যান্ত্রিক কোলাহল থামিয়ে দিল করোনা
jugantor
যান্ত্রিক কোলাহল থামিয়ে দিল করোনা

  জমির হোসেন, ইতালি থেকে  

০২ মে ২০২১, ১৩:৪৩:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

জীবন চলার কথা জীবনের গতিতে।কিন্তু হঠাৎ করেই করোনা নামে অদৃশ্য এক ভারইরাস সব কিছুতেই ছন্দপতন ঘটাল।

ছেদ পড়ল যান্ত্রিক কোলাহলে, থামিয়ে দিল জীবনের স্বাভাবিক গতি। কিন্তু এত কিছুর পরও থেমে নেই মানুষের সুথ-দুঃখের পাঁচালী। কখনও থামবে না শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এ প্রাণঘাতী মহামারি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে যান্ত্রিক জীবনে যেন একটা ছেদ পড়লো।গোটা বিশ্বের কর্মময় জীবনে হঠাৎ করেই ছন্দপতন ঘটে।সচল মানবজীবন এখন অচলের পথে। অনেক স্থানে দুর্ভিক্ষ হাতছানি দিচ্ছে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন এখন বেঁচে থাকলে ভিন্ন এ প্রেক্ষাপটের ছবি আঁকতেন।

১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে যে খাদ্যাভাব দেখা দেয়, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা প্রেক্ষাপট।কিন্তু করোনার কারণে বর্তমানে একই পরিস্থিতি এখন বিশ্বব্যাপী হাতছানি দিচ্ছে।কর্মহীন হয়ে পড়া বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন। দুই বছর ধরে করোনার থাবায় বিশ্ব অর্থনীতি এখন চরম দুরবস্থায় পড়ছে।

গোটাবিশ্বে এখন খাদ্যাভাব প্রকট হচ্ছে, এর অন্যতম কারণ মানুষের কর্মস্থল দিন দিন বন্ধ হতে চলেছে। বেকারের সংখ্যা অভাবনীয়ভাবে বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানরা দেশের নাগরিকদের সহায়তা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। ইতালিতেও করোনার প্রভাব এমনভাবে পড়ছে যে, সম্প্রতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কোন্তি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

ঘরে ঘরে বেকার মানুষের জীবনকে দূর্বিষহ করে তুলেছে। করোনার কারণে ঘরে বসিয়ে সরকারের পক্ষে অভিবাসীসহ প্রায় আট কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া অসম্ভব, তাই রাষ্ট্র পরিচালনা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু থেমে নেই ইতালির পথচলা।

এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রের হাল ধরেছেন মারিও দ্রাঘি। পেশায় একজন সফল ব্যাংকার। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৯ ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাপতি ও ব্যাংক ইতালির গভর্নর হিসেবে ২০০৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। করোনার এই মহামারীতে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন।দেখা যাক, তিনি মানুষকে কতটা আশার আলো দেখাতে পারেন।

যান্ত্রিক কোলাহল থামিয়ে দিল করোনা

 জমির হোসেন, ইতালি থেকে 
০২ মে ২০২১, ০১:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জীবন চলার কথা জীবনের গতিতে।কিন্তু হঠাৎ করেই করোনা নামে অদৃশ্য এক ভারইরাস সব কিছুতেই ছন্দপতন ঘটাল।

ছেদ পড়ল যান্ত্রিক কোলাহলে, থামিয়ে দিল জীবনের স্বাভাবিক গতি। কিন্তু এত কিছুর পরও থেমে নেই মানুষের সুথ-দুঃখের পাঁচালী। কখনও থামবে না শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এ প্রাণঘাতী মহামারি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে যান্ত্রিক জীবনে যেন একটা ছেদ পড়লো।গোটা বিশ্বের কর্মময় জীবনে হঠাৎ করেই ছন্দপতন ঘটে।সচল মানবজীবন এখন অচলের পথে। অনেক স্থানে দুর্ভিক্ষ হাতছানি দিচ্ছে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন এখন বেঁচে থাকলে ভিন্ন এ প্রেক্ষাপটের ছবি আঁকতেন।

১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে যে খাদ্যাভাব দেখা দেয়, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা প্রেক্ষাপট।কিন্তু করোনার কারণে বর্তমানে একই পরিস্থিতি এখন বিশ্বব্যাপী হাতছানি দিচ্ছে।কর্মহীন হয়ে পড়া বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন। দুই বছর ধরে করোনার থাবায় বিশ্ব অর্থনীতি এখন চরম দুরবস্থায় পড়ছে।

গোটাবিশ্বে এখন খাদ্যাভাব প্রকট হচ্ছে, এর অন্যতম কারণ মানুষের কর্মস্থল দিন দিন বন্ধ হতে চলেছে। বেকারের সংখ্যা অভাবনীয়ভাবে বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানরা দেশের নাগরিকদের সহায়তা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। ইতালিতেও করোনার প্রভাব এমনভাবে পড়ছে যে, সম্প্রতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কোন্তি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

ঘরে ঘরে বেকার মানুষের জীবনকে দূর্বিষহ করে তুলেছে। করোনার কারণে ঘরে বসিয়ে সরকারের পক্ষে অভিবাসীসহ প্রায় আট কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া অসম্ভব, তাই রাষ্ট্র পরিচালনা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু থেমে নেই ইতালির পথচলা।

এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রের হাল ধরেছেন মারিও দ্রাঘি। পেশায় একজন সফল ব্যাংকার। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৯ ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাপতি ও ব্যাংক ইতালির গভর্নর হিসেবে ২০০৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। করোনার এই মহামারীতে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন।দেখা যাক, তিনি মানুষকে কতটা আশার আলো দেখাতে পারেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর