‘স্যারের জন্য জীবন আমার, স্যারের জন্য মরণ’
jugantor
‘স্যারের জন্য জীবন আমার, স্যারের জন্য মরণ’

  রাজীব কুমার দাশ  

১৯ জানুয়ারি ২০২১, ২২:১৬:৫৪  |  অনলাইন সংস্করণ

ফেসবুকেরকল্যাণে শুনেছি- বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের গান ‘আমার হাত বান্ধিবি, পা বান্ধিবি, মন বান্ধিবি কেমনে?’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে সব বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, কলম সৈনিক হিটলারের বিরুদ্ধে অদৃশ্য কিছু একটা করতে চেয়েছেন; হিটলার এসব বিজ্ঞানী বুদ্ধিজীবীদের গ্যাস চেম্বারে পুড়িয়ে মেরে ফেলেছেন।

এমনকী বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন পর্যন্ত মার্কিন মুলুক পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন। প্রাচীনযুগ হতে আধুনিক ডিজিটাল যুগে ও বিশ্বজুড়ে লেখক-কবি কেউ কী তাদের মনের খেদোক্তি-বক্রোক্তি নিয়ে মনের গোপন বাসর ঘরের কথা প্রকাশ করতে পেরেছেন!

মসীতে উঠে আসে সমাজের অবহেলিত নিষ্পেষিত, বঞ্চিত, আশাভঙ্গ হতাশ মানুষের প্রতিচ্ছবি। সময়ের সুবিধা দলে নাম লিখিয়ে হিটলার স্তুতি করে অনেক মহান বুদ্ধিজীবী সারাবিশ্বে দাপিয়ে হিটলারের গণহত্যাকে সমর্থন করেছেন।

এ মসীনিন্দিত-নন্দিত মহাজন উত্তরসূরি প্রজন্মদের এখনো সারাবিশ্বে সরকারি-বেসরকারি কর্তা, রাষ্ট্রযন্ত্রের সবখানে হিটলার বন্দনায় চর্বিত চর্বণ চলছে। সবার মন-প্রাণ বেঁধে ‘পাপ তোমার, টাকা সুবিধা আমার’ নীতিতে মহামানব-মহাদানব হয়ে রাতারাতি সবকিছুই ভাগিয়ে নিচ্ছেন।

ডিজিটাল সময়ে বাসর রাতের চালাক স্বামী-স্ত্রী ডিজিটাল প্রযুক্তি মন-প্রাণ দিয়ে একে অপরের সবকিছু বাঁধার চেষ্টা চালিয়ে যান। যে যতো বেশি ধুরন্ধর! বডি-ল্যাংগুয়েজ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বারতা নিয়ে যে যতোটা এগিয়ে, সে ততোটা মন-প্রাণ এমনকী একে অপরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বটা পর্যস্ত দিয়ে ‘সংসার সুখী হয় অর্থ-বিত্তের গুণে’ বাসর শেষ করেন। মানে এখন কারোর মন বাঁধার দরকার নেই। সুযোগ, পরিস্থিতি, সময়ের অটোমেশন হয়ে সব বেঁধে ফেলেন।

সরকারি-বেসরকারি অফিসের ‘স্যার’ নামের মহামানব প্রাণীটি লিকুইড মানি তারল্য সংকটে পড়ে মাঝে -মাঝে রাশভারী হয়ে পড়েন। অফিসের পিয়ন হতে সবার হাত পা মন বেঁধে মনের আতাল-পাতাল সাহিত্যে ‘এখন যৌবন যার সৎ হবার শ্রেষ্ঠ সময় তার’ বটিকা খাইয়ে গাজন গানে ঘুম পাড়িয়ে রাতারাতি সব করে নেন।

পিয়ন সাহেব ও জনগণ স্যারের গুণের ত্রিফলা খেয়ে যখন জেগে দেখেন, তাদের স্যার নামের প্রাণীটি আসলেই ‘দ্বিপদী গোলআলু সবজি’ তখন স্যার সবার মুখ বেঁধে প্যাকেট পটেটো টিপস হয়ে রাজদরবার -রাজকোষ সামলে নিচ্ছেন। তখন হা-পিত্যেশ করা ছাড়া কিছু করার থাকে না।

পৃথিবীর সব স্যারই এখন ডিজিটাল ভয়ঙ্কর। রাজনীতি সমরনীতি অর্থনীতি বেশ্যানীতি মসীনীতি সব নীতিতে গুচ্ছ-গুচ্ছ একরাশ হতাশা প্রতারণা! কী প্রকারের প্রতারণা-ভণ্ডামি দিয়ে কার- কখন- কোথায় কীভাবে মন-প্রাণ হাত পা এমনকী আবেগ-অনুরাগ বেঁধে ‘স্যার’ নামের প্রাণীটি গোলআলু হয়ে আমজনতার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

পৃথিবীজুড়ে বিচারের নামে চলছে স্যারদের প্রহসন নাটক। ন্যায় বিচার পেতে আমজনতার মরার পরে ও রেহাই মিলছে না, কোথায়, কখন, কীভাবে কে দেখেছে, কে শুনেছে, কে বলেছে! বার-বার সময় নেয়া, মানবাধিকার, হেয়ালিপনা তদন্ত, দুর্বল-সবল চার্জশিট, চার্জ গঠনের সময়ে খালাস, আবার চার্জ গঠনের পরে দুর্বল সাক্ষ্যপ্রমাণ, যুক্তিতর্ক, স্থায়ী-অস্থায়ী জামিন, রায়, আপিল, খালাস নিয়ে এক সময় বিচারপ্রার্থীর অবশিষ্ট যা কিছু আছে! তা সব বিজ্ঞ পাটের মতো সাদা চুল, পুরু চশমা অভিজ্ঞ স্যারদের খাইয়ে নিজেই একবুক হতাশা নিয়ে পৃথিবী হতে চলে যান। মরার আগে পাগল হয়ে গান ধরেন ‘স্যারের জন্য জীবন আমার, স্যারের জন্য মরণ, মরণের পরে করিবেন স্যার আমায়... একটুখানি স্মরণ।’

পৃথিবীজুড়ে থাকা অমানবীয় your excellency My lord স্যার সংস্কৃতি হতে সবাইকে নিজেদের প্রয়োজনে বেরিয়ে আসতে হবে।পৃথিবীজুড়ে যতোই নতুন-নতুন রেনেসাঁ সভ্যতা আনার চেষ্টা করুক, চলুক- বলুক না কেন; স্যার সংস্কৃতি আঁতুড়ঘরে অজগর সাপ হয়ে সে নবজাগরণ সংস্কৃতি গিলে সবাইকে Rip (rest in peace) রসিকরাজ হয়ে চির নির্মমতার ঘুম পাড়িয়ে দিবেন।

লেখক: রাজীব কুমার দাশ, প্রাবন্ধিক ও কবি, পুলিশ পরিদর্শক
ইমেইল: rajibkumarvandari800 @gmail.com

‘স্যারের জন্য জীবন আমার, স্যারের জন্য মরণ’

 রাজীব কুমার দাশ 
১৯ জানুয়ারি ২০২১, ১০:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফেসবুকের কল্যাণে শুনেছি- বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের গান ‘আমার হাত বান্ধিবি, পা বান্ধিবি, মন বান্ধিবি কেমনে?’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে সব বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, কলম সৈনিক হিটলারের বিরুদ্ধে অদৃশ্য কিছু একটা করতে চেয়েছেন; হিটলার এসব বিজ্ঞানী বুদ্ধিজীবীদের গ্যাস চেম্বারে পুড়িয়ে মেরে ফেলেছেন।

এমনকী বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন পর্যন্ত মার্কিন মুলুক পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন। প্রাচীনযুগ হতে আধুনিক ডিজিটাল যুগে ও বিশ্বজুড়ে লেখক-কবি কেউ কী তাদের মনের খেদোক্তি-বক্রোক্তি নিয়ে মনের গোপন বাসর ঘরের কথা প্রকাশ করতে পেরেছেন!

মসীতে উঠে আসে সমাজের অবহেলিত নিষ্পেষিত, বঞ্চিত, আশাভঙ্গ হতাশ মানুষের প্রতিচ্ছবি। সময়ের সুবিধা দলে নাম লিখিয়ে হিটলার স্তুতি করে অনেক মহান বুদ্ধিজীবী সারাবিশ্বে দাপিয়ে হিটলারের গণহত্যাকে সমর্থন করেছেন।

এ মসীনিন্দিত-নন্দিত মহাজন উত্তরসূরি প্রজন্মদের এখনো সারাবিশ্বে সরকারি-বেসরকারি কর্তা, রাষ্ট্রযন্ত্রের সবখানে হিটলার বন্দনায় চর্বিত চর্বণ চলছে। সবার মন-প্রাণ বেঁধে ‘পাপ তোমার, টাকা সুবিধা আমার’ নীতিতে মহামানব-মহাদানব হয়ে রাতারাতি সবকিছুই ভাগিয়ে নিচ্ছেন।

ডিজিটাল সময়ে বাসর রাতের চালাক স্বামী-স্ত্রী ডিজিটাল প্রযুক্তি মন-প্রাণ দিয়ে একে অপরের সবকিছু বাঁধার চেষ্টা চালিয়ে যান। যে যতো বেশি ধুরন্ধর! বডি-ল্যাংগুয়েজ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বারতা নিয়ে যে যতোটা এগিয়ে, সে ততোটা মন-প্রাণ এমনকী একে অপরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বটা পর্যস্ত দিয়ে ‘সংসার সুখী হয় অর্থ-বিত্তের গুণে’ বাসর শেষ করেন। মানে এখন কারোর মন বাঁধার দরকার নেই। সুযোগ, পরিস্থিতি, সময়ের অটোমেশন হয়ে সব বেঁধে ফেলেন।

সরকারি-বেসরকারি অফিসের ‘স্যার’ নামের মহামানব প্রাণীটি লিকুইড মানি তারল্য সংকটে পড়ে মাঝে -মাঝে রাশভারী হয়ে পড়েন। অফিসের পিয়ন হতে সবার হাত পা মন বেঁধে মনের আতাল-পাতাল সাহিত্যে ‘এখন যৌবন যার সৎ হবার শ্রেষ্ঠ সময় তার’ বটিকা খাইয়ে গাজন গানে ঘুম পাড়িয়ে রাতারাতি সব করে নেন।

পিয়ন সাহেব ও জনগণ স্যারের গুণের ত্রিফলা খেয়ে যখন জেগে দেখেন, তাদের স্যার নামের প্রাণীটি আসলেই ‘দ্বিপদী গোলআলু সবজি’ তখন স্যার সবার মুখ বেঁধে প্যাকেট পটেটো টিপস হয়ে রাজদরবার -রাজকোষ সামলে নিচ্ছেন। তখন হা-পিত্যেশ করা ছাড়া কিছু করার থাকে না।

পৃথিবীর সব স্যারই এখন ডিজিটাল ভয়ঙ্কর। রাজনীতি সমরনীতি অর্থনীতি বেশ্যানীতি মসীনীতি সব নীতিতে গুচ্ছ-গুচ্ছ একরাশ হতাশা প্রতারণা! কী প্রকারের প্রতারণা-ভণ্ডামি দিয়ে কার- কখন- কোথায় কীভাবে মন-প্রাণ হাত পা এমনকী আবেগ-অনুরাগ বেঁধে ‘স্যার’ নামের প্রাণীটি গোলআলু হয়ে আমজনতার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

পৃথিবীজুড়ে বিচারের নামে চলছে স্যারদের প্রহসন নাটক। ন্যায় বিচার পেতে আমজনতার মরার পরে ও রেহাই মিলছে না, কোথায়, কখন, কীভাবে কে দেখেছে, কে শুনেছে, কে বলেছে! বার-বার সময় নেয়া, মানবাধিকার, হেয়ালিপনা তদন্ত, দুর্বল-সবল চার্জশিট, চার্জ গঠনের সময়ে খালাস, আবার চার্জ গঠনের পরে দুর্বল সাক্ষ্যপ্রমাণ, যুক্তিতর্ক, স্থায়ী-অস্থায়ী জামিন, রায়, আপিল, খালাস নিয়ে এক সময় বিচারপ্রার্থীর অবশিষ্ট যা কিছু আছে! তা সব বিজ্ঞ পাটের মতো সাদা চুল, পুরু চশমা অভিজ্ঞ স্যারদের খাইয়ে নিজেই একবুক হতাশা নিয়ে পৃথিবী হতে চলে যান। মরার আগে পাগল হয়ে গান ধরেন ‘স্যারের জন্য জীবন আমার, স্যারের জন্য মরণ, মরণের পরে করিবেন স্যার আমায়... একটুখানি স্মরণ।’

পৃথিবীজুড়ে থাকা অমানবীয় your excellency My lord স্যার সংস্কৃতি হতে সবাইকে নিজেদের প্রয়োজনে বেরিয়ে আসতে হবে।পৃথিবীজুড়ে যতোই নতুন-নতুন রেনেসাঁ সভ্যতা আনার চেষ্টা করুক, চলুক- বলুক না কেন; স্যার সংস্কৃতি আঁতুড়ঘরে অজগর সাপ হয়ে সে নবজাগরণ সংস্কৃতি গিলে সবাইকে Rip (rest in peace) রসিকরাজ হয়ে চির নির্মমতার ঘুম পাড়িয়ে দিবেন।

লেখক: রাজীব কুমার দাশ, প্রাবন্ধিক ও কবি, পুলিশ পরিদর্শক
ইমেইল: rajibkumarvandari800 @gmail.com