পরিকল্পনাবিদদের সঠিক মূল্যায়নে পরিকল্পিত বাংলাদেশ
jugantor
পরিকল্পনাবিদদের সঠিক মূল্যায়নে পরিকল্পিত বাংলাদেশ

  মো. শাহ জালাল মিশুক  

১২ নভেম্বর ২০২০, ২০:২৩:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদের পরিকল্পনা করতে জানে না- এ অভিযোগ বরাবরের। হা-হুতাশের উচ্চারণও বেশ শোনা যায়- আহা আগেই যদি পরিকল্পিতভাবে এই দেশটাকে গড়ে তোলা যেত; আজ নাগরিকদের এত ভোগান্তি হতো না। কেউ কেউ ইউরোপ-আমেরিকা এমনকি পাশের দেশ ভারত-মিয়ানমার-নেপাল ঘুরে এসেও বলেন- আহা ওদের দেশ কতটা গোছানো। উন্নয়ন পরিকল্পনায় ওরা কত এগিয়ে! বাংলাদেশের জন্য তেমন দিনটি কবে আসবে?

এ প্রশ্নের উত্তর এখন অনেকের কাছেই আছে। বাংলাদেশে এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে রূপকল্প-২০২১, ভিশন-২০২১ নামে; যা সমধিক পরিচিত। এ রূপকল্পে দেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়নও হয়ে গেছে কিংবা যাচ্ছে। আরও সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনায় এখন দেশ এগোচ্ছে ভিশন-২০৪১ এর পথেও। তাতে একটি উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হচ্ছে। আর বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ নিয়েও এখন কাজ করছে। যাতে পরিকল্পনাবিদরা সামনে রেখেছেন আগামী ১০০ বছরের বাংলাদেশ।

নগর হচ্ছে মনুষ্য তৈরি বিশালতম যন্ত্র বা সিস্টেম। সুপরিকল্পিতভাবে নির্মিত সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ সুসমন্বিতভাবে কাজ করার ফলে এ থেকে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যায়। শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা, বিনোদন, পর্যটন, আবাসন ইত্যাদিসহ সব নাগরিক কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত আন্তঃসম্পর্কের ভিত্তিতে স্থানিকভাবে বিন্যস্ত হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক প্রান্তর, জলাধার, বন ইত্যাদি। অন্যথায় নগরী ইট-কাঠের বস্তিতে পরিণত হয়। এ সবকিছুকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বশেষ সক্ষমতার ছোঁয়ায় নির্মিত অবকাঠামো ও পরিসেবার মাধ্যমে সচল ও যুক্ত করে নাগরিকদের ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনকে সহজ ও সুখময় করে তোলা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যায়। সেই সাথে মানুষের জীবনবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি হয় পরিবর্তিত। ফলে বদলে যায় মানুষের আকাঙ্ক্ষা, জীবন শৈলী। নগরীকে এই শতত পরিবর্তনশীলতা ধারণ করতে হয়। নয়তো সময়ের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন। সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জীবনবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি, মনন ও মনস্তত্ত্ব, অর্থ ও রাজনীতি ইত্যাদি সবকিছুর পরিবর্তনের গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য আগামীকে অনুধাবন এবং নগরের পরিসরের কাঙ্ক্ষিত বিন্যাসে ধারণ করার আগাম পরিকল্পনার গুরুদায়িত্ব পৃথিবীব্যাপী নগর পরিকল্পনাবিদ পালন করে থাকেন। সঙ্গতকারণেই তাদের সমাজ বিজ্ঞান, উন্নয়ন অর্থনীতি, ভূ-প্রকৃতি ও ভূমিরূপ, প্রাকৃতিক নিষ্কাশন যাতায়াত ব্যবস্থাসহ বহু বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হয়; যা তাদের এ জটিল মিথষ্ক্রিয়া বুঝতে ও ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সমাধান দিতে সক্ষম করে তোলে। পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় মাঠপর্যায়ে আর্থ-সামাজিক, ভৌত অবস্থা জানার জন্য জরিপ পরিচালনা, প্রাপ্ত ডাটা প্রক্রিয়া করে উদ্দিষ্ট তথ্যে রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞানও তারা অর্জন করে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার উপস্থাপনা তৈরি ও উপস্থাপন, রিপোর্ট ও ম্যাপ প্রস্তুতিতে সর্বশেষ প্রযুক্তির ব্যবহারে তাদের সক্ষম করে তোলা হয়। এ সক্ষমতা তাদের ভৌত পরিকল্পনা প্রণয়নে সক্ষম ও অনন্য করে তোলে।

দু:খজনক হলেও সত্য- আমাদের দেশে পরিকল্পনাবিদগণ তাদের দক্ষতা এবং যোগ্যতা কাজে লাগাতে পারছে না শুধু উপযুক্ত কর্মক্ষেত্রের অভাবে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম-কমিশনে নগর পরিকল্পনাবিদদের জন্য কোনো ক্যাডার সার্ভিস চালু নেই। অথচ দেশের অর্থে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত মেধাবী পরিকল্পনাবিদরা শুধু উপযুক্ত কর্মক্ষেত্রের অভাবে বর্তমানে বহি:বিশ্বে কর্মরত আছে এবং প্রতি বছর এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

বাংলাদেশের মতো জনবহুল একটি দেশে ভূমি স্বল্পতার বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে দেশের নগর, অঞ্চল ও গ্রামসমূহকে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এজন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রসমূহে ‘নগর ও অঞ্চল/গ্রাম পরিকল্পনা’ বিষয়ে উপযুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করে ‘নগর পরিকল্পনা ক্যাডারের’ মাধ্যমে পরিকল্পনাবিদদের নিয়োগ প্রদান এখন অপরিহার্য। দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়; যথা- যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রলণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে উপযুক্ত ক্যাডার সৃষ্টি করে পরিকল্পনাবিদ নিয়োগের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ক্যাডার সার্ভিসের মাধ্যমে নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ প্রদান করে পরিকল্পনাবিদদের জন্য উপযুক্ত সরকারি কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

৮ নভেম্বর ছিল বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস। পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও জাঁকজমকভাবে উদযাপিত হয় এ দিবসটি। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল- ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য নগর পরিকল্পনা’। এ প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর অনেক আলোচনা সভা, সেমিনার ইত্যাদি হয়। কিন্তু মোদ্দা কথা হল- নগরকে বাঁচাতে ও নগরীর সমস্যা সমাধানে প্রস্তুত নগর পরিকল্পনাবিদদের সঠিক স্থানে সঠিকভাবে কাজের সুযোগ না দিলে পরিকল্পিত বাংলাদেশ মুখে-মুখেই বিদ্যমান থাকবে, যেটা কারও জন্য শুভকর নয়। তাই এ দেশকে বাঁচাতে, নগরবাসীকে রক্ষা করতে অতিসত্বর নগর পরিকল্পনাবিদদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়নে কাজের সুযোগ দিয়ে পরিকল্পিত ও সোনার বাংলাদেশ গড়ায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

লেখক: মো. শাহ জালাল মিশুক, সহকারী অধ্যাপক, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, চুয়েট এবং বোর্ড মেম্বার (মেম্বারশিপ অ্যাফেয়ার্স), চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স।
মেইল: shahjalamisuk@gmail.com

পরিকল্পনাবিদদের সঠিক মূল্যায়নে পরিকল্পিত বাংলাদেশ

 মো. শাহ জালাল মিশুক 
১২ নভেম্বর ২০২০, ০৮:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদের পরিকল্পনা করতে জানে না- এ অভিযোগ বরাবরের। হা-হুতাশের উচ্চারণও বেশ শোনা যায়- আহা আগেই যদি পরিকল্পিতভাবে এই দেশটাকে গড়ে তোলা যেত; আজ নাগরিকদের এত ভোগান্তি হতো না। কেউ কেউ ইউরোপ-আমেরিকা এমনকি পাশের দেশ ভারত-মিয়ানমার-নেপাল ঘুরে এসেও বলেন- আহা ওদের দেশ কতটা গোছানো। উন্নয়ন পরিকল্পনায় ওরা কত এগিয়ে! বাংলাদেশের জন্য তেমন দিনটি কবে আসবে?

এ প্রশ্নের উত্তর এখন অনেকের কাছেই আছে। বাংলাদেশে এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে রূপকল্প-২০২১, ভিশন-২০২১ নামে; যা সমধিক পরিচিত। এ রূপকল্পে দেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়নও হয়ে গেছে কিংবা যাচ্ছে। আরও সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনায় এখন দেশ এগোচ্ছে ভিশন-২০৪১ এর পথেও। তাতে একটি উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হচ্ছে। আর বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ নিয়েও এখন কাজ করছে। যাতে পরিকল্পনাবিদরা সামনে রেখেছেন আগামী ১০০ বছরের বাংলাদেশ।

নগর হচ্ছে মনুষ্য তৈরি বিশালতম যন্ত্র বা সিস্টেম। সুপরিকল্পিতভাবে নির্মিত সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ সুসমন্বিতভাবে কাজ করার ফলে এ থেকে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যায়। শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা, বিনোদন, পর্যটন, আবাসন ইত্যাদিসহ সব নাগরিক কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত আন্তঃসম্পর্কের ভিত্তিতে স্থানিকভাবে বিন্যস্ত হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক প্রান্তর, জলাধার, বন ইত্যাদি। অন্যথায় নগরী ইট-কাঠের বস্তিতে পরিণত হয়। এ সবকিছুকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বশেষ সক্ষমতার ছোঁয়ায় নির্মিত অবকাঠামো ও পরিসেবার মাধ্যমে সচল ও যুক্ত করে নাগরিকদের ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনকে সহজ ও সুখময় করে তোলা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যায়। সেই সাথে মানুষের জীবনবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি হয় পরিবর্তিত। ফলে বদলে যায় মানুষের আকাঙ্ক্ষা, জীবন শৈলী। নগরীকে এই শতত পরিবর্তনশীলতা ধারণ করতে হয়। নয়তো সময়ের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন। সময়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জীবনবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি, মনন ও মনস্তত্ত্ব, অর্থ ও রাজনীতি ইত্যাদি সবকিছুর পরিবর্তনের গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য আগামীকে অনুধাবন এবং নগরের পরিসরের কাঙ্ক্ষিত বিন্যাসে ধারণ করার আগাম পরিকল্পনার গুরুদায়িত্ব পৃথিবীব্যাপী নগর পরিকল্পনাবিদ পালন করে থাকেন। সঙ্গতকারণেই তাদের সমাজ বিজ্ঞান, উন্নয়ন অর্থনীতি, ভূ-প্রকৃতি ও ভূমিরূপ, প্রাকৃতিক নিষ্কাশন যাতায়াত ব্যবস্থাসহ বহু বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হয়; যা তাদের এ জটিল মিথষ্ক্রিয়া বুঝতে ও ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সমাধান দিতে সক্ষম করে তোলে। পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় মাঠপর্যায়ে আর্থ-সামাজিক, ভৌত অবস্থা জানার জন্য জরিপ পরিচালনা, প্রাপ্ত ডাটা প্রক্রিয়া করে উদ্দিষ্ট তথ্যে রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞানও তারা অর্জন করে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার উপস্থাপনা তৈরি ও উপস্থাপন, রিপোর্ট ও ম্যাপ প্রস্তুতিতে সর্বশেষ প্রযুক্তির ব্যবহারে তাদের সক্ষম করে তোলা হয়। এ সক্ষমতা তাদের ভৌত পরিকল্পনা প্রণয়নে সক্ষম ও অনন্য করে তোলে।

দু:খজনক হলেও সত্য- আমাদের দেশে পরিকল্পনাবিদগণ তাদের দক্ষতা এবং যোগ্যতা কাজে লাগাতে পারছে না শুধু উপযুক্ত কর্মক্ষেত্রের অভাবে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম-কমিশনে নগর পরিকল্পনাবিদদের জন্য কোনো ক্যাডার সার্ভিস চালু নেই। অথচ দেশের অর্থে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত মেধাবী পরিকল্পনাবিদরা শুধু উপযুক্ত কর্মক্ষেত্রের অভাবে বর্তমানে বহি:বিশ্বে কর্মরত আছে এবং প্রতি বছর এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

বাংলাদেশের মতো জনবহুল একটি দেশে ভূমি স্বল্পতার বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে দেশের নগর, অঞ্চল ও গ্রামসমূহকে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এজন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রসমূহে ‘নগর ও অঞ্চল/গ্রাম পরিকল্পনা’ বিষয়ে উপযুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করে ‘নগর পরিকল্পনা ক্যাডারের’ মাধ্যমে পরিকল্পনাবিদদের নিয়োগ প্রদান এখন অপরিহার্য। দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়; যথা- যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রলণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে উপযুক্ত ক্যাডার সৃষ্টি করে পরিকল্পনাবিদ নিয়োগের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ক্যাডার সার্ভিসের মাধ্যমে নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ প্রদান করে পরিকল্পনাবিদদের জন্য উপযুক্ত সরকারি কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

৮ নভেম্বর ছিল বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস। পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও জাঁকজমকভাবে উদযাপিত হয় এ দিবসটি। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল- ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য নগর পরিকল্পনা’। এ প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর অনেক আলোচনা সভা, সেমিনার ইত্যাদি হয়। কিন্তু মোদ্দা কথা হল- নগরকে বাঁচাতে ও নগরীর সমস্যা সমাধানে প্রস্তুত নগর পরিকল্পনাবিদদের সঠিক স্থানে সঠিকভাবে কাজের সুযোগ না দিলে পরিকল্পিত বাংলাদেশ মুখে-মুখেই বিদ্যমান থাকবে, যেটা কারও জন্য শুভকর নয়। তাই এ দেশকে বাঁচাতে, নগরবাসীকে রক্ষা করতে অতিসত্বর নগর পরিকল্পনাবিদদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়নে কাজের সুযোগ দিয়ে পরিকল্পিত ও সোনার বাংলাদেশ গড়ায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

লেখক: মো. শাহ জালাল মিশুক, সহকারী অধ্যাপক, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, চুয়েট এবং বোর্ড মেম্বার (মেম্বারশিপ অ্যাফেয়ার্স), চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স।
মেইল: shahjalamisuk@gmail.com