বিবেক বিসর্জনের ঈদ?
jugantor
বিবেক বিসর্জনের ঈদ?

  মুজাহিদ শুভ  

১১ মে ২০২১, ২১:২৮:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

ঈদে বাড়ি ফেরার এ ছবিটি ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

এক বুক লজ্জা বুকে চেপে শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন বাড়িতে পৌঁছেছে। তাই তো? ভীষণ আনন্দ বোধ করছেন নিশ্চয়ই। আপনাকে দেখার জন্য ছুটে এসেছেন আপনার বয়স্ক বাবা মা,স্ত্রী, দাদা-দাদী, নানা-নানী বা স্বজনরা। কাউকে কাউকে বুকে টেনে প্রশান্তিতে ভরে গেছে আপনার বুক।

ঈদ যাত্রায় ফেরিতে উপচে পড়া মানুষের মাথা দেখে নিশ্চয়ই খুব রাগ হয়েছিল আপনার। মনে মনে বলেছিলেন, জীবনের চেয়ে কি ঈদ উদযাপন বড়?

নিজের ফেসবুকে ফেরি পারাপারের ছবি দিয়ে সমালোচনামুখর হয়েছিলেন কিংবা অন্যের পোস্টে কমেন্ট দিয়ে রেখে এসেছিলেন এক রাশ ক্ষোভ বা ঘৃণা।

পৃথিবী জুড়ে মানুষের কত বৈচিত্র্য। এককেটি বড় উৎসব বা ঘটনা তারই স্বাক্ষর রেখে যায় কখনও কখনও। ঈদে গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণায় শুরু হলো নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার মহোৎসব। নিতান্ত প্রয়োজনে অনোন্যপায় হয়ে যারা ফেরীর যাত্রী হয়েছিলেন তারাও আমাদের ঘৃণার শিকার হলেন।

বিনা কারণে যাওয়া যাত্রীদের চাপে প্রয়োজনের যাত্রাটিও যাদের অসহনীয় হলো তাদের গল্প হয়তো খবর হয়ে আসলো না গণমাধ্যমে। সমালোচনার মুখোমুখি হওয়া অতি জরুরি যাত্রার মানুষটিও হয়তো কষ্ট পেয়েছেন গোপনে। সেটিও হয়তো বাতাসেই চাপা থাকলো। তারপরেও আমরা সচেতন মানুষরা কি থামলাম?

গণমাধ্যম যেদিন রাতের আঁধারে বাসযোগে বাড়ি ফেরা মানুষের খবর প্রচার করছিলো সেদিনও উপচে পড়া ভিড় ছিলো বিমানবন্দরে। ছবি তোলার ড্রোন সেখানে পৌঁছতে না পারায় ফেরির মতো চকচকে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়নি। মূলধারার গণমাধ্যমে সে খবর না এলেও অপ্রয়োজনে যাওয়া আকাশপথের যাত্রীরাও সমান দোষে দোষী।

বিমান বা ব্যক্তিগত প্রাইভেটে চেপে যারা বাড়ি ফিরছেন তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন হলেও তারা অনিরাপত্তার মালা নিয়ে ছুটছেন প্রিয় সান্নিধ্যে। মনের অজান্তেই হয়তো মমতাময়ী মাকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন জীবনঘাতি ভাইরাস।

একবার ভেবে দেখুন, কোভিডে মাত্র সোয়া একবছরে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ পৃথিবী থেকে নাই হয়ে যাবার পরও ঈদ যাত্রাটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার প্রধান থেকে শুরু করে দেশের প্রখ্যাত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করলেন বাড়ি না ফিরতে। শোনালেন পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের ভয়াবহতার কথা। কিন্তু আপনাকে রুখবার সাধ্য কার?

সবখানেই অসচেতন মানুষ ভুল করে এবং আজ বা কাল তার পরিণামও সে পায়। তবে সচেতন মানুষের পরিচয় দিয়ে আপনি আমি কেন তার ব্যতিক্রম হবো না। কেন প্রিয়জনের জীবনের নিরাপত্তাকেই ঈদের সত্যিকারের আনন্দ ভাববোনা।

যারা এখনও স্বপ্নকে বাড়ি ফেরাতে চাইছেন, তারা বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখুন। দেখুন আপনার বিবেক আপনার হুঁশ ফেরানোর শক্তি রাখে কি না!

লেখক: মুজাহিদ শুভ

সাংবাদিক, সময় টিভি

বিবেক বিসর্জনের ঈদ?

 মুজাহিদ শুভ 
১১ মে ২০২১, ০৯:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ঈদে বাড়ি ফেরার এ ছবিটি ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ঈদে বাড়ি ফেরার এ ছবিটি ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

এক বুক লজ্জা বুকে চেপে শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন বাড়িতে পৌঁছেছে।  তাই তো? ভীষণ আনন্দ বোধ করছেন নিশ্চয়ই। আপনাকে দেখার জন্য ছুটে এসেছেন আপনার বয়স্ক বাবা মা, স্ত্রী, দাদা-দাদী, নানা-নানী বা স্বজনরা। কাউকে কাউকে বুকে টেনে প্রশান্তিতে ভরে গেছে আপনার বুক।

ঈদ যাত্রায় ফেরিতে উপচে পড়া মানুষের মাথা দেখে নিশ্চয়ই খুব রাগ হয়েছিল আপনার।  মনে মনে বলেছিলেন, জীবনের চেয়ে কি ঈদ উদযাপন বড়?

নিজের ফেসবুকে ফেরি পারাপারের ছবি দিয়ে সমালোচনামুখর হয়েছিলেন কিংবা অন্যের পোস্টে কমেন্ট দিয়ে রেখে এসেছিলেন এক রাশ ক্ষোভ বা ঘৃণা।

পৃথিবী জুড়ে মানুষের কত বৈচিত্র্য। এককেটি বড় উৎসব বা ঘটনা তারই স্বাক্ষর রেখে যায় কখনও কখনও। ঈদে গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণায় শুরু হলো নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার মহোৎসব। নিতান্ত প্রয়োজনে অনোন্যপায় হয়ে যারা ফেরীর যাত্রী হয়েছিলেন তারাও আমাদের ঘৃণার শিকার হলেন।

বিনা কারণে যাওয়া যাত্রীদের চাপে প্রয়োজনের যাত্রাটিও যাদের অসহনীয় হলো তাদের গল্প হয়তো খবর হয়ে আসলো না গণমাধ্যমে।  সমালোচনার মুখোমুখি হওয়া অতি জরুরি যাত্রার মানুষটিও হয়তো কষ্ট পেয়েছেন গোপনে।  সেটিও হয়তো বাতাসেই চাপা থাকলো। তারপরেও আমরা সচেতন মানুষরা কি থামলাম?

গণমাধ্যম যেদিন রাতের আঁধারে বাসযোগে বাড়ি ফেরা মানুষের খবর প্রচার করছিলো সেদিনও উপচে পড়া ভিড় ছিলো বিমানবন্দরে।  ছবি তোলার ড্রোন সেখানে পৌঁছতে না পারায় ফেরির মতো চকচকে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়নি। মূলধারার গণমাধ্যমে সে খবর না এলেও অপ্রয়োজনে যাওয়া আকাশপথের যাত্রীরাও সমান দোষে দোষী।

বিমান বা ব্যক্তিগত প্রাইভেটে চেপে যারা বাড়ি ফিরছেন তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন হলেও তারা অনিরাপত্তার মালা নিয়ে ছুটছেন প্রিয় সান্নিধ্যে।  মনের অজান্তেই হয়তো মমতাময়ী মাকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন জীবনঘাতি ভাইরাস।

একবার ভেবে দেখুন, কোভিডে মাত্র সোয়া একবছরে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ পৃথিবী থেকে নাই হয়ে যাবার পরও ঈদ যাত্রাটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার প্রধান থেকে শুরু করে দেশের প্রখ্যাত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করলেন বাড়ি না ফিরতে। শোনালেন পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের ভয়াবহতার কথা। কিন্তু আপনাকে রুখবার সাধ্য কার?

সবখানেই অসচেতন মানুষ ভুল করে এবং আজ বা কাল তার পরিণামও সে পায়। তবে সচেতন মানুষের পরিচয় দিয়ে আপনি আমি কেন তার ব্যতিক্রম হবো না। কেন প্রিয়জনের জীবনের নিরাপত্তাকেই ঈদের সত্যিকারের আনন্দ ভাববোনা।

যারা এখনও স্বপ্নকে বাড়ি ফেরাতে চাইছেন, তারা বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখুন। দেখুন আপনার বিবেক আপনার হুঁশ ফেরানোর শক্তি রাখে কি না!

লেখক: মুজাহিদ শুভ

সাংবাদিক, সময় টিভি

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন