পল্লীবন্ধুর অবর্তমানেও সুসংহত জাতীয় পার্টি
jugantor
পল্লীবন্ধুর অবর্তমানেও সুসংহত জাতীয় পার্টি

  খন্দকার দেলোয়ার জালালী  

০১ জানুয়ারি ২০২১, ০১:৩৪:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

পহেলা জানুয়ারি। দেশের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির শুভ জন্মদিন। ১৯৮৬ সালের এই দিনে সাবেক রাষ্ট্রপতি, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয় পার্টি। সেদিন দেশের গণতন্ত্র সুসংহত করতে জাতীয় পার্টির জন্ম ছিল অনিবার্য। দেশের উন্নয়ন, সুশাসন, অর্থ-সামাজিক মুক্তি আর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় পার্টির রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য।

বর্তমান একাদশ সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে জাতীয় পার্টি। দশম জাতীয় সংসদেও প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে রাজনৈতিক ঐতিহ্যসমৃদ্ধ দলটি।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে জাতীয় পার্টি। প্রায় তিন যুগে জাতীয় পার্টিকে নিশ্চিহ্ন করতে দেশি-বিদেশি অনেক চক্রান্তে আক্রান্ত হয়েছে দলটি। চক্রান্ত যখন সফল হয়নি, তখন শক্তি দিয়ে ভাঙনের মুখে ফেলা হয়েছে জননন্দিত দলটিকে। কিন্তু পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি সাধারণ মানুষের অনুরাগ আর লাঙ্গলের ওপর দেশবাসীর আস্থায় জাতীয় পার্টি এখনও রাজনীতির মাঠে ঐতিহ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে জাতীয় পার্টি।

২০১৯ সালের ৪ মে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শারীরিক অসুস্থতায় পল্লীবন্ধু জাতীয় পার্টি পরিচালনার দায়িত্ব দেন স্নেহের ছোট ভাইকে। বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে অত্যন্ত মেধাবী ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট থেকে পাস করা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। দেশ ও বিদেশে প্রশাসন পরিচালনায় ২৫ বছরের দক্ষতা রয়েছে তার। আর সুদীর্ঘ ৩০ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রয়েছে চড়াই-উতরাই পেরোনের শানিত অভিজ্ঞতা। এর মাঝে ৫ বছর অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। মন্ত্রণালয় পরিচালনায় কোন দুর্নাম বা কালিমা স্পর্শ করতে পারেনি তাকে। প্রশাসন পরিচালনায় দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা, ৩০ বছরের বিরোধী শিবিরে রাজনীতি এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার এমন গৌরবময় সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেই বললেই চলে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েই গোলাম মোহাম্মদ কাদের নানা প্রতিকূলতার মাঝেও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন, যা জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রমাণ করেছে। ২০১৯ সালের ২৪ থেকে ২৭ জুন চার দিনে রাজধানীতে ৮টি বিভাগের সাংগঠনিক সভা করেছেন। প্রতিদিন ২টি বিভাগের নেতারা প্রাণ খুলে কথা বলেছেন শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। শীর্ষ নেতারাও জেনেছেন বিভিন্ন শাখা কমিটির শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা। সেই অনুযায়ী নির্দেশনা দিয়েছেন পার্টির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

২০১৯ সালের ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মৃত্যুবরণ করেন। এমন বাস্তবতায় জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক ইতিহাসের বিশাল শূন্যতা এতটুকু স্পর্শ করতে পারেনি। গোলাম মোহাম্মদ কাদের অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় পার্টির। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন চত্বরে বিশাল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে দলটির। সম্মেলনে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উচ্ছ্বসিত স্লোগান আর মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে কণ্ঠভোটে তিন বছরের জন্য পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছোটভাই ও একাদশ সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে সমাদৃত জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি।

সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এমপিকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক নির্বাচিত করেন জাতীয় পার্টির নেতারা। রওশন এরশাদ যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিনই পৃষ্ঠপোষক পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন তিনি। তিনি জাতীয় পার্টির সবচেয়ে সম্মানিত পদে আসীন হবেন।

জাতীয় সম্মেলনের পরের দিন ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর দলের নেতৃত্ব আরও গতিশীল করতে ৭ জন কো-চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান। সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, মুজিবুল হক চুন্নু এমপি এবং অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি।

২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশের ৮টি বিভাগের সাংগঠনিক নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে ৮ জন অতিরিক্ত মহাসচিব নিয়োগ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তারা হলেন- গোলাম কিবরিয়া টিপু (বরিশাল), সাহিদুর রহমান টেপা (খুলনা), অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম (রাজশাহী), ফখরুল ইমাম এমপি (ময়মনসিংহ), এটিইউ তাজ রহমান (সিলেট), ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (রংপুর), অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া (চট্টগ্রাম) এবং লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি (ঢাকা)।

১৯৯০ সালে ক্ষমতা হস্তান্তর থেকে শুরু করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পরেও দেশের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই বলেছেন ,এরশাদের মৃত্যুর পরে জাতীয় পার্টি বিলীন হয়ে যাবে। অনেকেই বলেছেন- ভেঙে চূর্ন-বিচূর্ন হয়ে যাবে জাতীয় পার্টি। তাদের মন্তব্য ছিল- জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে যোগ দেবেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর অস্তিত্ব সংকটে পড়বে জাতীয় পার্টি।

কিন্তু পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পরে প্রমাণ হয়েছে জীবিত এরশাদের চেয়ে মৃত এরশাদ অনেক বেশি শক্তিশালী এবং জনপ্রিয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টি আরও বেশি শক্তিশালী, সুসংহত এবং ঐক্যবদ্ধ। এরশাদের অনুপস্থিতি নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যে কোনো প্রভাব ফেলেনি বরং আরও শক্ত হাতে দলের হাল ধরেছেন জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

৮ বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিবের নেতৃত্বে সারা দেশে জাতীয় পার্টি স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটিগুলো ঢেলে সাজানো হয়েছে। জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। মহামারী করোনার কারণে অনেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দলীয় কর্মকাণ্ড চলছেই।

সম্প্রতি জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহবায়ক করা হয়েছে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরিফা কাদেরকে। তিনি শুদ্ধসঙ্গীত চর্চায় অনন্য এক পথিকৃত। নান্দনিক উপস্থাপনায় জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির বেশ কিছু আয়োজন সবাইকে মুগ্ধ করেছে। ইতোমধ্যেই জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টি আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বিভিন্ন সমাবেশে প্রায়ই বলে থাকেন- জাতীয় পার্টি ক্ষয়িষ্ণু নয়, জাতীয় পার্টি একটি বর্ধিষ্ণু রাজনৈতিক দল। গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের বক্তব্যই সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতোই জাতীয় পার্টিতেও নানামুখী গ্রুপিং ছিল। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের একক নেতৃত্বের মধ্যেও কখনও কখনও লোভ ও ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করে অনেকেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দল ছেড়েছেন। কিন্তু পল্লীবন্ধুর মৃত্যুর পরে জাতীয় পার্টির ৯ম জাতীয় সম্মেলন সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছে। সব বিভেদ ভুলে দলকে আরও শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন সবাই। যারা দীর্ঘ দিন দলে নিষ্ক্রিয় ছিলেন তারাও এখন নিয়মিত দলের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
গেল তিন যুগে যারা ক্ষমতার লোভ আর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জাতীয় পার্টি ভেঙে ব্রাকেটবন্দি জাতীয় পার্টি সৃষ্টি করেছিলেন- তারাই বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। হতাশাগ্রস্ত সেসব নেতারা এখন জাতীয় পার্টিতে ফিরে আসতে যোগাযোগ করছেন।

শুধু দল গোছাতেই নয়, দেশের চলমান সব ইস্যুতেই জাতীয় পার্টির সক্রিয় ভূমিকা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে। সিন্ডিকেটের কারণে ২০১৯ সালে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পায়নি, কৃষকরা ধানক্ষেতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। কোরবানিতে চামড়ার মূল্য পায়নি খুচরা ব্যবসায়ীরা, প্রতিবাদে মাটিতে পুঁতেছিলেন চামড়া। তখন জাতীয় পার্টি মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আবার দেশের চাল রফতানির বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় পার্টি। এছাড়া জীবন ঘনিষ্ঠ সব ইস্যুতে সক্রিয় ছিল জাতীয় পার্টি।

করোনাকালে জাতীয় পার্টি সবচেয়ে সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে মাঠে রয়েছে। শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের নির্দেশে সারা দেশে নেতাকর্মীরা সাধ্যমতো ত্রাণ বিতরণ করেছেন। করোনার দুঃসহ ছোবলের সময়ে রাজধানীর গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপহার মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানটাইজার বিতরণ প্রশংসিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে ত্রাণ বিষয়ক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় পার্টি। এছাড়া করোনাকালে যখন সাধারণ রোগীরা স্বাভাবিক চিকিৎসা পাচ্ছিল না, তখন জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দেশবাসীর জন্য টেলিমেডিসিন সেবা নিশ্চিত করা হয়েছিল। করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এবং মৃতদের দাফন-কাফনের জন্যও প্রস্তুতি ছিল জাতীয় পার্টি। আবার দেশবাসীর জন্য বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবিও সর্বপ্রথম করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এছাড়া ধর্ষণ রোধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করতে সবার আগে সরকারের প্রতি আহবান জানান জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক শক্তি ও ভবিষ্যত প্রসঙ্গে পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেছেন, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নয়, দেশে উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করেছিল জাতীয় পার্টি। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশে উন্নয়নের যে ভিত্তি রচনা করেছেন, ১৯৯০ সালের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সেই ভিত্তির উপর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। জাতীয় পার্টির শাসনামলে দুর্নীতি, দুঃশাসন, অন্যায়, অবিচার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দলবাজি ছিল না। আইনের শাসন ছিল জাতীয় পার্টির শাসনামলে। তাই জাতীয় পার্টির প্রতি সাধারণ মানুষের আবারও আকর্ষণ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের মানুষ আবারও জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায়।

জাতীয় পার্টির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, জাতীয় পার্টি হবে রাজনীতির মাঠে ব্রান্ড। ব্রান্ডের একটি পণ্য ক্রেতারা অধিক মূল্য দিয়ে ক্রয় করেন। তেমনি জাতীয় পার্টি একটি ব্রান্ড রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে সমাদৃত হবে। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের দেশের মানুষ সম্মান করবে। অন্য আর দশটি রাজনৈতিক দলের চেয়ে জাতীয় পার্টিকে আলাদা চোখে মূল্যায়ন করবে সবাই। দেশ ও মানুষের স্বার্থে রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি কখনই মাথা নত করবে না। গণমানুষের অধিকারের প্রশ্নে কখনই আপস করবে না জাতীয় পার্টি। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করতে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে; কিন্তু সব ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে জাতীয় পার্টি সংগঠিতভাবে দুর্বারবেগে এগিয়ে যাবে।

৯ম জাতীয় সম্মেলনের আগেও যারা ভেবেছিলেন, জাতীয় পার্টি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যাচ্ছে- তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। নেতিবাচক ধারণার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আরও হতাশ করে ঐক্য দেখিয়েছে জাতীয় পার্টি। প্রমাণ দিয়েছেজাতীয় পার্টি, লাঙ্গল আর এরশাদের প্রশ্নে সবাই এক এবং ঐক্যবদ্ধ। নির্দ্বিধায় বলা যায়- আগামী দিনের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক শক্তি।

লেখক: খন্দকার দেলোয়ার জালালী

সাংবাদিক ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি-০২

পল্লীবন্ধুর অবর্তমানেও সুসংহত জাতীয় পার্টি

 খন্দকার দেলোয়ার জালালী 
০১ জানুয়ারি ২০২১, ০১:৩৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পহেলা জানুয়ারি। দেশের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির শুভ জন্মদিন। ১৯৮৬ সালের এই দিনে সাবেক রাষ্ট্রপতি, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয় পার্টি। সেদিন দেশের গণতন্ত্র সুসংহত করতে জাতীয় পার্টির জন্ম ছিল অনিবার্য। দেশের উন্নয়ন, সুশাসন, অর্থ-সামাজিক মুক্তি আর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় পার্টির রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য।

বর্তমান একাদশ সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে জাতীয় পার্টি। দশম জাতীয় সংসদেও প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে রাজনৈতিক ঐতিহ্যসমৃদ্ধ দলটি।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে জাতীয় পার্টি। প্রায় তিন যুগে জাতীয় পার্টিকে নিশ্চিহ্ন করতে দেশি-বিদেশি অনেক চক্রান্তে আক্রান্ত হয়েছে দলটি। চক্রান্ত যখন সফল হয়নি, তখন শক্তি দিয়ে ভাঙনের মুখে ফেলা হয়েছে জননন্দিত দলটিকে। কিন্তু পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি সাধারণ মানুষের অনুরাগ আর লাঙ্গলের ওপর দেশবাসীর আস্থায় জাতীয় পার্টি এখনও রাজনীতির মাঠে ঐতিহ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে জাতীয় পার্টি।

২০১৯ সালের ৪ মে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শারীরিক অসুস্থতায় পল্লীবন্ধু জাতীয় পার্টি পরিচালনার দায়িত্ব দেন স্নেহের ছোট ভাইকে। বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে অত্যন্ত মেধাবী ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট থেকে পাস করা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। দেশ ও বিদেশে প্রশাসন পরিচালনায় ২৫ বছরের দক্ষতা রয়েছে তার। আর সুদীর্ঘ ৩০ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রয়েছে চড়াই-উতরাই পেরোনের শানিত অভিজ্ঞতা। এর মাঝে ৫ বছর অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। মন্ত্রণালয় পরিচালনায় কোন দুর্নাম বা কালিমা স্পর্শ করতে পারেনি তাকে। প্রশাসন পরিচালনায় দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা, ৩০ বছরের বিরোধী শিবিরে রাজনীতি এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার এমন গৌরবময় সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেই বললেই চলে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েই গোলাম মোহাম্মদ কাদের নানা প্রতিকূলতার মাঝেও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন, যা জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রমাণ করেছে। ২০১৯ সালের ২৪ থেকে ২৭ জুন চার দিনে রাজধানীতে ৮টি বিভাগের সাংগঠনিক সভা করেছেন। প্রতিদিন ২টি বিভাগের নেতারা প্রাণ খুলে কথা বলেছেন শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। শীর্ষ নেতারাও জেনেছেন বিভিন্ন শাখা কমিটির শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা। সেই অনুযায়ী নির্দেশনা দিয়েছেন পার্টির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

২০১৯ সালের ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মৃত্যুবরণ করেন। এমন বাস্তবতায় জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক ইতিহাসের বিশাল শূন্যতা এতটুকু স্পর্শ করতে পারেনি। গোলাম মোহাম্মদ কাদের অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় পার্টির। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন চত্বরে বিশাল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে দলটির। সম্মেলনে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উচ্ছ্বসিত স্লোগান আর মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে কণ্ঠভোটে তিন বছরের জন্য পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছোটভাই ও একাদশ সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে সমাদৃত জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি।

সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এমপিকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক নির্বাচিত করেন জাতীয় পার্টির নেতারা। রওশন এরশাদ যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিনই পৃষ্ঠপোষক পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন তিনি। তিনি জাতীয় পার্টির সবচেয়ে সম্মানিত পদে আসীন হবেন।

জাতীয় সম্মেলনের পরের দিন ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর দলের নেতৃত্ব আরও গতিশীল করতে ৭ জন কো-চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান। সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, মুজিবুল হক চুন্নু এমপি এবং অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি।

২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশের ৮টি বিভাগের সাংগঠনিক নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে ৮ জন অতিরিক্ত মহাসচিব নিয়োগ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তারা হলেন- গোলাম কিবরিয়া টিপু (বরিশাল), সাহিদুর রহমান টেপা (খুলনা), অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম (রাজশাহী), ফখরুল ইমাম এমপি (ময়মনসিংহ), এটিইউ তাজ রহমান (সিলেট), ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (রংপুর), অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া (চট্টগ্রাম) এবং লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি (ঢাকা)।

১৯৯০ সালে ক্ষমতা হস্তান্তর থেকে শুরু করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পরেও দেশের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই বলেছেন ,এরশাদের মৃত্যুর পরে জাতীয় পার্টি বিলীন হয়ে যাবে। অনেকেই বলেছেন- ভেঙে চূর্ন-বিচূর্ন হয়ে যাবে জাতীয় পার্টি। তাদের মন্তব্য ছিল- জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে যোগ দেবেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর অস্তিত্ব সংকটে পড়বে জাতীয় পার্টি।

কিন্তু পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পরে প্রমাণ হয়েছে জীবিত এরশাদের চেয়ে মৃত এরশাদ অনেক বেশি শক্তিশালী এবং জনপ্রিয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টি আরও বেশি শক্তিশালী, সুসংহত এবং ঐক্যবদ্ধ। এরশাদের অনুপস্থিতি নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যে কোনো প্রভাব ফেলেনি বরং আরও শক্ত হাতে দলের হাল ধরেছেন জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

৮ বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিবের নেতৃত্বে সারা দেশে জাতীয় পার্টি স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটিগুলো ঢেলে সাজানো হয়েছে। জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। মহামারী করোনার কারণে অনেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দলীয় কর্মকাণ্ড চলছেই।

সম্প্রতি জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির আহবায়ক করা হয়েছে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরিফা কাদেরকে। তিনি শুদ্ধসঙ্গীত চর্চায় অনন্য এক পথিকৃত। নান্দনিক উপস্থাপনায় জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির বেশ কিছু আয়োজন সবাইকে মুগ্ধ করেছে। ইতোমধ্যেই জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টি আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বিভিন্ন সমাবেশে প্রায়ই বলে থাকেন- জাতীয় পার্টি ক্ষয়িষ্ণু নয়, জাতীয় পার্টি একটি বর্ধিষ্ণু রাজনৈতিক দল। গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের বক্তব্যই সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতোই জাতীয় পার্টিতেও নানামুখী গ্রুপিং ছিল। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের একক নেতৃত্বের মধ্যেও কখনও কখনও লোভ ও ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করে অনেকেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দল ছেড়েছেন। কিন্তু পল্লীবন্ধুর মৃত্যুর পরে জাতীয় পার্টির ৯ম জাতীয় সম্মেলন সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছে। সব বিভেদ ভুলে দলকে আরও শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন সবাই। যারা দীর্ঘ দিন দলে নিষ্ক্রিয় ছিলেন তারাও এখন নিয়মিত দলের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
গেল তিন যুগে যারা ক্ষমতার লোভ আর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জাতীয় পার্টি ভেঙে ব্রাকেটবন্দি জাতীয় পার্টি সৃষ্টি করেছিলেন- তারাই বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। হতাশাগ্রস্ত সেসব নেতারা এখন জাতীয় পার্টিতে ফিরে আসতে যোগাযোগ করছেন।

শুধু দল গোছাতেই নয়, দেশের চলমান সব ইস্যুতেই জাতীয় পার্টির সক্রিয় ভূমিকা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে। সিন্ডিকেটের কারণে ২০১৯ সালে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পায়নি, কৃষকরা ধানক্ষেতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। কোরবানিতে চামড়ার মূল্য পায়নি খুচরা ব্যবসায়ীরা, প্রতিবাদে মাটিতে পুঁতেছিলেন চামড়া। তখন জাতীয় পার্টি মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আবার দেশের চাল রফতানির বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় পার্টি। এছাড়া জীবন ঘনিষ্ঠ সব ইস্যুতে সক্রিয় ছিল জাতীয় পার্টি।

করোনাকালে জাতীয় পার্টি সবচেয়ে সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে মাঠে রয়েছে। শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের নির্দেশে সারা দেশে নেতাকর্মীরা সাধ্যমতো ত্রাণ বিতরণ করেছেন। করোনার দুঃসহ ছোবলের সময়ে রাজধানীর গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপহার মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানটাইজার বিতরণ প্রশংসিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে ত্রাণ বিষয়ক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় পার্টি। এছাড়া করোনাকালে যখন সাধারণ রোগীরা স্বাভাবিক চিকিৎসা পাচ্ছিল না, তখন জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দেশবাসীর জন্য টেলিমেডিসিন সেবা নিশ্চিত করা হয়েছিল। করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এবং মৃতদের দাফন-কাফনের জন্যও প্রস্তুতি ছিল জাতীয় পার্টি। আবার দেশবাসীর জন্য বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবিও সর্বপ্রথম করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এছাড়া ধর্ষণ রোধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করতে সবার আগে সরকারের প্রতি আহবান জানান জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক শক্তি ও ভবিষ্যত প্রসঙ্গে পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেছেন, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নয়, দেশে উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করেছিল জাতীয় পার্টি। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশে উন্নয়নের যে ভিত্তি রচনা করেছেন, ১৯৯০ সালের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সেই ভিত্তির উপর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। জাতীয় পার্টির শাসনামলে দুর্নীতি, দুঃশাসন, অন্যায়, অবিচার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দলবাজি ছিল না। আইনের শাসন ছিল জাতীয় পার্টির শাসনামলে। তাই জাতীয় পার্টির প্রতি সাধারণ মানুষের আবারও আকর্ষণ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের মানুষ আবারও জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায়।

জাতীয় পার্টির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, জাতীয় পার্টি হবে রাজনীতির মাঠে ব্রান্ড। ব্রান্ডের একটি পণ্য ক্রেতারা অধিক মূল্য দিয়ে ক্রয় করেন। তেমনি জাতীয় পার্টি একটি ব্রান্ড রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে সমাদৃত হবে। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের দেশের মানুষ সম্মান করবে। অন্য আর দশটি রাজনৈতিক দলের চেয়ে জাতীয় পার্টিকে আলাদা চোখে মূল্যায়ন করবে সবাই। দেশ ও মানুষের স্বার্থে রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি কখনই মাথা নত করবে না। গণমানুষের অধিকারের প্রশ্নে কখনই আপস করবে না জাতীয় পার্টি। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করতে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে; কিন্তু সব ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে জাতীয় পার্টি সংগঠিতভাবে দুর্বারবেগে এগিয়ে যাবে।

৯ম জাতীয় সম্মেলনের আগেও যারা ভেবেছিলেন, জাতীয় পার্টি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যাচ্ছে- তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। নেতিবাচক ধারণার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আরও হতাশ করে ঐক্য দেখিয়েছে জাতীয় পার্টি। প্রমাণ দিয়েছে জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল আর এরশাদের প্রশ্নে সবাই এক এবং ঐক্যবদ্ধ। নির্দ্বিধায় বলা যায়- আগামী দিনের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক শক্তি।

লেখক: খন্দকার দেলোয়ার জালালী

সাংবাদিক ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি-০২