করোনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবদান
jugantor
করোনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবদান

  অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ  

১১ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩০:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি বাংলদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ থেকে আজকের এ উত্তরণ, যেখানে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়ার ইতিহাস। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে। তার সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কাঠামোগত রূপান্তর এবং উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশে সম্প্রতি মহামারী করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা নিয়ে বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর হার মাত্র ১.৪৫ শতাংশ; যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সংঙ্গে দরিদ্র মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতার পাশাপাশি জীবিকা ও অর্থনীতি বাঁচাতে তিনি নিয়েছেন নানান পদক্ষেপ; ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশসমূহ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক-নিদের্শনায় বাংলাদেশ বেশ ভালোভাবেই করোনাকে সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে। নারী নেতৃত্বের দিক থেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল এবং নিউজিল্যাডের প্রধানমন্ত্রী জেসিত্তা কেউ লরেলকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রম সেভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রকাশ পায়নি। তবে এ কথা সত্য যে, তার নিরলস পরিশ্রম অদম্য মনোবলের কারণে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের আগেই করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ ইতিবাচক সাফল্য অর্জন করেছে। জার্মানির আয়তন বাংলাদেশের প্রায় তিনগুণ আর জনসংখ্যা বাংলাদেশের অর্ধেক। অপরদিকে নিউজিল্যান্ডের আয়তন বাংলাদেশের দ্বিগুণ আর জনসংখ্যা বাংলাদেশের প্রায় পঁয়ত্রিশ ভাগের এক ভাগ। সেই হিসাবে বলা যায়, করোনা মোকাবেলায় বাংলদেশের তুলনায় উল্লেখিত দেশ দুটির কাজ সহজ ছিল। তাই সহজেই বলা যায়- দেশ দুটির সরকারপ্রধান করোনা মোকাবেলায় প্রশংসা কুড়িয়েছে। মূলত বিশাল আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা কম হওয়ার কারণে বাংলদেশের মতো ১৭ কোটি জনসংখ্যা জার্মানি ও নিউজিল্যন্ডে হলে দেশ দুটিতে কী হতো তা বলা মুশকিল। তাই জার্মানি ও নিউজিল্যান্ডের করোনা মোকাবেলা আর বাংলাদেশের করোনা মোকাবেলা একপাল্লায় মাপা ঠিক নয়। মূলত সীমিত আয়তন ও বিপুল জনসংখ্যার বাংলাদেশের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দৃঢ়চিত্তে তা মোকাবেলা করে চলেছেন। করোনা মোকাবেলায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন দিতে হয়েছে। আবার অর্থনীতির চাকা সচল করার জন্য যথাসময়ে ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে নেয়া হয়েছে।

লকডাউনের সময় ৫০ লাখ পরিবারের প্রত্যেককে ২৫০০ টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সহায়তা দেয়া সহজ কাজ ছিল না। ইতোমধ্যে চার কোটি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং পাশাপাশি ১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণ অব্যাহত আছে। করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নিজে পরিচালনা করছেন। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট আগের চেয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে, করোনার জন্য আলাদাভাবে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ১০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল।

করোনার ভয়াল থাবা যখন গোটা জাতিকে ভাবিয়ে তুলেছে ঠিক তখন দেশের বিভিন্ন জেলা ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হয়। বন্যা, করোনা ও আম্পানের কারণে অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন যে, বাংলাদেশ একটি বড় ধরনের দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এ অবস্থা সরকার হয়তো সামাল দিতে পারবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্ধান্তে বাংলাদেশকে সে অবস্থায় উপনীত হতে হয়নি।
করোনা মোকাবেলার পাশাপাশি সারা দেশে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে মশক নিধনে কার্যকর প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। করোনা মহামারীর এ সময়ে মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন। এডিস মশা হতে মুক্তি পেতে সামাজিক সচেনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঘর বা বাড়ির চারপাশে যেন পানি না জমে সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শীতকালে কোন কোন ক্ষেত্রে করোনার পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটতে পারে। আমাদের এ মুহূর্ত থেকেই মোকবেলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। সব কর্মক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে তা পালনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ প্রদান করেন। তাছাড়া সবাই যেন নির্দিষ্ট শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করেন তা তিনি উল্লেখ করেন। মাস্ক পরার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ও গণপরিবহনে এখনও অনেকে মাক্স পরিধান করেন না; যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মসজিদ, পূজামণ্ডপ, হাট-বাজারসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সবাইকে মাক্স পরিধান করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।
বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন মানবতার জননী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ থেকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে; যা মোটেও সোজা কাজ না। এসব একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সম্ভব হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, এমজিডি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গসমতা, কৃষি দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রফতানিমুখী শিল্পায়ন এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলে পোশাক শিল্প, ঔষধ শিল্প, রফতানি আয় বৃদ্ধিসহ নানান অর্থনৈতিক সূচক বৃদ্ধি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি ও পরিশ্রমের ফসল। এছাড়া চলমান রয়েছে- পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্পগুলো।
তাই আসুন আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদাত্ত আহবানে সাড়া দেই। আসুন দলমত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি; যা হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং মুজিববর্ষের সবার অঙ্গীকার।

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ
চেয়ারম্যান কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগ
চক্ষু বিশেষজ্ঞ
সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
সভাপতি ওএসবি ও সাবেক মহfসচিব বিএমএ

করোনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবদান

 অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ 
১১ নভেম্বর ২০২০, ১০:৩০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি বাংলদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ থেকে আজকের এ উত্তরণ, যেখানে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়ার ইতিহাস। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে। তার সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কাঠামোগত রূপান্তর এবং উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশে সম্প্রতি মহামারী করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা নিয়ে বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর হার মাত্র ১.৪৫ শতাংশ; যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সংঙ্গে দরিদ্র মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতার পাশাপাশি জীবিকা ও অর্থনীতি বাঁচাতে তিনি নিয়েছেন নানান পদক্ষেপ; ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশসমূহ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক-নিদের্শনায় বাংলাদেশ বেশ ভালোভাবেই করোনাকে সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে। নারী নেতৃত্বের দিক থেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল এবং নিউজিল্যাডের প্রধানমন্ত্রী জেসিত্তা কেউ লরেলকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রম সেভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রকাশ পায়নি। তবে এ কথা সত্য যে, তার নিরলস পরিশ্রম অদম্য মনোবলের কারণে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের আগেই করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ ইতিবাচক সাফল্য অর্জন করেছে। জার্মানির আয়তন বাংলাদেশের প্রায় তিনগুণ আর জনসংখ্যা বাংলাদেশের অর্ধেক। অপরদিকে নিউজিল্যান্ডের আয়তন বাংলাদেশের দ্বিগুণ আর জনসংখ্যা বাংলাদেশের প্রায় পঁয়ত্রিশ ভাগের এক ভাগ। সেই হিসাবে বলা যায়, করোনা মোকাবেলায় বাংলদেশের তুলনায় উল্লেখিত দেশ দুটির কাজ সহজ ছিল। তাই সহজেই বলা যায়- দেশ দুটির সরকারপ্রধান করোনা মোকাবেলায় প্রশংসা কুড়িয়েছে। মূলত বিশাল আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা কম হওয়ার কারণে বাংলদেশের মতো ১৭ কোটি জনসংখ্যা জার্মানি ও নিউজিল্যন্ডে হলে দেশ দুটিতে কী হতো তা বলা মুশকিল। তাই জার্মানি ও নিউজিল্যান্ডের করোনা মোকাবেলা আর বাংলাদেশের করোনা মোকাবেলা একপাল্লায় মাপা ঠিক নয়। মূলত সীমিত আয়তন ও বিপুল জনসংখ্যার বাংলাদেশের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দৃঢ়চিত্তে তা মোকাবেলা করে চলেছেন। করোনা মোকাবেলায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন দিতে হয়েছে। আবার অর্থনীতির চাকা সচল করার জন্য যথাসময়ে ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে নেয়া হয়েছে।

লকডাউনের সময় ৫০ লাখ পরিবারের প্রত্যেককে ২৫০০ টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সহায়তা দেয়া সহজ কাজ ছিল না। ইতোমধ্যে চার কোটি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং পাশাপাশি ১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণ অব্যাহত আছে। করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নিজে পরিচালনা করছেন। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট আগের চেয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে, করোনার জন্য আলাদাভাবে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ১০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল। 

করোনার ভয়াল থাবা যখন গোটা জাতিকে ভাবিয়ে তুলেছে ঠিক তখন দেশের বিভিন্ন জেলা ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হয়। বন্যা, করোনা ও আম্পানের কারণে অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন যে, বাংলাদেশ একটি বড় ধরনের দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এ অবস্থা সরকার হয়তো সামাল দিতে পারবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্ধান্তে বাংলাদেশকে সে অবস্থায় উপনীত হতে হয়নি।
করোনা মোকাবেলার পাশাপাশি সারা দেশে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে মশক নিধনে কার্যকর প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। করোনা মহামারীর এ সময়ে মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন। এডিস মশা হতে মুক্তি পেতে সামাজিক সচেনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঘর বা বাড়ির চারপাশে যেন পানি না জমে সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শীতকালে কোন কোন ক্ষেত্রে করোনার পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটতে পারে। আমাদের এ মুহূর্ত থেকেই মোকবেলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। সব কর্মক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে তা পালনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ প্রদান করেন। তাছাড়া সবাই যেন নির্দিষ্ট শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করেন তা তিনি উল্লেখ করেন। মাস্ক পরার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ও গণপরিবহনে এখনও অনেকে মাক্স পরিধান করেন না; যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মসজিদ, পূজামণ্ডপ, হাট-বাজারসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সবাইকে মাক্স পরিধান করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।
বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন মানবতার জননী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ থেকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে; যা মোটেও সোজা কাজ না। এসব একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সম্ভব হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, এমজিডি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গসমতা, কৃষি দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রফতানিমুখী শিল্পায়ন এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলে পোশাক শিল্প, ঔষধ শিল্প, রফতানি আয় বৃদ্ধিসহ নানান অর্থনৈতিক সূচক বৃদ্ধি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি ও পরিশ্রমের ফসল। এছাড়া চলমান রয়েছে- পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্পগুলো।
তাই আসুন আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদাত্ত আহবানে সাড়া দেই। আসুন দলমত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি; যা হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং মুজিববর্ষের সবার অঙ্গীকার।

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ
চেয়ারম্যান কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগ
চক্ষু বিশেষজ্ঞ
সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় 
সভাপতি ওএসবি ও সাবেক মহfসচিব বিএমএ