আইজিপির কাছে বিএসএমএমইউ’র সাবেক উপাচার্যের খোলা চিঠি
jugantor
আইজিপির কাছে বিএসএমএমইউ’র সাবেক উপাচার্যের খোলা চিঠি

  অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান  

০৬ জানুয়ারি ২০২১, ০৪:৪৬:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল, বারডেমসহ দেশের সকল হাসপাতালের আশেপাশের রাস্তায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদের কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন বরেণ্য চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান।

মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ চিঠি লিখেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন এই চিকিৎসক। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ছিলেন।

নিজের আইডিতে পোস্ট করা চিঠিতে কামরুল হাসান লিখেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে শাহবাগ চত্বর থেকে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল মোড় পর্যন্ত এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব হাসপাতালের আশেপাশের রাস্তায় শব্দ নিয়ন্ত্রণে সম্মানিত আইজিপি জনাব ড. বেনজীর আহমেদের কাছে খোলা চিঠি।’

চিঠির দ্বিতীয় ধাপে লেখা হয়,‘আমি গত কয়েক দিন যাবত সস্ত্রীক করোনা আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি আছি। আপনি নিশ্চয় জানেন, শাহবাগস্থ দেশের সবচেয়ে বড় এই হাসপাতাল এবং বারডেম হাসপাতালে প্রচুর রোগী ভর্তি থাকে সারা বছর। অথচ দুঃখের বিষয়, রাস্তায় চলাচলরত যানবাহন ও হর্ণের শব্দের জন্য প্রতিটি রোগীকে ২৪ ঘন্টাই বিকট শব্দের শিকার হতে হয়। অথচ অসুস্থতাবস্তায় রোগীর ভালো ঘুমের দরকার।’

নিদ্রাহীনতা অসুস্থতা আরও বাড়িয়ে দেয়- একথা উল্লেখ করে খোলা চিঠিতে এই সাবেক উপাচার্য লিখেছেন, ‘রোগীরা এমনিতেই মানসিকভাবে পর্যুদস্ত থাকে। এর মধ্যে কান ফাটানো ভয়ঙ্কর শব্দে সব রোগী আরও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। আমরা জানি, ইতোমধ্যে অনেক জনহিতকর কর্মসূচী সাহসিকতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছেন আপনি। দেশের মানুষ সেকথা মনেও রেখেছে। বিশেষ করে জঙ্গী দমনের মতো চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, জীবননাশক ওষুধ মেশানো বা খাদ্যে ভেজাল রোধ ইত্যাদি। আমি বিএসএমএমইউ-র উপাচার্য থাকা অবস্থায় শাহবাগে বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও হাসপাতালের চারপাশে হকার উচ্ছেদে আপনার সক্রিয় সহযোগিতা সব সময় পেয়েছি যা স্মরণীয় হয়ে আছে।’

খোলা চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের যুগে যান চলাচল আরও বৃদ্ধি পাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এতো বড়ো দুটো হাসপাতালের আশেপাশে শব্দদূষণ রোগীদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই শব্দদূষণ থেকে দেশবাসীকে তথা রোগীদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে আপনার জরুরি দৃষ্টি কামনা করছি। আশাকরি, আপনার বিশেষ উদ্যোগে এবার জরুরি গুরুত্বপূর্ণ এই সমস্যার সমাধান হবে। আপনি অবিলম্বে শাহবাগ এলাকাসহ দেশের সকল হাসপাতালের আশেপাশের সড়কগুলোতে শব্দ নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাধিত করুন। আপনার প্রতি দেশবাসীর গভীর আস্থা রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান আপনার মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য অশেষ শুভ কামনা।’

আইজিপির কাছে বিএসএমএমইউ’র সাবেক উপাচার্যের খোলা চিঠি

 অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান 
০৬ জানুয়ারি ২০২১, ০৪:৪৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল, বারডেমসহ দেশের সকল হাসপাতালের আশেপাশের রাস্তায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদের কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন বরেণ্য চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান।

মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ চিঠি লিখেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন এই চিকিৎসক। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ছিলেন।

নিজের আইডিতে পোস্ট করা চিঠিতে কামরুল হাসান লিখেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে শাহবাগ চত্বর থেকে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল মোড় পর্যন্ত এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব হাসপাতালের আশেপাশের রাস্তায় শব্দ নিয়ন্ত্রণে সম্মানিত আইজিপি জনাব ড. বেনজীর আহমেদের কাছে খোলা চিঠি।’

চিঠির দ্বিতীয় ধাপে লেখা হয়,‘আমি গত কয়েক দিন যাবত সস্ত্রীক করোনা আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি আছি। আপনি নিশ্চয় জানেন, শাহবাগস্থ দেশের সবচেয়ে বড় এই হাসপাতাল এবং বারডেম হাসপাতালে প্রচুর রোগী ভর্তি থাকে সারা বছর। অথচ দুঃখের বিষয়, রাস্তায় চলাচলরত যানবাহন ও হর্ণের শব্দের জন্য প্রতিটি রোগীকে ২৪ ঘন্টাই বিকট শব্দের শিকার হতে হয়। অথচ অসুস্থতাবস্তায় রোগীর ভালো ঘুমের দরকার।’

নিদ্রাহীনতা অসুস্থতা আরও বাড়িয়ে দেয়- একথা উল্লেখ করে খোলা চিঠিতে এই সাবেক উপাচার্য লিখেছেন, ‘রোগীরা এমনিতেই মানসিকভাবে পর্যুদস্ত থাকে। এর মধ্যে কান ফাটানো ভয়ঙ্কর শব্দে সব রোগী আরও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। আমরা জানি, ইতোমধ্যে অনেক জনহিতকর কর্মসূচী সাহসিকতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছেন আপনি। দেশের মানুষ সেকথা মনেও রেখেছে। বিশেষ করে জঙ্গী দমনের মতো চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, জীবননাশক ওষুধ মেশানো বা খাদ্যে ভেজাল রোধ ইত্যাদি। আমি বিএসএমএমইউ-র উপাচার্য থাকা অবস্থায় শাহবাগে বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও হাসপাতালের চারপাশে হকার উচ্ছেদে আপনার সক্রিয় সহযোগিতা সব সময় পেয়েছি যা স্মরণীয় হয়ে আছে।’

খোলা চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের যুগে যান চলাচল আরও বৃদ্ধি পাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এতো বড়ো দুটো হাসপাতালের আশেপাশে শব্দদূষণ রোগীদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই শব্দদূষণ থেকে দেশবাসীকে তথা রোগীদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে আপনার জরুরি দৃষ্টি কামনা করছি। আশাকরি, আপনার বিশেষ উদ্যোগে এবার জরুরি গুরুত্বপূর্ণ এই সমস্যার সমাধান হবে। আপনি অবিলম্বে শাহবাগ এলাকাসহ দেশের সকল হাসপাতালের আশেপাশের সড়কগুলোতে শব্দ নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাধিত করুন। আপনার প্রতি দেশবাসীর গভীর আস্থা রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান আপনার মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য অশেষ শুভ কামনা।’