শুভ জন্মদিন জনবন্ধু জিএম কাদের
jugantor
শুভ জন্মদিন জনবন্ধু জিএম কাদের

  খন্দকার দেলোয়ার জালালী  

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৮:৪৮:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

২৪ ফেব্রুয়ারি। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপির শুভ জন্মদিন। একজন স্বচ্ছ ও সাদা মনের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ইতোমধ্যেই দেশের রাজনীতিতে সুপরিচিত সজ্জন ব্যক্তি তিনি। দেশ ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন এক আদর্শবান রাজনৈতিক দিকপাল। শিক্ষা, কর্ম এবং রাজনৈতিক জীবনে অসাধারণ সাফল্যময় এক জীবনের নাম গোলাম মোহাম্মদ কাদের। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি জিএম কাদের নামেই সুপরিচিত।

১৯৪৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত আইজীবী প্রয়াত অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন ও মজিদা খাতুনের সন্তান তিনি। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদরের ছোট ভাই। গোলাম মোহাম্মদ কাদের ছাত্রজীবনেই অত্যন্ত মেধাবী হিসেব কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তার স্ত্রী দেশবরেণ্য সঙ্গীত শিল্পী শেরিফা কাদের। ছেলে সামস্ কাদের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে কানাডা আছেন। আর কন্যা ইসরাত জাহান কাদের স্বপরিবারে থাকছেন অস্ট্রেলিয়াতে। সন্তানরা বেড়ে উঠেছে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চায়। তার পরিবার জুড়ে সাংস্কৃতিক আবহ বিদ্যমান।

২০১৯ সালের ৪ মে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শারীরিক অসুস্থতায় পল্লীবন্ধু জাতীয় পার্টি পরিচালনার দায়িত্ব দেন স্নেহের ছোট ভাইকে।

বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে অত্যন্ত মেধাবী ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট থেকে পাশ করা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার।

দেশ ও বিদেশে প্রশাসন পরিচালনায় ২৫ বছরের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আর সুদীর্ঘ ৩০ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রয়েছে চড়াই উৎরাই পেরোনের শাণিত অভিজ্ঞতা। এর মাঝে ৫ বছর অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। মন্ত্রণালয় পরিচালনায় কোনো দুর্নাম বা কালিমা স্পর্শ করতে পারেনি তাকে। প্রশাসন পরিচালনায় দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা, ৩০ বছরের বিরোধী শিবিরে রাজনীতি এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার এমন গৌরবময় সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেই বললেই চলে।

প্রকৌশলী হিসেবে শিক্ষাজীবন শেষ করে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন কর্মজীবনেও। নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে মেকানিক্যাল প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। পরবর্তীতে বাংলাদেশ টোবাকো, ইরাকের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং যমুনা তেল কোম্পানিতে সুনামের সাথে চাকরি করেছেন তিনি। সবশেষ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে পরিকল্পনা ও অপারেশন্স পরিচালক হিসেবে সাফল্যময় কর্মজীবনে ইতি টেনে রাজনীতিতে সক্রিয় হন গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

বড় ভাই ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যতদিন রাষ্ট্র ক্ষমতা শীর্ষে ছিলেন, ততদিন গোলাম মোহাম্মদ কাদের নিজেকে আড়ালেই রেখেছেন। তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী পল্লীবন্ধু রাষ্ট্র ক্ষমতা হস্থান্তর করলে, তৎকালীন সরকার প্রতিশ্রতি ভঙ্গ করে পল্লীবন্ধুকে কারাগারে অন্তরীণ করে। এ সময় চাকরি থেকে অবসর নিয়ে গোলাম মোহাম্মদ কাদের এরশাদ মুক্তি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচন শুধু নয়, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও পল্লীবন্ধু কারান্তরীণ অবস্থায় ৫টি করে আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। কারবন্দি পল্লীবন্ধুর নির্বাচন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

বড় ভাই, আধুনিক বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত ধরেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক হিসেবে পরিচিতি পান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দক্ষতার সাথে।

তিনি ১৯৯৬ সালে লালমনিরহাট-৩ নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৮ এবং ২০১৮ সালে পুনরায় লালমনিরহাট-৩ থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ৭ জানুয়ারি বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে একজন আদর্শবান মন্ত্রী হিসেবে পরিচিতি পান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। একজন দক্ষ মন্ত্রী হিসেবে নিজেকে সকল সমালোচনার ঊর্ধ্বে রেখেছেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি বিরোধী দলীয় উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১৯ সালের ৫ মে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্নেহস্পদ গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ করেন। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পল্লীবন্ধুর মৃত্যুর পর থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

পল্লীবন্ধুর অসুস্থতার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে জাতীয় পার্টিকে সংগঠিত করতে একের পর এক চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। ২০১৯ সালের ২৪ থেকে ২৭ জুন রাজধানীর এজিবি কলোনী মিলনায়তনে ৮টি বিভাগীয় সাংগঠনিক সভা করেন। সাংগঠনিক সভায় ৬৪ জেলার নেতাকর্মীরা প্রাণ খুলে কথা বলেন দলের শীর্ষ নেতাদের সামনে। তৃণমূল নেতাকমীর্দের দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতিটি জেলার বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। ৮টি বিভাগীয় এবং ১টি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করেন। যারা পরবর্তীতে বিভিন্ন জেলা সফর করে দলকে আরো গতিশীল করতে এবং জেলা পর্যায়ের সম্মেলন সফল করতে কাজ করেছেন। একটি সফল জাতীয় সম্মেলন সম্পন্ন করতে দারুণভাবে কাজ করেছে সাংগঠনিক কমিটিগুলো।

২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির ৯ম জাতীয় কাউন্সিলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। কাউন্সিলে দায়িত্ব পেয়েই দলকে সুসংগঠিত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। জাতীয় সম্মেলনের পরের দিন ২৯ ডিসেম্বর দলের নেতৃত্ব আরো গতিশীল করতে ৭ জন কো-চেয়ারম্যান নিয়োগ করেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে। এরমধ্যে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, মুজিবুল হক চুন্নু এমপি এবং অ্যাডভোকেট সালমা ইমলাম এমপি। জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বর্তমানে পার্টির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

৩০ ডিসেম্বর দেশের ৮টি বিভাগের সাংগঠনিক নেতৃত্ব আরো শক্তিশালী করতে ৮ জন অতিরিক্ত মহাসচিব নিয়োগ দিয়েছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান। তারা হলেন- গোলাম কিবরিয়া টিপু (বরিশাল), সাহিদুর রহমান টেপা (খুলনা), অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম (রাজশাহী). ফখরুল ইমাম এমপি (ময়মনসিংহ), এটিইউ তাজ রহমান (সিলেট), ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (রংপুর), অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া (চট্টগ্রাম) এবং লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি (ঢাকা)।

শুধু সংগঠনকে শক্তিশালী করতেই ব্যস্ত নয়, জাতীয় সকল ইস্যুতে কথা বলেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান। যখন ধানের মূল্য পাচ্ছিল না সাধারণ কৃষক, তখন নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে দেশের রাজনীতিতে সুষ্ঠু ধারার বার্তা দিয়েছেন। আবার ঈদুল আজহার পরে যখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মূল্য না পেয়ে চামড়া মাটি চাপা দিচ্ছিল তখন সংবাদ সম্মেলন করে চামড়া রফতানির পরামর্শ দিয়েছিলেন সরকারকে। খাদ্য দ্রব্য আমদানি-রপ্তানি বিষয়ে সরকারকে সময়োপযোগী পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা। আবার গণবিরোধী ইস্যুতে সরকারের কঠোর সমালোচনায় একজন দক্ষ ও সুষ্ঠু ধারার রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে সমর্থ হয়েছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। পাশাপাশি উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সুশাসনের পক্ষে এবং দলবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে পত্রিকায় নিবন্ধ লিখছেন নিয়মিত।

২০২০ সালে মহামারি করোনাকালে দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মাস্ক ও হ্যান্ড স্যাসিটাইজার পৌঁছে দিয়ে প্রসংশিত হয়েছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। এছাড়া করোনা আতংক উপেক্ষা করে প্রায় প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি। কিছু কিছু এলাকায় রান্না করা খাবার ও বিতরণ করেছেন। এছাড়া শীতের শুরুতে প্রতিবছরের মতো কম্বল বিতরণ করেছেন রাজধানীতে। শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন নিজ নির্বাচনী এলাকা লালমনিরহাট-৩ সহ রংপুরের বিভিন্ন এলাকায়।

জাতীয় পার্টিকে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তৃণমূল নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সকল দুঃখ-কষ্টে পাশে থাকতে। প্রয়োজনে গণমানুষের পক্ষে স্থানীয়ভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করে মাঠে থাকতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া জাতীয় পার্টির নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। জাতীয় পার্টি থেকে চলে যাওয়া অনেক নেতাকর্মীই আবার জাতীয় পার্টিতে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। তাদের ব্যাপারে অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান।

সংসদে এবং রাজপথে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে অত্যন্ত দক্ষতা প্রদর্শন করছে জাতীয় পার্টি। সংসদে ফাইল ছোড়াছুড়ি, চিৎকার-চেচামেচি এবং অশালীন শব্দে অঙ্গভঙ্গি করে বিরোধিতার পরিবর্তে শালীনতা ফিরিয়ে এনেছে জাতীয় পার্টি। রাজপথে সরকারের কঠোর সমালোচনায় জাতীয় পার্টি কখনোই অশালীন শব্দ ব্যবহার করে না। কিন্তু ৯০ সালের পর থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্র, রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, লুটপাটের রাজনীতি, দলীয়করণ, টেন্ডারবাজি ও দলবাজির কঠোর সমালোচনা করছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিতে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন তিনি।

যারা আশংকা করেছিল পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টি বিলীন হয়ে যাবে, তাদের ধারণা মিথ্যে প্রমাণ করে জাতীয় পার্টিকে আরো শক্তিশালী করতে কাজ করছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। আর সাধারণ কর্মীরাও পল্লীবন্ধুর ছায়া খুঁজে পেয়েছেন সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতির প্রতীক গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের মাঝে।

শুভ জন্মদিন পল্লীবন্ধুর যোগ্য উত্তরসুরী। সুস্বাস্থ্যে দীর্ঘজীবী হোন।

লেখক: খন্দকার দেলোয়ার জালালী
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি-০২

শুভ জন্মদিন জনবন্ধু জিএম কাদের

 খন্দকার দেলোয়ার জালালী 
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৬:৪৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

২৪ ফেব্রুয়ারি। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপির শুভ জন্মদিন। একজন স্বচ্ছ ও সাদা মনের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ইতোমধ্যেই দেশের রাজনীতিতে সুপরিচিত সজ্জন ব্যক্তি তিনি। দেশ ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন এক আদর্শবান রাজনৈতিক দিকপাল। শিক্ষা, কর্ম এবং রাজনৈতিক জীবনে অসাধারণ সাফল্যময় এক জীবনের নাম গোলাম মোহাম্মদ কাদের। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি জিএম কাদের নামেই সুপরিচিত।

১৯৪৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত আইজীবী প্রয়াত অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন ও মজিদা খাতুনের সন্তান তিনি। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদরের ছোট ভাই। গোলাম মোহাম্মদ কাদের ছাত্রজীবনেই অত্যন্ত মেধাবী হিসেব কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তার স্ত্রী দেশবরেণ্য সঙ্গীত শিল্পী শেরিফা কাদের। ছেলে সামস্ কাদের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে কানাডা আছেন। আর কন্যা ইসরাত জাহান কাদের স্বপরিবারে থাকছেন অস্ট্রেলিয়াতে। সন্তানরা বেড়ে উঠেছে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চায়। তার পরিবার জুড়ে সাংস্কৃতিক আবহ বিদ্যমান।

২০১৯ সালের ৪ মে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শারীরিক অসুস্থতায় পল্লীবন্ধু জাতীয় পার্টি পরিচালনার দায়িত্ব দেন স্নেহের ছোট ভাইকে।

বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে অত্যন্ত মেধাবী ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট থেকে পাশ করা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার।

দেশ ও বিদেশে প্রশাসন পরিচালনায় ২৫ বছরের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আর সুদীর্ঘ ৩০ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রয়েছে চড়াই উৎরাই পেরোনের শাণিত অভিজ্ঞতা। এর মাঝে ৫ বছর অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। মন্ত্রণালয় পরিচালনায় কোনো দুর্নাম বা কালিমা স্পর্শ করতে পারেনি তাকে। প্রশাসন পরিচালনায় দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা, ৩০ বছরের বিরোধী শিবিরে রাজনীতি এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার এমন গৌরবময় সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেই বললেই চলে।

প্রকৌশলী হিসেবে শিক্ষাজীবন শেষ করে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন কর্মজীবনেও। নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে মেকানিক্যাল প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। পরবর্তীতে বাংলাদেশ টোবাকো, ইরাকের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং যমুনা তেল কোম্পানিতে সুনামের সাথে চাকরি করেছেন তিনি। সবশেষ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে পরিকল্পনা ও অপারেশন্স পরিচালক হিসেবে সাফল্যময় কর্মজীবনে ইতি টেনে রাজনীতিতে সক্রিয় হন গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

বড় ভাই ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যতদিন রাষ্ট্র ক্ষমতা শীর্ষে ছিলেন, ততদিন গোলাম মোহাম্মদ কাদের নিজেকে আড়ালেই রেখেছেন। তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী পল্লীবন্ধু রাষ্ট্র ক্ষমতা হস্থান্তর করলে, তৎকালীন সরকার প্রতিশ্রতি ভঙ্গ করে পল্লীবন্ধুকে কারাগারে অন্তরীণ করে। এ সময় চাকরি থেকে অবসর নিয়ে গোলাম মোহাম্মদ কাদের এরশাদ মুক্তি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচন শুধু নয়, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও পল্লীবন্ধু কারান্তরীণ অবস্থায় ৫টি করে আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। কারবন্দি পল্লীবন্ধুর নির্বাচন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

বড় ভাই, আধুনিক বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত ধরেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক হিসেবে পরিচিতি পান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দক্ষতার সাথে।

তিনি ১৯৯৬ সালে লালমনিরহাট-৩ নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৮ এবং ২০১৮ সালে পুনরায় লালমনিরহাট-৩ থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ৭ জানুয়ারি বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে একজন আদর্শবান মন্ত্রী হিসেবে পরিচিতি পান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। একজন দক্ষ মন্ত্রী হিসেবে নিজেকে সকল সমালোচনার ঊর্ধ্বে রেখেছেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি বিরোধী দলীয় উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১৯ সালের  ৫ মে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্নেহস্পদ গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ করেন। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পল্লীবন্ধুর মৃত্যুর পর থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

পল্লীবন্ধুর অসুস্থতার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে জাতীয় পার্টিকে সংগঠিত করতে একের পর এক চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। ২০১৯ সালের ২৪ থেকে ২৭ জুন রাজধানীর এজিবি কলোনী মিলনায়তনে ৮টি বিভাগীয় সাংগঠনিক সভা করেন। সাংগঠনিক সভায় ৬৪ জেলার নেতাকর্মীরা প্রাণ খুলে কথা বলেন দলের শীর্ষ নেতাদের সামনে। তৃণমূল নেতাকমীর্দের দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতিটি জেলার বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। ৮টি বিভাগীয় এবং ১টি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করেন। যারা পরবর্তীতে বিভিন্ন জেলা সফর করে দলকে আরো গতিশীল করতে এবং জেলা পর্যায়ের সম্মেলন সফল করতে কাজ করেছেন। একটি সফল জাতীয় সম্মেলন সম্পন্ন করতে দারুণভাবে কাজ করেছে সাংগঠনিক কমিটিগুলো।

২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির ৯ম জাতীয় কাউন্সিলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। কাউন্সিলে দায়িত্ব পেয়েই দলকে সুসংগঠিত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। জাতীয় সম্মেলনের পরের দিন ২৯ ডিসেম্বর দলের নেতৃত্ব আরো গতিশীল করতে ৭ জন কো-চেয়ারম্যান নিয়োগ করেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে। এরমধ্যে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, মুজিবুল হক চুন্নু এমপি এবং অ্যাডভোকেট সালমা ইমলাম এমপি। জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বর্তমানে পার্টির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

৩০ ডিসেম্বর দেশের ৮টি বিভাগের সাংগঠনিক নেতৃত্ব আরো শক্তিশালী করতে ৮ জন অতিরিক্ত মহাসচিব নিয়োগ দিয়েছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান। তারা হলেন- গোলাম কিবরিয়া টিপু (বরিশাল), সাহিদুর রহমান টেপা (খুলনা), অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম (রাজশাহী). ফখরুল ইমাম এমপি (ময়মনসিংহ), এটিইউ তাজ রহমান (সিলেট), ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (রংপুর), অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া (চট্টগ্রাম) এবং লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি (ঢাকা)।

শুধু সংগঠনকে শক্তিশালী করতেই ব্যস্ত নয়, জাতীয় সকল ইস্যুতে কথা বলেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান। যখন ধানের মূল্য পাচ্ছিল না সাধারণ কৃষক, তখন নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে দেশের রাজনীতিতে সুষ্ঠু ধারার বার্তা দিয়েছেন। আবার ঈদুল আজহার পরে যখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মূল্য না পেয়ে চামড়া মাটি চাপা দিচ্ছিল তখন সংবাদ সম্মেলন করে চামড়া রফতানির পরামর্শ দিয়েছিলেন সরকারকে। খাদ্য দ্রব্য আমদানি-রপ্তানি বিষয়ে সরকারকে সময়োপযোগী পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা। আবার গণবিরোধী ইস্যুতে সরকারের কঠোর সমালোচনায় একজন দক্ষ ও সুষ্ঠু ধারার রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে সমর্থ হয়েছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। পাশাপাশি উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সুশাসনের পক্ষে এবং দলবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে পত্রিকায় নিবন্ধ লিখছেন নিয়মিত।

২০২০ সালে মহামারি করোনাকালে দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মাস্ক ও হ্যান্ড স্যাসিটাইজার পৌঁছে দিয়ে প্রসংশিত হয়েছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। এছাড়া করোনা আতংক উপেক্ষা করে প্রায় প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি। কিছু কিছু এলাকায় রান্না করা খাবার ও বিতরণ করেছেন। এছাড়া শীতের শুরুতে প্রতিবছরের মতো কম্বল বিতরণ করেছেন রাজধানীতে। শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন নিজ নির্বাচনী এলাকা লালমনিরহাট-৩ সহ রংপুরের বিভিন্ন এলাকায়।

জাতীয় পার্টিকে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তৃণমূল নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সকল দুঃখ-কষ্টে পাশে থাকতে। প্রয়োজনে গণমানুষের পক্ষে স্থানীয়ভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করে মাঠে থাকতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া জাতীয় পার্টির নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। জাতীয় পার্টি থেকে চলে যাওয়া অনেক নেতাকর্মীই আবার জাতীয় পার্টিতে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। তাদের ব্যাপারে অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান।

সংসদে এবং রাজপথে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে অত্যন্ত দক্ষতা প্রদর্শন করছে জাতীয় পার্টি। সংসদে ফাইল ছোড়াছুড়ি, চিৎকার-চেচামেচি এবং অশালীন শব্দে অঙ্গভঙ্গি করে বিরোধিতার পরিবর্তে শালীনতা ফিরিয়ে এনেছে জাতীয় পার্টি। রাজপথে সরকারের কঠোর সমালোচনায় জাতীয় পার্টি কখনোই অশালীন শব্দ ব্যবহার করে না। কিন্তু ৯০ সালের পর থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্র, রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, লুটপাটের রাজনীতি, দলীয়করণ, টেন্ডারবাজি ও দলবাজির কঠোর সমালোচনা করছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিতে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন তিনি।

যারা আশংকা করেছিল পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টি বিলীন হয়ে যাবে, তাদের ধারণা মিথ্যে প্রমাণ করে জাতীয় পার্টিকে আরো শক্তিশালী করতে কাজ করছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের। আর সাধারণ কর্মীরাও পল্লীবন্ধুর ছায়া খুঁজে পেয়েছেন সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতির প্রতীক গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের মাঝে।

শুভ জন্মদিন পল্লীবন্ধুর যোগ্য উত্তরসুরী। সুস্বাস্থ্যে দীর্ঘজীবী হোন।

লেখক: খন্দকার দেলোয়ার জালালী
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি-০২