বিশ্ব দৃষ্টি দিবস আমরা কেন পালন করি?
jugantor
বিশ্ব দৃষ্টি দিবস আমরা কেন পালন করি?

  অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ  

১০ অক্টোবর ২০২০, ২১:৫৬:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

দৃষ্টি সম্পর্কে সচেতনতার জন্য প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হয়। এ বছর ৮ অক্টোবর বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হয়। অন্ধত্ব নিবারণ ও দৃষ্টি রক্ষার উদ্দেশ্যে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- দৃষ্টিতে আশা (Hope in Sight)। গত বছর বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল sight fast (দৃষ্টিই প্রথম)।

ভিশন ২০২০ নামে বিশ বছর আগে প্রতিরোধযোগ্য ও প্রতিকারযোগ্য চোখর অন্ধত্ব নিবারণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। দৃষ্টি সবার অধিকার এবং অন্ধত্ব নিবারণ করার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি, এবং রোগ নির্ণয় ও তার চিকিৎসা করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ‘ভিশন ২০২০’ এর মূল লক্ষ্য ছিল। রোগ নির্ণয়, রোগ নিয়ন্ত্রণ, জনশক্তি উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে ভিশন ছানিসহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা বা অপারেশনের হার বৃদ্ধিই মূল লক্ষ্য ছিল।

বিশ্ব দৃষ্টি দিবস আমরা কেন পালন করি?

সারা বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মানুষের দৃষ্টিশক্তির স্বল্পতা আছে, এর মধ্যে ৩৯ মিলিয়ন ব্যক্তি যারা পঞ্চাশোর্ধ, তার মধ্যে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ লোক অন্ধ। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাই এবং প্রতি বছর এই সচেতনতার মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তির স্বল্পতা এবং অন্ধত্ব দূরীকরণে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। ভিশন ২০২০ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ২০ বছরের মধ্যে আমরা অন্ধত্ব দূর করব।

কিন্তু এখন সম্ভবত ২০৩০ বা ২০৫০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে সম্পূর্ণ অন্ধত্ব দূরীকরণ করতে। তবে ওয়ার্ল্ড সাইট ডে’র মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে এবং হোপ ইন সাইট মানে দৃষ্টিতে যে আশা একজন মানুষের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা, রিফ্রাক্টিভ এরোর দূর করা সমস্ত ধরনের রোগ নিরাময় করা, অন্ধত্ব হয় এমন বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

বাংলাদেশে বা সারাবিশ্বে সাতটি কারণে মানুষ অন্ধ হয়। একটি হল বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, দ্বিতীয় টি হল গ্লুকোমা। গ্লুকোমা হতে পারে (ওপেন অ্যাঙ্গেল বা ক্লোজড অ্যাঙ্গেল) ছানি বা Cataract যা প্রতিরোধ যোগ্য, (ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি) ডায়াবেটিক হলে অনেকের ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হয়। এর জন্য অন্ধত্ব হয়। আঘাতজনিত কারণেও অন্ধত্ব হয়। আর বিদেশে ট্রাকোমা অন্ধত্বের অন্য একটি কারণ। ভিটামিন “এ” এর অভাবে আমাদের দেশে আগে অনেকেই অন্ধত্ব বরণ করতো।

যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার ন্যাশনাল আই কেয়ারের মাধ্যমে ইপি আইয়ের মাধ্যমে ভিটামিন ”এ“ ক্যাপসুল সরবরাহ করায় রাতকানা রোগ কমে গেছে। আশা করি কমিউনিটি অফথালমোলজি যে ফার্মার বা কৃষকদের মধ্যে ফ্রি চশমা প্রদানের মাধ্যমে কর্নিয়াল আলসারের মতো ভয়াবহ রোগ থেকে কৃষকেরা মুক্তি পাবে।

অন্ধত্বের যে সাতটি কারণ আছে যেমন ছানি বা আঘাত, ট্রাকোমা, রিফ্রাক্টিভ এরোর, এজ রিলেটেড ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং গ্লুকোমা অন্যতম। মানুষকে সচেতন করে স্বচ্ছ দৃষ্টি দিতে খেয়াল রাখতে হবে। ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাম অঞ্চলে রোগীদের যদি গ্লুকোমা স্ক্রিনিং করতে পারি, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি আছে কিনা ছবি তুলে যদি আমরা টারশিয়ারি লেভেল হসপিটালে পাঠাতে পারি, আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে অন্ধত্ব দূরীকরণের তৎপরতা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

চলতি বছরের এমন এক সময় আমরা ওয়ার্ল্ড সাইট ডে (৮ অক্টোবর) পালিত হয় যখন সারা বিশ্বে করোনা সংক্রমণের ফলে আমরা অনেক কিছু স্বাভাবিকভাবে করতে পারছি না।

আমরা যদি অন্ধত্ব নিবারণ করতে চাই তাহলে আমাদের কয়েকটি কাজ করতে হবে-

(১) ছোট মাছ শাকসবজি ও হলুদ ফলমুল খেলে চোখের দৃষ্টি বাড়ে। (২) প্রতি ২০ মিনিট পর পর মোবাইল বা ল্যাপটপ বা টেলিভিশন দেখার পর ২০ ফুট দুরে ২০ সেকেন্ড তাকালে চোখের ব্যাথা ও মাথার ব্যাথা দূর হবে।

(৩) প্রতিনিয়ত চোখের যত্ন নিতে হবে বা চোখের যত্নে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া বা চশমার প্রয়োজন আছে কিনা চোখের কোনো সমস্যা আছে কিনা এগুলো নিয়মিত চেকআপ করা দরকার। কারো পরিবারের চোখের সমস্যা আছে কিনা পরিবারের কাছ থেকে জানতে হবে।

(৪) পুষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

(৫) নিয়মিত ব্যায়াম করা দরকার।

(৬) যে সমস্ত খাবার খেলে ডায়াবেটিক হয়, ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথি হয় সেসব খাবার বর্জন করা।

(৭) ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক রাখা ও গ্লুকোমা পরীক্ষার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে।

(৮) প্রেসক্রিপশন মোতাবেক ঔষধ ব্যবহার করা উচিৎ। গ্লুকোমার ঔষধ নিয়মিত ব্যবহার করতে হয়।

(৯) কোনো ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে যখন-তখন ব্যবহার করলে চোখের প্রেসার বেড়ে যেতে পারে বা চোখের ক্ষতি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ আবশ্যক।

আমরা যদি ধূমপান থেকে বিরত থাকি তবে ক্যাটারাক্ট এবং অন্যান্য চোখের সমস্যা থেকে আমরা মুক্ত হতে পারব। আমরা চোখের প্রটেকশন করব, যাতে করে কোনো আঘাত না লাগে। এই যে ওয়ার্ল্ড সাইট ডে বা বিশ্ব দৃষ্টি শক্তি সংরক্ষণ দিবস উৎযাপনের সময় সেমিনার সিম্পোজিয়াম ফেস্টুন প্লাকার্ড ব্যবহার করে সরকারি এবং বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা সৃষ্টি করলে অন্ধত্ব দূরীকরণে সক্ষম হওয়া যাবে। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালকে বিনামূল্যে রোগীদের সেবা করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। যে চক্ষু শিবিরের আয়োজন কর হয় তা অব্যাহত রাখতে হবে।

এই অন্ধত্ব দূরীকরণে সবার তৎপর হওয়া উচিৎ। প্রায় ৪৫ মিলিয়ন জনগণ ২০ বছর যাবত অন্ধ ছিল। কিভাবে এটাকে কমানো যায় সে তৎপরতায় ২০ শতাংশ কমানো গেছে। এখন ৩৬ মিলিয়ন লোক অন্ধ। ভিশন ২০২০ প্রকল্প থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। আরও সম্ভাব্য জনশক্তি বাড়াতে হবে, ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে, টেকনোলজি উন্নয়ন করতে হবে। তা হলেই প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব দূর করতে সক্ষম হব। যাদের দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে তাদের দৃষ্টি শক্তি সংরক্ষণ করার জন্য চশমার ব্যবহার বাড়াতে হবে। ছানি অপারেশনের মাধ্যমে অনেক রোগীকেই আমরা তাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হব।

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ
চেয়ারম্যান, কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগ
সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, সভাপতি ওএসবি ও সাবেক মাহসচিব বিএমএ

বিশ্ব দৃষ্টি দিবস আমরা কেন পালন করি?

 অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ 
১০ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দৃষ্টি সম্পর্কে সচেতনতার জন্য প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হয়। এ বছর ৮ অক্টোবর বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হয়। অন্ধত্ব নিবারণ ও দৃষ্টি রক্ষার উদ্দেশ্যে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- দৃষ্টিতে আশা (Hope in Sight)। গত বছর বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল sight fast (দৃষ্টিই প্রথম)।

ভিশন ২০২০ নামে বিশ বছর আগে প্রতিরোধযোগ্য ও প্রতিকারযোগ্য চোখর অন্ধত্ব নিবারণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। দৃষ্টি সবার অধিকার এবং অন্ধত্ব নিবারণ করার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি, এবং রোগ নির্ণয় ও তার চিকিৎসা করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ‘ভিশন ২০২০’ এর মূল লক্ষ্য ছিল। রোগ নির্ণয়, রোগ নিয়ন্ত্রণ, জনশক্তি উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে ভিশন ছানিসহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা বা অপারেশনের হার বৃদ্ধিই মূল লক্ষ্য ছিল।

বিশ্ব দৃষ্টি দিবস আমরা কেন পালন করি?

সারা বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মানুষের দৃষ্টিশক্তির স্বল্পতা আছে, এর মধ্যে ৩৯ মিলিয়ন ব্যক্তি যারা পঞ্চাশোর্ধ, তার মধ্যে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ লোক অন্ধ। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাই এবং প্রতি বছর এই সচেতনতার মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তির স্বল্পতা এবং অন্ধত্ব দূরীকরণে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। ভিশন ২০২০ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ২০ বছরের মধ্যে আমরা অন্ধত্ব দূর করব।

কিন্তু এখন সম্ভবত ২০৩০ বা ২০৫০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে সম্পূর্ণ অন্ধত্ব দূরীকরণ করতে। তবে ওয়ার্ল্ড সাইট ডে’র মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে এবং হোপ ইন সাইট মানে দৃষ্টিতে যে আশা একজন মানুষের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা, রিফ্রাক্টিভ এরোর দূর করা সমস্ত ধরনের রোগ নিরাময় করা, অন্ধত্ব হয় এমন বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

বাংলাদেশে বা সারাবিশ্বে সাতটি কারণে মানুষ অন্ধ হয়। একটি হল বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, দ্বিতীয় টি হল গ্লুকোমা। গ্লুকোমা হতে পারে (ওপেন অ্যাঙ্গেল বা ক্লোজড অ্যাঙ্গেল) ছানি বা Cataract যা প্রতিরোধ যোগ্য, (ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি) ডায়াবেটিক হলে অনেকের ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হয়। এর জন্য অন্ধত্ব হয়। আঘাতজনিত কারণেও অন্ধত্ব হয়। আর বিদেশে ট্রাকোমা অন্ধত্বের অন্য একটি কারণ। ভিটামিন “এ” এর অভাবে আমাদের দেশে আগে অনেকেই অন্ধত্ব বরণ করতো।

যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার ন্যাশনাল আই কেয়ারের মাধ্যমে ইপি আইয়ের মাধ্যমে ভিটামিন ”এ“ ক্যাপসুল সরবরাহ করায় রাতকানা রোগ কমে গেছে। আশা করি কমিউনিটি অফথালমোলজি যে ফার্মার বা কৃষকদের মধ্যে ফ্রি চশমা প্রদানের মাধ্যমে কর্নিয়াল আলসারের মতো ভয়াবহ রোগ থেকে কৃষকেরা মুক্তি পাবে।

অন্ধত্বের যে সাতটি কারণ আছে যেমন ছানি বা আঘাত, ট্রাকোমা, রিফ্রাক্টিভ এরোর, এজ রিলেটেড ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং গ্লুকোমা অন্যতম। মানুষকে সচেতন করে স্বচ্ছ দৃষ্টি দিতে খেয়াল রাখতে হবে। ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাম অঞ্চলে রোগীদের যদি গ্লুকোমা স্ক্রিনিং করতে পারি, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি আছে কিনা ছবি তুলে যদি আমরা টারশিয়ারি লেভেল হসপিটালে পাঠাতে পারি, আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে অন্ধত্ব দূরীকরণের তৎপরতা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

চলতি বছরের এমন এক সময় আমরা ওয়ার্ল্ড সাইট ডে (৮ অক্টোবর) পালিত হয় যখন সারা বিশ্বে করোনা সংক্রমণের ফলে আমরা অনেক কিছু স্বাভাবিকভাবে করতে পারছি না।

আমরা যদি অন্ধত্ব নিবারণ করতে চাই তাহলে আমাদের কয়েকটি কাজ করতে হবে-

(১) ছোট মাছ শাকসবজি ও হলুদ ফলমুল খেলে চোখের দৃষ্টি বাড়ে। (২) প্রতি ২০ মিনিট পর পর মোবাইল বা ল্যাপটপ বা টেলিভিশন দেখার পর ২০ ফুট দুরে ২০ সেকেন্ড তাকালে চোখের ব্যাথা ও মাথার ব্যাথা দূর হবে।

(৩) প্রতিনিয়ত চোখের যত্ন নিতে হবে বা চোখের যত্নে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া বা চশমার প্রয়োজন আছে কিনা চোখের কোনো সমস্যা আছে কিনা এগুলো নিয়মিত চেকআপ করা দরকার। কারো পরিবারের চোখের সমস্যা আছে কিনা পরিবারের কাছ থেকে জানতে হবে।

(৪) পুষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

(৫) নিয়মিত ব্যায়াম করা দরকার।

(৬) যে সমস্ত খাবার খেলে ডায়াবেটিক হয়, ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথি হয় সেসব খাবার বর্জন করা।

(৭) ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক রাখা ও গ্লুকোমা পরীক্ষার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে।

(৮) প্রেসক্রিপশন মোতাবেক ঔষধ ব্যবহার করা উচিৎ। গ্লুকোমার ঔষধ নিয়মিত ব্যবহার করতে হয়।

(৯) কোনো ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে যখন-তখন ব্যবহার করলে চোখের প্রেসার বেড়ে যেতে পারে বা চোখের ক্ষতি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ আবশ্যক।

আমরা যদি ধূমপান থেকে বিরত থাকি তবে ক্যাটারাক্ট এবং অন্যান্য চোখের সমস্যা থেকে আমরা মুক্ত হতে পারব। আমরা চোখের প্রটেকশন করব, যাতে করে কোনো আঘাত না লাগে। এই যে ওয়ার্ল্ড সাইট ডে বা বিশ্ব দৃষ্টি শক্তি সংরক্ষণ দিবস উৎযাপনের সময় সেমিনার সিম্পোজিয়াম ফেস্টুন প্লাকার্ড ব্যবহার করে সরকারি এবং বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা সৃষ্টি করলে অন্ধত্ব দূরীকরণে সক্ষম হওয়া যাবে। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালকে বিনামূল্যে রোগীদের সেবা করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। যে চক্ষু শিবিরের আয়োজন কর হয় তা অব্যাহত রাখতে হবে।

এই অন্ধত্ব দূরীকরণে সবার তৎপর হওয়া উচিৎ। প্রায় ৪৫ মিলিয়ন জনগণ ২০ বছর যাবত অন্ধ ছিল। কিভাবে এটাকে কমানো যায় সে তৎপরতায় ২০ শতাংশ কমানো গেছে। এখন ৩৬ মিলিয়ন লোক অন্ধ। ভিশন ২০২০ প্রকল্প থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। আরও সম্ভাব্য জনশক্তি বাড়াতে হবে, ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে, টেকনোলজি উন্নয়ন করতে হবে। তা হলেই প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব দূর করতে সক্ষম হব। যাদের দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে তাদের দৃষ্টি শক্তি সংরক্ষণ করার জন্য চশমার ব্যবহার বাড়াতে হবে। ছানি অপারেশনের মাধ্যমে অনেক রোগীকেই আমরা তাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হব।

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ
চেয়ারম্যান, কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগ
সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, সভাপতি ওএসবি ও সাবেক মাহসচিব বিএমএ