বার কাউন্সিলের পরীক্ষার তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তিতে ১৩ হাজার শিক্ষার্থী
jugantor
বার কাউন্সিলের পরীক্ষার তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তিতে ১৩ হাজার শিক্ষার্থী

  এমরান হোসাইন  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২৩:০২:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

বার কাউন্সিল

বার কাউন্সিলের ঘোষিত নোটিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ খোলা সাপেক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয়ের কলা অনুষদ শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের লিখিত পরীক্ষা নিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে একটি জাতীয় পত্রিকার ঢাবি প্রতিনিধি কলা অনুষদের ডিন দেলোয়ার হোসেন স্যারের কাছে জানতে চেয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর বারের কোনো পরীক্ষা তারা নিচ্ছেন কিনা?

দেলোয়ার স‌্যারের (কলা অনুষদের ডিন) ভাষ‌্য মতে, বার কাউন্সিল ২৬ সেপ্টেম্বর কোনো পরীক্ষা নেবে কিনা তা তার জানা নেই। তিনি সংশ্লিষ্ট অন‌ুষদের ডিন হিসেবে এমন কোনো নোটিশ পাননি বা তার অনুষদে এমন কোনো পরীক্ষা হবে কিনা তিনি জানেন না। তিনি উল্টো সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিকে ভৎষনা করে পরামর্শ দিয়েছেন বার কাউন্সিলে যোগাযোগ করতে। (সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও কলা অনুষদের ডিনের কথপোকথন প্রমাণিত)।

বিভিন্ন সূত্রেও খবর রয়েছে বার কাউন্সিল নির্দিষ্ট সময়েই পরীক্ষা নেবে। যেহুতু বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে নতুন কোনো নোটিশ আসেনি, সে অনুযায়ী আগের তারিখেই পরীক্ষার সময়-সূচি বহাল রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হল, যদি কলা অনুষদ বার কাউন্সিলের পরীক্ষার বিষয়ে কোনো নোটিশ না পায়, বা তারা জানেই না, কলা অনুষদ যে পরীক্ষার দায়িত্বে রয়েছে; তাহলে বার কাউন্সিল কিভাবে এমন নোটিশ দিয়ে জানাল কলা অনুষদ পরীক্ষা নিচ্ছে। বিষয়টি অত‌্যন্ত বিভ্রান্তিকর। সত্যিটা তাহলে কি?

আবার ভিসি অফিসের এক ডেপুটি রেজিস্টারের সঙে কয়েকদিন আগে কথা হয়েছিল, তার মতে, তিনি খবর নিয়েছেন, বার কাউন্সিলের পরীক্ষা ঢাবি কর্তৃপক্ষ নিতে রাজি হয়নি। সে অনুযায়ী পরীক্ষা পেছাতে পারে।

করোনাকালীন সময়ে যদি ১৩ হাজার পরীক্ষার্থীর নিরাপত্তার বিষয়টি ম‌াথায় না নিয়ে বার কাউন্সিল পরীক্ষা নিতে চায়, সেটিও হবে তাদের জন্য বড় চ‌্যালেঞ্জ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অ‌্যাটর্নি জেনারেল করোনো পজিটিভ হয়ে আইসিইউতে। এছাড়া আরও একজন সম্মানিত সদস‌্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে শোনা গেছে।

এত তথ‌্য বিভ্রান্তি ও করোনাকালীন চ‌্যালেঞ্জ নিয়ে বার কাউন্সিলের পরীক্ষা অনুষ্ঠান নিয়ে সন্দিহান রয়েছে ১৩ হাজার পরীক্ষার্থী। এরপরেও বার কাউন্সিলের ২৬ সেপ্টম্বরে ঘোষিত তারিখের পরীক্ষা গ্রহণ কতটুকু কার্যকর হয়, তা বোধগম‌্য নয়। সব মিলিয়ে যদি নির্দিষ্ট তারিখে বার কাউন্সিল পরীক্ষা নিতেই পারে সেটি হবে এক ধরনের নজির।

পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা করেনাকালীন সময়ে লিখিত পরীক্ষা না নিয়ে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সনদ দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। এসব শিক্ষার্থীরা আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি পীর ফজলুর রহমান (পীর মিসবাহ)। তিনি শিক্ষার্থীদের এমন দাবির সপক্ষেও যুক্তি উত্থাপন করেন। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীও বার কাউন্সিলের সঙ্গেযোগাযোগ করবেবলে জানিয়েছেন।

বিশ্বব্যাপী করোনা সংকটে বাংলাদেশের সরকারও কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। সেখানে ১৩ হাজার শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বার কাউন্সিল। এ পরীক্ষা অংশকারীদের মধ্যে যে করোনা পজিটিভ নেই বা পরে কেউ আক্রান্ত হবেন না, এই নিশ্চয়তা কে দেবে।বর্তমান সময়ে দেশে প্রধানমন্ত্রী করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। সেখানে এত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। আন্দোলনকারীরা না বুঝে কোনো ভুল করতেই পারে, কারণ তারা সন্তানতুল্য। কিন্তু অভিভাবক হিসেবে যারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন, তারা যদি কোনো ভুল করেন, তাহলে তা কিন্তু খারাপ নজির সৃষ্টি করবে। এই সময়ে পরীক্ষা বাতিল বা পেছানোর বিষয়টি শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের অভিভাবক হিসেবে ভেবে দেখা উচিত।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]

বার কাউন্সিলের পরীক্ষার তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তিতে ১৩ হাজার শিক্ষার্থী

 এমরান হোসাইন 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বার কাউন্সিল
বার কাউন্সিল। ফাইল ছবি

বার কাউন্সিলের ঘোষিত নোটিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ খোলা সাপেক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয়ের কলা অনুষদ শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের লিখিত পরীক্ষা নিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে একটি জাতীয় পত্রিকার ঢাবি প্রতিনিধি কলা অনুষদের ডিন দেলোয়ার হোসেন স্যারের কাছে জানতে চেয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর বারের কোনো পরীক্ষা তারা নিচ্ছেন কিনা? 

দেলোয়ার স‌্যারের (কলা অনুষদের ডিন) ভাষ‌্য মতে, বার কাউন্সিল ২৬ সেপ্টেম্বর কোনো পরীক্ষা নেবে কিনা তা তার জানা নেই। তিনি সংশ্লিষ্ট অন‌ুষদের ডিন হিসেবে এমন কোনো নোটিশ পাননি বা তার অনুষদে এমন কোনো পরীক্ষা হবে কিনা তিনি জানেন না। তিনি উল্টো সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিকে ভৎষনা করে পরামর্শ দিয়েছেন বার কাউন্সিলে যোগাযোগ করতে। (সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও কলা অনুষদের ডিনের কথপোকথন প্রমাণিত)।

বিভিন্ন সূত্রেও খবর রয়েছে বার কাউন্সিল নির্দিষ্ট সময়েই পরীক্ষা নেবে। যেহুতু বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে নতুন কোনো নোটিশ আসেনি, সে অনুযায়ী আগের তারিখেই পরীক্ষার সময়-সূচি বহাল রয়েছে। 

এখন প্রশ্ন হল, যদি কলা অনুষদ বার কাউন্সিলের পরীক্ষার বিষয়ে কোনো নোটিশ না পায়, বা তারা জানেই না, কলা অনুষদ যে পরীক্ষার দায়িত্বে রয়েছে; তাহলে বার কাউন্সিল কিভাবে এমন নোটিশ দিয়ে জানাল কলা অনুষদ পরীক্ষা নিচ্ছে।  বিষয়টি অত‌্যন্ত বিভ্রান্তিকর।  সত্যিটা তাহলে কি?

আবার ভিসি অফিসের এক ডেপুটি রেজিস্টারের সঙে কয়েকদিন আগে কথা হয়েছিল, তার মতে, তিনি খবর নিয়েছেন, বার কাউন্সিলের পরীক্ষা ঢাবি কর্তৃপক্ষ নিতে রাজি হয়নি। সে অনুযায়ী পরীক্ষা পেছাতে পারে।

করোনাকালীন সময়ে যদি ১৩ হাজার পরীক্ষার্থীর নিরাপত্তার বিষয়টি ম‌াথায় না নিয়ে বার কাউন্সিল পরীক্ষা নিতে চায়, সেটিও হবে তাদের জন্য বড় চ‌্যালেঞ্জ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অ‌্যাটর্নি জেনারেল করোনো পজিটিভ হয়ে আইসিইউতে। এছাড়া আরও একজন সম্মানিত সদস‌্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে শোনা গেছে। 

এত তথ‌্য বিভ্রান্তি ও করোনাকালীন চ‌্যালেঞ্জ নিয়ে বার কাউন্সিলের পরীক্ষা অনুষ্ঠান নিয়ে সন্দিহান রয়েছে ১৩ হাজার পরীক্ষার্থী। এরপরেও বার কাউন্সিলের ২৬ সেপ্টম্বরে ঘোষিত তারিখের পরীক্ষা গ্রহণ কতটুকু কার্যকর হয়, তা বোধগম‌্য নয়। সব মিলিয়ে যদি নির্দিষ্ট তারিখে বার কাউন্সিল পরীক্ষা নিতেই পারে সেটি হবে এক ধরনের নজির।

পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা করেনাকালীন সময়ে লিখিত পরীক্ষা না নিয়ে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সনদ দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।  এসব শিক্ষার্থীরা আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি পীর ফজলুর রহমান (পীর মিসবাহ)।  তিনি শিক্ষার্থীদের এমন দাবির সপক্ষেও যুক্তি উত্থাপন করেন।  এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীও বার কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করবে বলে জানিয়েছেন।  

বিশ্বব্যাপী করোনা সংকটে বাংলাদেশের সরকারও কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না।  সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। সেখানে ১৩ হাজার শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বার কাউন্সিল। এ পরীক্ষা অংশকারীদের মধ্যে যে করোনা পজিটিভ নেই বা পরে কেউ আক্রান্ত হবেন না, এই নিশ্চয়তা কে দেবে। বর্তমান সময়ে দেশে প্রধানমন্ত্রী করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। সেখানে এত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। আন্দোলনকারীরা না বুঝে কোনো ভুল করতেই পারে, কারণ তারা সন্তানতুল্য। কিন্তু অভিভাবক হিসেবে যারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন, তারা যদি কোনো ভুল করেন, তাহলে তা কিন্তু খারাপ নজির সৃষ্টি করবে।  এই সময়ে পরীক্ষা বাতিল বা পেছানোর বিষয়টি শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের অভিভাবক হিসেবে ভেবে দেখা উচিত।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]