বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা ও ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস
jugantor
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা ও ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

  অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান  

৩০ এপ্রিল ২০২১, ০০:৫৭:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

সর্বাগ্রে আমি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা, যার জন্ম না হলে আমরা একটি স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না ইতিহাসের সেই মহানায়ক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমার চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

৩০ এপ্রিল ২০২১ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ২৪তম বছরে পদার্পণ করবে। ইতোমধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
দেশ-বিদেশে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং চিকিৎসা সেবায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এক অনন্য নাম।

প্রারম্ভিক কথা, আইপিজিএমঅ্যান্ডআর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে গবেষণার জন্য স্বাধীনতা পূর্ব ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত তৎকালীন আইপিজিএমএন্ডআর-কে গবেষণা করার জন্য বঙ্গবন্ধু প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন এবং এই হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৩০০ থেকে ৫০০ বেডে উন্নীত করেন।

বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে সুষ্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। স্নাতকোত্তর শিক্ষার ক্ষেত্রে আইপিজিএমএন্ডআর-কে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে শাহবাগে স্থানান্তর করা হয় তখন শয্যাসংখ্যা ছিল ৩০০।

বঙ্গবন্ধু শয্যা সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন আইপিজিএমএন্ডআরের কেন্দ্রীয় রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের উদ্বোধন করেন। ১৯৯৬ সালে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা বর্তমানে বিশ্ব নেতার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিয়ে এককভাবে সরকার গঠন করার মাত্র দুই বছরের মধ্যে ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, দেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়”।

প্রকৃতপক্ষে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ঐকান্তিক সদিচ্ছাতেই পূরণ হয়েছিলো এদেশের চিকিৎসক সমাজের তিন দশকের দাবি। ১৯৯৮ সালে দেশের একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন।

বাস্তবেই বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসাসেবার আশা-ভরসা ও আস্থার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আজ শুধু বাংলাদেশেই নয়, গোটা উপ-মহাদেশের সবচাইতে বড় হাসপাতাল ও চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আজ এদেশের চিকিৎসা শিক্ষা, সেবা ও গবেষণায় সাফল্যের ক্ষেত্রে এক অনন্য নাম।

বাংলাদেশের চিকিৎসা জগতে নতুন মাইল ফলক স্পর্শ করা ও মহীরুহ আকার ধারণ করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, শিক্ষা, উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম, বিভিন্ন প্রকল্প ও ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও স্বীকৃতিসহ সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে অভাবনীয় সাফল্য।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে রয়েছে ৫৬টি বিভাগ। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বেতার ভবনের করোনা ইউনিটসহ প্রায় ২০০০টি, এরমধ্যে অর্ধেকই গরীব রোগীদের জন্য বিনা ভাড়ার বিছানা।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পূর্বে প্রতিদিন এ হাসপাতালে বহির্বিভাগে প্রায় ৮০০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতেন এবং বৈকালিক স্পেশালাইজড আউটডোরে প্রতিদিন ১০০০ রোগী সেবা গ্রহণ করতেন। বর্তমানের এই করোনাকালীনও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৫০০০ রোগী সেবা নিচ্ছেন।

এখানে রয়েছে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা। রেডিওথেরাপি, পেট স্ক্যান, এমআরআই, সিটিস্ক্যান ও টিস্যু বায়োপসির মতো ব্যয়বহুল পরীক্ষাও এখানে তুলনামূলকভাবে কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ মেশিনের মাধ্যমে করা হচ্ছে।

গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে মহাজোট সরকার গঠনের পর থেকেই অর্জিত হয়েছে এ অসামান্য সাফল্য। প্রায় ৪৫০০ জনবল নিয়ে পরিচালিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গৃহীত সেবামূলকসহ অন্যান্য কার্যক্রম: মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মুজিব শতবর্ষের ক্ষণগণনার কার্যক্রম (কাউন্টডাউন) হিসেবে মুজিব শতবর্ষের লোগোসহ ঘড়ি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মুজিব শতবর্ষের কার্যক্রম শুরু হয়। বিনামূল্যে সার্জারি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, বৃক্ষরোপন কর্মসূচিসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জেনারেল অবসটেট্রিকস অ্যান্ড গাইনোকলোজি বিভাগের কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ইউনিভার্সিটি ফিস্টুলা সেন্টার অ্যান্ড ক্লাশ রুম, স্কিল ল্যাব, আইটি অ্যান্ড মাল্টিপারপাস রুম, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধু কর্নারের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ ও বি-ব্লকে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের সংস্কার সাধনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মিতব্য ভাস্কর্যের মডেল ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে।

চিকিৎসা শিক্ষা: তৎকালীন আইপিজিএমএন্ডআরের যাত্রা শুরু হয়েছিল ৭টি কোর্স দিয়ে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমডি, এমএস, এমপিএইচ, এমফিল, ডিপ্লোমাসহ ৯৮টি পোস্ট গ্রাজুয়েট বিষয় চালু আছে। এরমধ্যে ৬৩টি হলো রেসিডেন্সি কোর্স। অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজ ও ইন্সটিটিউটের সংখ্যা ৪৪টি। অনুষদের সংখ্যা ৭টি।

বিভাগের সংখ্যা ৫৬টি। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে ৮ শতাধিক ছাত্রছাত্রী ভর্তি হচ্ছেন এবং প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত থাকছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। দেশের শিক্ষার্থী ছাড়াও নেপাল, ভারত, সোমালিয়া, ইরান, কানাডা, মালদ্বীপ, অস্ট্রেলিয়া, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

চিকিৎসা বিষয়ক গবেষণা: বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। প্রতি বছর ৪০০ শিক্ষক, শিক্ষার্থীকে গবেষণা মঞ্জুরি প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা বছরে প্রায় ৩শ' গবেষণা কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন।

গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ইম্পিরিয়াল কলেজ অফ লন্ডন, ভারতের মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার, সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড হসপিস অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ কেয়ার এলায়েন্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, রকফেলার ফাউন্ডেশন, জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সেবামূলক কার্যক্রম: মহামারি ও সংকট মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধুর দর্শনকে অনুসরণ করেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকে স্থাপিত করোনা সেন্টারে রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বেতার ভবনে নতুন করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। এছাড়াও সি-ব্লকে নন কোভিড রোগীদের জন্য ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে ২৫ এপ্রিল ২০২১ তারিখ পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৬৪ জন এবং দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ২০ হাজার ৯৩০ জন। বেতার ভবনের পিসিআর ল্যাবে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ জনের কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়েছে।

বেতার ভবনের ফিভার ক্লিনিকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৯২ হাজার ৩৪ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। অন্যদিকে করোনা ইউনিটে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৮ হাজার ৩০৫ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৬৯৩ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৩ হাজার ৮৯৫ জন।

দেশে প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট কোভিড ফলোআপ ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। রোগীদের সুবিধার্থে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফিভার ক্লিনিক ও করোনাভাইরাস ল্যাবরেটরির সেবাসমূহ অনলাইনে প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বহির্বিভাগে আগত রোগীদের ভোর থেকে অপেক্ষার ভোগান্তি, অনিশ্চয়তা ও কষ্ট কমানো এবং করোনা সংক্রমণ রোধের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য রোগীদের অর্ধেককে আগাম অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে রোগীদের সুবিধার্থে হেল্প লাইন, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত “বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন” ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে।

রোগীদের সুবিধার্থে মেডিসিন, সার্জারি, বক্ষব্যধিসহ বিভিন্ন বিভাগে হেল্প লাইন চালু করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা প্রদান কার্যক্রম ও রোগী ভর্তি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

করোনা সেন্টারের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার জন্য নিয়মিত ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ও উদ্বুদ্ধকরণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে দেশের সর্ববৃহৎ কোভিড-১৯ টিকাদান কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

রোগীদের সেবা গ্রহণ ও অপারেশনের সংখ্যা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরে ২০ লক্ষাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। প্রতি বছর ৪০ হাজারেরও বেশি রোগী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রতি বছর মেজর ও মাইনর অপারেশনসহ প্রায় ৫০ হাজার রোগীর অপারেশন করা হয়।

উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও সাফল্য: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ, ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (ইপনা) প্রতিষ্ঠা, শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের শিশুদের জন্য কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট কার্যক্রম, শিশু হৃদরোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রম, অত্যাধুনিক আইসিইউ, এনআইসিইউ ও ওটি কমপ্লেক্স চালু, সর্বাধুনিক লিনিয়ার এক্সিলেরেটর মেশিন চালু, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসা সেল গঠন, সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ইত্যাদি।

পরিশেষে বলতে চাই যে, দেশের মেডিকেল শিক্ষার উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অবদান চিরস্মরণীয় ও অনস্বীকার্য। বর্তমান বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আগামী দিনে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে- এটাই হোক ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অঙ্গীকার।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান
অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ
কোষাধ্যক্ষ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা ও ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

 অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান 
৩০ এপ্রিল ২০২১, ১২:৫৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সর্বাগ্রে আমি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা, যার জন্ম না হলে আমরা একটি স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না ইতিহাসের সেই মহানায়ক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমার চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। 

৩০ এপ্রিল ২০২১ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ২৪তম বছরে পদার্পণ করবে। ইতোমধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। 
দেশ-বিদেশে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং চিকিৎসা সেবায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এক অনন্য নাম।

প্রারম্ভিক কথা, আইপিজিএমঅ্যান্ডআর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে গবেষণার জন্য স্বাধীনতা পূর্ব ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত তৎকালীন আইপিজিএমএন্ডআর-কে গবেষণা করার জন্য বঙ্গবন্ধু প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন এবং এই হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৩০০ থেকে ৫০০ বেডে উন্নীত করেন। 

বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে সুষ্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। স্নাতকোত্তর শিক্ষার ক্ষেত্রে আইপিজিএমএন্ডআর-কে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে শাহবাগে স্থানান্তর করা হয় তখন শয্যাসংখ্যা ছিল ৩০০। 

বঙ্গবন্ধু শয্যা সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন আইপিজিএমএন্ডআরের কেন্দ্রীয় রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের উদ্বোধন করেন। ১৯৯৬ সালে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা বর্তমানে বিশ্ব নেতার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিয়ে এককভাবে সরকার গঠন করার মাত্র দুই বছরের মধ্যে ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, দেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়”। 

প্রকৃতপক্ষে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ঐকান্তিক সদিচ্ছাতেই পূরণ হয়েছিলো এদেশের চিকিৎসক সমাজের তিন দশকের দাবি। ১৯৯৮ সালে দেশের একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন। 

বাস্তবেই বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসাসেবার আশা-ভরসা ও আস্থার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আজ শুধু বাংলাদেশেই নয়, গোটা উপ-মহাদেশের সবচাইতে বড় হাসপাতাল ও চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আজ এদেশের  চিকিৎসা শিক্ষা, সেবা ও গবেষণায় সাফল্যের ক্ষেত্রে এক অনন্য নাম। 

বাংলাদেশের চিকিৎসা জগতে নতুন মাইল ফলক স্পর্শ করা ও মহীরুহ আকার ধারণ করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, শিক্ষা, উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম, বিভিন্ন প্রকল্প ও ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও স্বীকৃতিসহ সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে রয়েছে ৫৬টি বিভাগ। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বেতার ভবনের করোনা ইউনিটসহ প্রায় ২০০০টি, এরমধ্যে অর্ধেকই গরীব রোগীদের জন্য বিনা ভাড়ার বিছানা।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পূর্বে প্রতিদিন এ হাসপাতালে বহির্বিভাগে প্রায় ৮০০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতেন এবং বৈকালিক স্পেশালাইজড আউটডোরে প্রতিদিন ১০০০ রোগী সেবা গ্রহণ করতেন। বর্তমানের এই করোনাকালীনও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৫০০০ রোগী সেবা নিচ্ছেন। 

এখানে রয়েছে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা।  রেডিওথেরাপি, পেট স্ক্যান, এমআরআই, সিটিস্ক্যান ও টিস্যু বায়োপসির মতো ব্যয়বহুল পরীক্ষাও এখানে তুলনামূলকভাবে কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ মেশিনের মাধ্যমে করা হচ্ছে। 

গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে মহাজোট সরকার গঠনের পর থেকেই অর্জিত হয়েছে এ অসামান্য সাফল্য। প্রায় ৪৫০০ জনবল নিয়ে পরিচালিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গৃহীত সেবামূলকসহ অন্যান্য কার্যক্রম: মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মুজিব শতবর্ষের ক্ষণগণনার কার্যক্রম (কাউন্টডাউন) হিসেবে মুজিব শতবর্ষের লোগোসহ ঘড়ি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মুজিব শতবর্ষের কার্যক্রম শুরু হয়। বিনামূল্যে সার্জারি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, বৃক্ষরোপন কর্মসূচিসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জেনারেল অবসটেট্রিকস অ্যান্ড গাইনোকলোজি বিভাগের কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ইউনিভার্সিটি ফিস্টুলা সেন্টার অ্যান্ড ক্লাশ রুম, স্কিল ল্যাব, আইটি অ্যান্ড মাল্টিপারপাস রুম, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধু কর্নারের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ ও বি-ব্লকে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের সংস্কার সাধনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মিতব্য ভাস্কর্যের মডেল ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। 

চিকিৎসা শিক্ষা: তৎকালীন আইপিজিএমএন্ডআরের যাত্রা শুরু হয়েছিল ৭টি কোর্স দিয়ে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমডি, এমএস, এমপিএইচ, এমফিল, ডিপ্লোমাসহ ৯৮টি পোস্ট গ্রাজুয়েট বিষয় চালু আছে। এরমধ্যে ৬৩টি হলো রেসিডেন্সি কোর্স। অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজ ও ইন্সটিটিউটের সংখ্যা ৪৪টি। অনুষদের সংখ্যা ৭টি। 

বিভাগের সংখ্যা ৫৬টি। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে ৮ শতাধিক ছাত্রছাত্রী ভর্তি হচ্ছেন এবং প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত থাকছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। দেশের শিক্ষার্থী ছাড়াও নেপাল, ভারত, সোমালিয়া, ইরান, কানাডা, মালদ্বীপ, অস্ট্রেলিয়া, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের  শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।  

চিকিৎসা বিষয়ক গবেষণা: বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। প্রতি বছর ৪০০ শিক্ষক, শিক্ষার্থীকে গবেষণা মঞ্জুরি প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা বছরে প্রায় ৩শ' গবেষণা কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন। 

গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ইম্পিরিয়াল কলেজ অফ লন্ডন, ভারতের মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার, সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড হসপিস অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ কেয়ার এলায়েন্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, রকফেলার ফাউন্ডেশন, জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

সেবামূলক কার্যক্রম: মহামারি ও সংকট মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধুর দর্শনকে অনুসরণ করেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকে স্থাপিত করোনা সেন্টারে রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 

সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বেতার ভবনে নতুন করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। এছাড়াও সি-ব্লকে নন কোভিড রোগীদের জন্য ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে ২৫ এপ্রিল ২০২১ তারিখ পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৬৪ জন এবং দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ২০ হাজার ৯৩০ জন। বেতার ভবনের পিসিআর ল্যাবে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪১ জনের কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়েছে। 

বেতার ভবনের ফিভার ক্লিনিকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৯২ হাজার ৩৪ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। অন্যদিকে করোনা ইউনিটে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৮ হাজার ৩০৫ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৬৯৩ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৩ হাজার ৮৯৫ জন।

দেশে প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট কোভিড ফলোআপ ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। রোগীদের সুবিধার্থে  রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফিভার ক্লিনিক ও করোনাভাইরাস ল্যাবরেটরির সেবাসমূহ অনলাইনে প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

বহির্বিভাগে আগত রোগীদের ভোর থেকে অপেক্ষার ভোগান্তি, অনিশ্চয়তা ও কষ্ট কমানো এবং করোনা সংক্রমণ রোধের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য রোগীদের অর্ধেককে আগাম অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে রোগীদের সুবিধার্থে হেল্প লাইন, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত “বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন” ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে। 

রোগীদের সুবিধার্থে মেডিসিন, সার্জারি, বক্ষব্যধিসহ বিভিন্ন বিভাগে হেল্প লাইন চালু করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা প্রদান কার্যক্রম ও রোগী ভর্তি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। 

করোনা সেন্টারের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার জন্য নিয়মিত ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ও উদ্বুদ্ধকরণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে দেশের সর্ববৃহৎ কোভিড-১৯ টিকাদান কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। 

রোগীদের সেবা গ্রহণ ও অপারেশনের সংখ্যা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরে ২০ লক্ষাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। প্রতি বছর ৪০ হাজারেরও বেশি রোগী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রতি বছর মেজর ও মাইনর অপারেশনসহ প্রায় ৫০ হাজার রোগীর অপারেশন করা হয়।

উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও সাফল্য: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ, ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (ইপনা) প্রতিষ্ঠা, শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের শিশুদের জন্য কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট কার্যক্রম, শিশু হৃদরোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রম, অত্যাধুনিক আইসিইউ, এনআইসিইউ ও  ওটি কমপ্লেক্স চালু, সর্বাধুনিক লিনিয়ার এক্সিলেরেটর মেশিন চালু, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসা সেল গঠন, সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ইত্যাদি।

পরিশেষে বলতে চাই যে, দেশের মেডিকেল শিক্ষার উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অবদান চিরস্মরণীয় ও অনস্বীকার্য। বর্তমান বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আগামী দিনে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে- এটাই হোক ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অঙ্গীকার।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান
অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ
কোষাধ্যক্ষ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন