌছায় না তার চারপাশে বলয় হয়ে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত তোষামোদকারীদের কারণে।

দেশে অনেক সাহসী কণ্ঠ আছে যারা সত্যি বলতে, লিখতে একদমই ভয় পায় না। এমন কত দেশপ্রেমিক আছেন যারা দীর্ঘজীবন প্রবাসে থেকেও দেশকে একমুহূর্তের জন্য ভোলেন না, ভোলেননি। দেশের জন্য ভাবেন, দেশের জন্য লেখেন এবং দেশের জন্য কাজ করেন।

সুইডেন প্রবাসী রহমান মৃধা ভাই তেমনই একজন দেশপ্রেমিক মানুষ যার লেখায় দেশ এবং দেশের মানুষের কথা উচ্চারিত হয়। উনার লেখা পড়লে দেশের প্রতি প্রেম বাড়ে। দায়িত্ববোধ আসে। উনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন আর কিভাবে দেশের উন্নয়ন করা যায় সেই ম্যাসেজ দেন। এমন আরও অনেক অনেক দেশপ্রেমিক প্রবাসী ভাই বোন আছে যাদের মেধা তারা দেশের চিন্তা-চেতনায় ব্যয় করে, যাদের নাম আমরা ফেসবুকের কল্যাণে জানি।

মা আমাদেরকে তার শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে বড় করে তোলেন। দেশও তো আরেক মা। মা সম দেশের আলো বাতাসে গায়ে লাগিয়ে আমরা বেড়ে উঠি। সেই দেশকে কিভাবে আমরা শেষ করি! এত বেইমানী কিভাবে করি দেশের সঙ্গে? আমাদের বিবেকে কি বাঁধে না?

বড় হয়ে যেই না একটু উন্নত দেশের ঝলকানি দেখি আর নিজের দেশের দৈন্যতা, তখন আমরা অন্ধ হয়ে যাই। এমনটা করা সুনাগরিকের আচরণ নয়। আমরা যদি সবাই সৎ থাকি, যে যত যাই কিছু হোক, চুল পরিমাণ দুর্নীতি করবো না, অসৎ হবো না, দৃঢ় সংকল্প থাকলে কোনো লোভই আমাদের টলাতে পারবে না।

আমার প্রচণ্ড রাগ হয়, ঘৃণা হয়, ক্ষোভ হয় তবে দেশের প্রতি নয়। রাগ হয়, ঘৃণা হয়, ক্ষোভ হয় দেশের নষ্ট, বিবেক বর্জিত, মনুষত্বহীন, লোভী, স্বজাতির রক্তচোষা নেতাদের প্রতি। তারা কি একটাবারও ভাবে না?

চাপাবাজি এবং তেলবাজি করে দেশের কোনো উন্নতি হয় না, চুল পরিমাণও হয় না। যেটা হয় সেটা হচ্ছে ব্যক্তির স্বার্থোদ্ধার। এত এত মিথ্যা কিভাবে বলে আমাদের দেশের নেতারা? বুক কাঁপে না একদম? চাপার জোরে দেশটাকে কানাডা, সিঙ্গাপুর বানানো যায় কিন্তু আসলেই কি আমরা এসব দেশের ধারের কাছেও গিয়েছি?

মহামারী করোনার সময়টাতেই তো দেখলাম দেশ কতটা এগিয়ে গেছে উন্নতির স্বর্ণ-শিখরে! কী অদ্ভুত! অথচ দেশটা তাদেরও। লুটের বা চাপাবাজির কোনো দরকার নেই। যা উন্নয়ন হয়েছে জনগণকে সেটাই জানানো যেত। আর জনগণ কি বোকা বা অন্ধ? কিছু বোঝে না? চোখে দেখে না?

আমাদের দেশে কিছু জনগণ আছেন যারা যে কোনো দলের সরকারের ভালো কাজকে গ্রহণ করতে পারেন না। এটাও সুনাগরিকের আচরণ নয়। ভালবাসলে দেশ আমাদের সবার থাকবে। দেশের উন্নয়নকে আমরা সাদরে গ্রহণ করবো। যে বা যারা দেশের জন্য কাজ করবে জনগণ তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দেবেই।

দেশের মানুষের, দেশের সম্পদ লুট করে আজ না হয় তারা রাজা, চিরকালতো আর তা থাকবে না। একদিন পতন হবেই কোনো সন্দেহ নেই। পাপ করে কেউ কোনোদিন পার পায়নি। যত ক্ষমতাধরই হোক, পতন হয়েছে। শাস্তি পেতে হয়েছে। জনগণের ঘৃণা পেয়েছে।

অনেক স্বৈরশাসক রাজা, মহারাজা, নবাব, বাদশা শেষ জীবনে পেয়েছেন অপমান, লাঞ্ছনার মত উপহার। সময় শেষ হয়ে যায়নি। সব দায়িত্ব সরকারকে না দিয়ে দেশের প্রত্যেক শিক্ষিত জনগণ যদি নিজের কাছে নিজে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন যে,আমি বদলাবো, দেশও বদলাবে। দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো গেলে, কর্মও বদলাবে। তখন দেশটাই বদলে যাবে।

লেখক: রেহানা রহমান, স্কুল শিক্ষক ও কলামিস্ট

বিদেশে গিয়ে নিজের দেশকে তাচ্ছিল্য নয়

 রেহানা রহমান 
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আমি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। আমি আম জনতা তাই দেশের প্রতি প্রেম দেখানোর মতো কোনো মেধা আমার নেই। আমি সাহসী নই। দুর্বল চিত্তের মানুষ। সাহসিকতার কোনো কাজ করে দেখানোর কোনো সম্ভাবনাও নেই আমাকে দিয়ে। 

কত জনে কত লেখালেখি করে দেশকে নিয়ে। যা পড়লে ভালো লাগে। আমি লিখতেও পারি না। খারাপ লাগে, কষ্ট লাগে যখন দেখি এদেশেরই আলো হাওয়ায় বড় হওয়া কিছু বাংলাদেশি বাঙালী নিজের দেশকে বিদেশের সঙ্গে তুলনা করে করে নিজের দেশকে ছোট করে, অপমান করে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে।

নিজের দেশকে ছোট করে আপনারা কি খুব বড় হন? ছোট না করে অপমান না করে গালাগাল না করে কিভাবে দেশটাকে বদলানো যায় সেই চিন্তা অন্তত করা যায়। অন্য যে কোনো দেশের ভালোটা আমাদের দেশে আগে নিজে প্রয়োগ করুন। 

যারা অনেকদিন বড় বড় দেশে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন বা চাকরি করতে গেছেন বা বেড়াতে বা ব্যবসা করতে তাদের নাক সিটকানো মোটেই শোভন নয়। আমার নিজের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করা একটা স্বপ্ন। আল্লাহ যদি সুযোগ দেয় দেশ ঘুরে বেড়াবো। কিন্তু ঘুরে বেড়িয়ে এসে নিজের দেশের বদনাম কেন করবো? 

আমার নিজের দেশের প্রতি কোনো রাগ হয় না। আমার দেশটি অনেক সুন্দর। সকল দেশের রানী। দেশের আনাচে কানাচে সৌন্দর্যে ভরপুর। রাগ হয় দেশের নষ্ট মানুষের প্রতি। ঘৃণা হয় যখন দেখি যারা দেশ মাকে লুটে পুটে, চুষে খেয়ে হাড়মজ্জা শেষ করে দিচ্ছে। অক্ষম ক্রোধে ফেটে পরি। চোখে পানি এসে যায়। 

সাধারণ জনগণের মধ্যে অনেক অনেক সৎ মানুষ রয়েছেন, যারা দেশের জন্য ভাবে। কিন্তু তাদের সৎ চিন্তা ভাবনা প্রধানমন্ত্রী কাছে পর্যন্ত পৌছায় না তার চারপাশে বলয় হয়ে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত তোষামোদকারীদের কারণে। 

দেশে অনেক সাহসী কণ্ঠ আছে যারা সত্যি বলতে, লিখতে একদমই ভয় পায় না। এমন কত দেশপ্রেমিক আছেন যারা দীর্ঘজীবন প্রবাসে থেকেও দেশকে একমুহূর্তের জন্য ভোলেন না, ভোলেননি। দেশের জন্য ভাবেন, দেশের জন্য লেখেন এবং দেশের জন্য কাজ করেন। 

সুইডেন প্রবাসী রহমান মৃধা ভাই তেমনই একজন দেশপ্রেমিক মানুষ যার লেখায় দেশ এবং দেশের মানুষের কথা উচ্চারিত হয়। উনার লেখা পড়লে দেশের প্রতি প্রেম বাড়ে। দায়িত্ববোধ আসে। উনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন আর কিভাবে দেশের উন্নয়ন করা যায় সেই ম্যাসেজ দেন। এমন আরও অনেক অনেক দেশপ্রেমিক প্রবাসী ভাই বোন আছে যাদের মেধা তারা দেশের চিন্তা-চেতনায় ব্যয় করে, যাদের নাম আমরা ফেসবুকের কল্যাণে জানি। 

মা আমাদেরকে তার শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে বড় করে তোলেন। দেশও তো আরেক মা। মা সম দেশের আলো বাতাসে গায়ে লাগিয়ে আমরা বেড়ে উঠি। সেই দেশকে কিভাবে আমরা শেষ করি! এত বেইমানী কিভাবে করি দেশের সঙ্গে? আমাদের বিবেকে কি বাঁধে না? 

বড় হয়ে যেই না একটু উন্নত দেশের ঝলকানি দেখি আর নিজের দেশের দৈন্যতা, তখন আমরা অন্ধ হয়ে যাই। এমনটা করা সুনাগরিকের আচরণ নয়। আমরা যদি সবাই সৎ থাকি, যে যত যাই কিছু হোক, চুল পরিমাণ দুর্নীতি করবো না, অসৎ হবো না, দৃঢ় সংকল্প থাকলে কোনো লোভই আমাদের টলাতে পারবে না।

আমার প্রচণ্ড রাগ হয়, ঘৃণা হয়, ক্ষোভ হয় তবে দেশের প্রতি নয়। রাগ হয়, ঘৃণা হয়, ক্ষোভ হয় দেশের নষ্ট, বিবেক বর্জিত, মনুষত্বহীন, লোভী, স্বজাতির রক্তচোষা নেতাদের প্রতি। তারা কি একটাবারও ভাবে না? 

চাপাবাজি এবং তেলবাজি করে দেশের কোনো উন্নতি হয় না, চুল পরিমাণও হয় না। যেটা হয় সেটা হচ্ছে ব্যক্তির স্বার্থোদ্ধার। এত এত মিথ্যা কিভাবে বলে আমাদের দেশের নেতারা? বুক কাঁপে না একদম? চাপার জোরে দেশটাকে কানাডা, সিঙ্গাপুর বানানো যায় কিন্তু আসলেই কি আমরা এসব দেশের ধারের কাছেও গিয়েছি? 

মহামারী করোনার সময়টাতেই তো দেখলাম দেশ কতটা এগিয়ে গেছে উন্নতির স্বর্ণ-শিখরে! কী অদ্ভুত! অথচ দেশটা তাদেরও। লুটের বা চাপাবাজির কোনো দরকার নেই। যা উন্নয়ন হয়েছে জনগণকে সেটাই জানানো যেত। আর জনগণ কি বোকা বা অন্ধ? কিছু বোঝে না? চোখে দেখে না?

আমাদের দেশে কিছু জনগণ আছেন যারা যে কোনো দলের সরকারের ভালো কাজকে গ্রহণ করতে পারেন না। এটাও সুনাগরিকের আচরণ নয়। ভালবাসলে দেশ আমাদের সবার থাকবে। দেশের উন্নয়নকে আমরা সাদরে গ্রহণ করবো। যে বা যারা দেশের জন্য কাজ করবে জনগণ তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দেবেই। 

দেশের মানুষের, দেশের সম্পদ লুট করে আজ না হয় তারা রাজা, চিরকালতো আর তা থাকবে না। একদিন পতন হবেই কোনো সন্দেহ নেই। পাপ করে কেউ কোনোদিন পার পায়নি। যত ক্ষমতাধরই হোক, পতন হয়েছে। শাস্তি পেতে হয়েছে। জনগণের ঘৃণা পেয়েছে।

অনেক স্বৈরশাসক রাজা, মহারাজা, নবাব, বাদশা শেষ জীবনে পেয়েছেন অপমান, লাঞ্ছনার মত উপহার। সময় শেষ হয়ে যায়নি। সব দায়িত্ব সরকারকে না দিয়ে দেশের প্রত্যেক শিক্ষিত জনগণ যদি নিজের কাছে নিজে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন যে,আমি বদলাবো, দেশও বদলাবে। দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো গেলে, কর্মও বদলাবে। তখন দেশটাই বদলে যাবে।

লেখক: রেহানা রহমান, স্কুল শিক্ষক ও কলামিস্ট