আফগানিস্তান নিয়ে ভুল পথে এগোচ্ছেন এরদোগান?
jugantor
আফগানিস্তান নিয়ে ভুল পথে এগোচ্ছেন এরদোগান?

  মুহাম্মদ মিরাজ মিয়া  

২৩ জুন ২০২১, ১৭:৪২:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

আফগানিস্তান নিয়ে ভুল পথে এগোচ্ছেন এরদোগান?

‘কাজটা মোটেই ঠিক করছেন না এরদোগান’- দাবি তালেবান নেতার। মূল আলোচনায় যাওয়ার পূর্বে ফরিদ জাকারিয়া নিয়ে কিছু বলে নেই।

ফরিদ জাকারিয়া হলেন একজন ইন্ডিয়ান-আমেরিকান পলিটিক্যাল সাইনটিস্ট। তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে দ্যা ওয়াশিংটন পোস্টে নিয়মিত কলাম লিখেন এবং সিএনএন টেলিভিশনে 'Fareed Zakaria GPS' নামে তার একটি শো অনুষ্ঠিত হয়।

এই GPS এর মানে হলো Global Public Square, এখানে মূলত তিনি পররাষ্ট্রনীতি, কূটনীতি ও চলমান বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। যারা ভালভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বুঝতে চান তারা নিয়মিত ফরিদ জাকারিয়ার On GPS নামের এই শো দেখতে পারেন।

গত দুই দিন আগে ফরিদ জাকারিয়া তার On GPS এ তালেবানদের মুখপাত্র সোহাইল শাহিনকে আমন্ত্রণ জানান। ফরিদ জাকারিয়ার ইন্টারভিউতে সোহাইল শাহিনের কথা থেকে তিনটি বিষয় স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

এক- ন্যাটো জোট আফগানিস্তান ত্যাগ করার পরপরই তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করতে যাচ্ছে এবং এটা প্রায় নিশ্চিত। তাছাড়াও বাইডেনের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর একেক করে সব প্রদেশ তালেবানদের দখলে চলে যাচ্ছে।

দুই- তালেবানরা আফগানিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানীর সাথে ক্ষমতার প্রসঙ্গে কোনরকম ছাড় দিতে চাচ্ছে না। তালেবানদের মতে আফগানিস্তানের মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪০ মিলিয়ন। সেখান থেকে মাত্র এক মিলিয়ন মানুষ আশরাফ গানীকে নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলো।

অর্থাৎ অধিকাংশ মানুষই আশরাফ গানীকে চাচ্ছে না। তাছাড়াও তালেবানদের মতে নির্বাচনে অনেক কারচুপি হয়েছিলো এবং আশরাফ গানী যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল সরকার।

তিন- তালেবানরা ক্ষমতায় যাওয়ার পর নারী অধিকার রক্ষায় পূর্বের তুলনায় অনেকটা লিবারেল হবে বলে জানিয়েছেন এই মুখপাত্র। সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগান ত্যাগ করার পর তালেবানরা ক্ষমতায় এসে নারীদের উপর যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিলেন সেটা নাকি তখনকার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে হয়েছিল। তালেবানরা সেটাকে বলছেন "Reality on the Ground"।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া জি সেভেন সামিট, ন্যাটো জোটের সম্মেলন ও বাইডেন- এরদোগান বৈঠক এটা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

এককথায় যুক্তরাষ্ট্র কোন রকম সমাধান না দিয়েই আফগানিস্তান থেকে লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। ঠিক এই কারণে ন্যাটো জোটের সম্মেলনে জো বাইডেন এরদোগানকে ন্যাটো জোটের একজন সঙ্গী হিসেবে কাবুল বিমানবন্দরের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এবং এরদোগান কাবুল বিমানবন্দরে দায়িত্ব নেওয়ার সেই প্রস্তাব গ্রহণও করেছেন।

এখন সমস্যাটা হচ্ছে এখানেই। আরেকটু ভেঙে বলার চেষ্টা করি-

এক- আফগানিস্তান একটি ল্যান্ডলকড কান্ট্রি। যেকারণে আফগানিস্তানের কোন সমুদ্র বন্দর নেই। বর্হিবিশ্বের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই কাবুল বিমানবন্দর। তাই ন্যাটো জোটের অংশ হিসেবে তুরস্কের কাছে কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ থাকা মানেই এটা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা।

দুই- তালেবানদের প্রথম দাবি ২০২০ সালে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত তালেবান-ন্যাটো চুক্তি অনুযায়ী সকল ন্যাটো সৈন্য আফগানিস্তান ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত হয়।

তালেবানরা বলছে তুরস্ক ন্যাটো জোটভুক্ত দেশ এবং ন্যাটোর সাথে তাল মিলিয়ে তুরস্কও আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েন করেছে। আফগানিস্তানে এখনো তুরস্কের ৫০০ সেনা মোতায়ন রয়েছে। তাই মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ত্যাগ করার সাথে সাথেই তুরস্ককেও তার সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

তিন- তালেবানদের দ্বিতীয় দাবি হলো, এরদোগান বাইডেনের দেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ করায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে তুরস্ক এখন আফগানিস্তানে ন্যাটোর স্বার্থ নিয়ে কাজ করছে।

চার- তালেবান নেতারা বলছেন তুরস্ক একটি মুসলিম দেশ, সেই হিসেবে আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার পর আমরা চাই তুরস্কের সাথে আফগানিস্তানের একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠুক। অথচ তুরস্ক সেটার দিকে না গিয়ে আফগানিস্তানে ন্যাটোর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।

পাঁচ- এরদোগানের সাম্প্রতিক কার্যক্রমগুলো থেকে এটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, এরদোগান এখন মূলত চাচ্ছে তুরস্কের সাথে আমেরিকার সম্পর্কের যে অবনতি সেটা কাটিয়ে উঠতে এবং ন্যাটোতে তুরস্কের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে। তাই আফগান তালেবানদের মতে সেটা তুরস্ক হোক আর যে-ই হোক কাবুলে যারা সেনা মোতায়েন বজায় রাখবে তারা আমাদের শত্রুতে পরিণত হবে।

আমার মনে হচ্ছে আফগানিস্তান ইস্যুতে তুরস্ক ভুল পথে আগাচ্ছে। তুরস্কের উচিত বাইডেনের প্রস্তাবিত কাবুল বিমানবন্দরের দায়িত্ব না নেওয়া এবং আফগানিস্তান থেকে তুরস্কের সকল সেনা প্রত্যাহার করা।

আফগানিস্তানকে বলা হয় পরাশক্তিগুলোর গোরস্থান। এখানে চেঙ্গিস খান, মোগল, সোভিয়েত ইউনিয়ন, আমেরিকাসহ কেউ টিকতে পারেনি। আমেরিকা চলে যাওয়ার পর এখানে তুরস্কের সেনা মোতায়েন রাখা তুরস্কের জন্ম মারাত্মক ভুল হবে। মুসলিম বিশ্বের মুসলমানরা মনে করছেন সুলতান এরদোগানের কাজটি ঠিক হচ্ছে না, ভুল পথে আগাচ্ছেন এরদোগান!

একইসঙ্গে তালেবানদের নেতৃত্ব আফগানদের ভবিষ্যতে কেমন হবে কেউ বলতে পারছে না। দেশটির ভবিষ্যতের জন্য এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। বিদেশি সৈন্যরা চলে যাওয়ার সাথে সাথে বাড়ছে হামলা, আক্রমণ। ভবিষ্যতে সংঘাত হয়তো আরও বাড়বে।

একদিকে আফগানিস্তানে ক্ষমতায় থাকা বর্তমান সরকার, অন্যদিকে তালেবান এবং অন্য সব সশস্ত্র গ্রুপ।

আগামীতে কে বসবে সরকারে। কোন গ্রুপ ক্ষমতায় আসবে? নাকি কোয়ালিশন সরকার হবে? কার নেতৃত্বে চলবে আফগানিস্তান? সেখানে কি ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা হবে? নাকি বর্তমান বিশ্বের গতানুগতিক ধাঁচের কোনো সরকার হবে।

বর্তমানে যারা সরকারি চাকরি করছেন, যারা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীতে আছেন তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে। সেখানে পাকিস্তান, রাশিয়া, ইরান, চীন এবং ভারতের অবস্থান কী হবে?

এরকম হাজারো প্রশ্নকে সামনে রেখেই ন্যাটো আফগানিস্তান ছেড়ে যাচ্ছে। ন্যাটোর চলে যাওয়াকে তালেবানরা আবার বিজয় হিসেবে দেখছে।

একটা প্রশ্ন দিয়েই শেষ করছি। কাবুল ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থান নিয়ে আপনার কী মনে হয়? এরোদোগান কি আসলেই ভুল পথে আগাচ্ছে নাকি অন্য কোনো গোপন এজেন্ডা আছে?

লেখক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী

আফগানিস্তান নিয়ে ভুল পথে এগোচ্ছেন এরদোগান?

 মুহাম্মদ মিরাজ মিয়া 
২৩ জুন ২০২১, ০৫:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আফগানিস্তান নিয়ে ভুল পথে এগোচ্ছেন এরদোগান?
ছবি: ডয়চে ভেলে

‘কাজটা মোটেই ঠিক করছেন না এরদোগান’- দাবি তালেবান নেতার। মূল আলোচনায় যাওয়ার পূর্বে ফরিদ জাকারিয়া নিয়ে কিছু বলে নেই। 

ফরিদ জাকারিয়া হলেন একজন ইন্ডিয়ান-আমেরিকান পলিটিক্যাল সাইনটিস্ট। তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে দ্যা ওয়াশিংটন পোস্টে নিয়মিত কলাম লিখেন এবং সিএনএন টেলিভিশনে 'Fareed Zakaria GPS' নামে তার একটি শো অনুষ্ঠিত হয়। 

এই GPS এর মানে হলো Global Public Square, এখানে মূলত তিনি পররাষ্ট্রনীতি, কূটনীতি ও চলমান বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। যারা ভালভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বুঝতে চান তারা নিয়মিত ফরিদ জাকারিয়ার On GPS নামের এই শো দেখতে পারেন।

গত দুই দিন আগে ফরিদ জাকারিয়া তার On GPS এ তালেবানদের মুখপাত্র সোহাইল শাহিনকে আমন্ত্রণ জানান। ফরিদ জাকারিয়ার ইন্টারভিউতে সোহাইল শাহিনের কথা থেকে তিনটি বিষয় স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

এক- ন্যাটো জোট আফগানিস্তান ত্যাগ করার পরপরই তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করতে যাচ্ছে এবং এটা প্রায় নিশ্চিত। তাছাড়াও বাইডেনের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর একেক  করে সব প্রদেশ তালেবানদের দখলে চলে যাচ্ছে।

দুই- তালেবানরা আফগানিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানীর সাথে ক্ষমতার প্রসঙ্গে কোনরকম ছাড় দিতে চাচ্ছে না। তালেবানদের মতে আফগানিস্তানের মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪০ মিলিয়ন। সেখান থেকে মাত্র এক মিলিয়ন মানুষ আশরাফ গানীকে নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলো। 

অর্থাৎ অধিকাংশ মানুষই আশরাফ গানীকে চাচ্ছে না। তাছাড়াও তালেবানদের মতে নির্বাচনে অনেক কারচুপি হয়েছিলো এবং আশরাফ গানী যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল সরকার।

তিন- তালেবানরা ক্ষমতায় যাওয়ার পর নারী অধিকার রক্ষায় পূর্বের তুলনায় অনেকটা লিবারেল হবে বলে জানিয়েছেন এই মুখপাত্র। সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগান ত্যাগ করার পর তালেবানরা ক্ষমতায় এসে নারীদের উপর যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিলেন সেটা নাকি তখনকার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে হয়েছিল। তালেবানরা সেটাকে বলছেন "Reality on the Ground"।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া জি সেভেন সামিট, ন্যাটো জোটের সম্মেলন ও বাইডেন- এরদোগান বৈঠক এটা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। 

এককথায় যুক্তরাষ্ট্র কোন রকম সমাধান না দিয়েই আফগানিস্তান থেকে লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। ঠিক এই কারণে ন্যাটো জোটের সম্মেলনে জো বাইডেন এরদোগানকে ন্যাটো জোটের একজন সঙ্গী হিসেবে কাবুল বিমানবন্দরের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এবং এরদোগান কাবুল বিমানবন্দরে দায়িত্ব নেওয়ার সেই প্রস্তাব গ্রহণও করেছেন। 

এখন সমস্যাটা হচ্ছে এখানেই। আরেকটু ভেঙে বলার চেষ্টা করি-

এক- আফগানিস্তান একটি ল্যান্ডলকড কান্ট্রি। যেকারণে আফগানিস্তানের কোন সমুদ্র বন্দর নেই। বর্হিবিশ্বের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই কাবুল বিমানবন্দর। তাই ন্যাটো জোটের অংশ হিসেবে তুরস্কের কাছে কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ থাকা মানেই এটা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা।

দুই- তালেবানদের প্রথম দাবি ২০২০ সালে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত তালেবান-ন্যাটো চুক্তি অনুযায়ী সকল ন্যাটো সৈন্য আফগানিস্তান ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত হয়। 

তালেবানরা বলছে তুরস্ক ন্যাটো জোটভুক্ত দেশ এবং ন্যাটোর সাথে তাল মিলিয়ে তুরস্কও আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েন করেছে। আফগানিস্তানে এখনো তুরস্কের ৫০০ সেনা মোতায়ন রয়েছে। তাই মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ত্যাগ করার সাথে সাথেই তুরস্ককেও তার সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।

তিন- তালেবানদের দ্বিতীয় দাবি হলো, এরদোগান বাইডেনের দেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ করায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে তুরস্ক এখন আফগানিস্তানে ন্যাটোর স্বার্থ নিয়ে কাজ করছে।

চার- তালেবান নেতারা বলছেন তুরস্ক একটি মুসলিম দেশ, সেই হিসেবে আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার পর আমরা চাই তুরস্কের সাথে আফগানিস্তানের একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠুক। অথচ তুরস্ক সেটার দিকে না গিয়ে আফগানিস্তানে ন্যাটোর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।

পাঁচ- এরদোগানের সাম্প্রতিক কার্যক্রমগুলো থেকে এটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, এরদোগান এখন মূলত চাচ্ছে তুরস্কের সাথে আমেরিকার সম্পর্কের যে অবনতি সেটা কাটিয়ে উঠতে এবং ন্যাটোতে তুরস্কের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে। তাই আফগান তালেবানদের মতে সেটা তুরস্ক হোক আর যে-ই হোক কাবুলে যারা সেনা মোতায়েন বজায় রাখবে তারা আমাদের শত্রুতে পরিণত হবে।

আমার মনে হচ্ছে আফগানিস্তান ইস্যুতে তুরস্ক ভুল পথে আগাচ্ছে। তুরস্কের উচিত বাইডেনের প্রস্তাবিত কাবুল বিমানবন্দরের দায়িত্ব না নেওয়া এবং আফগানিস্তান থেকে তুরস্কের সকল সেনা প্রত্যাহার করা। 

আফগানিস্তানকে বলা হয় পরাশক্তিগুলোর গোরস্থান। এখানে চেঙ্গিস খান, মোগল, সোভিয়েত ইউনিয়ন, আমেরিকাসহ কেউ টিকতে পারেনি। আমেরিকা চলে যাওয়ার পর এখানে তুরস্কের সেনা মোতায়েন রাখা তুরস্কের জন্ম মারাত্মক ভুল হবে। মুসলিম বিশ্বের মুসলমানরা মনে করছেন সুলতান এরদোগানের কাজটি ঠিক হচ্ছে না, ভুল পথে আগাচ্ছেন এরদোগান!

একইসঙ্গে তালেবানদের নেতৃত্ব আফগানদের ভবিষ্যতে কেমন হবে কেউ বলতে পারছে না। দেশটির ভবিষ্যতের জন্য এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। বিদেশি সৈন্যরা চলে যাওয়ার সাথে সাথে বাড়ছে হামলা, আক্রমণ। ভবিষ্যতে সংঘাত হয়তো আরও বাড়বে। 

একদিকে আফগানিস্তানে ক্ষমতায় থাকা বর্তমান সরকার, অন্যদিকে তালেবান এবং অন্য সব সশস্ত্র গ্রুপ।

আগামীতে কে বসবে সরকারে। কোন গ্রুপ ক্ষমতায় আসবে? নাকি কোয়ালিশন সরকার হবে? কার নেতৃত্বে চলবে আফগানিস্তান? সেখানে কি ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা হবে? নাকি বর্তমান বিশ্বের গতানুগতিক ধাঁচের কোনো সরকার হবে। 

বর্তমানে যারা সরকারি চাকরি করছেন, যারা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীতে আছেন তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে। সেখানে পাকিস্তান, রাশিয়া, ইরান, চীন এবং ভারতের অবস্থান কী হবে? 

এরকম হাজারো প্রশ্নকে সামনে রেখেই ন্যাটো আফগানিস্তান ছেড়ে যাচ্ছে। ন্যাটোর চলে যাওয়াকে তালেবানরা আবার বিজয় হিসেবে দেখছে।

একটা প্রশ্ন দিয়েই শেষ করছি। কাবুল ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থান নিয়ে আপনার কী মনে হয়? এরোদোগান কি আসলেই ভুল পথে আগাচ্ছে নাকি অন্য কোনো গোপন এজেন্ডা আছে?

লেখক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন